📄 আধুনিক বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ
পায়খানা পেশাব মানুষের প্রাকৃতিক প্রয়োজনের অন্যতম। নবী করীম (সা) প্রত্যেকটি কাজের মধ্যে মানব কল্যাণ ও সহজতর পথ নির্দেশনা দিতেন। যদি নবী করীম (সা)-এর জীবন জিন্দেগী আলোচনাও বুঝা যায় তাহলে তাঁর জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে সহজতা ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির ব্যবহার দেখা যাবে। আজ পৃথিবী পুনরায় তাঁর তরীকার দিকে ফিরে আসতে শুরু করেছে, যে পন্থায় আমাদের নবী করীম (সা) জীবনযাপন করেছেন। ইস্তেঞ্জার ওপর রাসূল (সা)-এর সুন্নাতগুলোর বৈজ্ঞানিক ও চিকিৎসাগত উপকারিতাগুলো নিম্নে পেশ করা হলো:
১. রাসূল (সা) টয়লেট বা পায়খানা পেশাবের জন্য অনেক দূর হেঁটে যেতেন। পায়খানা পেশাবের জন্য দূরে যাওয়া অনেক বেশি উপকারী। বিজ্ঞান এবং চিকিৎসার আলোকে কয়েকটি বাস্তব বিশ্লেষণের বর্ণনা দিচ্ছি।
বর্তমানে আধুনিক বিজ্ঞান বেশি বেশি চলাফেলার ওপর জোর দিচ্ছে এমনকি আমেরিকার বড় বড় হাসপাতালগুলোতে একথা লিখা রয়েছে পা প্রথমে সৃষ্টি হয়েছে না বাহন।
একথা পরিষ্কার যে, পা প্রথমে সৃষ্টি হয়েছে। এই জ্ঞানগত বিষয়ের উদ্দেশ্য হলো জাতিকে বেশি বেশি করে পায়ে চলার দিকে আহ্বান জানানো। বায়ো কেমিষ্ট্রির (প্রাণ রসায়ন) এক দক্ষ পণ্ডিত এক পয়েন্টে তিনি বলেন: যখন হতে শহরের পত্তন ঘটতে থাকে, বসতি বাড়তে থাকে এবং চাষ ক্ষেত্র কমতে থাকে সে সময় হতে আজ পর্যন্ত রোগের বৃদ্ধি হচ্ছে। কেননা যখন হতে দূরে পায়খানা পেশাব করা পরিত্যাগ করা শুরু হয়েছে সে সময় হতে আজ পর্যন্ত ধরা রোগ, গ্যাস, পেট ও পাকস্থলীর পীড়াগুলো বেড়ে চলছে। চলার দ্বারা অস্ত্রগুলোর নড়াচড়া বেড়ে যায়, যার দ্বারা পায়খানা পেশাব সহজ হয়ে যায়। বর্তমানে আমরা পায়খানার মধ্যেই পেশাব করি এবং বাইরে চলে যাই না, এজন্য পায়খানা সহজ হয় না, যার কারণে পায়খানায় বেশি সময় থাকতে হয়।
২. রাসূল (সা) পায়খানা-পেশাবের জন্য কাঁচা এবং নরম জমিন বাছাই করতেন। এর মধ্যেও অনেক বৈজ্ঞানিক উপকারিতা নিহিত রয়েছে। একটি বিশ্লেষণে দেখা যাক:
লিউভাল পল (Louval Poul) নিজের পুস্তক স্বাস্থ্য বিধিতে লিখেছেন: মানবতার স্থায়িত্ব মাটিতে এবং তার ধ্বংসও মাটিতে। যখন হতে আমরা মাটির ওপর পায়খানা-পেশাব করা ত্যাগ করে শক্ত জমিন (ফ্লাশ, কমোড এবং ডব্লিউ-সি ইত্যাদি) ব্যবহার করতে শুরু করেছি। সে সময় হতে আজ পর্যন্ত পুরুষদের মধ্যে জাতিগত দুর্বলতা এবং পাথরের প্রভাব বেড়ে গিয়েছে এবং এর প্রভাব পেশাবের গ্লান্ডস (Prostate Glands) এর ওপর পড়ে।
