📄 পরিবেশ
স্বাস্থ্য ও পরিবেশ বিজ্ঞানীরা বলেন যে, আমাদের চারপাশের নোংরা আবর্জনা ও নানা প্রজাতির প্রাণীর মরদেহ যেখানে সেখানে ফেলে রাখার কারণে আমাদের চারপাশের বসবাসের পরিবেশ দূষিত ও মারাত্মক অস্বাস্থ্যকর হয়ে যাচ্ছে। এছাড়াও বিভিন্ন প্রকার দূষিত আবর্জনা ও বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণীর মরদেহ আগুনে জ্বালানীয় কালো ধোঁয়া মানুষের শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে মানুষের দেহে প্রবেশ করে মানুষের দেহে মারাত্মক মারাত্মক রোগ বালাইয়ের সৃষ্ট করছে এবং এতে আমাদের শ্বাস-প্রশ্বাসের বায়ুমণ্ডল দূষিত হয়ে যে শুধু আমাদেরই মারাত্মক ক্ষতি করছে তাই নয় বরং এর দ্বারা আমাদের চার পাশের পরিবেশের আওতাভুক্ত সকল গাছপালা, পশু-পাখি ও উৎপাদিত শস্য ক্ষেতসমূহেরও মারাত্মক অপূরণীয় ক্ষতিসাধন করছে। তাই বিংশ শতাব্দীর কিংবদন্তির বিস্ময়কর বিখ্যাত প্রতিভাধর বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং বলেছেন যে, আমাদের পরিবেশ দূষণের বিষয়টি সবচেয়ে বেশি মারাত্মক। তেল পুড়িয়ে গাড়ি চালানো এবং রাসায়নিক পদার্থ প্রক্রিয়াজাত করতে গিয়ে, পরমাণু শক্তির পরীক্ষা চালাতে গিয়ে সৃষ্টি হচ্ছে পৃথিবীর উষ্ণতার মেরু ঝুঁকি। এ বিষয়টা নিয়ে বিশ্বব্যাপী হৈ চৈ চলছে, কিন্তু পৃথিবীকে শীতল রাখার উপযুক্ত কলাকৌশল এখনও আবিষ্কৃত হয়নি। আগামী একুশ শতকে বিজ্ঞানের নব নব উদ্ভাবন মানুষের শক্তি বাড়াবে ঠিক কিন্তু পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য কোনো প্রযুক্তি বের না হলে আমাদের বেঁচে থাকা মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।
তাই স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সংরক্ষণকারী বিজ্ঞানীরা একাগ্রচিত্তে বলেন যে, আমাদের চারপাশের বসবাসযোগ্য পরিবেশকে দূষণমুক্ত ও স্বাস্থ্যকর রাখার ইচ্ছা পোষণ করলে আমাদের পরিবেশের সকল সদস্যগণকে অবশ্যই তিনটি কাজে আত্মনিয়োগ করতে হবে।
১. আমাদের পরিবেশের চারপাশের যাবতীয় নোংরা, আবর্জনা ও নানা প্রজাতির প্রাণীর মরদেহ মাটির নিচে পুঁতে ফেলতে হবে। কারণ মাটির মধ্যে নিশাধর নামে এক প্রকার পদার্থ আছে, যা সর্বপ্রকার নোংরা, আবর্জনা ও সকল প্রজাতির প্রাণীর মরদেহের পঁচন কার্য ঘটায় এবং এদের সকল রোগ জীবাণু ধ্বংস করতে সক্ষম।
২. যে সকল দূষিত নোংরা আবর্জনা মাটির নিচে পুঁতে রাখলেও ধ্বংস হয় না। যেমন- পলিথিন জাতীয় নানা আবর্জনা, সেগুলো অবশ্যই নিরাপদ স্থানে নিয়ে পুঁড়িয়ে ফেলতে হবে।
৩. সকল পায়খানা ও নর্দমার তরল ময়লা আবর্জনা অবশ্যই তার সবগুলোই মাটির নিচ দিয়ে চলাচলের ব্যবস্থা করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই যেন সেগুলো আমাদের চারপাশের পরিবেশের মুক্ত বায়ুকে স্পর্শ করতে না পারে, সেদিকে আমাদের সকলকেই তীব্র দৃষ্টি রাখতে হবে।
অথচ মহানবী মুহাম্মদ (সা) উক্ত সব বিজ্ঞানীদের বহু পূর্বেই আমাদের চারপাশের বসবাসযোগ্য পরিবেশকে দূষণমুক্ত ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ সৃষ্টি করার জন্য তিনি পৃথিবীর সকল মানুষগণকে, তাদের চারপাশের যাবতীয় নোংরা, আবর্জনা ও সকল প্রকার প্রজাতির প্রাণীর মরদেহ মাটির নিচে পুঁতে ফেলার নির্দেশ দিয়ে গেছেন এবং তিনি এ ব্যাপারে অনেক পবিত্র কুরআনের বাণীও প্রদান করেছেন, তার কিছু বর্ণনা নিম্নে প্রদান করা হলো। যেমন-
وَاللَّهُ يُحِبُّ الْمُحْسِنِينَ .
