📄 জ্বর
চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা বলেন যে, যখন তোমাদের কারও দেহে স্বাভাবিক তাপমাত্রার চেয়ে অধিক তাপমাত্রা বেড়ে যায় তখন তার একমাত্র প্রাথমিক চিকিৎসা হচ্ছে তার মাথায় বেশি বেশি করে ঠাণ্ডা পানি দেয়া এবং ন্যাকড়া কাপড় ঠাণ্ডা পানিতে ভিজায়ে তার সারা শরীর মুছে দেয়া। এছাড়া তখন তার জন্য এর বিকল্প আর কিছু নেই।
অথচ মহানবী মুহাম্মদ (সা) ও উক্ত চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের বহুপূর্বেই, মানব দেহে অস্বাভাবিক তাপমাত্রা বেড়ে গেলে, তখন মাথায় ঠাণ্ডা পানি দেয়ার নির্দেশ দিয়ে হাদীস বলে গেছেন। যেমন:
حَدَّثَنَا هِشَامٌ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ وَرَافِعُ بْنُ خَدِيجٍ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ الْحُتَّى مِنْ فَيْحِ جَهَنَّمَ فَأَبْرِدُوهَا بِالْمَاءِ - (جامع البخاري جلد اول صفه ترجمه بدء الخلق)
অর্থ: রাফি বিন খাদিজ (রা) হতে বর্ণিত যে, মহানবী (সা) বলেছেন, দেহের অস্বাভাবিক তাপমাত্রা হচ্ছে জাহান্নামের ভেঁপসা তাপের বিকল্প অতঃপর তোমরা তাকে পানি দিয়ে ঠাণ্ডা কর। (বুখারী হা/৩২৬৩, ১ম খণ্ড ৪৬২ পৃষ্ঠা, বাদইল খালক)
অতএব, প্রতীয়মান হয় যে, বর্তমান যুগের স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীরা যা বলছেন, তা মহানবী (সা) তাদের বহু পূর্বেই বলে গেছেন।
📄 জুতা
চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা বলেন যে, স্যান্ডেল জাতীয় জুতা ব্যতীত অন্য কোনো জুতা দাঁড়িয়ে পায়ে দিলে দেহের সমস্ত ভর তখন এক পায়ের উপর পড়ে তখন এতে দেহ সম্পূর্ণরূপে অস্বাভাবিক হয়ে যায়। যার দ্বারা দেহের হৃদযন্ত্রে চাপ পড়ে এবং হৃদযন্ত্রে এই চাপ পড়ার সাথে সাথে দেহের রক্তচাপ বেড়ে যায়, এতে সারা দেহে তখন অস্থিরতা বিরাজ করে এবং পরবর্তীকালে এ সকল অস্থিরতা হতে দেহে নানা জটিল রোগের সৃষ্টি হয়। তাই চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা বলেন যে, দেহের উক্ত অস্থিরতা হতে মুক্তি পাওয়ার একমাত্র পথ হচ্ছে স্যান্ডেল জাতীয় জুতা ব্যতীত সমস্ত জুতা দাঁড়িয়ে পায়ে না দিয়ে বরং বসে পায়ে দেয়া।
এছাড়াও লক্ষ করে দেখা গেছে যে, স্যান্ডেল জাতীয় জুতা ব্যতীত অন্যান্য জুতা দাঁড়িয়ে পায়ে দেয়া খুব কষ্টকর বরং বসে পায়ে দেয়াই সহজ ও নিরাপদ। তাই বিজ্ঞানীরা সবাইকে বলেন যে, কেউ যেন কখনও স্যান্ডেল জাতীয় জুতা ব্যতীত অন্যান্য জুতা দাঁড়িয়ে পায়ে না দেয়।
📄 টাখনু
পায়ের গোড়ালীর নিকট দু'পাশের গোলাকার হাড়কে টাখনু বলে। এবং এই টাখনু নিয়েই কাপড় পরিধান সম্পর্কে বর্তমান বিশ্বে দু'রকমের আলোচনা বিরাজমান। যেমন- ১. মুসলিম বিশ্ব, ২. অমুসলিম বিশ্ব।
