📄 ডান দিক
জ্যোতিবিদগণ বলেন যে, পৃথিবীর আহ্নিক গতি ও বার্ষিক গতির ঝোঁক ডান দিকে। অর্থাৎ পৃথিবী তার আপন অক্ষের চারদিকে পশ্চিম হতে পূর্ব দিকে বা ডান দিকে ঘুরছে। তাই পৃথিবীর প্রতিটি প্রাণীর পক্ষে তাদের প্রতিটি কাজ কর্ম ডান দিক হতে করা বাম দিক অপেক্ষা সহজ। এর প্রধান কারণ হচ্ছে কোনো কাজ ডান দিক হতে শুরু করলে তা পৃথিবীর গতির অনুকূলে থাকে, তাই প্রতিটি কাজ ডান দিক হতে শুরু করলে এত সহজ হয়। অপর দিকে কোনো কাজ বাম দিক হতে শুরু করলে তখন তা পৃথিবীর গতিবেগের প্রতিকূলে থাকে, তাই কোনো কাজ বাম দিক হতে শুরু করলে ডান দিক অপেক্ষা একটু কষ্টকর হয়। অর্থাৎ কোনো কাজ ডান দিক হতে শুরু করলে পৃথিবীর গতিবেগ তাকে সাহায্য করে এবং কোনো কাজ বাম দিক হতে শুরু করলে পৃথিবীর গতিবেগ তাকে বাঁধা প্রদান করে। তাই কোনো কাজ করা বাম দিক অপেক্ষা ডান দিকে অতি সহজ। তাই বিজ্ঞানীরা পৃথিবীর প্রতিটি মানুষকে তাদের প্রতিটি কাজকর্ম ডান দিক হতে শুরু করার জন্য নির্দেশ প্রদান করেন।
অথচ মহানবী মুহাম্মদ (সা) উক্ত বিজ্ঞানীদের প্রায় দেড় হাজার বছর পূর্বে এই পৃথিবীর প্রতিটি মানুষকে তাদের প্রতিটি কাজকর্ম তাদের ডান দিক হতে শুরু করার জন্য নির্দেশ দিয়ে বহু হাদীস বলে গেছেন, এবং তিনিও তাঁর জীবনের প্রতিটি কাজ কর্ম ডান দিক হতেই শুরু করেছেন, কারণ তিনি বর্তমান বিজ্ঞানীদের ডান দিক সম্পর্কে আবিষ্কারের রহস্য জানতেন। নিম্নে ডান দিক সম্পর্কে মহানবী (সা)-এর একটি হাদীস প্রদান করা হলো :
حَدَّثَنَا الْعَلَاءُ الْمُسَيِّبِ قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ إِذَا أَوَى إِلَى فِرَاشِهِ نَامٌ عَلَى شِقِهِ الْأَيْمَنِ (جامع البخاري جلد الثاني صفه كتاب الدعوات)
অর্থ : বারা বিন আজিব (রা) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, মহানবী (সা)-এর স্বভাব ছিল যে, যখন তিনি তাঁর স্বীয় বিছানায় আসতেন, তখন তিনি ডান কাতে শুয়ে পড়তেন। (বুখারী হা/৬৩১৫, ২য় খণ্ড ৯৩৪ পৃষ্ঠা, কিতাবুদ দাওয়াত।)
লক্ষ্য করা গেছে যে, রাতে শোয়ার সময়, ডান কাতে ঘুমালে, বাম কাত অপেক্ষা একটু আরামদায়ক হয়, এর মূল কারণ হচ্ছে ডান কাতে ঘুমালে দেহ পৃথিবীর গতিবেগের অনুকূলে থাকে। তাই শরীর এত আরামদায়ক হয় এবং বাম কাতে ঘুমালে দেহ পৃথিবীর গতিবেগের প্রতিকূলে থাকে। তাই বাম কাতে ঘুমালে পৃথিবীর গতিবেগ তাকে বাঁধা প্রদান করে, তাই কিছুটা হলেও তা দেহের জন্য অস্বস্তিকর হয়।