অর্থ: এবং আল্লাহ পাক পরিষ্কার পরিচ্ছন্নকারীদেরকে পছন্দ করেন। (সূরা আলে ইমরান: আয়াত-১৩৪)
فِيْهِ رِجَالٌ يُحِبُّونَ أَنْ يَتَطَهَّرُوا وَاللَّهُ يُحِبُّ الْمُطَهَّرِينَ.
অর্থ: যেখানে রয়েছে এমন লোক, যারা পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতাকে পছন্দ করেন। এবং আল্লাহ পাকও পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন অর্জনকারী লোকদেরকে ভালোবাসেন বা পছন্দ করেন। (সূরা তওবা: আয়াত-১০৮)
لِلَّذِينَ أَحْسَنُوا الْحُسْنَى وَزِيَادَةً وَلَا يَرْهَقُ وُجُوهَهُمْ قَتَرُ وَلَا ذِلَّةٌ أُوْلَئِكَ أَصْحَبُ الْجَنَّةِ هُمْ فِيهَا خُلِدُونَ - (سورة اليونس.)
অর্থ: যারা (পৃথিবীতে) সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টি করেছেন, তাদের জন্য আছে কল্যাণ এবং তার চেয়েও বেশি। আর তাদের মুখমণ্ডলকে আবৃত করবে না মলিনতা কিংবা অপমান। তারাই জান্নাতবাসী, এমন সুন্দর পরিবেশে তারা বসবাস করতে থাকবে অনন্তকাল। (সূরা ইউনুস: আয়াত-২৬)
قَالَ النَّبِيُّ ﷺ: النَّظَفَةُ شُعْبَةٌ مِّنَ الْإِيْمَانِ.
অর্থ: মহানবী (সা) বলেছেন, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা হচ্ছে ঈমানের একটি বিশেষ অংশ।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ إِنَّ اللَّهَ طَيِّبُ لَا يَقْبَلُ إِلَّا طَيِّبًا وَإِنَّ اللَّهَ أَمَرَ الْمُؤْمِنِينَ بِمَا أَمَرَ بِهِ الْمُرْسَلِينَ فَقَالَ يَأَيُّهَا الرُّسُلُ كُلُوا مِنْ طَيِّبَتِ وَاعْمَلُوا صَالِحًا . (رواه مسلم)
অর্থ: আবু হুরায়রা (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, রাসূল (সা) ইরশাদ করেছেন: নিশ্চয়ই আল্লাহ পাক পবিত্র, তাই তিনি পবিত্রতা ব্যতীত অন্য কোনো কিছু গ্রহণ করেন না। নিশ্চয়ই আল্লাহ পাক মু'মিনদেরকে ঐ বিষয়ে আদেশ করেছেন যা তিনি রাসূলগণকে আদেশ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, হে রাসূলগণ! তোমরা পবিত্র খাদ্যসমূহ হতে ভক্ষণ কর এবং ভালো কাজ কর। অর্থাৎ ভালো কাজ করে পৃথিবীতে সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টি কর। (সহীহ মুসলিম হা/২৩৯৩)
সুতরাং ভালো কাজ বলতে বুঝিয়েছেন যে, পৃথিবীতে সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টি করা।
📄 পাগড়ি
রাসূল (সা) তিন রং-এর পাগড়ি ব্যবহার করতেন। সাদা, সবুজ, কালো। পাগড়ি হচ্ছে রাসূল (সা)-এর সুন্নত। পাগড়ি ব্যবহার করার অনেক উপকারিতা রয়েছে।