লক্ষ্য করলে দৃষ্টিগোচর হয় যে, মুসলিম বিশ্বের ছেলেরা তাদের পরিধানের কাপড় টাখনুর উপর ঝুলিয়ে দিয়ে কাপড় পরিধান করে এবং মেয়েরা তাদের পরিধানের কাপড় টাখনুর নিচে পায়ের পাতা পর্যন্ত ঝুলিয়ে দিয়ে কাপড় পরিধান করে। কিন্তু লক্ষ্য করলে এটাও অবলোকিত হয় যে, বর্তমান মুসলিম বিশ্বের বেশ কিছু ছেলে-মেয়েরা অমুসলিম বিশ্বকে অনুসরণ করে তাদের কাপড় পরিধান করছেন, কারণ তাদের দৃষ্টিতে অমুসলিম বিশ্ব আরো উন্নত ও সভ্য। অমুসলিম বিশ্বের প্রতি লক্ষ্য করলে দেখা যায় যে, তাদের ছেলেরা পরিধানের কাপড় টাখনুর নিচে প্রায় পায়ের পাতা পর্যন্ত ঝুলিয়ে দিয়ে পরিধান করেন এবং মেয়েরা তাদের পরিধানের কাপড় টাখনু ও হাঁটুর উপরে রেখে পরিধান করেন এবং তা অমুসলিম পরিবেশে গেলে অবশ্যই দেখা যাবে।
উপরোক্ত দু'টি পরিবেশের প্রতি পরিবেশ বিজ্ঞানীরা লক্ষ্য করেন যে, কুরআন ও হাদীস যেসব কাজ-কর্মকে মারাত্মক অপরাধ হিসেবে শনাক্ত করেছেন, সেসব কাজকর্ম অমুসলিম বিশ্বে প্রচুর পরিমাণে দেখা যায়। এবং তার কিছু কিছু মুসলিম বিশ্বের ঐ মুসলমানদের মধ্যে দেখা যায়, যারা অমুসলিমদেরকে অনুসরণ করেন। এছাড়াও লক্ষ্য করলে দেখা যায় যে, কুরআন হাদীসের নির্বাচিত অপরাধগুলো তুলনামূলকভাবে অমুসলিম বিশ্বের চেয়ে মুসলিম বিশ্বে অনেক কম। এবং কুরআন হাদীসের নির্বাচিত অপরাধগুলো মানুষ বর্জন করলে মৃত্যুর আগে পরে, উভয় জগতে ভয়াবহ দুঃখ কষ্ট হতে রক্ষা পাবে।
তাই পরিবেশ বিজ্ঞানীরা বলেন যে, সমাজের মধ্যে যারা টাখনুর নিচে কাপড় ঝুলিয়ে দিয়ে পরিধান করেন এবং যে মহিলারা টাখনুর ও হাঁটুর উপরে কাপড় রেখে পরিধান করেন, তাদের দ্বারা সমাজে অহংকার, লজ্জাহীনতা, অসভ্য আচরণ ও জঘন্য কার্যকলাপ বৃদ্ধি পায়। ফলে মানব সমাজের পরিবেশ নোংরা হয়ে যায়।
এছাড়াও স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীরা বলেন যে, বিশেষ করে ছেলেরা তাদের কাপড় টাখনুর নিচে ঝুলিয়ে পরিধান করলে তাদের হাঁটার মধ্যে কিছুটা সমস্যার সৃষ্টি করে এবং তা গিয়ে তার হৃদযন্ত্রে ও মস্তিষ্কে আঘাত হানে এবং এটাই একদিন তিল তিল করে তার হৃদযন্ত্রে ও মস্তিষ্কে এক বিরাট রোগের সৃষ্টি করে ফেলে। কিন্তু স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীরা এটাও লক্ষ করেছেন যে, মেয়েরা টাখনুর নিচে কাপড় ঝুলিয়ে দিয়ে তাদের কাপড় পরিধান করলে তাদের মধ্যে নম্র ও মার্জিত স্বভাব প্রকাশ পায়, যা তার স্বাস্থ্যের জন্য খুব উপকারী। এবং পরিবেশ সুন্দর করণেও সাহায্য করে।
