📘 পরিবেশ ও স্বাস্থ বিজ্ঞানে মুহাম্মদ সাঃ > 📄 সুন্না

📄 সুন্না


স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীরা বলেন যে, নিরিবিলি অবস্থায় গুন গুন করলে অথবা গুন গুন করে আস্তে আস্তে কথা বললে বা গান করলে মস্তিষ্কের ও হৃদযন্ত্রের বিষাক্ত দূষিত পদার্থগুলো সেখান হতে বাষ্প হয়ে বের হয়ে আসে। তখন মস্তিষ্ক ও হৃদযন্ত্র নানা অসুবিধাদায়ক জটলা হতে সতেজ ও আরামদায়ক হয়। এছাড়াও তারা লক্ষ্য করে দেখেছেন যে, নিয়মিতভাবে নিরিবিলি অবস্থায় যদি কেউ গুন গুন করে তবে তার কখনও মস্তিষ্কে ও হৃদযন্ত্রে কোনো রোগ হবে না। অর্থাৎ তার কখনও মাথা ব্যথা ও বুকে ব্যথা ও অস্থিরতাজনিত কোনো রোগ হবে না। এবং মাথা ধরা ও বুকে চাপ চাপ ভাব ও রক্তের চাপজনিত কোনো রোগ তার কখনও হবে না।
এছাড়াও স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীরা আরও বলেন যে, পবিত্র কুরআন পাঠ করার সময় যে নূ'নে গুন্না ও মি'মে গুন্না করে পাঠ করতে হয়, তাতে প্রতীয়মান হয় যে, নূ'নে গুন্না দ্বারা মস্তিষ্কের জন্য উপকার হয়। অর্থাৎ নূনে গুন্না দ্বারা মস্তিষ্কের যাবতীয় রোগ জীবাণু বাষ্প হয়ে নাকের ছিদ্র পথ দিয়ে বের হয়ে আসে এবং মী'মে গুন্না দ্বারা হৃদযন্ত্রের যাবতীয় রোগ জীবাণু বাষ্প হয়ে মুখের খাদ্য নালী দিয়ে বের হয়ে আসে। এ ছাড়াও স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীরা আরও বলেন যে, নূ'নে গুন্না দ্বারা নাকের ছিদ্র পথ কখনও সংকুচিত হতে পারে না। অর্থাৎ-নাকের ছিদ্র পথকে প্রসারিত বা স্বাভাবিক রাখার জন্য নূনে গুন্না অপরিহার্য এবং মীমে গুন্না দ্বারা ও নুনে গুন্না দ্বারা হৃদযন্ত্র ও খাদ্য নালী কখনও সংকুচিত বা অস্বাভাবিক হতে পারে না। তাই স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীরা বলেন যে, মস্তিষ্ক, হৃদযন্ত্র ও খাদ্যনালীকে নানা সংকোচন হতে নিরাপদ রাখার ইচ্ছা পোষণ করলে, অবশ্যই নূনে গুন্না ও মীমে গুন্নার মাধ্যমে তাদেরকে স্বাভাবিক ও সতেজ রাখার জন্য অবশ্যই তাকে কুরআন পাঠ করার সময় সর্বদাই নূনে গুন্না ও মীমে গুন্না করে পাঠ করতে হবে। নচেৎ তারা কখনও উক্ত রোগের সমস্যা হতে রক্ষা পাবে না।
অথচ মহানবী মুহাম্মদ (সা) স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীদের বহুপর্বেই উক্ত পবিত্র কুরআন পাঠ করার সময় নূনে গুন্না ও মীমে গুন্নাকে ওয়াজিব বা অতি জরুরি বলে ঘোষণা করে গেছেন। এবং তিনি বলেছেন, যদি কেউ পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত করার সময় নূনে গুন্না ও মীমে গুন্না আদায় না করে পাঠ করে, তবে সে গুনাগার হবে। এছাড়া তিনি আরো বলেন যে, পবিত্র কুরআন সঠিকভাবে সহীহ শুদ্ধ করে পাঠ করার মধ্যে মানব দেহের সর্বপ্রকার রোগের চিকিৎসা রয়েছে। যেমন এ সম্পর্কে মহানবী (সা)-এর একটি হাদীস-
