📄 চিন্তার একাগ্রতা
শারীরিক অবস্থার পরিবর্তনের সঙ্গে আপনার মস্তিষ্ককে সঙ্গতিপূর্ণ করুন। আপনার দৈহিক ওজন কমান। এতে ক্যান্সার সৃষ্টিকারী জীবাণুসমূহ স্থবির হয়ে যাবে। আপনি চিন্তা করতে থাকুন যে একটি সাদা আলো আপনার মাথা হতে পায়ের দিকে আসছে। আরো চিন্তা করুন সেই সাদা আলো আপনার দেহের প্রতিটি জিনিসকে বিগলিত করে দিচ্ছে। এ সময় মানসিক চাপকে আপনি মনে করুন নিষিদ্ধ বস্তু সেই বস্তু আপনার আঙ্গুল দিয়ে এবং মাথার চুল দিয়ে বের হয়ে যাচ্ছে। এ সময় নিঃশ্বাসের প্রতি আপনি মনযোগী হউন। আপনি চিন্তা করবেন যে প্রতিটি নিঃশ্বাস আপনাকে সুস্থতার দিকে নিয়ে যাচ্ছে। আপনি যে কোনো রকম ধ্যানের অনুশীলন করতে পারেন। অনেককে দেখা যায়, কিছু দিন ধ্যান করার পর ধ্যান ত্যাগ করে। এতে প্রত্যাশিত উপকার পাওয়া সম্ভব হয় না। আপনি আপনার চিন্তাশক্তিকে কেন্দ্রীভূত করুন, দেখবেন ওতে পরিবর্তন আসছে। আপনার মস্তিষ্ক আপনার চিন্তাকে একদিক হতে অন্যদিকে নিয়ে যাবে। মস্তিষ্ককে একটি নির্দিষ্ট চিন্তায় কেন্দ্রীভূত রাখার জন্য অনেক মানুষকে বছরের পর বছর ধ্যান করতে হয়। ধ্যান জীবনকে শান্তিপূর্ণ করে। ভালোভাবে শিখতে হবে। নামায হচ্ছে ধ্যানের উৎকৃষ্ট প্রাথমিক পদ্ধতি।
📄 কিভাবে ধ্যান করবেন
১. আপনি মেঝেতে বসুন অথবা চেয়ারে বসে পা মেঝেতে রাখুন। এ সময় কোমর সোজা রাখবেন। ঘুমে চোখ জড়িয়ে না এলে ঘুমাতে যাবেন না। ঢিলে ঢালা পোশাক পরিধান করুন।
২. চোখ বন্ধ করে গভীরভাবে কিছুক্ষণ নিঃশ্বাস নিন। মনকে বোঝাবেন যে, এ সময়টুকু একান্তই আপনার এবং বিশ মিনিট আপনার নিজস্ব সময়।
৩. দেহকে আরামদায়ক পজিশনে রাখুন। মনে মনে সারা দেহ সার্ভ করুন। বিশেষ করে বুক, ঘাড় এবং চেহারার হাড়ের প্রতি মনযোগী হউন। প্রতিবার নিঃশ্বাস ত্যাগ করার সময় চিন্তা করুন যে আপনার হাড়ের জড়তা কেটে যাচ্ছে। তারপর নিজের দেহের প্রতি মনযোগী হয়ে বলুন, হে হাড়সমূহ! তোমার নিজের অবস্থানে ফিরে আসো।
৪. আপনার কথা এবং চেয়ারের সঙ্গে দেহ সংযুক্ত থাকার অনুভূতির প্রতি কয়েক মুহূর্তের জন্য পূর্ণ মনযোগী থাকুন। আপনার ত্বক যে আপনার পরিহিত পোশাকের স্পর্শ পাচ্ছে সে কথা চিন্তা করুন।
৫. আপনি আপনার মস্তিষ্ককে এক জায়গায় কেন্দ্রীভূত করুন। ধ্যানের জন্য ২ বা ৩ সংখ্যাটি স্মরণ করুন। নিঃশ্বাস নেয়ার সময় মনে মনে ১০ সংখ্যা পর্যন্ত গণনা করুন। একবার শেষ করে আবার শুরু করুন।