মূলতঃ যখন মানুষের দেহ হতে বর্জ্য বের হয় তখন মাটি এগুলোর জীবাণু এবং ক্ষতিকর প্রভাবগুলোকে লুফে নেয়। যেহেতু ফ্লাশ ইত্যাদিতে এ পদ্ধতি নেই। এজন্য ঐসব ক্ষতিকর জীবাণুর প্রভাব যা মাটি লুফে নিত, ফ্লাশে পেশাব করার কারণে এসব জীবাণুর প্রভাব দুবার আমাদের দেহের ওপর খারাপ প্রভাব ফেলে এবং মানবদেহের স্বাস্থ্য ধীরে ধীরে রোগের দিকে ধাবিত হয়।
আরো একজন অভিজ্ঞ ডাক্তার লিখেন: নরম ও কর্ষিত জমিন সর্ব জিনিসকে শোষণ করে নেয়। যেহেতু পেশাব এবং পায়খানা জীবাণুযুক্ত বর্জ্য, এজন্য এমন জমিন দরকার যা এগুলোকে শোষণ করতে এবং একে ছিটার প্রতিবন্ধক হয়ে শরীর এবং দেহের ওপর পড়া হতে ফিরায়। যা ফ্লাশ টয়লেট দ্বারা হতে পারে না। সেখানেও ছিটার আশংকা রয়েছে। এছাড়াও এর মধ্যে বর্জ্যকে শোষণ করার কোনো গুণ নেই। ফ্লাশে পেশাব করার কারণে বর্জ্যের বাষ্প শোষণ হতে পারে না যার কারণে বর্জ্য হতে ভেসে আসা বাষ্প স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হয়।
রাসূল (সা) পা ছড়িয়ে এবং বাম পায়ের ওপর জোর দিয়ে চুপ হয়ে মাথা ঝুঁকিয়ে পায়খানা-পেশাব সারতেন। এ পদ্ধতির মধ্যেও অনেক বৈজ্ঞানিক ও ডাক্তারী উপকারিতা রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি নিম্নে উল্লেখ করা হলো:
ফিজিওলজির একজন সিনিয়র অধ্যাপক বলেন, আমি মারাকাশ ছিলাম। একজন ইহুদি ডাক্তারের নিকট চিকিৎসার জন্য যেতে হয়। ডাক্তার যথেষ্ট বয়স্ক ছিলেন। যখন আমি আমার নাম লিখালাম তখন তিনি বলতে লাগলেন, আপনি কি মুসলমান? আমি বললাম, জী হ্যাঁ। মুসলমান এবং পাকিস্তানিও।
ইহুদি ডাক্তার বলতে লাগলেন, তোমাদের পাকিস্তানে যদি স্বয়ং তোমাদের নবীর একটি পন্থা জীবিত হয়ে যায় তাহলে পাকিস্তানিরা কয়েকটি রোগ হতে বাঁচতে পারবে। আমি কৌতূহলবশত ব্যাকুল হলাম এবং জিজ্ঞেস করলাম: ডাক্তার সাহেব সেটা কোনো পন্থা? ইহুদি ডাক্তার বললেন, পায়খানা পেশাবের পন্থা। যদি পায়খানা পেশাবের জন্য ইসলামী পদ্ধতিতে বসা হয় তাহলে এপেন্ডিসাইটিস, স্থায়ী ধরা রোগ পাইলস এবং গোদ্দার রোগ জন্ম নিবে না। যদি মুসলমান স্বয়ং নবী করিম (সা)-এর পদ্ধতিতে পায়খানা পেশাব সমাধা করে তাহলে এসব পীড়া হতে বাঁচতে পারে।
পাকিস্তানি অধ্যাপক বলেন, আমি আমার নবী করিম (সা)-এর পদ্ধতি সম্পর্কে জ্ঞাত ছিলাম না। আমার আফসোস হলো যে, আমি দ্বীনি জ্ঞানার্জনের জন্য সামান্য সময়ও ব্যয় করিনি যে, এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ ও আবশ্যকীয় মাসয়ালাগুলো শিখে নিব। এ সময় আমার এ পদ্ধতি সম্পর্কে জানার প্রবল আগ্রহ জন্মাল। আমি এ ইহুদি ডাক্তার-এর নিকট জিজ্ঞেস করলাম না। তবে মারাকেশে একজন দ্বীনি আলেম ছিলেন। আমি তার নিকট উপস্থিত হলাম এবং রাসূল (সা)-এর পদ্ধতি জিজ্ঞেস করলাম যখন তিনি এ পদ্ধতি বর্ণনা করলেন এবং বুঝিয়ে দিলেন, তখনই আমি এরপর আমল শুরু করলাম। প্রথম প্রথম আমার সময় লাগল, কিন্তু এর উপকারিতা খুব শীঘ্রই আমার বুঝে আসল এবং এ সময় হতে আজ পর্যন্ত আমি পায়খানা পেশাবের জন্য ঐ পদ্ধতি অনুসরণ করি। যে পদ্ধতিতে নবী করীম (সা) শিক্ষা দিয়েছেন।
