📘 পরিবেশ ও স্বাস্থ বিজ্ঞানে মুহাম্মদ সাঃ > 📄 জাহান্নাম

📄 জাহান্নাম


জাহান্নামের পরিচয় সম্পর্কে মহানবী (সা) বলেছেন, যখন আল্লাহ পাক তাঁর সাতটি জাহান্নামের মধ্য হতে সবচেয়ে ক্ষুদ্র যে জাহান্নামটি, সেই জাহান্নামকে যখন তিনি উপস্থাপন করবেন, সে জাহান্নামের সত্তর হাজার লাগাম থাকবে এবং প্রত্যেকটি লাগামে বিশাল বিশাল বিকট আকৃতির সত্তর হাজার করে ফেরেশতা থাকবে, তারাই জাহান্নামকে পরিচালনা করবেন। যেমন- এ সম্পর্কে মহানবী (সা)-এর একটি বিশেষ হাদীস বর্ণনা করা হলো:
حَدَّثَنَا أَبِي عَنِ الْعَلَاءِ بْنِ خَالِدِ الْكَاهِلِيِّ عَنْ شَقِيقٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ الله يُؤْتَى بِجَهَنَّمَ يَوْمَئِذٍ لَهَا سَبْعُوْنَ أَلْفَ زِمَامٍ مَعَ كُلَّ زِمَامٍ سَبْعُونَ أَلْفَ مَلَكٍ يَجْرُوْنَهَا - (ترمذی جلد الثاني صفه ۸۱ صفت الجهنم)
অর্থ: আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, মহানবী (সা) বলেছেন, আল্লাহ পাক যখন জাহান্নামকে উপস্থাপন করবেন, সে জাহান্নামের সত্তর হাজার লাগাম থাকবে এবং প্রত্যেকটি লাগামে সত্তর হাজার করে ফেরেশতা থাকবে, তারাই জাহান্নামকে পরিচালনা করবেন। (তিরমিযী হা/২৫৭৩ ২য় খণ্ড ৮৫ পৃষ্ঠা ছিফাতুল জাহান্নাম।)
দোযখে আল্লাহপাক জাহান্নামবাসীদেরকে শাস্তি দিবেন, বিশেষ করে আগুন দ্বারা, সেই আগুন সম্পর্কে মহানবী (সা) বলেন, যেমন-
أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ عَنْ هُمَامٍ بْنِ مُنَبَّةٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ﷺ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَارُكُمْ هَذِهِ الَّتِي تُوقَدُونَ جُزْءٌ وَاحِدٌ مِنْ سَبْعِينَ جُزْءً مِنْ حُرِّ جَهَنَّمَ - (ترمذى جلد الثاني صفه صفة الجهنم)
অর্থ: আবু হুরায়রা (রা) বলেন যে, মহানবী (সা) বলেছেন, তোমরা আগুনের যে অংশকে জ্বলতে দেখছ, এই আগুন জাহান্নামের আগুনের তাপের সত্তর ভাগের এক ভাগ অর্থাৎ জাহান্নামের আগুন পৃথিবীর আগুনের চেয়ে সত্তর গুণ বেশি গরম। (তিরমিযী হা/২৫৮৯ ২য় খণ্ড, ৮৬ পৃষ্ঠা, ছিফাতুল জাহান্নام।)
এছাড়াও হাদীসের আলোকে কথিত আছে যে, জাহান্নাম হচ্ছে চির ভয়াবহ শান্তির আবাসস্থল, তাই সেখানে সময় স্থির, সেখানে সময়ের কোনো হিসাব নেই, সেখানে জাহান্নামবাসীরা ভয়াবহ তীব্র তাপের তেজী আগুনে জ্বলবে, তখন তাদের নিকট উক্ত জাহান্নামের এক এক মিনিট পৃথিবীর হাজার হাজার বছরের চেয়ে বিশাল মনে হবে। জাহান্নামবাসীদের কোনো ইচ্ছা এবং কোনো আশাই পূরণ করা হবে না, বরং সেখানে যা কিছু করা হবে তার সবই তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে করা হবে। এতে তাদের সেখানে এতোই ভয়াবহ তীব্র ক্ষুধা ও পানি পিপাসা লাগবে, মনে হবে যে, দুনিয়ার সমস্ত খাবার ও পানি যদি শুধু তাদের একজনকে দেয়া হয়, তবুও তার ক্ষুধা ও পানি পিপাসা দূর হবে না। সেখানে তাদেরকে ভয়াবহ তীব্র দুর্গন্ধ জাতীয় অনেকটা ঘাঁ-পাঁচড়ার পুঁজের মতো বিষাক্ত খাবার ও পানিও দ্রব্য দেয়া হবে, যা দেখে তারা তীব্র ঘৃণা বোধ করবে, তবুও তারা কোনো উপায় না পেয়ে খাবে এবং পান করবে, খাওয়ার পর সেখানে তাদের শাস্তির মাত্রা আরো তীব্র হতে তীব্র হয়ে যাবে। সেখানে তাদের কখনো মরণ হবে না, তাদের দেহের কখনো কোনো পরিবর্তন হবে না, তবে শরীরের চামড়া কুঁচকে ও কালো হয়ে যাবে, তখন উক্ত জাহান্নামের ফেরেশতারা তা পরিবর্তন করে শরীরে আবার নতুন চামড়া পরায়ে দিবেন। এবং সে চামড়াটিও হবে তীব্র গরম আগুনের। এছাড়া সদা একই অবস্থায় থাকবে।