এছাড়াও আরো লক্ষ্য করা গেছে যে, রাসূল (সা) ডান দিকে কাত হয়ে কেবলামুখী শয়ন করতেন। উসওয়ায়ে রাসূল (সা) বাম দিকে হৃদপিণ্ড থাকে, কাজেই বাম দিকে কাত হয়ে ঘুমালে পাকস্থলী এবং হৃদপিণ্ডের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়। ফলে রক্ত চলাচল এবং হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘুম সম্পর্কে বোম্বে হাসপাতালের (বোম্বাই অডিটরিয়াম) ডাক্তার কৃষ্ণ লাল মার্মা গবেষণা করেছেন। তিনি লিখেছেন, যেসব রোগীকে ডান দিকে কাত করে শয়ন করানো হয়েছে তারা দ্রুত আরোগ্য লাভ করেছে। পক্ষান্তরে যেসব রোগীকে বাম কাতে শয়ন করানো হয়েছে তারা অস্থিরতার সম্মুখীন হয়েছে।
আধুনিক গবেষণায়ও প্রমাণিত হয়েছে, ডান দিকে ফিরে শয়ন করা হলে হৃদরোগ প্রসঙ্গে লিখেছেন, বাম দিকে যেহেতু হৃদপিণ্ড থাকে, এ কারণে বাম দিকে কাত হয়ে ঘুমালে ঘুম অত্যন্ত গভীর হয়। মানুষ সহজে ঘুম হতে জাগ্রত হতে পারে না। পক্ষান্তরে ডান দিকে কাত হয়ে ঘুমালে ঘুম অতোটা গভীর হয় না। খুব সহজে মানুষ ঘুম হতে জাগ্রত হতে পারে। ফজরের নামাযের সময়ে ঘুম ভেঙ্গে যায়। রাসূল (সা) সফরকালীন সময়ে ডান দিকে কাত হয়ে ডান হাত খাড়া করে বাহুর ওপর মাথা রেখে ঘুমাতেন। এতে ঘুম গভীর হতো না, ফজরের নামায কাযা হতো না। এভাবেই রাসূল (সা) জীবনযাপন করেছেন।
প্রকাশ থাকে যে, পৃথিবী যে, তার আপন অক্ষের চার দিকে ডান দিক হতে বাম দিকে চলতেছে বা ঘুরতেছে। তার দিব্যদর্শন এই যে, আমরা প্রত্যেকেই পৃথিবীর যে অংশে বাস করছি সেই অংশ হতে আমরা প্রত্যেকেই প্রতিদিন সূর্যকে পূর্ব দিকে উদিত হতে দেখি। এরপর আমাদের অংশ সূর্যের দিকে বা ডান দিক হতে বামে সূর্যের দিকে যাচ্ছে বলে আমরা প্রত্যেকেই সকাল ১০টা, দুপুর ১২টা, বিকাল ৩টা ও সন্ধা ৬টা ইত্যাদি দেখি। এতে প্রমাণ করে যে, পৃথিবী তার আপন অক্ষের চারদিকে পশ্চিম হতে পূর্ব দিকে বা ডান হতে বামে চলছে বা ঘুরছে, এবং পৃথিবীর আপন অক্ষের চারদিকের গতিবেগ যখন সূর্যের দিকে থাকে তখন, আমরা সূর্যকে উদিত হতে দেখি, আর যখন অতিক্রম করতে দেখি তখন আমরা সূর্যকে অস্ত যেতে দেখি।
পৃথিবী তার আপন অক্ষের চারদিকে পশ্চিম হতে পূর্ব দিকে বা ডান দিক হতে বাম দিকে ঘুরছে। তার আরো একটি বাস্তব প্রমাণ এই যে, সন্ধ্যার দিকে যখন পশ্চিম আকাশে নবচাঁদ উদিত হয়, তখন আমরা কিছুক্ষণ পর আমাদের পৃথিবীর অবস্থান হতে উক্ত নবচাঁদকে আর দেখি না, এর রহস্য এই যে, তখন চাঁদকে রেখে আমাদের পৃথিবীর বসবাসের অংশ পূর্বদিকে চলে আসে, তাই সন্ধার পর উক্ত চাঁদ আমাদের কাছে হারিয়ে যায়।
পৃথিবী যে তার আপন অক্ষের চারদিকে পশ্চিম হতে পূর্বদিকে অর্থাৎ ডান দিক হতে বামে ঘুরছে বা চলতেছে তার আরো একটি বাস্তব প্রমাণ এই যে, আমাদের প্রত্যেকের প্রতিটি কাজকর্মই বাম হাত অপেক্ষা ডান হাত দিয়ে করা সহজ। এর মূল কারণ হচ্ছে এই যে, আমাদের প্রত্যেকের ডান হাতের কাজকর্ম পৃথিবীর গতিবেগের অনুকূলে, তাই আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সা) তাঁর উম্মতের প্রতিটি মানুষকে তাদের সকল কাজকর্ম ডান দিক হতে করার জন্য আদেশ দিয়ে গেছেন।