আধুনিক বিজ্ঞান নবী করীম (সা)-এর এই পায়খানা পেশাবের পদ্ধতির উপর ধারাবাহিক রিসার্চ (গবেষণা) করছে এবং বর্তমানে অমুসলিম বিজ্ঞানীরাও এর উপকারিতা স্বীকার করছে।
স্বাস্থ্য এবং জীবন স্থায়িত্ব এবং সুন্দর ব্যবস্থার জন্য ইসলামের নবী করীম (সা)-এর প্রয়োজনীয় পদ্ধতির চেয়ে বড় কোনো পদ্ধতি নেই। ইসলামের নবী করীম (সা)-এর এ পদ্ধতির ওপর আমল করাতে গ্যাস, বদ হজম, ধরা রোগ এবং গোদ্দার বা কিডনী রোগগুলো বাস্তবেই কমে যায় এবং বিশেষ করে নবী করীম (সা)-এর পদ্ধতি আপনা-আপনি এসব পীড়াকে মূলোৎপাটন করেও দেয়।
রাসূল (সা) ইস্তিঞ্জার জন্য প্রথমে মাটির ঢিল ব্যবহার করতেন এবং ঢিল বেজোড় সংখ্যক ব্যবহার করতেন। রাসূল (সা)-এর এ সুন্নাতের মধ্যেও অনেক বৈজ্ঞানিক ও ডাক্তারি উপকারিতা রয়েছে। নিম্নে এ সম্পর্কে কিছু আলোকপাত করা হলো:
আধুনিক বিজ্ঞানের গবেষণা অনুযায়ী মাটির মধ্যে উপকারী গ্যাসীয় মিশ্রণ এবং উন্নতমানের রোগ নিরাময়ের অংশ মওজুদ রয়েছে। যেহেতু পায়খানা ও পেশাব চরম প্রকারের বর্জ্য এবং এতে জীবাণু ভর্তি হয়ে থাকে এ কারণে এটা মানব চর্মে লাগা সবচেয়ে ক্ষতিকর। যদি এর কোনো অংশ চামড়ার ওপর লেপ্টে যায় অথবা হাতের ওপর রয়ে যায়, তাহলে অগণিত পীড়া হওয়ার আশংকা থাকে।
ডা. হালুক লিখেন: ঢিলের ব্যবহার বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণী দুনিয়াকে উদ্বিগ্ন করে রেখেছিল কিন্তু বর্তমানে এ বাস্তবতা সামনে এসে গেছে যে, মাটির সকল অংশ জীবাণু ধ্বংসকারী। যখন ঢিলের ব্যবহার হবে তখন গোপন অঙ্গসমূহের ওপর মাটি লাগার কারণে এর উপর পর্যাপ্ত পরিমাণ লেগে থাকা সব জীবাণু ধ্বংস হয়ে যায়। বরং গবেষণায় এটাও প্রমাণিত হয়েছে যে, মাটির ব্যবহার লজ্জাস্থানের ক্যান্সার হতেও রক্ষা করে। আমি এমন কিছু রোগী দেখেছি যাদের লজ্জাস্থানে ক্ষত হয়ে গিয়েছিল। কিছুদিন মাটির ঢেলা ব্যবহার করিয়েছি এবং তারা মাটির ঢেলা দ্বারা ইস্তিঞ্জা করে বলেছেন তারা দ্রুত সুস্থতা লাভ করেছেন।
মোটকথা আমাদের সকল নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক এবং ডাক্তারগণের এ সিদ্ধান্ত এই যে, এসব মাটির মানুষ পুনরায় মাটি হতে আরোগ্য লাভ করে। চাইলে পৃথিবীর সব ফর্মুলা ব্যবহার করুন, এদের মধ্যে শুধু ইসলামের নবী মুহাম্মদ (সা)-এর পদ্ধতিগুলো দ্বারা রোগ হতে সুরক্ষা মিলবে।