১. পাগড়ী ব্যবহারকারীর মাথা রোদের প্রখর উত্তাপ হতে নিরাপদ থাকে।
২. পাগড়ী ব্যবহারকারী সর্দি হতে রক্ষা পায়।
৩. মাথা ব্যথা রোধের জন্যে পাগড়ী অত্যন্ত উপকারী যারা পাগড়ী ব্যবহার করে তাদের সাধারণত মাথা ব্যথা হয় না।
৪. পাগড়ী মস্তিষ্কের শক্তি এবং স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করে।
৫. পাগড়ীর পেছনের ঝুলে থাকা অংশের কারণে ঘাড়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়। স্পাইনাল কর্ডকে শীত, গরম এবং ঋতু পরিবর্তন জনিত প্রতিক্রিয়া হতে রক্ষা করে।
৬. পাগড়ী ব্যবহারকারী ব্যক্তি মেনিনজাইটিস হতে নিরাপদ থাকে।
৭. ফিজিওলজী বিশেষজ্ঞদের মতে, স্পাইনাল কর্ড নিরাপদ থাকার কারণে দেহের নার্ভ সিস্টেম এবং মাসল সিস্টেম নিরাপদ থাকে।
সাদা গাগড়ী ব্যবহারের কারণে মস্তিষ্কের কোষসমূহ গরমের উত্তাপ এবং লু-হাওয়া হতে রক্ষা পায়। সাদা পাগড়ী ব্যবহারকারী ব্যক্তি সানস্ট্রেনকসহ মস্তিষ্কের বিভিন্নপ্রকার রোগ ব্যাধি হতে নিরাপদ থাকে। আমার পরিচিত ফয়সালাবাদের এক লোক বলেছেন, আমি স্থায়ী সর্দি এবং মাথা ব্যথায় কষ্ট পাচ্ছিলাম। একজন ডাক্তার আমাকে পাগড়ী ব্যবহার করার পরামর্শ দেন। আল্লাহর রহমতে এতেই আমার রোগ ভালো হয়ে যায়। পাগড়ী ব্যবহারের ফলে মানুষকে অভিজাত এবং অধিক ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মনে হয়।
📄 ফুঁক
রসায়ন শাস্ত্রের বিজ্ঞানীরা বলেন যে, মানুষের 'ফুঁক'-এর মধ্যে বিষাক্ত কার্বন-ডাই-অক্সাইড ও দেহের আরও নানা প্রকার রোগ জীবাণু থাকে। কোনো মানুষ যখন কোনো খাদ্য দ্রব্য অথবা কোনো পানীয়ের খাদ্য দ্রব্যের মধ্যে ফুঁক দেয়, তখন সেই খাদ্য দ্রব্য উক্ত বিষাক্ত কার্বন-ডাই- অক্সাইড ও উক্ত অন্যান্য রোগ জীবাণু দ্বারা দূষিত হয়ে যায় এবং তখন সেই খাদ্য 'সে নিজে ভক্ষণ করলে অথবা অন্যকে খাওয়ালে তাদের উভয়ের দেহে নতুন সমস্যা অথবা নতুন কোনো রোগের সৃষ্টি হতে পারে। তাই স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীরা পৃথিবীর সকল মানুষকে ফুঁক দিয়ে কোনো খাদ্য দ্রব্য বা পানীয় খাদ্য দ্রব্য পান করতে নিষেধ করেছেন।
অথচ মহানবী মুহাম্মদ (সা) উক্ত রসায়ন শাস্ত্রবিদদের বহুপূর্বেই ফুঁক দিয়ে কোনো পানীয় দ্রব্য পান করতে নিষেধ করে গেছেন। যেমন-
عَنْ أَبِي سَعِيدِ الْخُدْرِيِّ لا أَنَّ النَّبِيَّ لا نَهُى عَنِ الْنَفْخِ فِي الشَّرَابِ فَقَالَ رَجُلَ الْقَذَاةُ أَرَاهَا فِي الْإِنَاءِ فَقَالَ أَهْرِقُهَا.
অর্থ: আবু সাঈদ খুদরী (রা) হতে বর্ণিত যে, নিশ্চয় মহানবী (সা) পানি জাতীয় খাদ্যের মধ্যে ফুঁক দিয়ে খেতে নিষেধ করেছেন। তখন এক ব্যক্তি বলল, যদি এর মধ্যে ময়লা দেখি, তখন তিনি বললেন, তবুও এর মধ্যে ফুঁক দিবে না, এরপর তিনি বললেন, ইহা হতে উক্ত ময়লাসহ একটু ফেলে দিয়ে পান করবে। (এখানে ময়লা বলতে খড় কুটা) (তিরমিযী, হাদীস/১৮৮৭, ২য় খণ্ড ১১ পৃষ্ঠা আবুওয়াবুল আশরাবা)।
📄 ফিজিওথেরাপি
ফিজিওথেরাপির বিজ্ঞানীরা বলেন যে, যদি কোনো মানুষ পৃথিবীর যে কোনো ভাষার শব্দগুলো মুখে উচ্চারণ করার সময় সঠিক ও সুস্পষ্টভাবে উচ্চারণ করে তবে তার জীবনে কখনও তার মুখ দিয়ে লেবরা বা লালা পড়বে না বা আসবে না। ইতিমধ্যে ফিজিওথেরাপির বিজ্ঞানীরা তা পরীক্ষা করে তার প্রমাণও দেখেছেন।
মহানবী মুহাম্মদ (সা) উক্ত ফিজিওথেরাপির বিজ্ঞানীদের প্রায় দেড় হাজার বৎসর পূর্বে তাঁর উম্মতদেরকে পবিত্র কুরআনকে তাঁর প্রতিটি হরফের মাখরাজ আদায় করে উক্ত কুরআনের প্রতিটি শব্দকে সুস্পষ্টভাবে উচ্চারণ করে সঠিকভাবে তেলাওয়াত করার নির্দেশ দিয়ে গেছেন, এবং তিনি বলেছেন যে, কুরআন তেলাওয়াত করা হচ্ছে সর্বপ্রকার রোগ ব্যাধি হতে রক্ষা পাওয়ার একমাত্র উপায়।
وَرَتِّلِ الْقُرْآنَ تَرْتِيلًا "এবং কুরআন পাঠ করুন সুবিন্যস্তভাবে ও স্পষ্টভাবে।” (সূরা মুয্যাম্মিল: আয়াত-৪)
মহানবী (সা)-এর হাদীস যেমন-
حَدَّثَنَا سَعَادُ بْنُ سُلَيْمَانَ عَنْ أَبِي إِسْحَقَ عَنِ الْحَارِثِ عَنْ عَلِيِّ ﷺ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ خَيْرُ الدَّوَاءِ الْقُرْآنُ - (ابن ماجه جلد الثاني صفه . ابواب الطب)
অর্থ: আলী (রা) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, মহানবী (সা) বলেছেন, উত্তম চিকিৎসামূহের মধ্যে (সবচেয়ে উত্তম চিকিৎসা) হচ্ছে পবিত্র কুরআন শুদ্ধ ও স্পষ্টভাবে তেলাওয়াত করা। (ইবনে মাজা ২য় খণ্ড-২৫০ পৃষ্ঠা)।
অতএব, প্রতীয়মান হয় যে, পবিত্র কুরআন যে ব্যক্তি সহীহ শুদ্ধ করে একটু উচ্চশব্দে পাঠ করবে, তার কখনও মুখ দিয়ে লালা পড়বে না, ব্রেইন স্ট্রোক করবে না, মাথা ব্যথা করবে না, হার্ড স্টোক করবে না, তাঁর কখনও রক্তচাপজনিত রোগ হবে না, মুখ বাঁকা হবে না এবং তার মন সদা সতেজ ও প্রফুল্ল থাকবে। তাই মহানবী (সা) বলেছেন পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতই হচ্ছে সর্বরোগের জন্য উত্তম চিকিৎসা।