পৃথিবী তার আপন অক্ষের চারদিকে ডান দিক হতে বামে চলছে তার আরো একটি বাস্তব প্রমাণ এই যে, আমরা প্রত্যেকেই লক্ষ্য করে দেখেছি যে, বিদ্যুত্যের পাখা বাম দিক হতে ডান দিকে ঘুরছে, অর্থাৎ বিদ্যুতের পাখাটি পৃথিবীর গতিবেগের বিপরীত দিকে ঘুরছে, তাই আমরা এর দ্বারা বাতাস পাই, তাই এর দ্বারা বিদ্যুতও খরচ হচ্ছে, যদি এই বিদ্যুতের পাখাটিকে ডান দিক হতে বাম দিকে বা পৃথিবীর গতিবেগের অনুকূলে ঘুরানো বা চালানো হয় তা হলে অবশ্যই দেখা যাবে যে, এর দ্বারা বাতাস কম হয়েছে এবং বিদ্যুৎ খচরও কম হয়েছে। এতেও প্রমাণ করে যে, পৃথিবী ডান দিক হতে বামে চলছে বা ঘুরছে।
📄 ত্বক
ব্রিটেনের (Health Education Authority) স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ নগ্ন-সূর্যস্নান বন্ধের দাবিতে অভিযানে নেমেছে। তারা প্রচার করেছে যে, ত্বকের ক্যান্সার হতে মুক্ত থাকতে হলে নগ্ন-সূর্যস্নান বন্ধ করতে হবে। অভিযানের অংশ হিসেবে কর্তৃপক্ষ সতর্কতার সাথে স্লোগান দিয়েছে যে, বেশিক্ষণ সূর্যের আলোতে থাকলে ত্বকে ক্যান্সার এমন কি মৃত্যুও হতে পারে।
অধ্যাপক জন হাওক লন্ডনের সেন্ট থমাস হাসপাতালের একজন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ। তিনি বলেন, নগ্ন-সূর্যস্নান নিষিদ্ধ হোক। কারণ ব্রিটেনে প্রতিদিন ত্রিশ লাখ লোক নগ্ন দেহে সূর্যস্নান করে। স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য মতে সিংহভাগই হচ্ছে যুবক-যুবতী। ষোল হতে চল্লিশের মধ্যে তাদের বয়স। এই ত্রিশ লাখের পনেরো শতাংশ জীবনে একবার হলেও শরীরের ওই উত্তেজক স্পর্শ অংশ (Sexy Tan) সূর্য রশ্মিতে মেলে ধরে। ফলে শরীরের ওই স্পর্শকাতর কোমল ত্বকের ভেতর এবং বাহির জ্বলে পুড়ে যায়।
প্রফেসর হাওক বলেন, বিশ বছর আগে প্রথম যখন নগ্ন-সূর্যস্নান প্রচলিত হয়, তখন কেউ কেউ মনে করত সূর্যের অতি-বেগুনী রশ্মিতে থাকা 'এ' এবং 'বি' রশ্মি ত্বকের কোনো ক্ষতি করে না। কিন্তু এ ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। স্বাস্থ্য শিক্ষা কর্তৃপক্ষের মতে, অতি-বেগুনী রশ্মি মানেই তকের ও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।
এই রশ্মি বেশিক্ষণ ত্বকে লাগালে জ্বলে-পুড়ে ছারখার হয় ত্বকের ভেতর এবং বাহির। সূর্য রশ্মির মেলানিন অনেক ক্ষেত্রে বিষে পরিণত হয়।
