📘 পরিবেশ ও স্বাস্থ বিজ্ঞানে মুহাম্মদ সাঃ > 📄 পাগড়ি

📄 পাগড়ি


রাসূল (সা) তিন রং-এর পাগড়ি ব্যবহার করতেন। সাদা, সবুজ, কালো। পাগড়ি হচ্ছে রাসূল (সা)-এর সুন্নত। পাগড়ি ব্যবহার করার অনেক উপকারিতা রয়েছে।
১. পাগড়ী ব্যবহারকারীর মাথা রোদের প্রখর উত্তাপ হতে নিরাপদ থাকে।
২. পাগড়ী ব্যবহারকারী সর্দি হতে রক্ষা পায়।
৩. মাথা ব্যথা রোধের জন্যে পাগড়ী অত্যন্ত উপকারী যারা পাগড়ী ব্যবহার করে তাদের সাধারণত মাথা ব্যথা হয় না।
৪. পাগড়ী মস্তিষ্কের শক্তি এবং স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করে।
৫. পাগড়ীর পেছনের ঝুলে থাকা অংশের কারণে ঘাড়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়। স্পাইনাল কর্ডকে শীত, গরম এবং ঋতু পরিবর্তন জনিত প্রতিক্রিয়া হতে রক্ষা করে।
৬. পাগড়ী ব্যবহারকারী ব্যক্তি মেনিনজাইটিস হতে নিরাপদ থাকে।
৭. ফিজিওলজী বিশেষজ্ঞদের মতে, স্পাইনাল কর্ড নিরাপদ থাকার কারণে দেহের নার্ভ সিস্টেম এবং মাসল সিস্টেম নিরাপদ থাকে।
সাদা গাগড়ী ব্যবহারের কারণে মস্তিষ্কের কোষসমূহ গরমের উত্তাপ এবং লু-হাওয়া হতে রক্ষা পায়। সাদা পাগড়ী ব্যবহারকারী ব্যক্তি সানস্ট্রেনকসহ মস্তিষ্কের বিভিন্নপ্রকার রোগ ব্যাধি হতে নিরাপদ থাকে। আমার পরিচিত ফয়সালাবাদের এক লোক বলেছেন, আমি স্থায়ী সর্দি এবং মাথা ব্যথায় কষ্ট পাচ্ছিলাম। একজন ডাক্তার আমাকে পাগড়ী ব্যবহার করার পরামর্শ দেন। আল্লাহর রহমতে এতেই আমার রোগ ভালো হয়ে যায়। পাগড়ী ব্যবহারের ফলে মানুষকে অভিজাত এবং অধিক ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মনে হয়।

📘 পরিবেশ ও স্বাস্থ বিজ্ঞানে মুহাম্মদ সাঃ > 📄 ফুঁক

📄 ফুঁক


রসায়ন শাস্ত্রের বিজ্ঞানীরা বলেন যে, মানুষের 'ফুঁক'-এর মধ্যে বিষাক্ত কার্বন-ডাই-অক্সাইড ও দেহের আরও নানা প্রকার রোগ জীবাণু থাকে। কোনো মানুষ যখন কোনো খাদ্য দ্রব্য অথবা কোনো পানীয়ের খাদ্য দ্রব্যের মধ্যে ফুঁক দেয়, তখন সেই খাদ্য দ্রব্য উক্ত বিষাক্ত কার্বন-ডাই- অক্সাইড ও উক্ত অন্যান্য রোগ জীবাণু দ্বারা দূষিত হয়ে যায় এবং তখন সেই খাদ্য 'সে নিজে ভক্ষণ করলে অথবা অন্যকে খাওয়ালে তাদের উভয়ের দেহে নতুন সমস্যা অথবা নতুন কোনো রোগের সৃষ্টি হতে পারে। তাই স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীরা পৃথিবীর সকল মানুষকে ফুঁক দিয়ে কোনো খাদ্য দ্রব্য বা পানীয় খাদ্য দ্রব্য পান করতে নিষেধ করেছেন।
অথচ মহানবী মুহাম্মদ (সা) উক্ত রসায়ন শাস্ত্রবিদদের বহুপূর্বেই ফুঁক দিয়ে কোনো পানীয় দ্রব্য পান করতে নিষেধ করে গেছেন। যেমন-
عَنْ أَبِي سَعِيدِ الْخُدْرِيِّ لا أَنَّ النَّبِيَّ لا نَهُى عَنِ الْنَفْخِ فِي الشَّرَابِ فَقَالَ رَجُلَ الْقَذَاةُ أَرَاهَا فِي الْإِنَاءِ فَقَالَ أَهْرِقُهَا.
অর্থ: আবু সাঈদ খুদরী (রা) হতে বর্ণিত যে, নিশ্চয় মহানবী (সা) পানি জাতীয় খাদ্যের মধ্যে ফুঁক দিয়ে খেতে নিষেধ করেছেন। তখন এক ব্যক্তি বলল, যদি এর মধ্যে ময়লা দেখি, তখন তিনি বললেন, তবুও এর মধ্যে ফুঁক দিবে না, এরপর তিনি বললেন, ইহা হতে উক্ত ময়লাসহ একটু ফেলে দিয়ে পান করবে। (এখানে ময়লা বলতে খড় কুটা) (তিরমিযী, হাদীস/১৮৮৭, ২য় খণ্ড ১১ পৃষ্ঠা আবুওয়াবুল আশরাবা)।