আজকাল ইস্তিঞ্জা এবং পবিত্রতার জন্য টিস্যু পেপার অথবা টয়লেট পেপার ব্যবহৃত হয় এবং লোকেরা আগ্রহের সাথে এগুলোর ব্যবহার করে। সব লোকের ধারণা যে টয়লেট পেপারের চেয়ে উত্তমরূপে পরিষ্কার আর কিছুতে হয় না। অথচ টয়লেট পেপার দ্বারা কিছু না কিছু ময়লা শরীরের ওপর অবশিষ্ট থাকে যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এবং যদি গোসলের প্রয়োজন হয় তাহলে লোকেরা এভাবে টয়লেট পেপার দ্বারা অবশিষ্ট ময়লার সঙ্গে পানিতে বসে যায়, যার দ্বারা শুধু ঐ রোগই বাড়ে না বরং পাত্রের সকল পানি ময়লা ও গন্ধযুক্ত হয়ে যায়, যা গোসলের জন্য ব্যবহার করা যায় না। যদি এতদসত্ত্বেও মানুষ এর দ্বারা গোসল করে তাহলে তার সর্বশরীর নাপাক ও ময়লাযুক্ত হয়ে যায়। এতো সেই পশ্চিমা সংস্কৃতি যার মধ্যে মানুষের ক্ষতি নিহিত। যা কোনো মুসলমানের পক্ষে কখনো অনুসরণীয় হতে পারে না। আল্লামা ইকবাল ঠিকই বলেছিলেন- 'নতুন সংস্কৃতির ডিমগুলো পঁচা'।
টয়লেট পেপার প্রস্তুতকারী ফ্যাক্টরীর এক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিকট এক ডাক্তার এবং অভিজ্ঞ চিকিৎসকের সাক্ষাৎ ঘটল। তিনি এই সংশ্লিষ্টকে জিজ্ঞেস করলেন: ভাই বলুন তো, এই নরম কোমল ও চিকন টয়লেট পেপার তৈরিতে কোনো মারাত্মক কেমিক্যাল ব্যবহৃত হয় কি? সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বলতে লাগলেন, ডাক্তার সাহেব! এগুলো তৈরিতে অগণিত কেমিক্যাল ব্যবহৃত হয়, কিছু কেমিক্যাল তো ক্ষতিকরের চূড়ান্ত, যার দ্বারা চর্ম রোগ, এক্সিমা এবং চর্মের রং পরিবর্তনের মতো রোগের জন্ম হয়ে থাকে।
এ সময়ে সব ইউরোপীয় টয়লেট পেপার ব্যবহার করছে। অতীত দিনের সংবাদে এ সংবাদ প্রচার করেছে যে, বর্তমানে ইউরোপে লজ্জাস্থানের রোগ বিশেষ করে লজ্জাস্থানের ক্যান্সার ব্যাপকভাবে হচ্ছে। এটা বন্ধের জন্য যখন গবেষণা বোর্ড বসল, তখন এ বোর্ডের রিপোর্ট মাত্র দুটি জিনিসের ওপর শামিল ছিল। বোর্ডের বক্তব্য হলো, এ ধ্বংসকারী পীড়াগুলো এবং লজ্জাস্থানের ক্যান্সার বর্জ্য পরিষ্কারের জন্য টয়লেট পেপার ব্যবহার এবং পানি ব্যবহার না করার কারণে বেড়ে চলেছে। ইউরোপ আমাদেরকে কাগজের আকারে যে, তোহফা (উপহার) দিয়েছেন তা আমাদের জন্য লাভজনক না ক্ষতিকর তার ফায়সালা করার দায়িত্ব আপনাদের ওপর।
রাসূল (সা) ইস্তিঞ্জার জন্য প্রথমে মাটির ঢিলা ব্যবহার করতেন, তারপর পানি ব্যবহার করতেন। শুধু পানি দ্বারাও ইস্তিঞ্জা করতেন, যেহেতু হাদীসে রাসূল (সা) ইরশাদ করেন, পানি দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করা আম্বিয়ায়ে কেরামের সুন্নাত। (সহীহ মুসলিম, ৬০৪ পৃ.)
রাসূল (সা) ইরশাদ করেন: পবিত্রতা অর্জনের জন্য পাত্র হতে পানি ডান হাত দ্বারা ঢেলো এবং পরিষ্কার করার জন্য বাম হাত ব্যবহার করো। সাবধান! ইস্তিঞ্জা করার জন্য ডান হাত ব্যবহার করো না। যখন কোনো লোক পায়খানা পেশাবের জন্য যায়, তখন লজ্জাস্থান নিজ ডান হাত দ্বারা স্পর্শ করবে না। (বুখারী খ-১ আরবী পৃষ্ঠা ২৭; সহীহ মুসলিম খ-১, আরবী, পৃষ্ঠা-১৩০)