উপরোক্ত জাহান্নামের শাস্তি প্রত্যেক পাপীগণ, তাদের মৃত্যুর পর হতেই পেতে থাকবে। যেমন, মহান আল্লাহপাক বলেছেন- "প্রত্যেক পাপীই তার মরণের পর হতে "সিজ্জিনে" বসবাস করবে"। 'সিজ্জিন' হচ্ছে হাশর-নশরের হিসাব-নিকাশের পূর্বে পাপীদের বাসস্থান, যা মহান আল্লাহ পাকের জাহান্নামেরই একটি বিকল্প ব্যবস্থা।
মহানবী (সা)-এর উল্লেখিত হাদীসগুলোর সত্যতা প্রমাণ করার পক্ষে বিখ্যাত বিজ্ঞানী আইনস্টাইন বলেন যে, যখন তুমি আনন্দে থাক তখন তোমার নিকট এক ঘণ্টা এক মিনিট মনে হয়, আর যখন তুমি জেলখানায় বাস কর, তখন তোমার নিকট এক মিনিট এক ঘণ্টা মনে হয়, এটাই হচ্ছে আমার রিলিটিভিটি মতবাদ বা আপেক্ষিক তত্ত্ব। আইনস্টাইনের এই আপেক্ষিক তত্ত্বই প্রমাণ করে যে, জাহান্নামের ভয়াবহ তীব্র শাস্তির এক মিনিট পৃথিবীর হাজার হাজার বৎছরের চেয়েও বিশাল।
এছাড়াও বিজ্ঞানীরা বলেন যে, আমাদের এই পৃথিবীর সর্বত্রই ব্যাক্টেরিয়া ও ভাইরাস নামে দুটি জীবণু পদার্থ আছে, যাদের দ্বারা পৃথিবীর সকল পদার্থ, প্রাণী ও উদ্ভিদকুলের সবাই সৃষ্টি হচ্ছে, ধ্বংস হচ্ছে, পুরাতন হচ্ছে, রূপান্তর ও নষ্ট হচ্ছে। বিজ্ঞানীরা বলেন যে, যদি এই পৃথিবীতে ব্যাক্টেরিয়া ও ভাইরাস জীবাণু দ্বয় না থাকতো, তবে পৃথিবীতে কখনো কারো সৃষ্টি-ধ্বংস, পুরাতন-রূপান্তর ও নষ্ট হতো না। মহান আল্লাহপাক যাকে যেভাবে সৃষ্টি করতেন সে সদা একই অবস্থায় বিরাজ করতো। এতে প্রমাণ করে যে, দোযখে মিকাঈল (আ) ও আজরাঈল (আ) ফেরেশতাদ্বয়ের কোনো সৃষ্টি-ধ্বংস ক্রিয়া নেই। মহান আল্লাহপাক দোযখে যাকে যে অবস্থায় রাখবেন, সে সদা একই অবস্থায় থাকবে।
তা-হলে জাহান্নাম কোথায়, এবং জাহান্নাম কত বড়? এর উত্তর হচ্ছে মহান আল্লাহপাক সাত আকাশ ও সাত জমিনের অসংখ্য কোটি কোটি ফেরেস্তা বর্ষ মাইল গভীরে হচ্ছে আল্লাহপাকের সাতটি জাহান্নামের অবস্থান এবং এক জাহান্নাম হতে অন্য এক জাহান্নামের দূরত্ব কোটি কোটি ফেরেশতা বর্ষ মাইল। এবং ফেরেস্তারা তাদের নিজস্ব গতিবেগে এক বছরে যে দূরত্ব পথ অতিক্রম করে তাকে এক ফেরেস্তাবর্ষ দূরত্ব পথ বলে। তবে ফেরেস্তাদের গতি বেগে প্রতি সেকেন্ডে কত তা একমাত্র আল্লাহপাক ছাড়া আর কেও জানে না। তবে প্রতি সেকেন্ডে ফেরেস্তাদের গতিবেগের ব্যাপারে বিখ্যা বিজ্ঞানী আইনস্টাইনের বিখ্যাত সূত্র E=MC² এর সাহায্যে একটি সম্ভাব্য আলোচনা নিম্নে করা হলো। যেমন-
বিখ্যাত বিজ্ঞানী আইনস্টাইন দেখান যে, পদার্থ ও শক্তি প্রকৃতপক্ষে অভিন্ন। M ভর বিশিষ্ট কোনো বস্তুকে বা, কোনো পদার্থকে কোনো উপায়ে ধ্বংস করতে পারলে ইহা হতে প্রচুর শক্তি নির্গত হয়, এবং এই শক্তির পরিমাণ হলো, E=MC²। এখানে "C" হলো আলোকের বেগ। ইহা এক বিস্ময়কর সূত্র। উপরের সূত্রের সাহায্যে প্রমাণ করলে দেখা যায় যে, এক গ্রাম ভরের কোনো পদার্থ হতে প্রাপ্ত শক্তি 1x (3 x10¹°)² = 9 x 10²° আর্গ। অর্থাৎ এক কেজি ওজনের কোনো পদার্থকে কোনো উপায়ে ধ্বংস করলে ইহা হতে 9 × 10²° কেজির সমপরিমাণ শক্তি নির্গত হয়।
