📄 দাড়ি
চক্ষু বিশেষজ্ঞ বিজ্ঞানীরা বলেন যে, ঘনঘন দাড়ি কামালে চোখের দৃষ্টি শক্তির এক অপূরণীয় ক্ষতি সাধিত হয়। তাই চক্ষু বিজ্ঞানীরা ঘন ঘন দাড়ি কামানোর পক্ষপাতি নয়। স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীরা বলেন যে, দাড়ি হচ্ছে দেহের সৌন্দর্য প্রকাশের এক প্রতীক চিহ্ন এবং এর দ্বারা মানুষের ধৈর্য ও দূরদর্শিতা বৃদ্ধি পায়। রণকৌশল বিজ্ঞানীরা বলেন যে, দাড়ি হচ্ছে একজন মানুষের সাহসিকতা, বাহাদুরী ও দূরদর্শিতা সৃষ্টির একটি মাধ্যম মাত্র। এবং রণ বিজ্ঞানীরা লক্ষ্য করে দেখেছেন যে, একজন দাড়ি বিশিষ্ট যুবকের মধ্যে যে পরিমাণ সাহসিকতা ও দূরদর্শিতা দেখা যায়, সেই পরিমাণ সাহসকিতা ও দূরদর্শিতা দেখা যায় না একজন দাঁড়ি ব্যতীত যুবকের মধ্যে। সমাজ বিজ্ঞানীরা বলেন যে, দাড়ি হচ্ছে একজন সাবালক মানুষের প্রতীক চিহ্ন। অর্থাৎ যখন একজন মানুষের দাড়ি গজায় তখনি বুঝতে হবে যে, সে এখন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ।
এছাড়াও বিজ্ঞানীরা লক্ষ্য করে দেখেছেন যে, দাঁড়ি আল্লাহ পাকের প্রতি মানুষকে দৃঢ় বিশ্বাসে ঈমানের প্রতি ধাবিত করে। এবং ঈমান হচ্ছে আল্লাহ পাকের প্রতি এক প্রকার শক্তি আর আল্লাহ পাক নিজেই হচ্ছেন এক বিশাল শক্তিধর মহান সত্তা। এবং দাড়িবিশিষ্ট ঈমানী শক্তি যে মানুষের আছে অবশ্যই তাকে দেখে ভীতি প্রকাশ করেন ঐ লোক, যে মানুষের মুখে দাঁড়ি নেই। তা লক্ষ্য করলে, অবশ্যই অবলোকিত হয়।
অথচ মহানবী মুহাম্মদ (সা) উক্ত বিজ্ঞানীদের বহুপূর্বেই তিনি নিজে দাড়ি রেখে, তা তিনি তাঁর নিজের আদর্শের প্রতীক ঘোষণা করে, তা তিনি তাঁর সকল উম্মতগণকে উক্ত দাড়ি রেখে পালন করার জন্য হাদীস বলে গেছেন। যেমন:
حَدَّثَنَا يَحْيى هُوَ ابْنُ سَعِيدٍ عَنْ عُبَيْدِ اللهِ أَخْبَرَنِي نَافِعٌ عَنْ ابْنِ عُمَرَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ أَحْفُوا الشَّارِبَ وَاعْفُوا اللِّحَى.