📘 পরিবেশ ও স্বাস্থ বিজ্ঞানে মুহাম্মদ সাঃ > 📄 ফিজিওথেরাপি

📄 ফিজিওথেরাপি


ফিজিওথেরাপির বিজ্ঞানীরা বলেন যে, যদি কোনো মানুষ পৃথিবীর যে কোনো ভাষার শব্দগুলো মুখে উচ্চারণ করার সময় সঠিক ও সুস্পষ্টভাবে উচ্চারণ করে তবে তার জীবনে কখনও তার মুখ দিয়ে লেবরা বা লালা পড়বে না বা আসবে না। ইতিমধ্যে ফিজিওথেরাপির বিজ্ঞানীরা তা পরীক্ষা করে তার প্রমাণও দেখেছেন।
মহানবী মুহাম্মদ (সা) উক্ত ফিজিওথেরাপির বিজ্ঞানীদের প্রায় দেড় হাজার বৎসর পূর্বে তাঁর উম্মতদেরকে পবিত্র কুরআনকে তাঁর প্রতিটি হরফের মাখরাজ আদায় করে উক্ত কুরআনের প্রতিটি শব্দকে সুস্পষ্টভাবে উচ্চারণ করে সঠিকভাবে তেলাওয়াত করার নির্দেশ দিয়ে গেছেন, এবং তিনি বলেছেন যে, কুরআন তেলাওয়াত করা হচ্ছে সর্বপ্রকার রোগ ব্যাধি হতে রক্ষা পাওয়ার একমাত্র উপায়।
وَرَتِّلِ الْقُرْآنَ تَرْتِيلًا "এবং কুরআন পাঠ করুন সুবিন্যস্তভাবে ও স্পষ্টভাবে।” (সূরা মুয্যাম্মিল: আয়াত-৪)
মহানবী (সা)-এর হাদীস যেমন-
حَدَّثَنَا سَعَادُ بْنُ سُلَيْمَانَ عَنْ أَبِي إِسْحَقَ عَنِ الْحَارِثِ عَنْ عَلِيِّ ﷺ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ خَيْرُ الدَّوَاءِ الْقُرْآنُ - (ابن ماجه جلد الثاني صفه . ابواب الطب)
অর্থ: আলী (রা) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, মহানবী (সা) বলেছেন, উত্তম চিকিৎসামূহের মধ্যে (সবচেয়ে উত্তম চিকিৎসা) হচ্ছে পবিত্র কুরআন শুদ্ধ ও স্পষ্টভাবে তেলাওয়াত করা। (ইবনে মাজা ২য় খণ্ড-২৫০ পৃষ্ঠা)।
অতএব, প্রতীয়মান হয় যে, পবিত্র কুরআন যে ব্যক্তি সহীহ শুদ্ধ করে একটু উচ্চশব্দে পাঠ করবে, তার কখনও মুখ দিয়ে লালা পড়বে না, ব্রেইন স্ট্রোক করবে না, মাথা ব্যথা করবে না, হার্ড স্টোক করবে না, তাঁর কখনও রক্তচাপজনিত রোগ হবে না, মুখ বাঁকা হবে না এবং তার মন সদা সতেজ ও প্রফুল্ল থাকবে। তাই মহানবী (সা) বলেছেন পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতই হচ্ছে সর্বরোগের জন্য উত্তম চিকিৎসা।