حَدَّثَنَا سَعَادُ بْنُ سُلَيْمَانَ عَنْ أَبِي إِسْحَقَ عَنِ الْحَارِثِ عَنْ عَلِيِّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ خَيْرُ الدَّوَاءِ "القُرْآنُ" (ابن ماجه جلد الثاني صفه ٢٥٠ ابواب الطب)
অর্থ: আলী (রা) বলেন যে, মহানবী (সা) বলেছেন সর্বরোগের উত্তম চিকিৎসা হচ্ছে 'আল কুরআন' অর্থাৎ যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ করার সময় সহীহ শুদ্ধ করে নূনে গুন্না, মীমে গুন্না ও ইহার প্রতি হরফের ঠিক ঠিক মাখরাজ আদায় করে পাঠ করবে তার জীবনে কখনও কোনো রোগ হবে না। (ইবনে মাজাহ হা/৩৫০১, ২য় খণ্ড ২৫০ পৃষ্ঠা আবওয়াবুত তিব্ব।)
অতএব লক্ষ্য করলে দেখা যায় যে, নিরিবিলি অবস্থায় গুন গুন করে সুর করলে এতে এর প্রভাব মস্তিষ্কে ও হৃদযন্ত্রে পড়ে এবং এর দ্বারা হৃদযন্ত্রে ও মস্তিষ্কের যাবতীয় সমস্যা ও বিষ ব্যথা দূরীকরণে সাহায্য করে। তাই, যাদের মস্তিষ্কে ও হৃদযন্ত্রে সমস্যা আছে তাদের অবশ্যই উচিত নিরিবিলিতে স্বল্প সময়ের জন্য হলেও কিছুক্ষণ গুন গুন করে সুর করা। অথবা পবিত্র কুরআন পাঠের মাধ্যমে নূনে গুন্না ও মীমে গুন্নাগুলো ঠিক ঠিক মতো আদায় করা। এছাড়া নূনে গুন্নাহ ও মীমে গুন্না দ্বারা শ্বাস-প্রশ্বাসেরও কার্যে বিশেষ উপকার সাধন করেন।

📘 পরিবেশ ও স্বাস্থ বিজ্ঞানে মুহাম্মদ সাঃ > 📄 গোঁফ

📄 গোঁফ


স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীরা বলেন যে, গোঁফকে লম্বা করে রাখলে, নাকের নিঃশ্বাসের সাথে দেহের আভ্যন্তরীণ হতে বিষাক্ত কার্বন-ডাই-অক্সাইড ও দেহের আরও নানা রোগজীবাণু বের হয়ে আসে। এগুলো উক্ত লম্বা গোঁফে লেগে থাকে। এছাড়াও দেহ হতে নির্গত দূষিত পদার্থ উক্ত লম্বা গোঁফের গোড়া দিয়ে বের হয়ে উক্ত লম্বা গোঁফের সর্বত্র অবস্থান করতে থাকে। এই লম্বা বিষাক্ত বা দূষিত গোঁফ যখন কোনো গ্লাসে কোনো পানীয় দ্রব্য পান করার সময় যে কোনোভাবে উক্ত দূষিত গোঁফ উক্ত পানীয় দ্রব্যের মধ্যে লেগে উক্ত গোঁফ ভিজে যায়, তখন উক্ত গ্লাসের পানীয় দ্রব্য দূষিত হয়ে যায় এবং তখন তা পান করলে, দূষিত জীবাণুগুলো দেহের ভেতর চলে যায় এবং সতেজ হয়ে দেহে আবার নতুন করে যে যে রোগের পরিবেশ অনুসারে সেই সেই রোগের সৃষ্টি করে। তাই স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীরা বলেন যে, গোঁফের দূষিত পদার্থ বা রোগজীবাণু হতে বাঁচা বা রক্ষা পাওয়ার একমাত্র উপায় হচ্ছে গোঁফ না রাখা, অর্থাৎ গোঁফ কেটে ফেলে রাখার আর কোনো বিকল্প নেই।
অথচ মহানবী মুহাম্মদ (সা) উক্ত স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীদের বহুপূর্বেই গোঁফ রাখাকে তাঁর প্রত্যেক উম্মতের জন্য হারাম করে গেছেন। যেমন- এ সম্পর্কে তাঁর একটি হাদীস:
عَنْ زَيْدٍ ابْنِ أَرْقَمَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ لِمْ يَأْخُذُ شَارِبَهُ فَلَيْسَ مِنَّا.