মহানবী মুহাম্মদ (সা) উক্ত পরিবেশ বিজ্ঞানীদের বহু পূর্বেই মানব সমাজের অহংকার, লজ্জাহীনতা, অসভ্য আচরণ ও জঘন্য কার্যকলাপ দূর করে দিয়ে মানুষের সমাজকে আল্লাহপাকের মনোনীত পরিবেশে রূপান্তর করার জন্য এবং তাদের দুনিয়া ও আখিরাতের ভয়াবহ দুঃখ কষ্ট হতে রক্ষা পাওয়ার জন্য মানুষের পরিবেশের ব্যাপারে ছেলেদেরকে টাখনুর উপরে এবং মেয়েদেরকে টাখনুর নিচে কাপড় ঝুলিয়ে দিয়ে তাদের কাপড় পরিধানের জন্য যেসকল হাদীস বলে গেছেন তার কয়েকটি হাদীস নিম্নে প্রদান করা হলো:
حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيُّ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ مَا أَسْفَلَ مِنَ الْكَعْبَيْنِ مِنَ الْإِزَارِ فَفِي النَّارِ - (বুখারী কিতাবুল লিবাস)
অর্থ: আবু হুরায়রা (রা) হতে বর্ণিত, রাসূল (সা) বলেছেন, যার পরিধানের কাপড় যে পরিমাণ টাখনুর নিচে যাবে সেই পরিমাণ স্থান জাহান্নামের আগুনে জ্বলবে। (বুখারী হা/৫৭৮৭ কিতাবুল লিবাস)
أَخْبَرَنَا مَالِكَ عَنْ أَبِي الزِّنَادِ عَنِ الْأَعْرَجِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ قَالَ لَا يَنْظُرُ اللهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِلَى مَنْ جَرَّ إِزَارَهُ بَطَرًا - (বুখারী কিতাবুল লিবাস)
অর্থ: আবু হুরায়রা (রা) হতে বর্ণিত, রাসূল (সা) বলেছেন, আল্লাহ পাক কিয়ামতের দিন ঐ ব্যক্তির দিকে (রহমতের) দৃষ্টি দিবেন না, যে ব্যক্তি অহংকারবশে ইযার বা লুঙ্গি (টাখনুর নিচে) ঝুলিয়ে দিয়ে পরে। (বুখারী হা/৫৭৮৮ কিতাবুল লিবাস)
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ﷺ قَالَ بَيْنَمَا رَجُلٌ يُصَلَّى مُسْبِلْ إِزَارَهُ قَالَ لَهُ رَسُوْلُ اللَّهِ ﷺ اذْهَبْ فَتَوَضَاً فَذَهَبَ وَتَوَضَّأَ - ثُمَّ جَاءَ فَقَالَ رَجُلٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَالَكَ أَمَرْتَهُ أَنْ يَتَوَضَّا قَالَ إِنَّهُ كَانَ يُصَلِّى وَهُوَ مُسْبِلُ إِزَارَهُ وَإِنَّ اللَّهَ لَا يَقْبَلُ صَلوةَ رَجُلٍ مُّسْبِلٍ إِزَارَهُ (رواه ابو داؤد)
অর্থ: আবু হুরায়রা (রা) বর্ণনা করেন, একদা এক ব্যক্তি তার লুঙ্গি বেশি পরিমাণে ঝুলিয়ে দিয়ে নামায পড়তেছিল, (তা দেখে) রাসূল (সা) তাকে বললেন, যাও এবং অজু কর। সে গিয়ে অজু করলো। এক ব্যক্তি তখন জিজ্ঞেস করলো, হে রাসূল (সা) তাকে অজু করতে বললেন কেন? তিনি উত্তর দিলেন, সে তার তহবন্দ (টাখনুর নীচে) ঝুলায়ে দিয়ে নামায পড়তেছিল। (এবং তিনি বললেন) যে ব্যক্তি আপন তহবন্দ (টাখনুর নীচে) ঝুলায়ে দিয়ে নামায পড়ে, তার নামায কখনও আল্লাহ পাকের দরবারে কবুল হবে না। (আবু দাউদ হা/৬৩৮ আবুওয়াবুল লিবাস)
عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ لَا تُقْبَلُ صَلوةَ حَائِضٍ إِلَّا بخمار - (رواه ابو داؤد)