৬. চুপচাপ বসুন এবং দেহের কোনো অঙ্গকে নড়াচড়া করাবেন না। দেহের কোনো অঙ্গ স্পন্দিত করার প্রয়োজন দেখা দিলে আপনার শারীরিক অবস্থা উপলব্ধি করুন এবং অপেক্ষা করতে থাকুন। যদি এ সময় মনে হয় যে আপনার বিশেষ কোনো অঙ্গ নাড়াচাড়া না করলে আপনার মৃত্যু হতে পারে, তাহলে আস্তে আস্তে সেই অঙ্গ নাড়াচাড়া করুন। এ সময় আপনার মনযোগ এক জায়গায় কেন্দ্রীভূত রাখবেন এবং মনে অন্য কোনো চিন্তাকে জায়গা দেবেন না। উপরোক্ত ১ এবং ১ নম্বর ধ্যানের অনুসরণে এ ধ্যান আমল করা যায়।
৭. ঘুম পরিহার করুন। কোমর সোজা রাখুন। এ সময় কোনো কিছুতে হেলান বা ভর দেবেন না। কোমর বাঁকা করবেন না। কিছুতেই ঘুমের কথা চিন্তা করবেন না।
৮. ঘড়ির প্রতি চোখ রাখুন এতে আপনি সময় সম্পর্কে ধারণা পাবেন। নির্দিষ্ট সময় অতিবাহিত হয়েছে কিনা বুঝতে পারবেন।
৯. নিজের দেহ ধীরে ধীরে নাড়াচাড়া করুন। প্রথমে পা এবং বাহু নাড়াবেন তারপর ধীর ক্রমে হাত পা প্রসারিত করবেন।
📄 ধ্যানের জন্য কিছু নির্দেশনা
১. খালি পেটে ধ্যান করবেন।
২. সকাল বেলা ধ্যানের উত্তম সময়।
৩. ঘুম ঘুম বা তন্দ্রা পরিহার করার জন্য ধ্যান শুরুর আগে হাত পা এবং মুখমণ্ডল ধুয়ে নিন।
৪. জবরদস্তিপূর্ণভাবে এবং বাধ্যতামূলক মনে করে নয় বরং স্বতঃস্ফূর্ত মনোভাব নিয়ে সন্তুষ্টির সঙ্গে ধ্যান করুন।
৫. সঙ্গীতের হালকা সুরের পরিবেশে মোমের আলোর মধ্যে সুরভিত পরিবেশে ধ্যান করা হলে ভালো ফল পাওয়া যাবে।
৬. বেশি অস্থিরতা অনুভব করলে এমন ধ্যান করুন যাতে শারীরিক কস্রত করতে হয়। যেমন যোগ ব্যায়াম বা কোনো প্রকার খেলা।
৭. ধ্যান শেষ করার ইচ্ছাকে রেখে দিন। পনের বিশ মিনিট যদি অধিক মনে হয় তবে পাঁচ মিনিট দিয়ে শুরু করুন।
ধ্যান চালিয়ে যাবেন। কখনোই বন্ধ করবেন না। সফলতার জন্য বিভিন্ন পদ্ধতি যাচাই করে অনুশীলন করবেন। যদি কোনো শিক্ষাগুরু পেয়ে যান তবে তার শেখানো পদ্ধতি দ্বারা উপকৃত হউন। (বিজ্ঞান বিষয়ক প্রবন্ধ, ডক্টর খালেদ মাহমুদ)
📄 রাসূল (সা)-এর আবির্ভাবকালীন সময়ের একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা
রাসূল (সা)-এর জন্মগ্রহণের কিছুকাল আগে হতে মক্কার কিছু লোক মানুষদের চিন্তায় ও কর্মে সংস্কার সাধনে উদ্যোগী হন। তারা মানুষদের সৎপথে চলার জন্য উপদেশ দেন, অসৎ পথ হতে, অসৎ কাজ হতে বিরত থাকার আহ্বান জানান। কিন্তু সাধারণ মানুষ তাদের কথা শোনা পছন্দ করতো না। উপদেশ দানকারীদেরকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাতো। এভাবে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর মাধ্যমে অবজ্ঞা প্রকাশ করা হতো, লজ্জা দেয়া হতো। মানুষের কল্যাণকামী একজন লোক সমাজের এরকম বিরুদ্ধ মনোভাব দেখে জঙ্গলে গিয়ে আশ্রয় নেন এবং সেখানে বসবাস করতে থাকেন। তিনি ঘাস পাতা খেয়ে জীবন ধারণ করতেন। তার এ সাধনার ফলে মহান আল্লাহ তাকে কিছু বৈশিষ্ট্য দান করেন। তিনি পাখিদের প্রতি তাকালে পাখি মাটিতে পড়ে যেতো। পাথরের প্রতি তাকালে পাথর ঝরে মাটিতে পড়তো। যে কোনো জিনিসের প্রতি অপলক দৃষ্টিতে তাকালে সে জিনিস ঘায়েল হয়ে যেতো। তার এসব বৈশিষ্ট্যের সুখ্যাতি চারদিকে জানাজানি হয়ে গেল। মক্কার লোকেরা তার নিকট আসতে শুরু করলো। এ সময় মক্কায় রাসূল (সা) নবুওয়াতের কথা ঘোষণা করলেন। কাফেরগণ তাকে কষ্ট দিতে লাগলো এবং এক পর্যায়ে তাঁকে মেরে ফেলার চক্রান্ত করলো। তারা কুরআনের বাণীকে জাদু বলে অভিহিত করতো। মক্কার কুরাইশ নেতাগণ জঙ্গলে নির্বাসিত জীবন যাপনকারী এই লোকটির প্রতি মনযোগী হলো এবং তাকে বুঝিয়ে মক্কায় নেয়ার চিন্তা করলো। তারা কয়েকজন প্রতিনিধি জঙ্গলে পাঠালো।
জঙ্গলে অবস্থানকারী সেই সাধু পুরুষ কুরাইশ নেতাদের প্রতিনিধিদের বললেন ইসলাম প্রচারক যে বাণী প্রচার করেন সে বাণীর কিছু অংশ তোমরা মুখস্থ করে আসবে। আমি ধ্যানে বসবো সে সময় তোমরা সে বাণী বারবার পড়তে থাকবে। আমি ধ্যানের মধ্য হতে যা বলবো সেটাই হবে আমার জবাব। মক্কার প্রতিনিধিদল সূরা কাওছার মুখস্থ করে গেল। তারা পাঠ করে শোনালো 'ইন্না আতাইনা কাল কাওছার ফাছাল্লি লিরাব্বিকা অনহার ইন্না শানিয়াকা হুয়াল আবতার।' এতটুকু পাঠ করার পর সেই সাধক আবেগ রুদ্ধ কণ্ঠে বললেন, 'লাইছা হাজা কালামিল বাশার'। অর্থাৎ এ বাণী কোনো মানব রচিত বাণী নয়। মক্কার প্রতিনিধিদল হতাশ হয়ে মক্কায় ফিরে গেল। সেই সাধক পুরুষ বললেন, আমি জানতাম না এক অদ্বিতীয় মহান আল্লাহর প্রতি মানুষকে আহ্বান জানানোর জন্য কোনো নবীর আবির্ভাব ঘটবে। তারপর তিনি ইসলাম গ্রহণ করে মুসলমান হওয়ার উদ্দেশ্যে মক্কার পথে রওয়ানা হলেন। মক্কায় কুরাইশ নেতাদের পরিকল্পনা ব্যর্থ হলো। সেই সাধক পুরুষ নিজের মধ্যে যে অলৌকিক বৈশিষ্ট্য অর্জন করেছিলেন সেটা ধ্যানের মাধ্যমেই অর্জিত হয়েছিল। (আহওয়ালে ইসলা, কিউজ জ্যাকশন থার্ড)