অর্থ: যায়িদ ইবনে আরকামা (রা) বলেন যে, মহানবী (সা) বলেছেন, কেউ যেন গোঁফ না রাখে। যদি কেউ গোঁফ রাখে সে অবশ্যই আমাদের দলভুক্ত নয়। (নাসায়ী, হা/১৩ ১ম খণ্ড ৭ম পৃষ্ঠা কিতাবুত তাহারাত।)

📘 পরিবেশ ও স্বাস্থ বিজ্ঞানে মুহাম্মদ সাঃ > 📄 ঘুম

📄 ঘুম


একথা অতি বাস্তব যে, ঘুমায় না এমন প্রাণী পৃথিবীতে বিরল, প্রাণীর জন্য যেমন আহারের প্রয়োজন, তেমনি দরকার নিদ্রারও, না ঘুমিয়ে কারো পক্ষে বেশিদিন বেঁচে থাকা সম্ভব নয়।
বিজ্ঞানীদের মতে, একজন বয়স্ক মানুষের প্রতিদিন সাত হতে আট ঘণ্টা করে ঘুমানো দরকার। শিশুদের প্রয়োজন আরও বেশি। পনেরো বছর বয়স্ক প্রতিটি ছেলে/মেয়েকে কমপক্ষে দশ ঘণ্টা করে ঘুমানো উচিত। এখন প্রশ্ন এই ঘুম বলতে আসলে কি বুঝায়? প্রাণীরা কেন ঘুমায় আসলে এটা একটি রহস্যময় ব্যাপার।
বিজ্ঞানীদের ধারণা মানুষসহ অন্য প্রাণীদের দেহের রক্তে যে ক্যালসিয়াম আয়রণ নামে রাসায়নিক চূন জাতীয় পদার্থ আছে এই বস্তুটিই মাথার ঘুমকে নিয়ন্ত্রণ করে, যখন মস্তিষ্কের কোষে প্রয়োজন মতো ক্যালসিয়াম আয়রণ প্রবেশ করে তখনি আমাদের শরীর দুর্বল ও নিস্তেজ হয়ে আসে এবং আমরা ঘুমিয়ে পড়ি। (দৈনিক ইত্তেফাক ৫-৩-৯৮ ইং)
আমেরিকার শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল বিজ্ঞানী বলেছেন যে, বেঁচে থাকার জন্য যেমন খাদ্যের প্রয়োজন ঠিক তেমনি বেঁচে থাকার সমান আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ জিনিস অত্যাবশ্যক, আর তা হলো 'ঘুম' এবং 'ঘুম'। ঘুম কম হলে ক্ষুধা কমে যায়, শরীরে ক্লান্তির ছাপ পড়ে গ্যাসট্রিক আলসার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। হরমোন ঠিকমত ক্ষরণ হয় না, ধীরে ধীরে স্মৃতিশক্তি লোপ পায় ইত্যাদি। কিন্তু আপনি জানেন কি? ঘুম কম হলে আপনি অকালে বৃদ্ধ হয়ে যেতে পারেন।
শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা প্রতিদিন ৮ ঘণ্টা করে ঘুমায় এমন কয়েকজন যুবককে তারা চার ঘণ্টা কমায়ে অর্থাৎ নিয়মিত চার ঘণ্টা করে ঘুমাতে দেন। এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে দেখা গেল যে, তাদের দেহ স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে না। শরীরের বিভিন্ন গ্রন্থি হতে হরমোনের নিঃসরণ ঠিকমত হচ্ছে না। শুধু তাই নয়, বিজ্ঞানীরা ঐসব যুবকের দেহে বুড়ো হয়ে যাবার এবং ডায়াবেটিসের লক্ষণ আবিষ্কার করেন। এ অবস্থায় আবার যখন তারা পূর্বের ন্যায় ৮ ঘণ্টা করে ঘুমাতে শুরু করেন তখন তাদের দেহ আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এলো। এই গবেষণা হতে বিজ্ঞানীরা সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে, পর্যাপ্ত ঘুম না হলে, অল্প বয়সে বুড়ো হয়ে যেতে পারে। আর পর্যাপ্ত ঘুম বলতে তারা দৈনিক ৮ ঘণ্টা করে ঘুমকেই বুঝিয়েছেন। তাই বিজ্ঞানীরা পৃথিবীর সকল মানুষকে বলেন যে, আসুন আমরা সবাই নিয়মিত পরিমাণ মতো ঘুমের অভ্যাস করি।
ঘুম নিয়ে বিজ্ঞানীরা এতদিন অনেক গবেষণা করেছেন। এসব গবেষণায় ঘুমের ধরণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে ঠিক কি ধরনের প্রভাব সৃষ্টি করে সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হয়েছে। অনেক গবেষণার ফলাফলেই দেখা গেছে, ঘুমের স্থায়িত্ব, ঘুমাতে যাওয়ার অভ্যাস এবং ঘুমের প্রকৃতি মানুষের দক্ষতা, সৃজনশীলতা এবং বুদ্ধিমত্তা বিকাশে অসীম ভূমিকা পালন করে। এই কিছু দিন আগে জার্মানির লুইবেক ইউনির্ভার্সিটির কয়েজন গবেষক জানান, নিয়মিত এবং নির্ঝঞ্ঝাট ঘুমে মানুষের বুদ্ধি বাড়ে। মানুষ যখন ঘুমিয়ে থাকে তখন তার মস্তিষ্ক জটিল সব সমস্যার চমৎকার সমাধান দেয়। লুইবেক ইউনিভার্সিটির গবেষকরা ঘুমের ধরণ মানুষের বুদ্ধি বিকাশে ঠিক কতটা কার্যকর ভূমিকা পালন করে তা জানার জন্য ১০৬ জন শিক্ষার্থীর ওপর গবেষণা পরিচালনা করেন। গবেষকরা ওই শিক্ষার্থীর জন্য পরীক্ষার আয়োজন করেন। এ পরীক্ষায় তাদের কিছু জটিল ধাঁধার সমাধান খুঁজে বের করার নির্দেশ দেয়া হয়। কিন্তু তখন তারা দেখতে পান যে, রাতে যার যত বেশি ভালো ঘুম হয়েছে সে তত বেশি এবং দ্রুত ধাঁধার উত্তর খুঁজে বের করতে সক্ষম হয়েছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে যারা সারারাত ঘুমায়নি তাদের ধাঁধার সমাধান খুঁজে বের করার সম্ভাবনা যাদের ভালো ঘুম হয়েছে তাদের তুলনায় বহুলাংশে কম। তাই বিজ্ঞানীরা বলেন যে, মানুষ যখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন থাকে তখন তার মস্তিষ্কের কোষগুলো সক্রিয় হয়ে উঠে। মস্তিষ্ক এ সময় আগের দিনের টুকরো টুকরো ঘটনাগুলোকে পুনরায় স্মরণ করার চেষ্টা চালায়। তাই বিজ্ঞানীরা বলেন যে, সকল মানুষেরই ঘুমানো উচিত। (যুগান্তর ১২-২-০৪ ইং)
অথচ মহানবী মুহাম্মদ (সা) উক্ত বিজ্ঞানীদের বহু পূর্বেই পবিত্র কুরআন ও তার হাদীসের আলোকে এই পৃথিবীর সকল মানুষকে ঘুমের নির্দেশ ও ঘুমের সময় নির্ধারণ ও ঘুমের সুফল ব্যাখ্যা করে গেছেন। যেমন:
وَجَعَلْنَا نَوْمَكُمْ سُبَاتًا، وَجَعَلْنَا الَّيْلَ لِبَاسًا، وَجَعَلْنَا النَّهَارَ مَعَاشًا.
