📘 পরিবেশ ও স্বাস্থ বিজ্ঞানে মুহাম্মদ সাঃ > 📄 দাঁড়িয়ে পেশাব

📄 দাঁড়িয়ে পেশাব


চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা বলেন যে, দাঁড়িয়ে পেশাব করলে পেটের উপর কোনো চাপ পড়ে না। তাই দাঁড়িয়ে পেশাব করলে পেটের দূষিত বায়ু পায়খানার রাস্তা দিয়ে বের হতে না পারায় তখন তা ঊর্ধ্ব দিকে ধাবিত হয়। তখন দেহে অস্থিরতা বাড়তে থাকে, রক্ত চাপ বাড়ে, এর ফলে হৃদযন্ত্রে চাপ পড়ে, তাতে হৃদযন্ত্রের স্পন্দন উঠানামা করতে থাকে এবং খাদ্যনালী দিয়ে বার বার হিক্কা আসতে থাকে। আর যদি মানুষ বসে পেশাব করে তাতে পেশাব করার সাথে সাথে পেটে দূষিত গ্যাস থাকলে ইহা পেশাবের সাথে সাথে পায়খানার রাস্তা দিয়েও বের হয়ে যায়। ফলে দেহে উপরোক্ত সমস্যাগুলোর সৃষ্টি হতে পারে না। এবং সহজে বড় কোনো রোগও হয় না। এছাড়াও স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীরা আরো বলেন যে, দাঁড়িয়ে পেশাব করার সময় পেশাবের থলী সরু লম্বা ঝুলন্ত অবস্থায় থাকে, এতে পেশাবের মধ্যকার দূষিত পদার্থগুলো পেশাবের থলীর নিম্নগামী থাকে ফলে পেশাব করার সময় পেশাব বেরিয়ে যায় কিন্তু এর দূষিত পদার্থগুলো উক্ত থলীর তলদেশে গিয়ে জমা হতে থাকে। কিন্তু যখন কোনো মানুষ বসে পেশাব করে তখন পেটের চাপে পেশাবের থলীটি সম্প্রসারিত হয় যার ফলে সম্পূর্ণ পেশাব সহজেই উক্ত থলী হতে বের হয়ে আসে। এতে কখনও পেশাবের থলীতে কোনো জটিল রোগের সৃষ্টি হয় না। এছাড়াও অনেক চিকিৎসকরা বলেন যে, দাঁড়িয়ে পেশাব করলে কিডনীতে অতি সহজে পাথরের সৃষ্টি হয়।
এছাড়াও স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীরা আরও বলেন যে, দীর্ঘদিন দাঁড়িয়ে পেশাব করলে পেশাবের বেগ কমতে থাকে, অথচ যদি একজন মানুষ সারাজীবন বসে পেশাব করে তবুও তার পেশাবের বেগ কমে না। স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীরা আরও বলেন যে, যারা নিয়মিতভাবে দাঁড়িয়ে পেশাব করেন, তাদের অবশ্যই শেষ জীবনে ডায়াবেটিস, জন্ডিস, কিডনী রোগ হবেই। স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীরা আরো বলেন যে, দাঁড়িয়ে পেশাব করলে পুরুষের যৌবন শক্তি কমতে থাকে এবং পুরুষাঙ্গ ক্ষুদ্র ও নরম তেনা তেনা হয়ে যায় এবং সহজে সোজা ও শক্ত হতে চায় না যদিও কোনো উত্তেজনায় সোজা ও শক্ত হয় তাও খুব অল্প সময়ের জন্য এবং কিছু বের না হয়েই আবার ছোট ও নরম হয়ে যায়।
স্বাস্থ্য ও পরিবেশ বিজ্ঞানীরা বলেন যে, দাঁড়িয়ে পেশাব করলে পরিবেশ দূষিত হয়। যেমন- বায়ু দূষিত হয় এবং সেই বায়ু আমাদের শ্বাস কাজে আমাদের দেহে প্রবেশ করে দেহে নানা জটিল জটিল রোগ সৃষ্টি করে এবং পেশাব ছিটকে এসে আমাদের দেহে লাগে, কাপড়ে লাগে, এতে আমাদের দেহ ও কাপড় অপবিত্র ও দুর্গন্ধময় হয়ে ব্যক্তিগত পরিবেশকেও নষ্ট ও দূষিত করে দেয়। তাই স্বাস্থ্য ও পরিবেশ বিজ্ঞানীরা বলেন যে, মানুষের উপরোক্ত দৈহিক সমস্যার মধ্য হতে রক্ষা পাওয়ার জন্য বসে পেশাবের বিকল্প কোনো পথ নেই। অর্থাৎ উপরোক্ত রোগবালাই হতে রক্ষা পেতে চাইলে অবশ্যই আমাদের সকলকে বসে পেশাব করতে হবে।
অথচ মহানবী মুহাম্মদ (সা) উপরোক্ত বিজ্ঞানীদের বহু পূর্বেই এই পৃথিবীর মানুষদেরকে দাঁড়িয়ে পেশাব করতে নিষেধ করেছেন এবং বসে পেশাব করতে হুকুম দিয়ে গেছেন। যেমন- নিম্নে তাঁর দু'টি হাদীস উপস্থাপন করা হলো:
أَخْبَرَنَا شَرِيكَ عَنِ الْمِقْدَامِ بْنِ شُرَيْحٍ عَنْ أَبِيْهِ عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ مَنْ حَدَّثَكُمْ أَنَّ النَّبِيَّ الله كَانَ يَبُولُ قَائِمًا . فَلَا تُصَدِّقُوْهُ مَا كَانَ يَبُولُ إِلَّا قَاعِدًا .