ব্রিটিশ ডাক্তারদের মতে, সূর্যস্নানে আরও যেসব ক্ষতি হয় তার মধ্যে চামড়া শুকিয়ে যাওয়া, কুঁচকে যাওয়া, চুলকানি হওয়া। আর এসব কারণেই বেশি সূর্যস্নান করলে গায়ে গুটিগুটি ফুসকুড়ি পড়ে। যাকে আমরা খোঁচা লাগা গুটি বলে জানি। (জনকণ্ঠ ১৮-২-২০০০ ইং)
অথচ মহানবী মুহাম্মদ (সা) উক্ত বিজ্ঞানীদের বহু পূর্বে নগ্ন সূর্যস্নান নিষিদ্ধ ঘোষণা করে হাদীসে বলে গেছেন। যেমন:
عَنْ عُمَرَ بْنُ الْخَطَابِ اللهِ قَالَ لَا تَغْتَسِلُوا بِالْمَاءِ الْمُشَمَّسِ فَإِنَّهُ يُورَثُ الْبَرَصَ
অর্থ: ওমর বিন খাত্তাব (রা) হতে বর্ণিত, মহানবী (সা) বলেছেন, তোমরা কখনও নগ্ন সূর্য রশ্মির পানি দ্বারা গোসল বা স্নান করো না। কেননা তা শ্বেত কুষ্ঠ বা ত্বক কুষ্ঠ রোগের পূর্বশ্বরী। (দারেকুতনী হা/৯১, মেশকাত ১ম খণ্ড আহকামুল মিয়াহ অধ্যায় হাদীসটি যয়ীফ)
📄 দাড়ি
চক্ষু বিশেষজ্ঞ বিজ্ঞানীরা বলেন যে, ঘনঘন দাড়ি কামালে চোখের দৃষ্টি শক্তির এক অপূরণীয় ক্ষতি সাধিত হয়। তাই চক্ষু বিজ্ঞানীরা ঘন ঘন দাড়ি কামানোর পক্ষপাতি নয়। স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীরা বলেন যে, দাড়ি হচ্ছে দেহের সৌন্দর্য প্রকাশের এক প্রতীক চিহ্ন এবং এর দ্বারা মানুষের ধৈর্য ও দূরদর্শিতা বৃদ্ধি পায়। রণকৌশল বিজ্ঞানীরা বলেন যে, দাড়ি হচ্ছে একজন মানুষের সাহসিকতা, বাহাদুরী ও দূরদর্শিতা সৃষ্টির একটি মাধ্যম মাত্র। এবং রণ বিজ্ঞানীরা লক্ষ্য করে দেখেছেন যে, একজন দাড়ি বিশিষ্ট যুবকের মধ্যে যে পরিমাণ সাহসিকতা ও দূরদর্শিতা দেখা যায়, সেই পরিমাণ সাহসকিতা ও দূরদর্শিতা দেখা যায় না একজন দাঁড়ি ব্যতীত যুবকের মধ্যে। সমাজ বিজ্ঞানীরা বলেন যে, দাড়ি হচ্ছে একজন সাবালক মানুষের প্রতীক চিহ্ন। অর্থাৎ যখন একজন মানুষের দাড়ি গজায় তখনি বুঝতে হবে যে, সে এখন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ।
এছাড়াও বিজ্ঞানীরা লক্ষ্য করে দেখেছেন যে, দাঁড়ি আল্লাহ পাকের প্রতি মানুষকে দৃঢ় বিশ্বাসে ঈমানের প্রতি ধাবিত করে। এবং ঈমান হচ্ছে আল্লাহ পাকের প্রতি এক প্রকার শক্তি আর আল্লাহ পাক নিজেই হচ্ছেন এক বিশাল শক্তিধর মহান সত্তা। এবং দাড়িবিশিষ্ট ঈমানী শক্তি যে মানুষের আছে অবশ্যই তাকে দেখে ভীতি প্রকাশ করেন ঐ লোক, যে মানুষের মুখে দাঁড়ি নেই। তা লক্ষ্য করলে, অবশ্যই অবলোকিত হয়।
অথচ মহানবী মুহাম্মদ (সা) উক্ত বিজ্ঞানীদের বহুপূর্বেই তিনি নিজে দাড়ি রেখে, তা তিনি তাঁর নিজের আদর্শের প্রতীক ঘোষণা করে, তা তিনি তাঁর সকল উম্মতগণকে উক্ত দাড়ি রেখে পালন করার জন্য হাদীস বলে গেছেন। যেমন:
حَدَّثَنَا يَحْيى هُوَ ابْنُ سَعِيدٍ عَنْ عُبَيْدِ اللهِ أَخْبَرَنِي نَافِعٌ عَنْ ابْنِ عُمَرَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ أَحْفُوا الشَّارِبَ وَاعْفُوا اللِّحَى.
