📄 পায়চারির মাধ্যমে ধ্যান
ধীরে ধীরে হাঁটুন এবং সোজা পথে পায়চারি করুন। পথের সীমানা নির্ধারণ করবেন প্রায় ২০ ফুট। নিশ্বাস গ্রহণ এবং অনুভূতির প্রতি মনযোগ নিবদ্ধ করুন। ধীরে ধীরে পা তুলুন এবং মাটিতে রাখুন। চুপচাপ থাকুন। এতে আপনার উচ্চ রক্তচাপ এবং অস্থিরতা কমে যাবে।
📄 সর্বোত্তম ধ্যান
সারাদিন কাজের ক্লান্তি এবং মানসিক চাপ কমানোর জন্য আল্লাহ যিকির হিসেবে আল্লাহু আকবর, ইয়া কাইউমু অথবা হে আল্লাহ! দয়া করো-এর যে কোনো একটি কথা নীরবে বা উচ্চস্বরে পনের হতে বিশবার লাগাতার পাঠ করুন। দিনে কয়েকবার এই আমল করুন। এতে আপনার দেহের সকল তৎপরতা শান্ত হয়ে যাবে এবং আপনি সারাদিন ভালো মুডে থাকবেন।
📄 চিন্তার একাগ্রতা
শারীরিক অবস্থার পরিবর্তনের সঙ্গে আপনার মস্তিষ্ককে সঙ্গতিপূর্ণ করুন। আপনার দৈহিক ওজন কমান। এতে ক্যান্সার সৃষ্টিকারী জীবাণুসমূহ স্থবির হয়ে যাবে। আপনি চিন্তা করতে থাকুন যে একটি সাদা আলো আপনার মাথা হতে পায়ের দিকে আসছে। আরো চিন্তা করুন সেই সাদা আলো আপনার দেহের প্রতিটি জিনিসকে বিগলিত করে দিচ্ছে। এ সময় মানসিক চাপকে আপনি মনে করুন নিষিদ্ধ বস্তু সেই বস্তু আপনার আঙ্গুল দিয়ে এবং মাথার চুল দিয়ে বের হয়ে যাচ্ছে। এ সময় নিঃশ্বাসের প্রতি আপনি মনযোগী হউন। আপনি চিন্তা করবেন যে প্রতিটি নিঃশ্বাস আপনাকে সুস্থতার দিকে নিয়ে যাচ্ছে। আপনি যে কোনো রকম ধ্যানের অনুশীলন করতে পারেন। অনেককে দেখা যায়, কিছু দিন ধ্যান করার পর ধ্যান ত্যাগ করে। এতে প্রত্যাশিত উপকার পাওয়া সম্ভব হয় না। আপনি আপনার চিন্তাশক্তিকে কেন্দ্রীভূত করুন, দেখবেন ওতে পরিবর্তন আসছে। আপনার মস্তিষ্ক আপনার চিন্তাকে একদিক হতে অন্যদিকে নিয়ে যাবে। মস্তিষ্ককে একটি নির্দিষ্ট চিন্তায় কেন্দ্রীভূত রাখার জন্য অনেক মানুষকে বছরের পর বছর ধ্যান করতে হয়। ধ্যান জীবনকে শান্তিপূর্ণ করে। ভালোভাবে শিখতে হবে। নামায হচ্ছে ধ্যানের উৎকৃষ্ট প্রাথমিক পদ্ধতি।
📄 কিভাবে ধ্যান করবেন
১. আপনি মেঝেতে বসুন অথবা চেয়ারে বসে পা মেঝেতে রাখুন। এ সময় কোমর সোজা রাখবেন। ঘুমে চোখ জড়িয়ে না এলে ঘুমাতে যাবেন না। ঢিলে ঢালা পোশাক পরিধান করুন।
২. চোখ বন্ধ করে গভীরভাবে কিছুক্ষণ নিঃশ্বাস নিন। মনকে বোঝাবেন যে, এ সময়টুকু একান্তই আপনার এবং বিশ মিনিট আপনার নিজস্ব সময়।
৩. দেহকে আরামদায়ক পজিশনে রাখুন। মনে মনে সারা দেহ সার্ভ করুন। বিশেষ করে বুক, ঘাড় এবং চেহারার হাড়ের প্রতি মনযোগী হউন। প্রতিবার নিঃশ্বাস ত্যাগ করার সময় চিন্তা করুন যে আপনার হাড়ের জড়তা কেটে যাচ্ছে। তারপর নিজের দেহের প্রতি মনযোগী হয়ে বলুন, হে হাড়সমূহ! তোমার নিজের অবস্থানে ফিরে আসো।
৪. আপনার কথা এবং চেয়ারের সঙ্গে দেহ সংযুক্ত থাকার অনুভূতির প্রতি কয়েক মুহূর্তের জন্য পূর্ণ মনযোগী থাকুন। আপনার ত্বক যে আপনার পরিহিত পোশাকের স্পর্শ পাচ্ছে সে কথা চিন্তা করুন।
৫. আপনি আপনার মস্তিষ্ককে এক জায়গায় কেন্দ্রীভূত করুন। ধ্যানের জন্য ২ বা ৩ সংখ্যাটি স্মরণ করুন। নিঃশ্বাস নেয়ার সময় মনে মনে ১০ সংখ্যা পর্যন্ত গণনা করুন। একবার শেষ করে আবার শুরু করুন।
৬. চুপচাপ বসুন এবং দেহের কোনো অঙ্গকে নড়াচড়া করাবেন না। দেহের কোনো অঙ্গ স্পন্দিত করার প্রয়োজন দেখা দিলে আপনার শারীরিক অবস্থা উপলব্ধি করুন এবং অপেক্ষা করতে থাকুন। যদি এ সময় মনে হয় যে আপনার বিশেষ কোনো অঙ্গ নাড়াচাড়া না করলে আপনার মৃত্যু হতে পারে, তাহলে আস্তে আস্তে সেই অঙ্গ নাড়াচাড়া করুন। এ সময় আপনার মনযোগ এক জায়গায় কেন্দ্রীভূত রাখবেন এবং মনে অন্য কোনো চিন্তাকে জায়গা দেবেন না। উপরোক্ত ১ এবং ১ নম্বর ধ্যানের অনুসরণে এ ধ্যান আমল করা যায়।
৭. ঘুম পরিহার করুন। কোমর সোজা রাখুন। এ সময় কোনো কিছুতে হেলান বা ভর দেবেন না। কোমর বাঁকা করবেন না। কিছুতেই ঘুমের কথা চিন্তা করবেন না।
৮. ঘড়ির প্রতি চোখ রাখুন এতে আপনি সময় সম্পর্কে ধারণা পাবেন। নির্দিষ্ট সময় অতিবাহিত হয়েছে কিনা বুঝতে পারবেন।
৯. নিজের দেহ ধীরে ধীরে নাড়াচাড়া করুন। প্রথমে পা এবং বাহু নাড়াবেন তারপর ধীর ক্রমে হাত পা প্রসারিত করবেন।