অর্থ: আয়েশা সিদ্দীকা (রা) বলেন যে, কোনো ব্যক্তি যদি তোমাদেরকে হাদীস শোনায়ে বলেন যে, নিশ্চয় মহানবী (সা) দাঁড়িয়ে পেশাব করতেন। তখন তোমরা তাকে কোনোভাবেই সত্য মনে করো না। কারণ মহানবী (সা) কখনও বসা ব্যতীত দাঁড়িয়ে পেশাব করতেন না। (তিরমিযী হা/১২, ১ম খণ্ড ৪ পৃষ্ঠা আবওয়াবুত তাহারাত।)
عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ رَآنِي النَّبِيُّ أَبُولُ قَائِمًا ، فَقَالَ يَا عُمَرُ لا تَبُلْ قَائِمًا - فَمَا بُلْتُ قَائِمًا بَعْدُ
অর্থ: ওমর (রা) বলেন যে, মহানবী (সা) আমাকে কোনো এক সময় দাঁড়িয়ে পেশাব করতে দেখলেন। তখন মহানবী (সা) আমাকে বললেন, হে ওমর! তুমি কখনও দাঁড়িয়ে পেশাব করো না! এরপর ওমর (রা) বলেন যে, তারপর আমি আর কখনও দাঁড়িয়ে পেশাব করিনি। (তিরমীযি হা/১২, ১ম খণ্ড ৪ পৃষ্ঠা, আবুওয়াবুত তাহারাত।)

📘 পরিবেশ ও স্বাস্থ বিজ্ঞানে মুহাম্মদ সাঃ > 📄 দাঁড়িয়ে পান করা

📄 দাঁড়িয়ে পান করা


স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীরা বলেন যে, যখন কোনো মানুষ দাঁড়িয়ে থাকেন। তখন তার দেহ বসে থাকার চেয়ে কিছুটা অস্বাভাবিক থাকে। এছাড়াও তখন খাদ্যথলী বাতাসে পরিপূর্ণ থাকে, তাই তখন কোনো পানীয় কিছু পান করলে পেটের উক্ত বাতাস খাদ্য নালী দিয়ে সাথে সাথে বের হয়ে আসতে পারে না, ফলে উক্ত বাতাস খাদ্য থলীর ভিতরেই বলের মতো চারদিকে চাপ প্রয়োগ করে এবং সেই চাপ গিয়ে হৃদযন্ত্রে ও ফুসফুসে পতিত হয়। তখন দেহে রক্তচাপ বেড়ে যায় এবং এর ফলে হৃদযন্ত্রের কম্পন বেড়ে যায়। ফলে দেহে তখন অস্বস্তি ও অস্থিরতা বিরাজ করে। তাই স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীরা বলেন যে, যখন কোনো মানুষ কোনো পানীয় দ্রব্য বসে পান করে তখন তার দেহ স্বাভাবিক অবস্থায় থাকে এবং খাদ্য থলী প্রসারিত ও স্বাভাবিক থাকে, যার ফলে তখন কোনো পানীয় দ্রব্য পান করলে, ইহা দেহের ভেতর প্রবেশ করার সাথে সাথে উক্ত খাদ্যথলীর বাতাস সহজেই খাদ্যনালী দিয়ে বের হয়ে আসে। তাই স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীরা বলেন যে, কোনো পানীয় দ্রব্য বসে পান করলে উপরে আলোচ্য কোনো সমস্যাই দেহে সৃষ্টি হবে না। তাই স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীরা প্রত্যেক মানুষকে পরামর্শ দেন যে, কেউই যেন কোনো পানীয় দ্রব্য কখনও দাঁড়িয়ে পান না করে। এছাড়াও তারা আরও বলেন যে, দাঁড়িয়ে কোনো পানীয় দ্রব্য পান করলে মতিভ্রম ঘটে।
অথচ মহানবী মুহাম্মদ (সা) উপরোক্ত স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীদের বহু পূর্বেই কোনো পানীয় দ্রব্য দাঁড়িয়ে পান করতে নিষেধ করে গেছেন এবং তিনি বলেছেন যে, ওযু করার পর তার অবশিষ্ট পানি ও যমযম কূপের পানি ব্যতীত আর যত পানীয় দ্রব্য আছে তা যদি কখনও কেউ দাঁড়িয়ে পান করে সে হচ্ছে শয়তানের বন্ধু। এতে প্রমাণ করে যে, দাঁড়িয়ে কোনো পানীয় দ্রব্য পান করা সম্পর্কে মহানবী (সা) কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন।
এতে আরো প্রমাণিত হয় যে, দাঁড়িয়ে কোনো পানীয় দ্রব্য পান করলে দেহের জন্য খুব ক্ষতিকর একথা মহানবী (সা) জানতেন। তাই তিনি তাঁর সকল উম্মতগণকে দাঁড়িয়ে কোনো পানীয় দ্রব্য পান করতে নিষেধ করে গেছেন। যেমন- এ সম্পর্কে মহানবী (সা)-এর একটি হাদীস:
عَنِ الْجَارُودِ بْنِ الْعَلَاءِ أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ نَهَى عَنِ الشُّرْبِ قَائِمًا.