অর্থ: ওমর (রা) হতে বর্ণিত যে, মহানবী (সা) বলেছেন, তোমরা গোঁফকে খাট করে রাখ এবং দাঁড়িকে লম্বা করে রাখ। (নাসায়ী হা/৯২৯১ ১ম খণ্ড ৭ম পৃষ্ঠা, কিতাবুত তাহারাত।)
📄 দাঁড়িয়ে পেশাব
চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা বলেন যে, দাঁড়িয়ে পেশাব করলে পেটের উপর কোনো চাপ পড়ে না। তাই দাঁড়িয়ে পেশাব করলে পেটের দূষিত বায়ু পায়খানার রাস্তা দিয়ে বের হতে না পারায় তখন তা ঊর্ধ্ব দিকে ধাবিত হয়। তখন দেহে অস্থিরতা বাড়তে থাকে, রক্ত চাপ বাড়ে, এর ফলে হৃদযন্ত্রে চাপ পড়ে, তাতে হৃদযন্ত্রের স্পন্দন উঠানামা করতে থাকে এবং খাদ্যনালী দিয়ে বার বার হিক্কা আসতে থাকে। আর যদি মানুষ বসে পেশাব করে তাতে পেশাব করার সাথে সাথে পেটে দূষিত গ্যাস থাকলে ইহা পেশাবের সাথে সাথে পায়খানার রাস্তা দিয়েও বের হয়ে যায়। ফলে দেহে উপরোক্ত সমস্যাগুলোর সৃষ্টি হতে পারে না। এবং সহজে বড় কোনো রোগও হয় না। এছাড়াও স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীরা আরো বলেন যে, দাঁড়িয়ে পেশাব করার সময় পেশাবের থলী সরু লম্বা ঝুলন্ত অবস্থায় থাকে, এতে পেশাবের মধ্যকার দূষিত পদার্থগুলো পেশাবের থলীর নিম্নগামী থাকে ফলে পেশাব করার সময় পেশাব বেরিয়ে যায় কিন্তু এর দূষিত পদার্থগুলো উক্ত থলীর তলদেশে গিয়ে জমা হতে থাকে। কিন্তু যখন কোনো মানুষ বসে পেশাব করে তখন পেটের চাপে পেশাবের থলীটি সম্প্রসারিত হয় যার ফলে সম্পূর্ণ পেশাব সহজেই উক্ত থলী হতে বের হয়ে আসে। এতে কখনও পেশাবের থলীতে কোনো জটিল রোগের সৃষ্টি হয় না। এছাড়াও অনেক চিকিৎসকরা বলেন যে, দাঁড়িয়ে পেশাব করলে কিডনীতে অতি সহজে পাথরের সৃষ্টি হয়।
এছাড়াও স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীরা আরও বলেন যে, দীর্ঘদিন দাঁড়িয়ে পেশাব করলে পেশাবের বেগ কমতে থাকে, অথচ যদি একজন মানুষ সারাজীবন বসে পেশাব করে তবুও তার পেশাবের বেগ কমে না। স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীরা আরও বলেন যে, যারা নিয়মিতভাবে দাঁড়িয়ে পেশাব করেন, তাদের অবশ্যই শেষ জীবনে ডায়াবেটিস, জন্ডিস, কিডনী রোগ হবেই। স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীরা আরো বলেন যে, দাঁড়িয়ে পেশাব করলে পুরুষের যৌবন শক্তি কমতে থাকে এবং পুরুষাঙ্গ ক্ষুদ্র ও নরম তেনা তেনা হয়ে যায় এবং সহজে সোজা ও শক্ত হতে চায় না যদিও কোনো উত্তেজনায় সোজা ও শক্ত হয় তাও খুব অল্প সময়ের জন্য এবং কিছু বের না হয়েই আবার ছোট ও নরম হয়ে যায়।
স্বাস্থ্য ও পরিবেশ বিজ্ঞানীরা বলেন যে, দাঁড়িয়ে পেশাব করলে পরিবেশ দূষিত হয়। যেমন- বায়ু দূষিত হয় এবং সেই বায়ু আমাদের শ্বাস কাজে আমাদের দেহে প্রবেশ করে দেহে নানা জটিল জটিল রোগ সৃষ্টি করে এবং পেশাব ছিটকে এসে আমাদের দেহে লাগে, কাপড়ে লাগে, এতে আমাদের দেহ ও কাপড় অপবিত্র ও দুর্গন্ধময় হয়ে ব্যক্তিগত পরিবেশকেও নষ্ট ও দূষিত করে দেয়। তাই স্বাস্থ্য ও পরিবেশ বিজ্ঞানীরা বলেন যে, মানুষের উপরোক্ত দৈহিক সমস্যার মধ্য হতে রক্ষা পাওয়ার জন্য বসে পেশাবের বিকল্প কোনো পথ নেই। অর্থাৎ উপরোক্ত রোগবালাই হতে রক্ষা পেতে চাইলে অবশ্যই আমাদের সকলকে বসে পেশাব করতে হবে।
অথচ মহানবী মুহাম্মদ (সা) উপরোক্ত বিজ্ঞানীদের বহু পূর্বেই এই পৃথিবীর মানুষদেরকে দাঁড়িয়ে পেশাব করতে নিষেধ করেছেন এবং বসে পেশাব করতে হুকুম দিয়ে গেছেন। যেমন- নিম্নে তাঁর দু'টি হাদীস উপস্থাপন করা হলো:
أَخْبَرَنَا شَرِيكَ عَنِ الْمِقْدَامِ بْنِ شُرَيْحٍ عَنْ أَبِيْهِ عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ مَنْ حَدَّثَكُمْ أَنَّ النَّبِيَّ الله كَانَ يَبُولُ قَائِمًا . فَلَا تُصَدِّقُوْهُ مَا كَانَ يَبُولُ إِلَّا قَاعِدًا .