E=MC² এই সূত্রের দৃষ্টিকোণ হতে বলা যায় যে, আলোর স্বাভাবিক গতিবেগ হচ্ছে প্রতি সেকেন্ডে 186000 হাজার মাইল। তা হলে এই আলোর ভর ধ্বংস করে এর দ্বারা মহান আল্লাহ পাক যে ফেরেশতা সৃষ্টি করেছেন, তার গতিবেগ আলোর চেয়ে প্রতি সেকেন্ডে হবে 9 × 10²°x 186000 = 1674 × 10²³ মাইল। অর্থাৎ ফেরেশতাদের গতিবেগ প্রতি সেকেন্ডে 167400, 0000000, 0000000, 0000000 মাইল। অর্থাৎ এক লক্ষ সাতষট্টি হাজার চারশত কোটি × কোটি × কোটি মাইল।
তাহলে ফেরেশতারা প্রতি সেকেন্ডে যায় 1674 × 10²³ মাইল, তা হলে ফেরেশতারা এক বছরে যায় 9 × 10²° x 6 x 10¹² = 54 × 10³² মাইল। অর্থাৎ ফেরেশতাদের গতিবেগ এক বৎসরে 540000, 0000000, 0000000, 0000000, 00000০০ কোটি মাইল। অর্থাৎ পাঁচ লক্ষ চল্লিশ হাজার, কোটি × কোটি × কোটি কোটি মাইল।
অর্থাৎ জাহান্নাম-এর অবস্থান হচ্ছে সাত আকাশ ও সাত জমিনের নিচে অসংখ্য কোটি কোটি ফেরেশতাবর্ষ মাইল গভীরে। এর চারদিকেই ছড়ায়ে ছিটিয়ে মহান আল্লাহ পাক তাঁর সাতটি জাহান্নামকে ভাসায়ে অবস্থান করে রেখেছেন। এবং তাঁর উক্ত সাতটি জাহান্নাম সেখানে তিনি একটি ক্ষুদ্র বৃত্তের ভেতর আবদ্ধ করে রেখেছেন। এবং এক জাহান্নাম হতে অন্য এক জাহান্নাম পর্যন্ত দূরত্ব হচ্ছে কোটি কোটি ফেরেশতাবর্ষ মাইল। এরূপ সমান দূরত্বের ব্যবধানে উক্ত সাতটি জাহান্নাম সেখানে অবস্থান করছে।
উক্ত সাতটি জাহান্নামের এক একটির আয়তনে কত বিশাল তা একমাত্র আল্লাহ পাক ছাড়া আর কেউ জানে না। তবে উক্ত সাতটি জাহান্নামের মধ্যে সবচেয়ে ক্ষুদ্র যে জাহান্নামটি শুধু বুঝানোর জন্য হাদীসের আলোকে তার কিঞ্চিৎ বর্ণনা করা হলো: সবচেয়ে ক্ষুদ্র যে জাহান্নামটি তার মধ্যে অসংখ্য কোটি কোটি আগুনের গর্ত রয়েছে। এক একটি গর্ত হতে অন্য একটি গর্তের দূরত্ব কোটি কোটি ফেরেশতাবর্ষ মাইল এবং দোযাখের এক একটি আগুনের গর্ত যে কি বিশাল? তা একমাত্র আল্লাহপাক ছাড়া আর কেউ জানে না। তবে শুধু নমুনা স্বরূপ বলা হচ্ছে যে, দুনিয়াতে যদি একটি বিশাল কোনো গর্তে একটি সরিষা দানা নিক্ষেপ করা হয়, তা হলে উক্ত বিশাল গর্তের তুলনায় সরিষা যেরূপ হবে, ঠিক তার চেয়েও আরো ক্ষুদ্র হবে জাহান্নামের একটি বিশাল গর্তে সূর্যের মতো একটি বিশাল পাথরকে নিক্ষেপ করলে। অর্থাৎ জাহান্নামের এক একটি গর্তে সূর্যের মতো বিশাল পাথরও উক্ত গর্তের বিশালতায় সরিষার চেয়েও অতি ক্ষুদ্র এবং এক একটি গর্ত এতোই বিশাল যে, তার যে কোনো একটি গর্তে সূর্যের মতো বিশাল কোনো পাথরকে যদি খুব বেগে নিক্ষেপ করা হয়, তবে ইহা এর তলদেশে গিয়ে পড়তে সত্তর বছর সময় লেগে যাবে। যেমন- এ প্রসঙ্গে মহানবী (সা)-এর একটি বিখ্যাত হাদীস, যেমন:
حَدَّثَنَا حُسَيْنَ بْنُ عَلِيُّ الْجَعْفِي عَنْ فُضَيْلِ بْنِ عَيَاضٍ عَنْ هِشَامٍ بْنِ حَسَّانَ عَنِ الْحَسَنِ قَالَ قَالَ عُتْبَةُ بْنُ غَزْوَانَ عَلَى مِنْبَرِنَا هَذَا مِنْبِرُ الْبَصْرَةِ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ إِنَّ الصَّخْرَةَ الْعَظِيمَةَ لَتُلْقَى مِنْ شَفِيرِ جَهَنَّمَ فَتَهُوَى فِيْهَا سَبْعِينَ عَامًا - (ترمذى جلد الثاني صفه صفة الجهنم)