অর্থ: জারুদ বিন আলা (রা) হাদীস বর্ণনা করে বলেন যে, নিশ্চয় মহানবী (সা) তাঁর উম্মতগণকে দাঁড়িয়ে কোনো পানীয় দ্রব্য পান করতে নিষেধ করে গেছেন। (তিরমিযী হা/১৮৮০ ২য় খণ্ড-১০ম পৃষ্ঠা, আবুওয়াবুল আশরাবা।)

📘 পরিবেশ ও স্বাস্থ বিজ্ঞানে মুহাম্মদ সাঃ > 📄 দীর্ঘজীবন

📄 দীর্ঘজীবন


আজ হতে প্রায় দেড় হাজার বছর পূর্বে মহানবী মুহাম্মদ (সা) পবিত্র কুরআনের আলোকে বলে গেছেন যে, নূহ (আ) এই পৃথিবীতে ১৪০০ বছর জীবিত ছিলেন এবং তার উক্ত দীর্ঘ জীবনের মধ্যে তিনি এই পৃথিবীর মানুষকে ۹৫০ বৎসর দীনের দাওয়াত দিয়েছিলেন, যেমন- এ সম্পর্কে পবিত্র কুরআনের আয়াত:
وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا نُوْحًا إِلَى قَوْمِهِ فَلَبِثَ فِيهِمْ أَلْفَ سَنَةٍ إِلَّا خَمْسِينَ عَامًا.
অর্থ: এবং নিশ্চয় আমি নূহকে তাঁর জাতির নিকট পাঠালাম, অতঃপর সে তাদের মধ্যে নয় শত পঞ্চাশ বছর অবস্থান করেছিলেন। (সূরা আনকাবুত: আয়াত-১৪)
বিজ্ঞানীরা নূহ (আ)-এর দীর্ঘদিন এই পৃথিবীতে বেঁচে থাকার তথ্য জেনে, তাদের মনে নানা গবেষণার উদ্রেক হয় এবং বিজ্ঞানীরা বলেন যে, কিভাবে এই পৃথিবীতে নূহ (আ) এত দীর্ঘদিন বেঁচে ছিলেন এবং এর উপর বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে অবশেষে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, মানব দেহের ক্রমোজোমগুলোকে কোনোমতে ঠেকিয়ে দিতে পারলেই, নিশ্চিন্তে অনেকদিন এ ধরায় বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখা যাবে।
টেলোমরিস ধরে রাখবে যৌবন, তাই সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মানুষের গড় আয়ু। আর তা সম্ভব হচ্ছে রোগের বিরুদ্ধে বিজ্ঞানীদের মরণপণ যুদ্ধের কারণে। রোগ যতই শক্ত হোক এর তাণ্ডব বেশিদিন স্থায়ী হচ্ছে না পৃথিবীতে। ফলে বেশিদিন বেঁচে থাকার গ্যারান্টি পাচ্ছে মানুষ। তবে জরা বার্ধক্যকে একেবারে কব্জা করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে এতে বিজ্ঞানীদের গবেষণা চলছে অনবরত। বিজ্ঞানীদের মধ্য হতে কেউ কেউ বলেছেন, মানুষের বুড়িয়ে যাওয়ার মূল কারণ কতগুলো জিনে। যা মানুষের জরা-বার্ধক্যের জন্য দায়ী। কাজেই সে জিনগুলোকে চিহ্নিত করে চিকিৎসা করতে পারলেই থামিয়ে দেয়া যাবে বার্ধক্য। আবার বিজ্ঞানীদের মধ্য হতে কেউ কেউ বলেছেন, আমরা যতটা খাই তার পরিমাণ কমালে দেহে শক্তি কমে যাবে। শরীরের কোষগুলো কম ব্যয় হবে। তবে বেশ কবছর বেশি বাঁচা যাবে। বিজ্ঞানীরা বলেছেন, একজন পূর্ণ বয়স্ক মানুষ প্রতিদিন ৩০০০ ক্যালরি খায়। এ সংখ্যাকে কমিয়ে ১৮০০ ক্যালরিতে নিয়ে এলে মানুষ অনায়াসে আরও বিশ ত্রিশ বছর বেশি বাঁচতে পারবে।
বিজ্ঞানীরা বলেন যে, মানুষের বার্ধক্যে পড়ার আরেকটি কারণ আমাদের দেহ কোষগুলোর বাড়ার ক্ষমতা কমে যাওয়া। একটি নির্দিষ্ট সময়ে এগুলো ঝিমিয়ে পড়ে। কোষগুলোর বৃদ্ধি কমে যায়। কিন্তু এ কোষগুলোর বৃদ্ধি ধরে রাখতে পারলেই মানুষের অসাধ্য সাধন হবে। জরা-বার্ধক্য চলে আসবে হাতের মুঠোয়। কিন্তু কিভাবে কোষগুলোর বৃদ্ধি রাখা যায়? এ নিয়ে বিজ্ঞানীরা নিরন্তর গবেষণা করে জেনেছেন যে, মানুষের দেহে একমাত্র ক্যান্সারে আক্রান্ত কোষ বাড়তে থাকে। এর কারণ একটি জিন টেলোমারিস নামে একটা এনজাইম তৈরি করে। স্বাভাবিক অবস্থায় যা থাকে নিষ্ক্রিয়। ক্যান্সারে আক্রান্ত হলে কোষগুলোর মধ্যে তখন সক্রিয় হয়ে ওঠে এ জিন। যথেষ্ট মাত্রায় উৎপন্ন হয় টেলোমারিস। ফলে তরতর করে বাড়তে থাকে ক্যান্সারে আক্রান্ত কোষগুলো।