অর্থ: আয়েশা সিদ্দীকা (রা) বলেন যে, কোনো ব্যক্তি যদি তোমাদেরকে হাদীস শোনায়ে বলেন যে, নিশ্চয় মহানবী (সা) দাঁড়িয়ে পেশাব করতেন। তখন তোমরা তাকে কোনোভাবেই সত্য মনে করো না। কারণ মহানবী (সা) কখনও বসা ব্যতীত দাঁড়িয়ে পেশাব করতেন না। (তিরমিযী হা/১২, ১ম খণ্ড ৪ পৃষ্ঠা আবওয়াবুত তাহারাত।)
عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ رَآنِي النَّبِيُّ أَبُولُ قَائِمًا ، فَقَالَ يَا عُمَرُ لا تَبُلْ قَائِمًا - فَمَا بُلْتُ قَائِمًا بَعْدُ
অর্থ: ওমর (রা) বলেন যে, মহানবী (সা) আমাকে কোনো এক সময় দাঁড়িয়ে পেশাব করতে দেখলেন। তখন মহানবী (সা) আমাকে বললেন, হে ওমর! তুমি কখনও দাঁড়িয়ে পেশাব করো না! এরপর ওমর (রা) বলেন যে, তারপর আমি আর কখনও দাঁড়িয়ে পেশাব করিনি। (তিরমীযি হা/১২, ১ম খণ্ড ৪ পৃষ্ঠা, আবুওয়াবুত তাহারাত।)
📄 দাঁড়িয়ে পান করা
স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীরা বলেন যে, যখন কোনো মানুষ দাঁড়িয়ে থাকেন। তখন তার দেহ বসে থাকার চেয়ে কিছুটা অস্বাভাবিক থাকে। এছাড়াও তখন খাদ্যথলী বাতাসে পরিপূর্ণ থাকে, তাই তখন কোনো পানীয় কিছু পান করলে পেটের উক্ত বাতাস খাদ্য নালী দিয়ে সাথে সাথে বের হয়ে আসতে পারে না, ফলে উক্ত বাতাস খাদ্য থলীর ভিতরেই বলের মতো চারদিকে চাপ প্রয়োগ করে এবং সেই চাপ গিয়ে হৃদযন্ত্রে ও ফুসফুসে পতিত হয়। তখন দেহে রক্তচাপ বেড়ে যায় এবং এর ফলে হৃদযন্ত্রের কম্পন বেড়ে যায়। ফলে দেহে তখন অস্বস্তি ও অস্থিরতা বিরাজ করে। তাই স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীরা বলেন যে, যখন কোনো মানুষ কোনো পানীয় দ্রব্য বসে পান করে তখন তার দেহ স্বাভাবিক অবস্থায় থাকে এবং খাদ্য থলী প্রসারিত ও স্বাভাবিক থাকে, যার ফলে তখন কোনো পানীয় দ্রব্য পান করলে, ইহা দেহের ভেতর প্রবেশ করার সাথে সাথে উক্ত খাদ্যথলীর বাতাস সহজেই খাদ্যনালী দিয়ে বের হয়ে আসে। তাই স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীরা বলেন যে, কোনো পানীয় দ্রব্য বসে পান করলে উপরে আলোচ্য কোনো সমস্যাই দেহে সৃষ্টি হবে না। তাই স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীরা প্রত্যেক মানুষকে পরামর্শ দেন যে, কেউই যেন কোনো পানীয় দ্রব্য কখনও দাঁড়িয়ে পান না করে। এছাড়াও তারা আরও বলেন যে, দাঁড়িয়ে কোনো পানীয় দ্রব্য পান করলে মতিভ্রম ঘটে।
অথচ মহানবী মুহাম্মদ (সা) উপরোক্ত স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীদের বহু পূর্বেই কোনো পানীয় দ্রব্য দাঁড়িয়ে পান করতে নিষেধ করে গেছেন এবং তিনি বলেছেন যে, ওযু করার পর তার অবশিষ্ট পানি ও যমযম কূপের পানি ব্যতীত আর যত পানীয় দ্রব্য আছে তা যদি কখনও কেউ দাঁড়িয়ে পান করে সে হচ্ছে শয়তানের বন্ধু। এতে প্রমাণ করে যে, দাঁড়িয়ে কোনো পানীয় দ্রব্য পান করা সম্পর্কে মহানবী (সা) কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন।
এতে আরো প্রমাণিত হয় যে, দাঁড়িয়ে কোনো পানীয় দ্রব্য পান করলে দেহের জন্য খুব ক্ষতিকর একথা মহানবী (সা) জানতেন। তাই তিনি তাঁর সকল উম্মতগণকে দাঁড়িয়ে কোনো পানীয় দ্রব্য পান করতে নিষেধ করে গেছেন। যেমন- এ সম্পর্কে মহানবী (সা)-এর একটি হাদীস:
عَنِ الْجَارُودِ بْنِ الْعَلَاءِ أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ نَهَى عَنِ الشُّرْبِ قَائِمًا.
