📄 সুন্নতে রাসূল (সা) ও আধুনিক ধ্যান বিজ্ঞান
ধ্যান হচ্ছে মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করা এবং চিন্তা শক্তিকে এক জায়গায় সমন্বিত করা। রাসূল (সা) নবুওয়াত পাওয়ার আগে হেরা গুহায় পর্যায়ক্রমে কয়েকদিন পর্যন্ত ধ্যান করতেন। সমগ্র বিশ্বে ইসলামের প্রচার প্রসারের মূলে রয়েছে এই ধ্যান।
এক ঘণ্টা মহান আল্লাহর কুদরত সম্পর্কে চিন্তাভাবনা করা ষাট (৬০) অথবা সত্তর (৭০) বছর নিরহংকার বন্দেগীর চেয়ে উত্তম। (নুবাহাতুল মাজালিস) ইব্রাহীম (আ) মহান আল্লাহর সত্তা সম্পর্কে চিন্তাভাবনা করেছিলেন। এর ফলে মহান আল্লাহ তাঁর জন্য হেদায়েতের পথ খুলে দেন। মহান আল্লাহর কুদরত এবং বিচিত্র সৃষ্টি সম্পর্কে চিন্তা করতে বলা হয়েছে। কিন্তু মহান আল্লাহর সত্তা সম্পর্কে চিন্তা করতে নিষেধ করা হয়েছে। ইসলামী জীবন ব্যবস্থায় সুফীগণ মনের শান্তি অর্জনের জন্য ধ্যানকে যতোটা ব্যবহার করেছেন অন্য কিছুকে এতোটা ব্যবহার করা হয়নি।
বর্তমানে সমগ্র বিশ্বজগত শান্তির সন্ধান করছে। নানা রকম ওষুধ এবং বিলাস সামগ্রী ব্যবহারের প্রকৃত উদ্দেশ্য হচ্ছে মানসিক শান্তি লাভ করা। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হচ্ছে যে, বিশ্বজগত যিনি সৃষ্টি করেছেন তিনি এসব কিছুর মধ্যে শান্তি রাখেননি বরং তিনি তাঁর স্মরণের মধ্যেই শান্তি রেখেছেন। যারা মহান আল্লাহর স্মরণে নিজেদের নিবেদিত করেছে এবং আউলিয়ায়ে কেরামের পথ অনুসরণ করে ধ্যানের আশ্রয় নিয়েছে তারা শান্তি পেয়েছে এবং ভবিষ্যতেও শান্তি পাবে।
📄 মোররাবাকা হাউজ
ইউরোপ বস্তুগত ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ উন্নতি অগ্রগতি লাভ করার পর বর্তমানে আত্মার শান্তির সন্ধান করছে। ইউরোপের সকল বড় বড় শহরে মোরাবাকা হাউস স্থাপন করা হয়েছে। যেসব ধ্যান হাউসে ডলার পাউন্ডের বিনিময়ে মানুষ শান্তির সন্ধানে দু’ফোটা চোখের পানি ফেলে কিছুক্ষণ উহ! আহ! করে। নানা রকম শব্দ উচ্চারণ করা হয় এবং চোখ বন্ধ করে রাখার অনুশীলন করানো হয়। নিজের দেহকে শিথিল করে বসতে বলা হয়। যেসব শব্দ শিক্ষা দেয়া হয় বিশ্বের যাবতীয় চিন্তা মন হতে মুছে ফেলে সেসব শব্দ উচ্চারণ করতে বলা হয়।
নামায কি ধ্যান নয়? নামাযের খুশু খুজু কি ধ্যান নয়? মহান আল্লাহর সৃষ্টি বৈচিত্র্য সম্পর্কে ধ্যান করা কি ধ্যান নয়? ইসলামের সকল ব্যবস্থাই হচ্ছে ধ্যানের আরেক নাম।
ইউরোপের মানুষ বস্তুগত ক্ষেত্রে চূড়ান্ত উন্নতি অগ্রগতি সাধনের পর অশান্তির তিক্ততা অনুভব করেছে। বর্তমানে শান্তির আশায় তারা পুনরায় ইসলামের পথে অগ্রসর হচ্ছে।
📄 ধ্যানের মাধ্যমে চিকিৎসা
ধ্যানকে এক কথায় একাগ্রতা নামে অভিহিত করা যায়। ধ্যান শব্দ শোনার সঙ্গে সঙ্গে অনেক মানুষ ধর্মীয় নেতাদের কথা চিন্তা করেন। কিন্তু বর্তমানে ধ্যান একটি ব্যাপক অর্থবোধক শব্দে পরিণত হয়েছে। উন্নত বিশ্বে মানুষকে সুস্থ রাখার জন্য ধ্যানের মাধ্যমে চিকিৎসা করে ব্যাপক উপকার পাওয়া গেছে। ধ্যানকে আপনি মস্তিষ্ক এবং দেহের সংযোগ বলতে পারেন। উচ্চ রক্তচাপের রোগীগণ ধ্যান করে উপকার পেয়েছেন এমন প্রমাণ পাওয়া গেছে। আমেরিকায় রোগীদেরকে ওষুধ খাওয়ানোর আগে ধ্যানের পরামর্শ দেয়া হয়। ধ্যানের মাধ্যমে মানসিক রোগের চিকিৎসা করা হয়। বর্তমানে মানসিক রোগের এবং শারীরিক রোগের ওষুধের অত্যধিক মূল্য বৃদ্ধির কারণেও অনেকে ধ্যানের প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে। বিশেষ করে উন্নত বিশ্বে ধ্যানের মাধ্যমে চিকিৎসার প্রচলন বৃদ্ধি পাচ্ছে। উন্নয়নশীল দেশসমূহে সে তুলনায় ধ্যানের মাধ্যমে চিকিৎসার প্রচলন আশানুরূপ নয়।
📄 ধ্যানের উপকারিতা
ধ্যান মানুষের মধ্যে সজীবতা, প্রাণবন্ত অবস্থার অনুভূতি সৃষ্টি করে। অনেকে অভিমত ব্যক্ত করেছেন যে, বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার একমাত্র উপায় হচ্ছে ধ্যানের শরণাপন্ন হতে হবে। যারা ধ্যান সম্পর্কে গবেষণা করেছেন তারা এর বিস্ময়কর উপকারিতা লক্ষ্য করেছেন। তারা দেখেছেন যারা ধ্যান অনুশীলন করে তাদের জীবনে আসে শৃঙ্খলা, দেহে আসে শক্তি সামর্থ, পানাহারে আসে রুচি এবং নিয়মতান্ত্রিকতা, পেশাবের ইনফেকশন দূর হয়, কোলস্টরেল ঘাটতি দেখা যায় না, নেশার অভ্যাস থাকে না, মানসিক চাপ হতে তারা মুক্ত থাকে, ক্যান্সারের মতো রোগের আক্রমণ হতে তারা থাকে নিরাপদ।