এখন এ জিনগুলোকে চিহ্নিত করে কোনোও কায়দায় এদের উস্কে দিতে পারলে আর ঠেকায় কে? দেদারসে তৈরি হবে টেলোমারিস এনজাইম। কোষগুলো বাড়তে থাকবে। থামবে না কোনোও দিন। কাছে ঘেঁষতে পারবে না জরা-বার্ধক্য। মানুষ লাভ করবে অনন্ত যৌবন। বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, ২০১৫ সালের মধ্যে আবিষ্কৃত হবে এমন একটি ওষুধ যা টেলোমারিস এনজাইমের প্রচুর পরিমাণ নিঃসরণ করবে এবং অব্যাহত রাখবে।
নেনোটেকনোলজি নামে এক ধরনের প্রযুক্তির কথা এখন বেশ জোরে শোরে শোনা যাচ্ছে। এর বদৌলতে আগামী শতকে হয়ত পুঁচকে কোনোও যন্ত্র তৈরি সম্ভব হবে। যা শরীরে প্রবেশ মাত্র সব রোগের কোষ ভাঙ্গার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করবে। তখন মানুষ কব্জা করতে পারবে দীর্ঘ জীবনের অমরতাকে। (দৈনিক ইত্তেফাক ৩-৪-১৯৯৮ ইং)
এছাড়াও বিজ্ঞানীরা আরও দাবি করেছেন, তারা এমন তিনটি বিষয় আবিষ্কার করেছেন যাতে একজন মানুষ কতদিন বাঁচবে তার ভবিষ্যদ্বাণী করা যাবে। ইন্টারনেট বিজ্ঞানীদের এ সংক্রান্ত একটি গবেষণা বিজ্ঞান জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। তারা বলেছেন, এক ব্যক্তির আয়ুষ্কাল তার দেহের তাপমাত্রা এবং রক্তে প্রবাহিত দুটি রাসায়নিক মাত্রার উপর নির্ভর করে। যুক্তরাষ্ট্রের কান্টিমোর শহরে এক গবেষণা চালিয়ে এ তথ্য পাওয়া গেছে। (যুগান্তর ৩-৮-২০০২ ইং)
অতএব, প্রতীয়মান হয় যে, বর্তমান চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের বহু পূর্বেই মহানবী (সা) পবিত্র কুরআনের আলোকে বলে গেছেন যে, 'নূহ' (আ) এই পৃথিবীতে ৯৫০ বছর এই পৃথিবীর মানুষদেরকে শুধু সৎপথে ডেকে ছিলেন। এর উপর ভিত্তি করেই বর্তমান যুগের বিজ্ঞানীরা মানুষকে দীর্ঘদিন বাঁচায়ে রাখার জন্য নানা গবেষণা ও নানা ঔষধ আবিষ্কারের গবেষণা ও উৎস পেয়েছে ইত্যাদি।

📘 পরিবেশ ও স্বাস্থ বিজ্ঞানে মুহাম্মদ সাঃ > 📄 জাহান্নাম

📄 জাহান্নাম


জাহান্নামের পরিচয় সম্পর্কে মহানবী (সা) বলেছেন, যখন আল্লাহ পাক তাঁর সাতটি জাহান্নামের মধ্য হতে সবচেয়ে ক্ষুদ্র যে জাহান্নামটি, সেই জাহান্নামকে যখন তিনি উপস্থাপন করবেন, সে জাহান্নামের সত্তর হাজার লাগাম থাকবে এবং প্রত্যেকটি লাগামে বিশাল বিশাল বিকট আকৃতির সত্তর হাজার করে ফেরেশতা থাকবে, তারাই জাহান্নামকে পরিচালনা করবেন। যেমন- এ সম্পর্কে মহানবী (সা)-এর একটি বিশেষ হাদীস বর্ণনা করা হলো:
حَدَّثَنَا أَبِي عَنِ الْعَلَاءِ بْنِ خَالِدِ الْكَاهِلِيِّ عَنْ شَقِيقٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ الله يُؤْتَى بِجَهَنَّمَ يَوْمَئِذٍ لَهَا سَبْعُوْنَ أَلْفَ زِمَامٍ مَعَ كُلَّ زِمَامٍ سَبْعُونَ أَلْفَ مَلَكٍ يَجْرُوْنَهَا - (ترمذی جلد الثاني صفه ۸۱ صفت الجهنم)
অর্থ: আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, মহানবী (সা) বলেছেন, আল্লাহ পাক যখন জাহান্নামকে উপস্থাপন করবেন, সে জাহান্নামের সত্তর হাজার লাগাম থাকবে এবং প্রত্যেকটি লাগামে সত্তর হাজার করে ফেরেশতা থাকবে, তারাই জাহান্নামকে পরিচালনা করবেন। (তিরমিযী হা/২৫৭৩ ২য় খণ্ড ৮৫ পৃষ্ঠা ছিফাতুল জাহান্নাম।)
দোযখে আল্লাহপাক জাহান্নামবাসীদেরকে শাস্তি দিবেন, বিশেষ করে আগুন দ্বারা, সেই আগুন সম্পর্কে মহানবী (সা) বলেন, যেমন-
أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ عَنْ هُمَامٍ بْنِ مُنَبَّةٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ﷺ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَارُكُمْ هَذِهِ الَّتِي تُوقَدُونَ جُزْءٌ وَاحِدٌ مِنْ سَبْعِينَ جُزْءً مِنْ حُرِّ جَهَنَّمَ - (ترمذى جلد الثاني صفه صفة الجهنم)
অর্থ: আবু হুরায়রা (রা) বলেন যে, মহানবী (সা) বলেছেন, তোমরা আগুনের যে অংশকে জ্বলতে দেখছ, এই আগুন জাহান্নামের আগুনের তাপের সত্তর ভাগের এক ভাগ অর্থাৎ জাহান্নামের আগুন পৃথিবীর আগুনের চেয়ে সত্তর গুণ বেশি গরম। (তিরমিযী হা/২৫৮৯ ২য় খণ্ড, ৮৬ পৃষ্ঠা, ছিফাতুল জাহান্নام।)
