📄 রোগ হতে মুক্তি
ডাক্তার মুহাম্মদ আলমগীর খানের দৃষ্টিতে, নামায হতে যেমন আত্মিক আনন্দ এবং প্রশান্তি লাভ হয় ঐরূপ দৈনিক স্বাস্থ্যেরও বিষয়াদি মওজুদ আছে। নামাযের আরকান যদি উত্তমভাবে এবং নিয়মমতো আদায় করা যায়, তাহলে এর দ্বারা কয়েক প্রকারের শারীরিক রোগ হতেও মুক্তি অর্জন সম্ভব।
📄 বড় ইহসান
আল্লাহ তায়ালা পাঁচ ওয়াক্ত নামায আমাদের ওপর ফরয করে বড়ই ইহসান করেছেন, নামায যেখানে আমাদের আত্মিক উন্নতি এবং হৃদয়ের প্রশান্তি দান করে এবং খারাপ হতে ফিরিয়ে পবিত্রতার বৃত্তের মধ্যে প্রবেশ করায়, অনুরূপ শারীরিক স্বাস্থ্যের জন্যও নামায সাহায্যকারী বটে। শরীরকে দুরস্ত রাখতে, শিরার কষ্ট ও জোড়াগুলোর রোগ হতে বাঁচতে এবং খাদ্য হজম করার ক্ষেত্রে নামায অনেক প্রভাবশীল জিনিস। মানব স্বাস্থ্যের জন্য নামাযের একটি উপকারিতা এও যে এটি আমাদের রক্তের কলেস্টোরেল অর্থাৎ চর্বিকে কমানোর ক্ষেত্রে একটা সীমা পর্যন্ত কাজ করে।
📄 নামায এবং দেহের বর্ধন ও উন্নতি
ডাক্তার ও হাকীম সাইয়েদ মুহাম্মদ কামালুদ্দীন হুসাইন হামদানী (পিএইচডি প্রধান চিকিৎসক ও আঘাত বিভাগ, মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়, আলীগড়) তাঁর লেখা ইসলামের স্বাস্থ্য বিধিতে লিখেন: যদি মানুষ নিয়মিত নামাযী হয়ে যায়, তাহলে তার শরীরের জন্য ব্যায়াম ও সংযম হিসেবে গণ্য হবে। যার দ্বারা মানুষের সকল অঙ্গের বৃদ্ধি উত্তম হবে এবং তার শক্তি বাড়বে। এছাড়াও জোড়াগুলো সচল ও সুস্থ থাকবে এবং জোড়াগুলো তাদের কাজগুলো সঠিক পদ্ধতিতে আঞ্জাম দিতে থাকবে এবং জোড়াগুলো বিভিন্ন প্রকারের রোগ যেমন জোড়া শক্ত হওয়া ইত্যাদি হতে রক্ষা পায়। এছাড়াও শ্বাসক্রিয়ার নিয়ম, রক্ত পরিসঞ্চালন প্রক্রিয়া এবং পচন প্রক্রিয়ার ওপরও উত্তম প্রভাব ফেলে থাকে এবং মানুষ জীবনভর বিভিন্ন প্রকারের রোগ ও শারীরিক বিপদাপদ হতে সুরক্ষিত থাকে আর মানুষ জীন্দেগীর কর্তব্যসমূহ সঠিক এবং সর্বোত্তম পদ্ধতিতে আদায় করতে থাকবে। (ইসলামের স্বাস্থ্য বিধি পৃ. ৩৫-৩৬, ডাক্তার হাকীম মুহাম্মদ কামালুদ্দীন হামদানী, প্রকাশক হাইয়্যা আলাল ফালাহ সোসাইটি, আলীগড়, ভারত)
📄 নামায হচ্ছে সর্বোত্তম ব্যায়াম
নামায একটি উত্তম ইসলামী ব্যায়াম, মানুষকে সব সময় সতেজ রাখে, অলসতা এবং অবসাদগ্রস্ততাকে বাড়তে দেয় না। অন্য সব ধর্মের মধ্যে এমন সামগ্রিক ইবাদত আর নেই যা আদায়ের সময় মানুষের সকল অঙ্গ নড়াচড়া ও শক্তিশালী হয়। নামাযীর জন্য এটা একটা বিশেষ বৈশিষ্ট্য যে, এটা একান্তই সামগ্রিক ব্যায়াম যার প্রভাব মানবের সকল অঙ্গগুলোতে পড়ে এবং সামগ্রিক মানব অঙ্গগুলোতে নড়াচড়া ও শক্তি সৃষ্টি হয় এবং স্বাস্থ্য অটুট থাকে। (ইসলামের স্বাস্থ্য বিধি পৃ. ৩৬, প্রাগুক্ত)
মানুষ রাতভর ঘুমিয়ে থাকে, ফলে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ স্থবির হয়ে রক্ত জমে যায়। এমতাবস্থায় রক্ত চলাচল স্বাভাবিক করার জন্যে ব্যায়ামের প্রয়োজন। এ কারণে তাহাজ্জুদ এবং ফজরের নামাযের বিধান দেয়া হয়েছে। তারপর কিছুক্ষণ বিরতি দিয়ে এশরাক, তারপর চাশত নামাযের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তারপর দীর্ঘ বিরতির পর কর্মব্যস্ততার মধ্যে সময় বের করে যোহরের নামায আদায় করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। যোহরের নামাযের পর আছর, তারপর মাগরিব, তারপর এশার নামায আদায় করার আদেশ দেয়া হয়েছে। এশার নামাযে বেশি রাকাত রাখা হয়েছে, কারণ রাতে মানুষ বেশি পানাহার করে, বেশি রাকাত নামায আদায়ের মাধ্যমে হজম শক্তি বৃদ্ধি পায়। আর যে খাবার হজম হয় না তা স্বাস্থ্যের জন্যে ক্ষতিকর।