📘 পরিবেশ ও স্বাস্থ বিজ্ঞানে মুহাম্মদ সাঃ > 📄 বিশ্রাম

📄 বিশ্রাম


স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীরা বলেন যে, দুপুরে খাদ্য খাওয়ার পর কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেয়া এবং রাতে শোয়ার পূর্বে কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করা, স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। এতে মস্তিষ্ক ঠাণ্ডা থাকে এবং শারীরিক ক্লান্তি ও মানসিক অবসাদ বিদূরিত হয়। আর খাদ্য খাওয়ার পরই পরিশ্রম করা উচিত নয়। এ সময় আমাদের তন্ত্রীগুলো পরিপাক ক্রিয়ায় ব্যস্ত থাকে। নিদ্রাকালে আমাদের শরীর ও মন বিশ্রাম পায়। প্রকৃতপক্ষে নিদ্রা আমাদের মস্তিষ্ককে বিশ্রাম দেয়। তবুও মস্তিষ্কের কিছু অংশ কর্মরত থাকে বলে আমরা স্বপ্ন দেখি। যদি স্বপ্নবিহীন নিদ্রা হয় তাহলে বুঝতে হবে যে, মস্তিষ্ক পূর্ণ বিশ্রাম লাভ করেছে। কিন্তু মেরুরজ্জু এবং স্বয়ং সচল যন্ত্রগুলো নিদ্রার মধ্যেও কাজ করে। সুতরাং আমাদের শরীরের গোশতপেশী বিশেষ করে মস্তিষ্কের ক্ষয় পূরণের জন্য বিশ্রামের প্রয়োজন। এ সময় দেহতন্ত্রের জীবকোষগুলোর পূর্ণ গঠন ও বৃদ্ধি সাধন হয়ে থাকে।
অথচ মহানবী মুহাম্মদ (সা) উক্ত স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীদের বহুপূর্বেই দুপুরের বিশ্রাম প্রসঙ্গে এবং রাতে শোয়ার পূর্বে হাঁটার বিকল্প হিসাবে এশার নামায আদায় করার নির্দেশ প্রদান করে হাদীস বলে গেছেন। যেমন-
حَدَّثَنَا عَبْدَانُ قَالَ أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ قَالَ أَخْبَرَنَا حَمِيدٌ عَنْ أَنَسٍ قَالَ كُنَّا نُبَشِّرُ بِالْجُمُعَةِ وَنُقَيْلُ بَعْدَ الْجُمُعَةِ - (كُتاب البخاری جلد اول صفه كتاب الجمعة)
অর্থ: আনাস (রা) হতে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন, আমরা সকাল সকাল জুমআর নামায আদায় করি, তারপর আমরা জুমআর নামাযের পর বিশ্রাম গ্রহণ করি। (কিতাবুল বুখারী হা/৯০৫, ১মখণ্ড-১২৩ পৃষ্ঠা কিতাবুল জুমআ ।)
حَدَّثَنَا خَالِدُ الْحَذَاءُ عَنْ أَبِي الْمِنْهَالِ عَنْ أَبِي بُرْزَةً وَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ كَانَ يَكْرَهُ النَّوْمَ قَبْلَ الْعِشَاءِ وَالْحَدِيثُ بَعْدَهَا . (جامع البخاري جلد اول صفه كتاب الصلوة)
অর্থ: আবু বুরজা (রা) হতে বর্ণিত যে, নিশ্চয় মহানবী (সা) এশার নামায আদায় করার পূর্বে ঘুমানো এবং এশার নামায আদায় করার পর গল্প গুজব করা অপছন্দ করতেন। (বুখারী হা/৫৬৮, ১ম খণ্ড-৮০ পৃষ্ঠা কিতাবুস সলাত।)
এছাড়াও বর্তমান যুগের স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীরা পৃথিবীর প্রতিটি মানুষকে বলেন যে, নিয়মিত বিশ্রাম করুন ও দিনের কিছু সময় নিরিবিলি কাটান এবং ব্যায়াম করুন। এতে লক্ষ্য করলে দেখা যায় যে, আজ হতে প্রায় দেড় হাজার বছর পূর্বে মহানবী মুহাম্মদ (সা) এই পৃথিবীর মানুষদেরকে সুস্থ থাকার জন্য যে নামাযের ব্যবস্থা দিয়ে গেছেন, তাই হচ্ছে সুস্থ থাকার জন্য বর্তমান যুগের স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীদের উপদেশ। কারণ লক্ষ্য করলে দেখা যায় যে, নিয়মিত নামাযের মধ্যে নিয়মিত বিশ্রাম আছে এবং নিয়মিত নিরিবিলি সময় কাটানোর ব্যবস্থাও আছে এবং নিয়মিত ব্যায়ামেরও ব্যবস্থা আছে। সুতরাং দেখা যায় যে, নামাযই হচ্ছে একমাত্র স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীদের সুস্থ থাকার জন্য একমাত্র বিকল্প উপায়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00