📄 ধ্যানের মাধ্যমে চিকিৎসা
ধ্যানকে এক কথায় একাগ্রতা নামে অভিহিত করা যায়। ধ্যান শব্দ শোনার সঙ্গে সঙ্গে অনেক মানুষ ধর্মীয় নেতাদের কথা চিন্তা করেন। কিন্তু বর্তমানে ধ্যান একটি ব্যাপক অর্থবোধক শব্দে পরিণত হয়েছে। উন্নত বিশ্বে মানুষকে সুস্থ রাখার জন্য ধ্যানের মাধ্যমে চিকিৎসা করে ব্যাপক উপকার পাওয়া গেছে। ধ্যানকে আপনি মস্তিষ্ক এবং দেহের সংযোগ বলতে পারেন। উচ্চ রক্তচাপের রোগীগণ ধ্যান করে উপকার পেয়েছেন এমন প্রমাণ পাওয়া গেছে। আমেরিকায় রোগীদেরকে ওষুধ খাওয়ানোর আগে ধ্যানের পরামর্শ দেয়া হয়। ধ্যানের মাধ্যমে মানসিক রোগের চিকিৎসা করা হয়। বর্তমানে মানসিক রোগের এবং শারীরিক রোগের ওষুধের অত্যধিক মূল্য বৃদ্ধির কারণেও অনেকে ধ্যানের প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে। বিশেষ করে উন্নত বিশ্বে ধ্যানের মাধ্যমে চিকিৎসার প্রচলন বৃদ্ধি পাচ্ছে। উন্নয়নশীল দেশসমূহে সে তুলনায় ধ্যানের মাধ্যমে চিকিৎসার প্রচলন আশানুরূপ নয়।
📄 ধ্যানের উপকারিতা
ধ্যান মানুষের মধ্যে সজীবতা, প্রাণবন্ত অবস্থার অনুভূতি সৃষ্টি করে। অনেকে অভিমত ব্যক্ত করেছেন যে, বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার একমাত্র উপায় হচ্ছে ধ্যানের শরণাপন্ন হতে হবে। যারা ধ্যান সম্পর্কে গবেষণা করেছেন তারা এর বিস্ময়কর উপকারিতা লক্ষ্য করেছেন। তারা দেখেছেন যারা ধ্যান অনুশীলন করে তাদের জীবনে আসে শৃঙ্খলা, দেহে আসে শক্তি সামর্থ, পানাহারে আসে রুচি এবং নিয়মতান্ত্রিকতা, পেশাবের ইনফেকশন দূর হয়, কোলস্টরেল ঘাটতি দেখা যায় না, নেশার অভ্যাস থাকে না, মানসিক চাপ হতে তারা মুক্ত থাকে, ক্যান্সারের মতো রোগের আক্রমণ হতে তারা থাকে নিরাপদ।
📄 আমেরিকার হাসপাতালে গবেষণা
আমেরিকার একটি বৃহৎ হাসপাতালে ৯ হাজার রোগীকে ধ্যান করানো হয়েছে। এ সকল রোগীদের মধ্যে এইডস এর রোগী এবং সন্তান না হওয়া মহিলাও অন্তর্ভুক্ত ছিল। ধ্যানের অনুশীলন সেশন শেষ হওয়ার পর দেখা গেছে ৩৬ শতাংশ মহিলা গর্ভবতী হয়েছে এবং অন্য সকল রোগীদের সবাই শারীরিক মানসিক শান্তি অনুভব করেছে।
যারা বছরের পর বছর ধ্যান করে তাদের দেহে ডিএইচ ই এ হরমোন সাধারণ লোকদের চেয়ে বেশি থাকে। মানুষের বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে মানব দেহে এই হরমোনের ঘাটতি দেখা দেয়। এই শ্রেণীর লোক খুব কমই অসুস্থ হয় এবং হৃদরোগ হতে মুক্ত থাকে।
📄 মানসিক রোগের চিকিৎসা
উন্নত বিশ্বে বহু চিকিৎসক তাদের রোগীদেরকে ধ্যানের প্রতি আকৃষ্ট করছেন। এতে রোগীগণ খুব কম সময়ের মধ্যে ব্যথা বেদনা হতে মুক্তি লাভ করে। জখম হওয়া রোগীগণ ধ্যানের মাধ্যমে খুব কম সময়ে সুস্থ হয়ে উঠে।
শারীরিক সুস্থতার জন্য দেহে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক থাকা অপরিহার্য। স্বাভাবিক রক্ত চলাচল দেহে অক্সিজেনের অভাব পূরণ করে এবং রোগের সম্ভাবনা কমিয়ে দেয়। অসুস্থতা, জখম, ভয়, অস্থিরতা, মানসিক চাপ, ক্রোধ ইত্যাদির কারণে দেহে স্বাভাবিক রক্ত চলাচল বিঘ্নিত হয়। দেহের হাড় স্বাভাবিক পুষ্টি পায় না। রক্ত চলাচল স্বাভাবিক না হলে রোগীর মনে এ ভয় ঢুকে যায় যে, আমি কখনো সুস্থ হবো না। ধ্যান রোগীর মন হতে এসব অমূলক আশঙ্কা দূর করে এবং রোগীর দেহমনে শান্তি এনে দেয়। তার দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেড়ে যায়। মানসিক রোগের রোগীগণও ধ্যানের মাধ্যমে মানসিক এবং শারীরিক শক্তি বৃদ্ধির অনুভূতি লাভ করে এবং সুস্থ বোধ করতে থাকে।
ধ্যান মানুষের কাজের ইচ্ছা এবং আগ্রহ বৃদ্ধি করে। ঐকান্তিক নিষ্ঠার সঙ্গে বছরে ১০ দিন ধ্যান করুন। অচিরেই আপনি এর সুফল অনুভব করতে সক্ষম হবেন। এই ১০ দিনের ধ্যানে একঘণ্টা নিশ্চল নির্জীব হয়ে বসে থাকতে হবে।