📘 পরিবেশ ও স্বাস্থ বিজ্ঞানে মুহাম্মদ সাঃ > 📄 ধ্যানের জন্য কিছু নির্দেশনা

📄 ধ্যানের জন্য কিছু নির্দেশনা


১. খালি পেটে ধ্যান করবেন।
২. সকাল বেলা ধ্যানের উত্তম সময়।
৩. ঘুম ঘুম বা তন্দ্রা পরিহার করার জন্য ধ্যান শুরুর আগে হাত পা এবং মুখমণ্ডল ধুয়ে নিন।
৪. জবরদস্তিপূর্ণভাবে এবং বাধ্যতামূলক মনে করে নয় বরং স্বতঃস্ফূর্ত মনোভাব নিয়ে সন্তুষ্টির সঙ্গে ধ্যান করুন।
৫. সঙ্গীতের হালকা সুরের পরিবেশে মোমের আলোর মধ্যে সুরভিত পরিবেশে ধ্যান করা হলে ভালো ফল পাওয়া যাবে।
৬. বেশি অস্থিরতা অনুভব করলে এমন ধ্যান করুন যাতে শারীরিক কস্রত করতে হয়। যেমন যোগ ব্যায়াম বা কোনো প্রকার খেলা।
৭. ধ্যান শেষ করার ইচ্ছাকে রেখে দিন। পনের বিশ মিনিট যদি অধিক মনে হয় তবে পাঁচ মিনিট দিয়ে শুরু করুন।
ধ্যান চালিয়ে যাবেন। কখনোই বন্ধ করবেন না। সফলতার জন্য বিভিন্ন পদ্ধতি যাচাই করে অনুশীলন করবেন। যদি কোনো শিক্ষাগুরু পেয়ে যান তবে তার শেখানো পদ্ধতি দ্বারা উপকৃত হউন। (বিজ্ঞান বিষয়ক প্রবন্ধ, ডক্টর খালেদ মাহমুদ)

📘 পরিবেশ ও স্বাস্থ বিজ্ঞানে মুহাম্মদ সাঃ > 📄 রাসূল (সা)-এর আবির্ভাবকালীন সময়ের একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা

📄 রাসূল (সা)-এর আবির্ভাবকালীন সময়ের একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা


রাসূল (সা)-এর জন্মগ্রহণের কিছুকাল আগে হতে মক্কার কিছু লোক মানুষদের চিন্তায় ও কর্মে সংস্কার সাধনে উদ্যোগী হন। তারা মানুষদের সৎপথে চলার জন্য উপদেশ দেন, অসৎ পথ হতে, অসৎ কাজ হতে বিরত থাকার আহ্বান জানান। কিন্তু সাধারণ মানুষ তাদের কথা শোনা পছন্দ করতো না। উপদেশ দানকারীদেরকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাতো। এভাবে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর মাধ্যমে অবজ্ঞা প্রকাশ করা হতো, লজ্জা দেয়া হতো। মানুষের কল্যাণকামী একজন লোক সমাজের এরকম বিরুদ্ধ মনোভাব দেখে জঙ্গলে গিয়ে আশ্রয় নেন এবং সেখানে বসবাস করতে থাকেন। তিনি ঘাস পাতা খেয়ে জীবন ধারণ করতেন। তার এ সাধনার ফলে মহান আল্লাহ তাকে কিছু বৈশিষ্ট্য দান করেন। তিনি পাখিদের প্রতি তাকালে পাখি মাটিতে পড়ে যেতো। পাথরের প্রতি তাকালে পাথর ঝরে মাটিতে পড়তো। যে কোনো জিনিসের প্রতি অপলক দৃষ্টিতে তাকালে সে জিনিস ঘায়েল হয়ে যেতো। তার এসব বৈশিষ্ট্যের সুখ্যাতি চারদিকে জানাজানি হয়ে গেল। মক্কার লোকেরা তার নিকট আসতে শুরু করলো। এ সময় মক্কায় রাসূল (সা) নবুওয়াতের কথা ঘোষণা করলেন। কাফেরগণ তাকে কষ্ট দিতে লাগলো এবং এক পর্যায়ে তাঁকে মেরে ফেলার চক্রান্ত করলো। তারা কুরআনের বাণীকে জাদু বলে অভিহিত করতো। মক্কার কুরাইশ নেতাগণ জঙ্গলে নির্বাসিত জীবন যাপনকারী এই লোকটির প্রতি মনযোগী হলো এবং তাকে বুঝিয়ে মক্কায় নেয়ার চিন্তা করলো। তারা কয়েকজন প্রতিনিধি জঙ্গলে পাঠালো।
জঙ্গলে অবস্থানকারী সেই সাধু পুরুষ কুরাইশ নেতাদের প্রতিনিধিদের বললেন ইসলাম প্রচারক যে বাণী প্রচার করেন সে বাণীর কিছু অংশ তোমরা মুখস্থ করে আসবে। আমি ধ্যানে বসবো সে সময় তোমরা সে বাণী বারবার পড়তে থাকবে। আমি ধ্যানের মধ্য হতে যা বলবো সেটাই হবে আমার জবাব। মক্কার প্রতিনিধিদল সূরা কাওছার মুখস্থ করে গেল। তারা পাঠ করে শোনালো 'ইন্না আতাইনা কাল কাওছার ফাছাল্লি লিরাব্বিকা অনহার ইন্না শানিয়াকা হুয়াল আবতার।' এতটুকু পাঠ করার পর সেই সাধক আবেগ রুদ্ধ কণ্ঠে বললেন, 'লাইছা হাজা কালামিল বাশার'। অর্থাৎ এ বাণী কোনো মানব রচিত বাণী নয়। মক্কার প্রতিনিধিদল হতাশ হয়ে মক্কায় ফিরে গেল। সেই সাধক পুরুষ বললেন, আমি জানতাম না এক অদ্বিতীয় মহান আল্লাহর প্রতি মানুষকে আহ্বান জানানোর জন্য কোনো নবীর আবির্ভাব ঘটবে। তারপর তিনি ইসলাম গ্রহণ করে মুসলমান হওয়ার উদ্দেশ্যে মক্কার পথে রওয়ানা হলেন। মক্কায় কুরাইশ নেতাদের পরিকল্পনা ব্যর্থ হলো। সেই সাধক পুরুষ নিজের মধ্যে যে অলৌকিক বৈশিষ্ট্য অর্জন করেছিলেন সেটা ধ্যানের মাধ্যমেই অর্জিত হয়েছিল। (আহওয়ালে ইসলা, কিউজ জ্যাকশন থার্ড)