অর্থ: ওমর (রা) হতে বর্ণিত যে, মহানবী (সা) বলেছেন, তোমরা গোঁফকে খাট করে রাখ এবং দাঁড়িকে লম্বা করে রাখ। (নাসায়ী হা/৯২৯১ ১ম খণ্ড ৭ম পৃষ্ঠা, কিতাবুত তাহারাত।)
📄 দাঁড়িয়ে পেশাব
চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা বলেন যে, দাঁড়িয়ে পেশাব করলে পেটের উপর কোনো চাপ পড়ে না। তাই দাঁড়িয়ে পেশাব করলে পেটের দূষিত বায়ু পায়খানার রাস্তা দিয়ে বের হতে না পারায় তখন তা ঊর্ধ্ব দিকে ধাবিত হয়। তখন দেহে অস্থিরতা বাড়তে থাকে, রক্ত চাপ বাড়ে, এর ফলে হৃদযন্ত্রে চাপ পড়ে, তাতে হৃদযন্ত্রের স্পন্দন উঠানামা করতে থাকে এবং খাদ্যনালী দিয়ে বার বার হিক্কা আসতে থাকে। আর যদি মানুষ বসে পেশাব করে তাতে পেশাব করার সাথে সাথে পেটে দূষিত গ্যাস থাকলে ইহা পেশাবের সাথে সাথে পায়খানার রাস্তা দিয়েও বের হয়ে যায়। ফলে দেহে উপরোক্ত সমস্যাগুলোর সৃষ্টি হতে পারে না। এবং সহজে বড় কোনো রোগও হয় না। এছাড়াও স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীরা আরো বলেন যে, দাঁড়িয়ে পেশাব করার সময় পেশাবের থলী সরু লম্বা ঝুলন্ত অবস্থায় থাকে, এতে পেশাবের মধ্যকার দূষিত পদার্থগুলো পেশাবের থলীর নিম্নগামী থাকে ফলে পেশাব করার সময় পেশাব বেরিয়ে যায় কিন্তু এর দূষিত পদার্থগুলো উক্ত থলীর তলদেশে গিয়ে জমা হতে থাকে। কিন্তু যখন কোনো মানুষ বসে পেশাব করে তখন পেটের চাপে পেশাবের থলীটি সম্প্রসারিত হয় যার ফলে সম্পূর্ণ পেশাব সহজেই উক্ত থলী হতে বের হয়ে আসে। এতে কখনও পেশাবের থলীতে কোনো জটিল রোগের সৃষ্টি হয় না। এছাড়াও অনেক চিকিৎসকরা বলেন যে, দাঁড়িয়ে পেশাব করলে কিডনীতে অতি সহজে পাথরের সৃষ্টি হয়।
এছাড়াও স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীরা আরও বলেন যে, দীর্ঘদিন দাঁড়িয়ে পেশাব করলে পেশাবের বেগ কমতে থাকে, অথচ যদি একজন মানুষ সারাজীবন বসে পেশাব করে তবুও তার পেশাবের বেগ কমে না। স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীরা আরও বলেন যে, যারা নিয়মিতভাবে দাঁড়িয়ে পেশাব করেন, তাদের অবশ্যই শেষ জীবনে ডায়াবেটিস, জন্ডিস, কিডনী রোগ হবেই। স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীরা আরো বলেন যে, দাঁড়িয়ে পেশাব করলে পুরুষের যৌবন শক্তি কমতে থাকে এবং পুরুষাঙ্গ ক্ষুদ্র ও নরম তেনা তেনা হয়ে যায় এবং সহজে সোজা ও শক্ত হতে চায় না যদিও কোনো উত্তেজনায় সোজা ও শক্ত হয় তাও খুব অল্প সময়ের জন্য এবং কিছু বের না হয়েই আবার ছোট ও নরম হয়ে যায়।