অর্থ: আয়েশা সিদ্দীকা (রা) বলেন যে, রাসূল (সা) বলেছেন, পূর্ণ বয়স্ক মহিলার নামায ওড়না ব্যতীত আল্লাহ পাকের দরবারে কবুল হয় না। (আবু দাউদ হা/৬৪১)
অর্থ: উম্মে সালমা (রা) হতে বর্ণিত, তিনি একবার রাসূল (সা)-কে জিজ্ঞেস করলেন (ইয়া রাসূলাল্লাহ!) স্ত্রীলোক কি শুধু কোর্তা ও উড়নিতে নামায পড়তে পারে তহবন্দ ব্যতীত? তিনি বললেন হ্যাঁ! যদি কোর্তা বড় হয় এবং তা পায়ের পাতা ঢেকে দেয় তবে হবে। (আবু দাউদ)
সুতরাং মহানবী (সা) এই পৃথিবীতে আগমন করার পূর্বে মানব সভ্যতার পরিবেশে যে সকল সংস্কৃতি বিরাজ করছিল তাঁর কোনোটিই মহান আল্লাহ পাকের মনোনীত ছিল না। তাই আল্লাহ পাক তাঁর প্রিয় হাবীবকে তার মনোনীত সংস্কৃতিসমূহ দিয়ে এই পৃথিবীতে পাঠায়েছিলেন। তাই তিনি ঠিকমত তা পৃথিবীর মানব সমাজে স্থাপন করে গেছেন। অর্থাৎ টাখনুর উপরে কাপড় পরিধান করা হচ্ছে আল্লাহ পাকের মনোনীত একটি সংস্কৃতি। এছাড়াও মহানবী (সা)-এর মূল আদর্শ হচ্ছে অমুসলিমদের সংস্কৃতি গ্রহণ না করা। অর্থাৎ ছেলেরা টাখনুর নিচে কাপড় ঝুলিয়ে দিয়ে পরিধান করলে, সে ছেলেদের মধ্যে অহংকার ও লজ্জাহীনতা বিরাজ করে। যা একটি সুন্দর ও আদর্শ পরিবেশের বিপরীত। অপরদিকে মেয়েরা টাখনুর উপরে অথবা হাঁটুর উপরে কাপড় রেখে পরিধান করলে, সে মেয়েদের মধ্যে লজ্জাহীনতা ও অশ্লীলতা দেখা যায় যা একটি সুন্দর ও আদর্শ পরিবেশের জন্য বিপরীত। তাই মহানবী মুহাম্মদ (সা) মহান আল্লাহ পাকের মনোনীত একটি সুন্দর পরিবেশ মানব সমাজে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য আজ হতে দেড় হাজার বছর পূর্বেই এই পৃথিবীর মানুষের মধ্যে ছেলেদেরকে টাখনুর উপরে এবং মেয়েদেরকে টাখনুর নিচে কাপড় ঝুলিয়ে দিয়ে পরিধান করার জন্য নির্দেশ দিয়ে গেছেন।
📄 ডান দিক
জ্যোতিবিদগণ বলেন যে, পৃথিবীর আহ্নিক গতি ও বার্ষিক গতির ঝোঁক ডান দিকে। অর্থাৎ পৃথিবী তার আপন অক্ষের চারদিকে পশ্চিম হতে পূর্ব দিকে বা ডান দিকে ঘুরছে। তাই পৃথিবীর প্রতিটি প্রাণীর পক্ষে তাদের প্রতিটি কাজ কর্ম ডান দিক হতে করা বাম দিক অপেক্ষা সহজ। এর প্রধান কারণ হচ্ছে কোনো কাজ ডান দিক হতে শুরু করলে তা পৃথিবীর গতির অনুকূলে থাকে, তাই প্রতিটি কাজ ডান দিক হতে শুরু করলে এত সহজ হয়। অপর দিকে কোনো কাজ বাম দিক হতে শুরু করলে তখন তা পৃথিবীর গতিবেগের প্রতিকূলে থাকে, তাই কোনো কাজ বাম দিক হতে শুরু করলে ডান দিক অপেক্ষা একটু কষ্টকর হয়। অর্থাৎ কোনো কাজ ডান দিক হতে শুরু করলে পৃথিবীর গতিবেগ তাকে সাহায্য করে এবং কোনো কাজ বাম দিক হতে শুরু করলে পৃথিবীর গতিবেগ তাকে বাঁধা প্রদান করে। তাই কোনো কাজ করা বাম দিক অপেক্ষা ডান দিকে অতি সহজ। তাই বিজ্ঞানীরা পৃথিবীর প্রতিটি মানুষকে তাদের প্রতিটি কাজকর্ম ডান দিক হতে শুরু করার জন্য নির্দেশ প্রদান করেন।