অর্থ: উৎবা বিন গাজোয়ান (রা) বলেন যে, আমরা একটি সভার উচ্চ আসনে অবস্থানরত ছিলাম, যে উচ্চ আসনটি এই বস্ত্রা শহরের একটি উচ্চ আসন, সেখানে অবস্থান করে মহানবী (সা) বলেছেন যে, নিশ্চয় জাহান্নামের গর্তগুলো এতোই বিশাল যে, যদি তার মধ্যে একটি বিশাল পাথর নিক্ষেপ করা হয়, তবে ইহা, ইহার তলদেশে গিয়ে পড়তে সত্তর বছর সময় লেগে যাবে। (তিরমিযী হা/২৫৭৫, ২য় খণ্ড ৮৫ পৃষ্ঠা ছিফাতুল জাহান্নাম।)
উপরোক্ত হাদীসটির সত্যতা প্রমাণের পক্ষে বর্তমান যুগের বিজ্ঞানীরা বলেন যে, সূর্য হচ্ছে একটি বিশাল অগ্নিপিণ্ড ইহার দিকে লক্ষ্য করলে অনেক কালো কালো দাগ দেখা যায়। বিজ্ঞানীরা বলেন যে, সূর্যের মধ্যে ইহা কোনো দাগ নয়, বরং এরা হচ্ছে সূর্যের মধ্যে অনেক বিশাল বিশাল আগুনের গর্ত, যার একটি আগুনের গর্তে আমাদের এই পৃথিবীর মতো চারশত পৃথিবী একত্র করে বল বানায়ে নিক্ষেপ করা যাবে। এতে সত্যতা প্রমাণিত হয় যে, জাহান্নামের অসংখ্য গর্তের মধ্যে কোনো একটি আগুনের গর্তে তো সূর্যের মতো কোনো বস্তুকে নিক্ষেপ করা যাবেই। কারণ মহান আল্লাহ পাকের সাতটি জাহান্নামের মধ্যে সবচেয়ে ছোট যে জাহান্নাম, সেটাও সূর্যের চেয়ে কোটি কোটি গুণ বিশাল। সূর্য তার উক্ত আগুনের গর্ত হতে প্রতি সেকেন্ডে চল্লিশ কোটি টন করে হাইড্রোজেন গ্যাস অনেকটা বমি করে দেয়ার গুলটার মতো করে মহা আকাশে খুব বেগে নিক্ষেপ করছেন। তেমনি মহানবী (সা) তার বিশেষ হাদীসে বলেছেন, জাহান্নামও প্রতি পলকে পলকে তার আগুনের গর্তগুলো হতে সূর্যের মতো বিশাল বিশাল অগ্নি স্ফুলিঙ্গ অনেকটা বমি করে দেয়ার গুলটার মতো করে খুব বেগে নিক্ষেপ করছে যা সত্তর হাজার ফেরেশতাবর্ষ মাইল দূর হতে দেখা যাবে। জাহান্নামের প্রতিটি গর্তের আগুন গরম হতে হতে এমনি গরম হয়ে একেবারেই কালো হয়ে গেছে এবং সেই কালো আগুনের শিখার তেজ খুব বেগে সত্তর হাজার ফেরেশতাবর্ষ মাইল পর্যন্ত উপরে উঠে গেছে, যাকে সত্তর হাজার ফেরেশতাবর্ষ মাইল দূর হতে দেখা যাবে এবং এর শব্দ শোনা যাবে।
এমনি বিশাল জাহান্নামকে পাটের ফেওয়ার মতো খাবার দিলে চলবে না বরং জাহান্নামকে তার উপযোগী শক্ত খাবার দিতে হবে, তাই মহান আল্লাহ পাক জাহান্নামবাসী কাফিরদের দেহকে বিশাল ও শক্ত করে, জাহান্নামকে খাবার দিবেন। তাই এ সম্পর্কে মহানবী (সা) একটি বিশেষ হাদীস বলেছেন। যেমন-
حَدَّثَنَا مَصْعَبُ بْنُ الْمِقْدَامِ عَنْ فُضَيْلِ بْنِ غَزْوَانَ عَنْ أَبِي حَازِمٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ ضِرْسُ الْكَافِرِ مِثْلَ أُحُدٍ . (ترمذى جلد الثاني صفه صفة الجهنم)
অর্থ: আবু হুরায়রা (রা) বলেন যে, মহানবী (সা) বলেছেন, জাহান্নামের এক একজন কাফিরের দাঁত হবে, এক একটি উহুদ পর্বতের মতো। (তিরমিযী হা/২৫৭৯, ২য় খণ্ড, ৮৫ পৃষ্ঠা, ছিফাতুল জাহান্নাম।)
তাহলে ভেবে দেখা যায় যে, একজন জাহান্নামবাসী কাফিরের মুখের বত্রিশটি দাঁতের মধ্যে এক একটি দাঁত যদি উহুদ পর্বতের মতো হয়, তবে তার মুখ ও দেহ কত বড় ও কত শক্ত। তা হলে বুঝা যায় যে, মহান আল্লাহ পাক যেমন বেঁকো (জাহান্নাম) সৃষ্টি করেছেন, তেমনি তার খাবার (কাফির) সৃষ্টি করেছেন। আমরা এক লুকমায় যতটি চাউল (ভাত) খাই, অনেকটা তেমনি করে মহান আল্লাহ পাক, ততটি কাফির একত্র করে এক লুকমা হিসাবে জাহান্নামের এক এক আগুনের গর্তে নিক্ষেপ করে দোযখে শাস্তি দিবেন। যেমন- এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক বলেন-