এছাড়াও হাদীসের আলোকে কথিত আছে যে, জাহান্নাম হচ্ছে চির ভয়াবহ শান্তির আবাসস্থল, তাই সেখানে সময় স্থির, সেখানে সময়ের কোনো হিসাব নেই, সেখানে জাহান্নামবাসীরা ভয়াবহ তীব্র তাপের তেজী আগুনে জ্বলবে, তখন তাদের নিকট উক্ত জাহান্নামের এক এক মিনিট পৃথিবীর হাজার হাজার বছরের চেয়ে বিশাল মনে হবে। জাহান্নামবাসীদের কোনো ইচ্ছা এবং কোনো আশাই পূরণ করা হবে না, বরং সেখানে যা কিছু করা হবে তার সবই তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে করা হবে। এতে তাদের সেখানে এতোই ভয়াবহ তীব্র ক্ষুধা ও পানি পিপাসা লাগবে, মনে হবে যে, দুনিয়ার সমস্ত খাবার ও পানি যদি শুধু তাদের একজনকে দেয়া হয়, তবুও তার ক্ষুধা ও পানি পিপাসা দূর হবে না। সেখানে তাদেরকে ভয়াবহ তীব্র দুর্গন্ধ জাতীয় অনেকটা ঘাঁ-পাঁচড়ার পুঁজের মতো বিষাক্ত খাবার ও পানিও দ্রব্য দেয়া হবে, যা দেখে তারা তীব্র ঘৃণা বোধ করবে, তবুও তারা কোনো উপায় না পেয়ে খাবে এবং পান করবে, খাওয়ার পর সেখানে তাদের শাস্তির মাত্রা আরো তীব্র হতে তীব্র হয়ে যাবে। সেখানে তাদের কখনো মরণ হবে না, তাদের দেহের কখনো কোনো পরিবর্তন হবে না, তবে শরীরের চামড়া কুঁচকে ও কালো হয়ে যাবে, তখন উক্ত জাহান্নামের ফেরেশতারা তা পরিবর্তন করে শরীরে আবার নতুন চামড়া পরায়ে দিবেন। এবং সে চামড়াটিও হবে তীব্র গরম আগুনের। এছাড়া সদা একই অবস্থায় থাকবে।
উপরোক্ত জাহান্নামের শাস্তি প্রত্যেক পাপীগণ, তাদের মৃত্যুর পর হতেই পেতে থাকবে। যেমন, মহান আল্লাহপাক বলেছেন- "প্রত্যেক পাপীই তার মরণের পর হতে "সিজ্জিনে" বসবাস করবে"। 'সিজ্জিন' হচ্ছে হাশর-নশরের হিসাব-নিকাশের পূর্বে পাপীদের বাসস্থান, যা মহান আল্লাহ পাকের জাহান্নামেরই একটি বিকল্প ব্যবস্থা।
মহানবী (সা)-এর উল্লেখিত হাদীসগুলোর সত্যতা প্রমাণ করার পক্ষে বিখ্যাত বিজ্ঞানী আইনস্টাইন বলেন যে, যখন তুমি আনন্দে থাক তখন তোমার নিকট এক ঘণ্টা এক মিনিট মনে হয়, আর যখন তুমি জেলখানায় বাস কর, তখন তোমার নিকট এক মিনিট এক ঘণ্টা মনে হয়, এটাই হচ্ছে আমার রিলিটিভিটি মতবাদ বা আপেক্ষিক তত্ত্ব। আইনস্টাইনের এই আপেক্ষিক তত্ত্বই প্রমাণ করে যে, জাহান্নামের ভয়াবহ তীব্র শাস্তির এক মিনিট পৃথিবীর হাজার হাজার বৎছরের চেয়েও বিশাল।
এছাড়াও বিজ্ঞানীরা বলেন যে, আমাদের এই পৃথিবীর সর্বত্রই ব্যাক্টেরিয়া ও ভাইরাস নামে দুটি জীবণু পদার্থ আছে, যাদের দ্বারা পৃথিবীর সকল পদার্থ, প্রাণী ও উদ্ভিদকুলের সবাই সৃষ্টি হচ্ছে, ধ্বংস হচ্ছে, পুরাতন হচ্ছে, রূপান্তর ও নষ্ট হচ্ছে। বিজ্ঞানীরা বলেন যে, যদি এই পৃথিবীতে ব্যাক্টেরিয়া ও ভাইরাস জীবাণু দ্বয় না থাকতো, তবে পৃথিবীতে কখনো কারো সৃষ্টি-ধ্বংস, পুরাতন-রূপান্তর ও নষ্ট হতো না। মহান আল্লাহপাক যাকে যেভাবে সৃষ্টি করতেন সে সদা একই অবস্থায় বিরাজ করতো। এতে প্রমাণ করে যে, দোযখে মিকাঈল (আ) ও আজরাঈল (আ) ফেরেশতাদ্বয়ের কোনো সৃষ্টি-ধ্বংস ক্রিয়া নেই। মহান আল্লাহপাক দোযখে যাকে যে অবস্থায় রাখবেন, সে সদা একই অবস্থায় থাকবে।
তা-হলে জাহান্নাম কোথায়, এবং জাহান্নাম কত বড়? এর উত্তর হচ্ছে মহান আল্লাহপাক সাত আকাশ ও সাত জমিনের অসংখ্য কোটি কোটি ফেরেস্তা বর্ষ মাইল গভীরে হচ্ছে আল্লাহপাকের সাতটি জাহান্নামের অবস্থান এবং এক জাহান্নাম হতে অন্য এক জাহান্নামের দূরত্ব কোটি কোটি ফেরেশতা বর্ষ মাইল। এবং ফেরেস্তারা তাদের নিজস্ব গতিবেগে এক বছরে যে দূরত্ব পথ অতিক্রম করে তাকে এক ফেরেস্তাবর্ষ দূরত্ব পথ বলে। তবে ফেরেস্তাদের গতি বেগে প্রতি সেকেন্ডে কত তা একমাত্র আল্লাহপাক ছাড়া আর কেও জানে না। তবে প্রতি সেকেন্ডে ফেরেস্তাদের গতিবেগের ব্যাপারে বিখ্যা বিজ্ঞানী আইনস্টাইনের বিখ্যাত সূত্র E=MC² এর সাহায্যে একটি সম্ভাব্য আলোচনা নিম্নে করা হলো। যেমন-