অর্থ: জারুদ বিন আলা (রা) হাদীস বর্ণনা করে বলেন যে, নিশ্চয় মহানবী (সা) তাঁর উম্মতগণকে দাঁড়িয়ে কোনো পানীয় দ্রব্য পান করতে নিষেধ করে গেছেন। (তিরমিযী হা/১৮৮০ ২য় খণ্ড-১০ম পৃষ্ঠা, আবুওয়াবুল আশরাবা।)
📄 দীর্ঘজীবন
আজ হতে প্রায় দেড় হাজার বছর পূর্বে মহানবী মুহাম্মদ (সা) পবিত্র কুরআনের আলোকে বলে গেছেন যে, নূহ (আ) এই পৃথিবীতে ১৪০০ বছর জীবিত ছিলেন এবং তার উক্ত দীর্ঘ জীবনের মধ্যে তিনি এই পৃথিবীর মানুষকে ۹৫০ বৎসর দীনের দাওয়াত দিয়েছিলেন, যেমন- এ সম্পর্কে পবিত্র কুরআনের আয়াত:
وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا نُوْحًا إِلَى قَوْمِهِ فَلَبِثَ فِيهِمْ أَلْفَ سَنَةٍ إِلَّا خَمْسِينَ عَامًا.
অর্থ: এবং নিশ্চয় আমি নূহকে তাঁর জাতির নিকট পাঠালাম, অতঃপর সে তাদের মধ্যে নয় শত পঞ্চাশ বছর অবস্থান করেছিলেন। (সূরা আনকাবুত: আয়াত-১৪)
বিজ্ঞানীরা নূহ (আ)-এর দীর্ঘদিন এই পৃথিবীতে বেঁচে থাকার তথ্য জেনে, তাদের মনে নানা গবেষণার উদ্রেক হয় এবং বিজ্ঞানীরা বলেন যে, কিভাবে এই পৃথিবীতে নূহ (আ) এত দীর্ঘদিন বেঁচে ছিলেন এবং এর উপর বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে অবশেষে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, মানব দেহের ক্রমোজোমগুলোকে কোনোমতে ঠেকিয়ে দিতে পারলেই, নিশ্চিন্তে অনেকদিন এ ধরায় বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখা যাবে।
টেলোমরিস ধরে রাখবে যৌবন, তাই সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মানুষের গড় আয়ু। আর তা সম্ভব হচ্ছে রোগের বিরুদ্ধে বিজ্ঞানীদের মরণপণ যুদ্ধের কারণে। রোগ যতই শক্ত হোক এর তাণ্ডব বেশিদিন স্থায়ী হচ্ছে না পৃথিবীতে। ফলে বেশিদিন বেঁচে থাকার গ্যারান্টি পাচ্ছে মানুষ। তবে জরা বার্ধক্যকে একেবারে কব্জা করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে এতে বিজ্ঞানীদের গবেষণা চলছে অনবরত। বিজ্ঞানীদের মধ্য হতে কেউ কেউ বলেছেন, মানুষের বুড়িয়ে যাওয়ার মূল কারণ কতগুলো জিনে। যা মানুষের জরা-বার্ধক্যের জন্য দায়ী। কাজেই সে জিনগুলোকে চিহ্নিত করে চিকিৎসা করতে পারলেই থামিয়ে দেয়া যাবে বার্ধক্য। আবার বিজ্ঞানীদের মধ্য হতে কেউ কেউ বলেছেন, আমরা যতটা খাই তার পরিমাণ কমালে দেহে শক্তি কমে যাবে। শরীরের কোষগুলো কম ব্যয় হবে। তবে বেশ কবছর বেশি বাঁচা যাবে। বিজ্ঞানীরা বলেছেন, একজন পূর্ণ বয়স্ক মানুষ প্রতিদিন ৩০০০ ক্যালরি খায়। এ সংখ্যাকে কমিয়ে ১৮০০ ক্যালরিতে নিয়ে এলে মানুষ অনায়াসে আরও বিশ ত্রিশ বছর বেশি বাঁচতে পারবে।
বিজ্ঞানীরা বলেন যে, মানুষের বার্ধক্যে পড়ার আরেকটি কারণ আমাদের দেহ কোষগুলোর বাড়ার ক্ষমতা কমে যাওয়া। একটি নির্দিষ্ট সময়ে এগুলো ঝিমিয়ে পড়ে। কোষগুলোর বৃদ্ধি কমে যায়। কিন্তু এ কোষগুলোর বৃদ্ধি ধরে রাখতে পারলেই মানুষের অসাধ্য সাধন হবে। জরা-বার্ধক্য চলে আসবে হাতের মুঠোয়। কিন্তু কিভাবে কোষগুলোর বৃদ্ধি রাখা যায়? এ নিয়ে বিজ্ঞানীরা নিরন্তর গবেষণা করে জেনেছেন যে, মানুষের দেহে একমাত্র ক্যান্সারে আক্রান্ত কোষ বাড়তে থাকে। এর কারণ একটি জিন টেলোমারিস নামে একটা এনজাইম তৈরি করে। স্বাভাবিক অবস্থায় যা থাকে নিষ্ক্রিয়। ক্যান্সারে আক্রান্ত হলে কোষগুলোর মধ্যে তখন সক্রিয় হয়ে ওঠে এ জিন। যথেষ্ট মাত্রায় উৎপন্ন হয় টেলোমারিস। ফলে তরতর করে বাড়তে থাকে ক্যান্সারে আক্রান্ত কোষগুলো।
এখন এ জিনগুলোকে চিহ্নিত করে কোনোও কায়দায় এদের উস্কে দিতে পারলে আর ঠেকায় কে? দেদারসে তৈরি হবে টেলোমারিস এনজাইম। কোষগুলো বাড়তে থাকবে। থামবে না কোনোও দিন। কাছে ঘেঁষতে পারবে না জরা-বার্ধক্য। মানুষ লাভ করবে অনন্ত যৌবন। বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, ২০১৫ সালের মধ্যে আবিষ্কৃত হবে এমন একটি ওষুধ যা টেলোমারিস এনজাইমের প্রচুর পরিমাণ নিঃসরণ করবে এবং অব্যাহত রাখবে।
নেনোটেকনোলজি নামে এক ধরনের প্রযুক্তির কথা এখন বেশ জোরে শোরে শোনা যাচ্ছে। এর বদৌলতে আগামী শতকে হয়ত পুঁচকে কোনোও যন্ত্র তৈরি সম্ভব হবে। যা শরীরে প্রবেশ মাত্র সব রোগের কোষ ভাঙ্গার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করবে। তখন মানুষ কব্জা করতে পারবে দীর্ঘ জীবনের অমরতাকে। (দৈনিক ইত্তেফাক ৩-৪-১৯৯৮ ইং)
এছাড়াও বিজ্ঞানীরা আরও দাবি করেছেন, তারা এমন তিনটি বিষয় আবিষ্কার করেছেন যাতে একজন মানুষ কতদিন বাঁচবে তার ভবিষ্যদ্বাণী করা যাবে। ইন্টারনেট বিজ্ঞানীদের এ সংক্রান্ত একটি গবেষণা বিজ্ঞান জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। তারা বলেছেন, এক ব্যক্তির আয়ুষ্কাল তার দেহের তাপমাত্রা এবং রক্তে প্রবাহিত দুটি রাসায়নিক মাত্রার উপর নির্ভর করে। যুক্তরাষ্ট্রের কান্টিমোর শহরে এক গবেষণা চালিয়ে এ তথ্য পাওয়া গেছে। (যুগান্তর ৩-৮-২০০২ ইং)
অতএব, প্রতীয়মান হয় যে, বর্তমান চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের বহু পূর্বেই মহানবী (সা) পবিত্র কুরআনের আলোকে বলে গেছেন যে, 'নূহ' (আ) এই পৃথিবীতে ৯৫০ বছর এই পৃথিবীর মানুষদেরকে শুধু সৎপথে ডেকে ছিলেন। এর উপর ভিত্তি করেই বর্তমান যুগের বিজ্ঞানীরা মানুষকে দীর্ঘদিন বাঁচায়ে রাখার জন্য নানা গবেষণা ও নানা ঔষধ আবিষ্কারের গবেষণা ও উৎস পেয়েছে ইত্যাদি।