وَسِيقَ الَّذِينَ كَفَرُوا إِلَى جَهَنَّمَ زُمَرًا .
অর্থ: কাফিরদেরকে জাহান্নামের দিকে দলে দলে হাঁকিয়ে নেয়া হবে। (সূরা যুমার: আয়াত-৭১)
অর্থাৎ কাফিরদেরকে ভাতের লুকমার মতো একত্র করে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। এবং এভাবেই তাদের সেখানে অনন্তকাল অবস্থান করতে হবে, যার ক্ষণকাল তাদের নিকট কোটি কোটি বছর মনে হবে। এ ধারা তাদের অনন্তকাল অব্যাহত থাকবে ইহা জাহান্নামের ভয়াবহ শাস্তির কারণেই অনুভব হবে।
উপরে বলা হয়েছে যে, এক জাহান্নাম হতে অন্য এক জাহান্নামের দূরত্ব সত্তর হাজার ফেরেশতাবর্ষ মাইল, তাহলে একজন ফেরেশতার পক্ষে এক জাহান্নাম হতে অন্য দোযখে যেতে সত্তর হাজার বছর লাগার কথা। কিন্তু দেখা যায় যে, একজন ফেরেশতা প্রতি পলকে পলকে এক জাহান্নাম হতে অন্য দোযখে যাতায়াত করতেছে, এটা কিভাবে সম্ভব, এটাই এখন জানার বিষয়, এর সঠিক উত্তর বিখ্যাত বিজ্ঞানী আইনস্টাইনের বিখ্যাত বিস্ময়কর সূত্র E=MC² এর মাধ্যমে দেয়া যায়, যেমন- তিনি তার এই সূত্রের সাহায্যে বলেছেন যে, কোনো বস্তুকে আলোকের গতিবেগে ছুটালে, বস্তুটি তখন প্রচণ্ড শক্তিতে রূপান্তর হয়ে যায়। এই দৃষ্টিকোণ হতে ব্যাখ্যা করলে দেখা যায় যে, ফেরেশতাদের স্বাভাবিক গতি প্রতি সেকেন্ডে 1674 × 10²³ মাইল। যখন ফেরেশতারা প্রতি সেকেন্ডে এই গতিবেগে ছুটে, তখন উক্ত সূত্র অনুযায়ী ফেরেশতাদের গতিবেগ প্রতি সেকেন্ডে 1674 × 1023 এর স্থলে (1674 × 1023 x 9 x 1020) = 15066 × 1043 হয়ে যায়, যা ফেরেশতাদের প্রতি সেকেন্ডে অস্বাভাবিক গতি নামে পরিচিত। অর্থাৎ ফেরেশতাদের অস্বাভাবিক গতি প্রতি সেকেন্ডে 15066 × 1043 মাইল। অর্থাৎ ফেরেশতাদের অস্বাভাবিক গতিবেগ প্রতি সেকেন্ডে 150660, 0000000, 0000000, 0000000, 0000000, 0000000, 0000000, মাইল অর্থাৎ এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার ছয়শত ষাট কোটি × কোটি x কোটি × কোটি × কোটি কোটি মাইল। তাই ফেরেশতারা প্রতি পলকে পলকে এক জাহান্নাম হতে অন্য দোযখে যাওয়া আসা করতে পারে।
সম্ভব্য প্রতি সেকেন্ডে ফেরেশতাদের এই অস্বাভাবিক গতি দেখেই মহানবী (সা.) তাঁর মেরাজ ভ্রমণ করেছিলেন বলে তাই তিনি এত অল্প সময়ের মধ্যে আল্লাহ পাকের দিদার লাভ, আরশ-কুরছি, লাওহে-কলম, বেহেশত-জাহান্নাম পরিদর্শন ছাড়াও আল্লাহ পাকের আরো অসংখ্য বিশাল বিশাল লীলাভূমি তার পক্ষে এত অল্প সময়ের মধ্যে দর্শন করা সম্ভব হয়েছিল। পবিত্র কুরআন তার বাস্তব প্রমাণ। যেমন-
لِنُرِيَكَ مِنْ أَيْتِنَا الْكُبْرَى
অর্থাৎ এটা (মে'রাজ) এজন্যে যে, আমি আমার নিদর্শনবলির কিছু তোমাকে দেখাই। (সূরা ত্বোয়া-হা: আয়াত-২০)
যত সব অসম্ভব, আল্লাহ পাকের কাছে সম্ভব। আল্লাহ পাকের কাছে অসম্ভব বলতে কিছু নেই।

📘 পরিবেশ ও স্বাস্থ বিজ্ঞানে মুহাম্মদ সাঃ > 📄 পরিবেশ

📄 পরিবেশ