বিখ্যাত বিজ্ঞানী আইনস্টাইন দেখান যে, পদার্থ ও শক্তি প্রকৃতপক্ষে অভিন্ন। M ভর বিশিষ্ট কোনো বস্তুকে বা, কোনো পদার্থকে কোনো উপায়ে ধ্বংস করতে পারলে ইহা হতে প্রচুর শক্তি নির্গত হয়, এবং এই শক্তির পরিমাণ হলো, E=MC²। এখানে "C" হলো আলোকের বেগ। ইহা এক বিস্ময়কর সূত্র। উপরের সূত্রের সাহায্যে প্রমাণ করলে দেখা যায় যে, এক গ্রাম ভরের কোনো পদার্থ হতে প্রাপ্ত শক্তি 1x (3 x10¹°)² = 9 x 10²° আর্গ। অর্থাৎ এক কেজি ওজনের কোনো পদার্থকে কোনো উপায়ে ধ্বংস করলে ইহা হতে 9 × 10²° কেজির সমপরিমাণ শক্তি নির্গত হয়।
E=MC² এই সূত্রের দৃষ্টিকোণ হতে বলা যায় যে, আলোর স্বাভাবিক গতিবেগ হচ্ছে প্রতি সেকেন্ডে 186000 হাজার মাইল। তা হলে এই আলোর ভর ধ্বংস করে এর দ্বারা মহান আল্লাহ পাক যে ফেরেশতা সৃষ্টি করেছেন, তার গতিবেগ আলোর চেয়ে প্রতি সেকেন্ডে হবে 9 × 10²°x 186000 = 1674 × 10²³ মাইল। অর্থাৎ ফেরেশতাদের গতিবেগ প্রতি সেকেন্ডে 167400, 0000000, 0000000, 0000000 মাইল। অর্থাৎ এক লক্ষ সাতষট্টি হাজার চারশত কোটি × কোটি × কোটি মাইল।
তাহলে ফেরেশতারা প্রতি সেকেন্ডে যায় 1674 × 10²³ মাইল, তা হলে ফেরেশতারা এক বছরে যায় 9 × 10²° x 6 x 10¹² = 54 × 10³² মাইল। অর্থাৎ ফেরেশতাদের গতিবেগ এক বৎসরে 540000, 0000000, 0000000, 0000000, 00000০০ কোটি মাইল। অর্থাৎ পাঁচ লক্ষ চল্লিশ হাজার, কোটি × কোটি × কোটি কোটি মাইল।
অর্থাৎ জাহান্নাম-এর অবস্থান হচ্ছে সাত আকাশ ও সাত জমিনের নিচে অসংখ্য কোটি কোটি ফেরেশতাবর্ষ মাইল গভীরে। এর চারদিকেই ছড়ায়ে ছিটিয়ে মহান আল্লাহ পাক তাঁর সাতটি জাহান্নামকে ভাসায়ে অবস্থান করে রেখেছেন। এবং তাঁর উক্ত সাতটি জাহান্নাম সেখানে তিনি একটি ক্ষুদ্র বৃত্তের ভেতর আবদ্ধ করে রেখেছেন। এবং এক জাহান্নাম হতে অন্য এক জাহান্নাম পর্যন্ত দূরত্ব হচ্ছে কোটি কোটি ফেরেশতাবর্ষ মাইল। এরূপ সমান দূরত্বের ব্যবধানে উক্ত সাতটি জাহান্নাম সেখানে অবস্থান করছে।
উক্ত সাতটি জাহান্নামের এক একটির আয়তনে কত বিশাল তা একমাত্র আল্লাহ পাক ছাড়া আর কেউ জানে না। তবে উক্ত সাতটি জাহান্নামের মধ্যে সবচেয়ে ক্ষুদ্র যে জাহান্নামটি শুধু বুঝানোর জন্য হাদীসের আলোকে তার কিঞ্চিৎ বর্ণনা করা হলো: সবচেয়ে ক্ষুদ্র যে জাহান্নামটি তার মধ্যে অসংখ্য কোটি কোটি আগুনের গর্ত রয়েছে। এক একটি গর্ত হতে অন্য একটি গর্তের দূরত্ব কোটি কোটি ফেরেশতাবর্ষ মাইল এবং দোযাখের এক একটি আগুনের গর্ত যে কি বিশাল? তা একমাত্র আল্লাহপাক ছাড়া আর কেউ জানে না। তবে শুধু নমুনা স্বরূপ বলা হচ্ছে যে, দুনিয়াতে যদি একটি বিশাল কোনো গর্তে একটি সরিষা দানা নিক্ষেপ করা হয়, তা হলে উক্ত বিশাল গর্তের তুলনায় সরিষা যেরূপ হবে, ঠিক তার চেয়েও আরো ক্ষুদ্র হবে জাহান্নামের একটি বিশাল গর্তে সূর্যের মতো একটি বিশাল পাথরকে নিক্ষেপ করলে। অর্থাৎ জাহান্নামের এক একটি গর্তে সূর্যের মতো বিশাল পাথরও উক্ত গর্তের বিশালতায় সরিষার চেয়েও অতি ক্ষুদ্র এবং এক একটি গর্ত এতোই বিশাল যে, তার যে কোনো একটি গর্তে সূর্যের মতো বিশাল কোনো পাথরকে যদি খুব বেগে নিক্ষেপ করা হয়, তবে ইহা এর তলদেশে গিয়ে পড়তে সত্তর বছর সময় লেগে যাবে। যেমন- এ প্রসঙ্গে মহানবী (সা)-এর একটি বিখ্যাত হাদীস, যেমন:
حَدَّثَنَا حُسَيْنَ بْنُ عَلِيُّ الْجَعْفِي عَنْ فُضَيْلِ بْنِ عَيَاضٍ عَنْ هِشَامٍ بْنِ حَسَّانَ عَنِ الْحَسَنِ قَالَ قَالَ عُتْبَةُ بْنُ غَزْوَانَ عَلَى مِنْبَرِنَا هَذَا مِنْبِرُ الْبَصْرَةِ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ إِنَّ الصَّخْرَةَ الْعَظِيمَةَ لَتُلْقَى مِنْ شَفِيرِ جَهَنَّمَ فَتَهُوَى فِيْهَا سَبْعِينَ عَامًا - (ترمذى جلد الثاني صفه صفة الجهنم)