📘 পরিবেশ ও স্বাস্থ বিজ্ঞানে মুহাম্মদ সাঃ > 📄 দ্বীন কি আকলের নাম নাকি নকলের নাম (বিজ্ঞানের আলোকে)

📄 দ্বীন কি আকলের নাম নাকি নকলের নাম (বিজ্ঞানের আলোকে)


মানুষের আকল বা বিবেক ত্রুটিপূর্ণ কিন্তু দ্বীনে মোহাম্মদী পূর্ণতাপ্রাপ্ত। মানুষ খুবই দুর্বল জীব। সকল প্রকার জীবন ব্যবস্থা মানুষের পক্ষে জানা এবং বোঝা সম্ভব নয়। তারা একটি বিষয়ে বুঝতে সক্ষম হলেও অন্য বিষয়ে বুঝতে পারে না। তবে কোনো বিষয়ে বোঝার জন্য সচেষ্ট হলে বুঝতে পারে।
মানুষের ইতিহাস পাঠে জানা যায় বহু মানুষ দ্বীনকে বিবেকের কষ্টিপাথরে যাচাই করার চেষ্টা করেছে। কিন্তু তাদের ত্রুটিপূর্ণ এবং অসম্পূর্ণ বিবেক তাদেরকে সহায়তা করেনি। ফলে তারা দ্বীনের গুরুত্বপূর্ণ রোকন অস্বীকার করেছে। অনেকে দ্বীনের বাহ্যিক অবস্থা দেখে দ্বীনকে বোঝার জন্য চেষ্টা করেছে। কিন্তু এতে তারা সমর্থ হয়নি। কারণ দ্বীন হচ্ছে প্রকৃতপক্ষে মোহাম্মদ (সা)-এর অনুসরণের অন্য নাম। আমি বুঝতে পারি বা না পারি মানুষ যা কিছুই বলুক প্রকৃতপক্ষে কুরআনের এ বক্তব্য মেনে নিতে হবে। (امنا واطعنا) আমান্না ওয়া আ'তানা। আমি বিশ্বাস করেছি এবং মেনে নিয়েছি। বিজ্ঞান ইসলাম সম্পর্কে যে গবেষণা করেছে, গবেষণার যে দ্বার খুলে দিয়েছে এতে পথভ্রষ্ট মানুষদের পুনরায় ইসলামের পথেই ফিরে আসতে হবে। মানুষের প্রথমবারের দেখা ভুল হতে পারে। দৃষ্টি বিভ্রম ঘটতে পারে। যদি আমরা সবকিছু দ্বীনের দৃষ্টিতে দেখতে থাকি তবে যা কিছু দেখা যাবে সবই হবে সত্য।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00