স্বাস্থ্য ও পরিবেশ বিজ্ঞানীরা বলেন যে, আমাদের চারপাশের নোংরা আবর্জনা ও নানা প্রজাতির প্রাণীর মরদেহ যেখানে সেখানে ফেলে রাখার কারণে আমাদের চারপাশের বসবাসের পরিবেশ দূষিত ও মারাত্মক অস্বাস্থ্যকর হয়ে যাচ্ছে। এছাড়াও বিভিন্ন প্রকার দূষিত আবর্জনা ও বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণীর মরদেহ আগুনে জ্বালানীয় কালো ধোঁয়া মানুষের শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে মানুষের দেহে প্রবেশ করে মানুষের দেহে মারাত্মক মারাত্মক রোগ বালাইয়ের সৃষ্ট করছে এবং এতে আমাদের শ্বাস-প্রশ্বাসের বায়ুমণ্ডল দূষিত হয়ে যে শুধু আমাদেরই মারাত্মক ক্ষতি করছে তাই নয় বরং এর দ্বারা আমাদের চার পাশের পরিবেশের আওতাভুক্ত সকল গাছপালা, পশু-পাখি ও উৎপাদিত শস্য ক্ষেতসমূহেরও মারাত্মক অপূরণীয় ক্ষতিসাধন করছে। তাই বিংশ শতাব্দীর কিংবদন্তির বিস্ময়কর বিখ্যাত প্রতিভাধর বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং বলেছেন যে, আমাদের পরিবেশ দূষণের বিষয়টি সবচেয়ে বেশি মারাত্মক। তেল পুড়িয়ে গাড়ি চালানো এবং রাসায়নিক পদার্থ প্রক্রিয়াজাত করতে গিয়ে, পরমাণু শক্তির পরীক্ষা চালাতে গিয়ে সৃষ্টি হচ্ছে পৃথিবীর উষ্ণতার মেরু ঝুঁকি। এ বিষয়টা নিয়ে বিশ্বব্যাপী হৈ চৈ চলছে, কিন্তু পৃথিবীকে শীতল রাখার উপযুক্ত কলাকৌশল এখনও আবিষ্কৃত হয়নি। আগামী একুশ শতকে বিজ্ঞানের নব নব উদ্ভাবন মানুষের শক্তি বাড়াবে ঠিক কিন্তু পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য কোনো প্রযুক্তি বের না হলে আমাদের বেঁচে থাকা মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।
তাই স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সংরক্ষণকারী বিজ্ঞানীরা একাগ্রচিত্তে বলেন যে, আমাদের চারপাশের বসবাসযোগ্য পরিবেশকে দূষণমুক্ত ও স্বাস্থ্যকর রাখার ইচ্ছা পোষণ করলে আমাদের পরিবেশের সকল সদস্যগণকে অবশ্যই তিনটি কাজে আত্মনিয়োগ করতে হবে।
১. আমাদের পরিবেশের চারপাশের যাবতীয় নোংরা, আবর্জনা ও নানা প্রজাতির প্রাণীর মরদেহ মাটির নিচে পুঁতে ফেলতে হবে। কারণ মাটির মধ্যে নিশাধর নামে এক প্রকার পদার্থ আছে, যা সর্বপ্রকার নোংরা, আবর্জনা ও সকল প্রজাতির প্রাণীর মরদেহের পঁচন কার্য ঘটায় এবং এদের সকল রোগ জীবাণু ধ্বংস করতে সক্ষম।
২. যে সকল দূষিত নোংরা আবর্জনা মাটির নিচে পুঁতে রাখলেও ধ্বংস হয় না। যেমন- পলিথিন জাতীয় নানা আবর্জনা, সেগুলো অবশ্যই নিরাপদ স্থানে নিয়ে পুঁড়িয়ে ফেলতে হবে।
৩. সকল পায়খানা ও নর্দমার তরল ময়লা আবর্জনা অবশ্যই তার সবগুলোই মাটির নিচ দিয়ে চলাচলের ব্যবস্থা করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই যেন সেগুলো আমাদের চারপাশের পরিবেশের মুক্ত বায়ুকে স্পর্শ করতে না পারে, সেদিকে আমাদের সকলকেই তীব্র দৃষ্টি রাখতে হবে।
অথচ মহানবী মুহাম্মদ (সা) উক্ত সব বিজ্ঞানীদের বহু পূর্বেই আমাদের চারপাশের বসবাসযোগ্য পরিবেশকে দূষণমুক্ত ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ সৃষ্টি করার জন্য তিনি পৃথিবীর সকল মানুষগণকে, তাদের চারপাশের যাবতীয় নোংরা, আবর্জনা ও সকল প্রকার প্রজাতির প্রাণীর মরদেহ মাটির নিচে পুঁতে ফেলার নির্দেশ দিয়ে গেছেন এবং তিনি এ ব্যাপারে অনেক পবিত্র কুরআনের বাণীও প্রদান করেছেন, তার কিছু বর্ণনা নিম্নে প্রদান করা হলো। যেমন-
وَاللَّهُ يُحِبُّ الْمُحْسِنِينَ .