স্বাস্থ্য ও পরিবেশ বিজ্ঞানীরা বলেন যে, দাঁড়িয়ে পেশাব করলে পরিবেশ দূষিত হয়। যেমন- বায়ু দূষিত হয় এবং সেই বায়ু আমাদের শ্বাস কাজে আমাদের দেহে প্রবেশ করে দেহে নানা জটিল জটিল রোগ সৃষ্টি করে এবং পেশাব ছিটকে এসে আমাদের দেহে লাগে, কাপড়ে লাগে, এতে আমাদের দেহ ও কাপড় অপবিত্র ও দুর্গন্ধময় হয়ে ব্যক্তিগত পরিবেশকেও নষ্ট ও দূষিত করে দেয়। তাই স্বাস্থ্য ও পরিবেশ বিজ্ঞানীরা বলেন যে, মানুষের উপরোক্ত দৈহিক সমস্যার মধ্য হতে রক্ষা পাওয়ার জন্য বসে পেশাবের বিকল্প কোনো পথ নেই। অর্থাৎ উপরোক্ত রোগবালাই হতে রক্ষা পেতে চাইলে অবশ্যই আমাদের সকলকে বসে পেশাব করতে হবে।
অথচ মহানবী মুহাম্মদ (সা) উপরোক্ত বিজ্ঞানীদের বহু পূর্বেই এই পৃথিবীর মানুষদেরকে দাঁড়িয়ে পেশাব করতে নিষেধ করেছেন এবং বসে পেশাব করতে হুকুম দিয়ে গেছেন। যেমন- নিম্নে তাঁর দু'টি হাদীস উপস্থাপন করা হলো:
أَخْبَرَنَا شَرِيكَ عَنِ الْمِقْدَامِ بْنِ شُرَيْحٍ عَنْ أَبِيْهِ عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ مَنْ حَدَّثَكُمْ أَنَّ النَّبِيَّ الله كَانَ يَبُولُ قَائِمًا . فَلَا تُصَدِّقُوْهُ مَا كَانَ يَبُولُ إِلَّا قَاعِدًا .
অর্থ: আয়েশা সিদ্দীকা (রা) বলেন যে, কোনো ব্যক্তি যদি তোমাদেরকে হাদীস শোনায়ে বলেন যে, নিশ্চয় মহানবী (সা) দাঁড়িয়ে পেশাব করতেন। তখন তোমরা তাকে কোনোভাবেই সত্য মনে করো না। কারণ মহানবী (সা) কখনও বসা ব্যতীত দাঁড়িয়ে পেশাব করতেন না। (তিরমিযী হা/১২, ১ম খণ্ড ৪ পৃষ্ঠা আবওয়াবুত তাহারাত।)
عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ رَآنِي النَّبِيُّ أَبُولُ قَائِمًا ، فَقَالَ يَا عُمَرُ لا تَبُلْ قَائِمًا - فَمَا بُلْتُ قَائِمًا بَعْدُ
অর্থ: ওমর (রা) বলেন যে, মহানবী (সা) আমাকে কোনো এক সময় দাঁড়িয়ে পেশাব করতে দেখলেন। তখন মহানবী (সা) আমাকে বললেন, হে ওমর! তুমি কখনও দাঁড়িয়ে পেশাব করো না! এরপর ওমর (রা) বলেন যে, তারপর আমি আর কখনও দাঁড়িয়ে পেশাব করিনি। (তিরমীযি হা/১২, ১ম খণ্ড ৪ পৃষ্ঠা, আবুওয়াবুত তাহারাত।)