অর্থ: উৎবা বিন গাজোয়ান (রা) বলেন যে, আমরা একটি সভার উচ্চ আসনে অবস্থানরত ছিলাম, যে উচ্চ আসনটি এই বস্ত্রা শহরের একটি উচ্চ আসন, সেখানে অবস্থান করে মহানবী (সা) বলেছেন যে, নিশ্চয় জাহান্নামের গর্তগুলো এতোই বিশাল যে, যদি তার মধ্যে একটি বিশাল পাথর নিক্ষেপ করা হয়, তবে ইহা, ইহার তলদেশে গিয়ে পড়তে সত্তর বছর সময় লেগে যাবে। (তিরমিযী হা/২৫৭৫, ২য় খণ্ড ৮৫ পৃষ্ঠা ছিফাতুল জাহান্নাম।)
উপরোক্ত হাদীসটির সত্যতা প্রমাণের পক্ষে বর্তমান যুগের বিজ্ঞানীরা বলেন যে, সূর্য হচ্ছে একটি বিশাল অগ্নিপিণ্ড ইহার দিকে লক্ষ্য করলে অনেক কালো কালো দাগ দেখা যায়। বিজ্ঞানীরা বলেন যে, সূর্যের মধ্যে ইহা কোনো দাগ নয়, বরং এরা হচ্ছে সূর্যের মধ্যে অনেক বিশাল বিশাল আগুনের গর্ত, যার একটি আগুনের গর্তে আমাদের এই পৃথিবীর মতো চারশত পৃথিবী একত্র করে বল বানায়ে নিক্ষেপ করা যাবে। এতে সত্যতা প্রমাণিত হয় যে, জাহান্নামের অসংখ্য গর্তের মধ্যে কোনো একটি আগুনের গর্তে তো সূর্যের মতো কোনো বস্তুকে নিক্ষেপ করা যাবেই। কারণ মহান আল্লাহ পাকের সাতটি জাহান্নামের মধ্যে সবচেয়ে ছোট যে জাহান্নাম, সেটাও সূর্যের চেয়ে কোটি কোটি গুণ বিশাল। সূর্য তার উক্ত আগুনের গর্ত হতে প্রতি সেকেন্ডে চল্লিশ কোটি টন করে হাইড্রোজেন গ্যাস অনেকটা বমি করে দেয়ার গুলটার মতো করে মহা আকাশে খুব বেগে নিক্ষেপ করছেন। তেমনি মহানবী (সা) তার বিশেষ হাদীসে বলেছেন, জাহান্নামও প্রতি পলকে পলকে তার আগুনের গর্তগুলো হতে সূর্যের মতো বিশাল বিশাল অগ্নি স্ফুলিঙ্গ অনেকটা বমি করে দেয়ার গুলটার মতো করে খুব বেগে নিক্ষেপ করছে যা সত্তর হাজার ফেরেশতাবর্ষ মাইল দূর হতে দেখা যাবে। জাহান্নামের প্রতিটি গর্তের আগুন গরম হতে হতে এমনি গরম হয়ে একেবারেই কালো হয়ে গেছে এবং সেই কালো আগুনের শিখার তেজ খুব বেগে সত্তর হাজার ফেরেশতাবর্ষ মাইল পর্যন্ত উপরে উঠে গেছে, যাকে সত্তর হাজার ফেরেশতাবর্ষ মাইল দূর হতে দেখা যাবে এবং এর শব্দ শোনা যাবে।
এমনি বিশাল জাহান্নামকে পাটের ফেওয়ার মতো খাবার দিলে চলবে না বরং জাহান্নামকে তার উপযোগী শক্ত খাবার দিতে হবে, তাই মহান আল্লাহ পাক জাহান্নামবাসী কাফিরদের দেহকে বিশাল ও শক্ত করে, জাহান্নামকে খাবার দিবেন। তাই এ সম্পর্কে মহানবী (সা) একটি বিশেষ হাদীস বলেছেন। যেমন-
حَدَّثَنَا مَصْعَبُ بْنُ الْمِقْدَامِ عَنْ فُضَيْلِ بْنِ غَزْوَانَ عَنْ أَبِي حَازِمٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ ضِرْسُ الْكَافِرِ مِثْلَ أُحُدٍ . (ترمذى جلد الثاني صفه صفة الجهنم)
অর্থ: আবু হুরায়রা (রা) বলেন যে, মহানবী (সা) বলেছেন, জাহান্নামের এক একজন কাফিরের দাঁত হবে, এক একটি উহুদ পর্বতের মতো। (তিরমিযী হা/২৫৭৯, ২য় খণ্ড, ৮৫ পৃষ্ঠা, ছিফাতুল জাহান্নাম।)
তাহলে ভেবে দেখা যায় যে, একজন জাহান্নামবাসী কাফিরের মুখের বত্রিশটি দাঁতের মধ্যে এক একটি দাঁত যদি উহুদ পর্বতের মতো হয়, তবে তার মুখ ও দেহ কত বড় ও কত শক্ত। তা হলে বুঝা যায় যে, মহান আল্লাহ পাক যেমন বেঁকো (জাহান্নাম) সৃষ্টি করেছেন, তেমনি তার খাবার (কাফির) সৃষ্টি করেছেন। আমরা এক লুকমায় যতটি চাউল (ভাত) খাই, অনেকটা তেমনি করে মহান আল্লাহ পাক, ততটি কাফির একত্র করে এক লুকমা হিসাবে জাহান্নামের এক এক আগুনের গর্তে নিক্ষেপ করে দোযখে শাস্তি দিবেন। যেমন- এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক বলেন-
وَسِيقَ الَّذِينَ كَفَرُوا إِلَى جَهَنَّمَ زُمَرًا .