অর্থ: এবং আল্লাহ পাক পরিষ্কার পরিচ্ছন্নকারীদেরকে পছন্দ করেন। (সূরা আলে ইমরান: আয়াত-১৩৪)
فِيْهِ رِجَالٌ يُحِبُّونَ أَنْ يَتَطَهَّرُوا وَاللَّهُ يُحِبُّ الْمُطَهَّرِينَ.
অর্থ: যেখানে রয়েছে এমন লোক, যারা পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতাকে পছন্দ করেন। এবং আল্লাহ পাকও পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন অর্জনকারী লোকদেরকে ভালোবাসেন বা পছন্দ করেন। (সূরা তওবা: আয়াত-১০৮)
لِلَّذِينَ أَحْسَنُوا الْحُسْنَى وَزِيَادَةً وَلَا يَرْهَقُ وُجُوهَهُمْ قَتَرُ وَلَا ذِلَّةٌ أُوْلَئِكَ أَصْحَبُ الْجَنَّةِ هُمْ فِيهَا خُلِدُونَ - (سورة اليونس.)
অর্থ: যারা (পৃথিবীতে) সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টি করেছেন, তাদের জন্য আছে কল্যাণ এবং তার চেয়েও বেশি। আর তাদের মুখমণ্ডলকে আবৃত করবে না মলিনতা কিংবা অপমান। তারাই জান্নাতবাসী, এমন সুন্দর পরিবেশে তারা বসবাস করতে থাকবে অনন্তকাল। (সূরা ইউনুস: আয়াত-২৬)
قَالَ النَّبِيُّ ﷺ: النَّظَفَةُ شُعْبَةٌ مِّنَ الْإِيْمَانِ.
অর্থ: মহানবী (সা) বলেছেন, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা হচ্ছে ঈমানের একটি বিশেষ অংশ।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ إِنَّ اللَّهَ طَيِّبُ لَا يَقْبَلُ إِلَّا طَيِّبًا وَإِنَّ اللَّهَ أَمَرَ الْمُؤْمِنِينَ بِمَا أَمَرَ بِهِ الْمُرْسَلِينَ فَقَالَ يَأَيُّهَا الرُّسُلُ كُلُوا مِنْ طَيِّبَتِ وَاعْمَلُوا صَالِحًا . (رواه مسلم)
অর্থ: আবু হুরায়রা (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, রাসূল (সা) ইরশাদ করেছেন: নিশ্চয়ই আল্লাহ পাক পবিত্র, তাই তিনি পবিত্রতা ব্যতীত অন্য কোনো কিছু গ্রহণ করেন না। নিশ্চয়ই আল্লাহ পাক মু'মিনদেরকে ঐ বিষয়ে আদেশ করেছেন যা তিনি রাসূলগণকে আদেশ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, হে রাসূলগণ! তোমরা পবিত্র খাদ্যসমূহ হতে ভক্ষণ কর এবং ভালো কাজ কর। অর্থাৎ ভালো কাজ করে পৃথিবীতে সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টি কর। (সহীহ মুসলিম হা/২৩৯৩)
সুতরাং ভালো কাজ বলতে বুঝিয়েছেন যে, পৃথিবীতে সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টি করা।

📘 পরিবেশ ও স্বাস্থ বিজ্ঞানে মুহাম্মদ সাঃ > 📄 পাগড়ি

📄 পাগড়ি


রাসূল (সা) তিন রং-এর পাগড়ি ব্যবহার করতেন। সাদা, সবুজ, কালো। পাগড়ি হচ্ছে রাসূল (সা)-এর সুন্নত। পাগড়ি ব্যবহার করার অনেক উপকারিতা রয়েছে।
১. পাগড়ী ব্যবহারকারীর মাথা রোদের প্রখর উত্তাপ হতে নিরাপদ থাকে।
২. পাগড়ী ব্যবহারকারী সর্দি হতে রক্ষা পায়।
৩. মাথা ব্যথা রোধের জন্যে পাগড়ী অত্যন্ত উপকারী যারা পাগড়ী ব্যবহার করে তাদের সাধারণত মাথা ব্যথা হয় না।