অথচ মহানবী মুহাম্মদ (সা) উক্ত বিজ্ঞানীদের প্রায় দেড় হাজার বছর পূর্বে এই পৃথিবীর প্রতিটি মানুষকে তাদের প্রতিটি কাজকর্ম তাদের ডান দিক হতে শুরু করার জন্য নির্দেশ দিয়ে বহু হাদীস বলে গেছেন, এবং তিনিও তাঁর জীবনের প্রতিটি কাজ কর্ম ডান দিক হতেই শুরু করেছেন, কারণ তিনি বর্তমান বিজ্ঞানীদের ডান দিক সম্পর্কে আবিষ্কারের রহস্য জানতেন। নিম্নে ডান দিক সম্পর্কে মহানবী (সা)-এর একটি হাদীস প্রদান করা হলো :
حَدَّثَنَا الْعَلَاءُ الْمُسَيِّبِ قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ إِذَا أَوَى إِلَى فِرَاشِهِ نَامٌ عَلَى شِقِهِ الْأَيْمَنِ (جامع البخاري جلد الثاني صفه كتاب الدعوات)
অর্থ : বারা বিন আজিব (রা) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, মহানবী (সা)-এর স্বভাব ছিল যে, যখন তিনি তাঁর স্বীয় বিছানায় আসতেন, তখন তিনি ডান কাতে শুয়ে পড়তেন। (বুখারী হা/৬৩১৫, ২য় খণ্ড ৯৩৪ পৃষ্ঠা, কিতাবুদ দাওয়াত।)
লক্ষ্য করা গেছে যে, রাতে শোয়ার সময়, ডান কাতে ঘুমালে, বাম কাত অপেক্ষা একটু আরামদায়ক হয়, এর মূল কারণ হচ্ছে ডান কাতে ঘুমালে দেহ পৃথিবীর গতিবেগের অনুকূলে থাকে। তাই শরীর এত আরামদায়ক হয় এবং বাম কাতে ঘুমালে দেহ পৃথিবীর গতিবেগের প্রতিকূলে থাকে। তাই বাম কাতে ঘুমালে পৃথিবীর গতিবেগ তাকে বাঁধা প্রদান করে, তাই কিছুটা হলেও তা দেহের জন্য অস্বস্তিকর হয়।
এছাড়াও আরো লক্ষ্য করা গেছে যে, রাসূল (সা) ডান দিকে কাত হয়ে কেবলামুখী শয়ন করতেন। উসওয়ায়ে রাসূল (সা) বাম দিকে হৃদপিণ্ড থাকে, কাজেই বাম দিকে কাত হয়ে ঘুমালে পাকস্থলী এবং হৃদপিণ্ডের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়। ফলে রক্ত চলাচল এবং হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘুম সম্পর্কে বোম্বে হাসপাতালের (বোম্বাই অডিটরিয়াম) ডাক্তার কৃষ্ণ লাল মার্মা গবেষণা করেছেন। তিনি লিখেছেন, যেসব রোগীকে ডান দিকে কাত করে শয়ন করানো হয়েছে তারা দ্রুত আরোগ্য লাভ করেছে। পক্ষান্তরে যেসব রোগীকে বাম কাতে শয়ন করানো হয়েছে তারা অস্থিরতার সম্মুখীন হয়েছে।
আধুনিক গবেষণায়ও প্রমাণিত হয়েছে, ডান দিকে ফিরে শয়ন করা হলে হৃদরোগ প্রসঙ্গে লিখেছেন, বাম দিকে যেহেতু হৃদপিণ্ড থাকে, এ কারণে বাম দিকে কাত হয়ে ঘুমালে ঘুম অত্যন্ত গভীর হয়। মানুষ সহজে ঘুম হতে জাগ্রত হতে পারে না। পক্ষান্তরে ডান দিকে কাত হয়ে ঘুমালে ঘুম অতোটা গভীর হয় না। খুব সহজে মানুষ ঘুম হতে জাগ্রত হতে পারে। ফজরের নামাযের সময়ে ঘুম ভেঙ্গে যায়। রাসূল (সা) সফরকালীন সময়ে ডান দিকে কাত হয়ে ডান হাত খাড়া করে বাহুর ওপর মাথা রেখে ঘুমাতেন। এতে ঘুম গভীর হতো না, ফজরের নামায কাযা হতো না। এভাবেই রাসূল (সা) জীবনযাপন করেছেন।