অর্থ: কাফিরদেরকে জাহান্নামের দিকে দলে দলে হাঁকিয়ে নেয়া হবে। (সূরা যুমার: আয়াত-৭১)
অর্থাৎ কাফিরদেরকে ভাতের লুকমার মতো একত্র করে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। এবং এভাবেই তাদের সেখানে অনন্তকাল অবস্থান করতে হবে, যার ক্ষণকাল তাদের নিকট কোটি কোটি বছর মনে হবে। এ ধারা তাদের অনন্তকাল অব্যাহত থাকবে ইহা জাহান্নামের ভয়াবহ শাস্তির কারণেই অনুভব হবে।
উপরে বলা হয়েছে যে, এক জাহান্নাম হতে অন্য এক জাহান্নামের দূরত্ব সত্তর হাজার ফেরেশতাবর্ষ মাইল, তাহলে একজন ফেরেশতার পক্ষে এক জাহান্নাম হতে অন্য দোযখে যেতে সত্তর হাজার বছর লাগার কথা। কিন্তু দেখা যায় যে, একজন ফেরেশতা প্রতি পলকে পলকে এক জাহান্নাম হতে অন্য দোযখে যাতায়াত করতেছে, এটা কিভাবে সম্ভব, এটাই এখন জানার বিষয়, এর সঠিক উত্তর বিখ্যাত বিজ্ঞানী আইনস্টাইনের বিখ্যাত বিস্ময়কর সূত্র E=MC² এর মাধ্যমে দেয়া যায়, যেমন- তিনি তার এই সূত্রের সাহায্যে বলেছেন যে, কোনো বস্তুকে আলোকের গতিবেগে ছুটালে, বস্তুটি তখন প্রচণ্ড শক্তিতে রূপান্তর হয়ে যায়। এই দৃষ্টিকোণ হতে ব্যাখ্যা করলে দেখা যায় যে, ফেরেশতাদের স্বাভাবিক গতি প্রতি সেকেন্ডে 1674 × 10²³ মাইল। যখন ফেরেশতারা প্রতি সেকেন্ডে এই গতিবেগে ছুটে, তখন উক্ত সূত্র অনুযায়ী ফেরেশতাদের গতিবেগ প্রতি সেকেন্ডে 1674 × 1023 এর স্থলে (1674 × 1023 x 9 x 1020) = 15066 × 1043 হয়ে যায়, যা ফেরেশতাদের প্রতি সেকেন্ডে অস্বাভাবিক গতি নামে পরিচিত। অর্থাৎ ফেরেশতাদের অস্বাভাবিক গতি প্রতি সেকেন্ডে 15066 × 1043 মাইল। অর্থাৎ ফেরেশতাদের অস্বাভাবিক গতিবেগ প্রতি সেকেন্ডে 150660, 0000000, 0000000, 0000000, 0000000, 0000000, 0000000, মাইল অর্থাৎ এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার ছয়শত ষাট কোটি × কোটি x কোটি × কোটি × কোটি কোটি মাইল। তাই ফেরেশতারা প্রতি পলকে পলকে এক জাহান্নাম হতে অন্য দোযখে যাওয়া আসা করতে পারে।
সম্ভব্য প্রতি সেকেন্ডে ফেরেশতাদের এই অস্বাভাবিক গতি দেখেই মহানবী (সা.) তাঁর মেরাজ ভ্রমণ করেছিলেন বলে তাই তিনি এত অল্প সময়ের মধ্যে আল্লাহ পাকের দিদার লাভ, আরশ-কুরছি, লাওহে-কলম, বেহেশত-জাহান্নাম পরিদর্শন ছাড়াও আল্লাহ পাকের আরো অসংখ্য বিশাল বিশাল লীলাভূমি তার পক্ষে এত অল্প সময়ের মধ্যে দর্শন করা সম্ভব হয়েছিল। পবিত্র কুরআন তার বাস্তব প্রমাণ। যেমন-
لِنُرِيَكَ مِنْ أَيْتِنَا الْكُبْرَى
অর্থাৎ এটা (মে'রাজ) এজন্যে যে, আমি আমার নিদর্শনবলির কিছু তোমাকে দেখাই। (সূরা ত্বোয়া-হা: আয়াত-২০)
যত সব অসম্ভব, আল্লাহ পাকের কাছে সম্ভব। আল্লাহ পাকের কাছে অসম্ভব বলতে কিছু নেই।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00