৪. পাগড়ী মস্তিষ্কের শক্তি এবং স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করে।
৫. পাগড়ীর পেছনের ঝুলে থাকা অংশের কারণে ঘাড়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়। স্পাইনাল কর্ডকে শীত, গরম এবং ঋতু পরিবর্তন জনিত প্রতিক্রিয়া হতে রক্ষা করে।
৬. পাগড়ী ব্যবহারকারী ব্যক্তি মেনিনজাইটিস হতে নিরাপদ থাকে।
৭. ফিজিওলজী বিশেষজ্ঞদের মতে, স্পাইনাল কর্ড নিরাপদ থাকার কারণে দেহের নার্ভ সিস্টেম এবং মাসল সিস্টেম নিরাপদ থাকে।
সাদা গাগড়ী ব্যবহারের কারণে মস্তিষ্কের কোষসমূহ গরমের উত্তাপ এবং লু-হাওয়া হতে রক্ষা পায়। সাদা পাগড়ী ব্যবহারকারী ব্যক্তি সানস্ট্রেনকসহ মস্তিষ্কের বিভিন্নপ্রকার রোগ ব্যাধি হতে নিরাপদ থাকে। আমার পরিচিত ফয়সালাবাদের এক লোক বলেছেন, আমি স্থায়ী সর্দি এবং মাথা ব্যথায় কষ্ট পাচ্ছিলাম। একজন ডাক্তার আমাকে পাগড়ী ব্যবহার করার পরামর্শ দেন। আল্লাহর রহমতে এতেই আমার রোগ ভালো হয়ে যায়। পাগড়ী ব্যবহারের ফলে মানুষকে অভিজাত এবং অধিক ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মনে হয়।

📘 পরিবেশ ও স্বাস্থ বিজ্ঞানে মুহাম্মদ সাঃ > 📄 ফুঁক

📄 ফুঁক


রসায়ন শাস্ত্রের বিজ্ঞানীরা বলেন যে, মানুষের 'ফুঁক'-এর মধ্যে বিষাক্ত কার্বন-ডাই-অক্সাইড ও দেহের আরও নানা প্রকার রোগ জীবাণু থাকে। কোনো মানুষ যখন কোনো খাদ্য দ্রব্য অথবা কোনো পানীয়ের খাদ্য দ্রব্যের মধ্যে ফুঁক দেয়, তখন সেই খাদ্য দ্রব্য উক্ত বিষাক্ত কার্বন-ডাই- অক্সাইড ও উক্ত অন্যান্য রোগ জীবাণু দ্বারা দূষিত হয়ে যায় এবং তখন সেই খাদ্য 'সে নিজে ভক্ষণ করলে অথবা অন্যকে খাওয়ালে তাদের উভয়ের দেহে নতুন সমস্যা অথবা নতুন কোনো রোগের সৃষ্টি হতে পারে। তাই স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীরা পৃথিবীর সকল মানুষকে ফুঁক দিয়ে কোনো খাদ্য দ্রব্য বা পানীয় খাদ্য দ্রব্য পান করতে নিষেধ করেছেন।
অথচ মহানবী মুহাম্মদ (সা) উক্ত রসায়ন শাস্ত্রবিদদের বহুপূর্বেই ফুঁক দিয়ে কোনো পানীয় দ্রব্য পান করতে নিষেধ করে গেছেন। যেমন-
عَنْ أَبِي سَعِيدِ الْخُدْرِيِّ لا أَنَّ النَّبِيَّ لا نَهُى عَنِ الْنَفْخِ فِي الشَّرَابِ فَقَالَ رَجُلَ الْقَذَاةُ أَرَاهَا فِي الْإِنَاءِ فَقَالَ أَهْرِقُهَا.
অর্থ: আবু সাঈদ খুদরী (রা) হতে বর্ণিত যে, নিশ্চয় মহানবী (সা) পানি জাতীয় খাদ্যের মধ্যে ফুঁক দিয়ে খেতে নিষেধ করেছেন। তখন এক ব্যক্তি বলল, যদি এর মধ্যে ময়লা দেখি, তখন তিনি বললেন, তবুও এর মধ্যে ফুঁক দিবে না, এরপর তিনি বললেন, ইহা হতে উক্ত ময়লাসহ একটু ফেলে দিয়ে পান করবে। (এখানে ময়লা বলতে খড় কুটা) (তিরমিযী, হাদীস/১৮৮৭, ২য় খণ্ড ১১ পৃষ্ঠা আবুওয়াবুল আশরাবা)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00