প্রকাশ থাকে যে, পৃথিবী যে, তার আপন অক্ষের চার দিকে ডান দিক হতে বাম দিকে চলতেছে বা ঘুরতেছে। তার দিব্যদর্শন এই যে, আমরা প্রত্যেকেই পৃথিবীর যে অংশে বাস করছি সেই অংশ হতে আমরা প্রত্যেকেই প্রতিদিন সূর্যকে পূর্ব দিকে উদিত হতে দেখি। এরপর আমাদের অংশ সূর্যের দিকে বা ডান দিক হতে বামে সূর্যের দিকে যাচ্ছে বলে আমরা প্রত্যেকেই সকাল ১০টা, দুপুর ১২টা, বিকাল ৩টা ও সন্ধা ৬টা ইত্যাদি দেখি। এতে প্রমাণ করে যে, পৃথিবী তার আপন অক্ষের চারদিকে পশ্চিম হতে পূর্ব দিকে বা ডান হতে বামে চলছে বা ঘুরছে, এবং পৃথিবীর আপন অক্ষের চারদিকের গতিবেগ যখন সূর্যের দিকে থাকে তখন, আমরা সূর্যকে উদিত হতে দেখি, আর যখন অতিক্রম করতে দেখি তখন আমরা সূর্যকে অস্ত যেতে দেখি।
পৃথিবী তার আপন অক্ষের চারদিকে পশ্চিম হতে পূর্ব দিকে বা ডান দিক হতে বাম দিকে ঘুরছে। তার আরো একটি বাস্তব প্রমাণ এই যে, সন্ধ্যার দিকে যখন পশ্চিম আকাশে নবচাঁদ উদিত হয়, তখন আমরা কিছুক্ষণ পর আমাদের পৃথিবীর অবস্থান হতে উক্ত নবচাঁদকে আর দেখি না, এর রহস্য এই যে, তখন চাঁদকে রেখে আমাদের পৃথিবীর বসবাসের অংশ পূর্বদিকে চলে আসে, তাই সন্ধার পর উক্ত চাঁদ আমাদের কাছে হারিয়ে যায়।
পৃথিবী যে তার আপন অক্ষের চারদিকে পশ্চিম হতে পূর্বদিকে অর্থাৎ ডান দিক হতে বামে ঘুরছে বা চলতেছে তার আরো একটি বাস্তব প্রমাণ এই যে, আমাদের প্রত্যেকের প্রতিটি কাজকর্মই বাম হাত অপেক্ষা ডান হাত দিয়ে করা সহজ। এর মূল কারণ হচ্ছে এই যে, আমাদের প্রত্যেকের ডান হাতের কাজকর্ম পৃথিবীর গতিবেগের অনুকূলে, তাই আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সা) তাঁর উম্মতের প্রতিটি মানুষকে তাদের সকল কাজকর্ম ডান দিক হতে করার জন্য আদেশ দিয়ে গেছেন।
পৃথিবী তার আপন অক্ষের চারদিকে ডান দিক হতে বামে চলছে তার আরো একটি বাস্তব প্রমাণ এই যে, আমরা প্রত্যেকেই লক্ষ্য করে দেখেছি যে, বিদ্যুত্যের পাখা বাম দিক হতে ডান দিকে ঘুরছে, অর্থাৎ বিদ্যুতের পাখাটি পৃথিবীর গতিবেগের বিপরীত দিকে ঘুরছে, তাই আমরা এর দ্বারা বাতাস পাই, তাই এর দ্বারা বিদ্যুতও খরচ হচ্ছে, যদি এই বিদ্যুতের পাখাটিকে ডান দিক হতে বাম দিকে বা পৃথিবীর গতিবেগের অনুকূলে ঘুরানো বা চালানো হয় তা হলে অবশ্যই দেখা যাবে যে, এর দ্বারা বাতাস কম হয়েছে এবং বিদ্যুৎ খচরও কম হয়েছে। এতেও প্রমাণ করে যে, পৃথিবী ডান দিক হতে বামে চলছে বা ঘুরছে।