অর্থ: তোমাদের ঘুমকে করেছি ক্লান্তি দূরকারী আর রাত্রিকে করেছি আবরণ এবং দিনকে করেছি জীবিকা অর্জনের সময়। (সূরা নাবা: আয়াত-৯-১১)
মহানবী মুহাম্মদ (সা) উক্ত বিজ্ঞানীদের বহু পূর্বেই প্রত্যেক মানুষকে দৈনিক ৮ ঘণ্টার সমপরিমাণ ঘুমের ব্যবস্থার ইঙ্গিত প্রসংগে দু'টি হাদীস বলে গেছেন। যেমন:
حَدَّثَنَا خَالِدُ الْحَذَّاءُ عَنْ أَبِي الْمِنْهَالِ عَنْ أَبِي بُرْزَةً لله أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ كَانَ يَكْرَهُ النَّوْمَ قَبْلَ الْعِشَاءِ وَالْحَدِيثَ بَعْدَهَا . (جامع البخاري جلد اول صفه كتاب الصلوة)
অর্থ: আবু বার্জা (রা) হতে বর্ণিত যে, নিশ্চয় মহানবী (সা) এশার নামায পড়ার পূর্বে ঘুমাতে এবং এরপর গল্প গুজব করতে অপছন্দ করতেন। (বুখারী হা/৫৬৮, ১ম খণ্ড ৮৫ পৃষ্ঠা কিতাবুস সালাত।)
قَالَ النَّبِيُّ لا رَكَعَةُ الْفَجْرِ خَيْرٌ مِّنَ الدُّنْيَا وَمَا فِيْهَا.
অর্থ: মহানবী (সা) বলেছেন, ফজরের এক রাকাআত নামাযের মূল্য (আল্লাহ পাকের নিকট) দুনিয়া ও তার মধ্যে যা কিছু আছে তার চেয়েও বেশি। (মুসলিম হা/১৭২১)
উপরোক্ত দু'টি নামাযের মধ্যবর্তী সময়ের প্রতি লক্ষ করলে দেখা যায় যে, সেখানে ৮ ঘণ্টা সময় রয়েছে। তাই মহানবী (সা) তার জাতিকে ৮ ঘণ্টা ঘুমে এবং ফজরের সময় জেগে উঠার নির্দেশ দিয়ে গেছেন। সুতরাং দেখা যায় যে, প্রত্যেক মানুষ যদি এশার নামাযের পর হতে ফজরের নামাযের সময় পর্যন্ত ঘুমায়। তবে সে ঘুম হবে উক্ত মানুষের স্বাভাবিক ঘুম এবং এই ঘুমে মানব দেহের স্বাভাবিক ভারসাম্য রক্ষা হবে এবং মানবদেহ সতেজ ও আরামদায়ক হবে। সে ব্যবস্থা মহানবী (সা) বিশ্বের প্রতিটি মানুষকে উক্ত বিজ্ঞানীদের বহুপূর্বেই দিয়ে গেছেন।
এছাড়াও মহানবী (সা) ঘুমের উপকারিতা সম্পর্কে আরও একটি হাদীস বলে গেছেন। যেমন:
حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ أَبِي عُبْلَةَ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا أَبَيَّ بْنَ أَمْ حَرَامٍ وَكَانَ قَدْ صَلَّى مَعَ رَسُولِ اللهِ الْقِبْلَتَيْنِ يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ عَلَيْكُمْ بِالسِّنَا وَالسُّنُوْتِ فَإِنَّ فِيْهَا شِفَاءٌ مِّنْ كُلِّ دَاءٍ إِلَّا السَّامَ . (ابن ماجه جلد الثاني صفه ابواب الطب)
অর্থ: ইব্রাহীম বিন আবি উবলা (রা) বলেন যে, আমি আবু উবাইয়্যা বিন উম্মে হারাম (রা)-কে বলতে শুনেছি যে, তিনি একবার মহানবী (সা)-এর সাথে দুই কিবলার মসজিদে নামায আদায় করলেন। তারপর তিনি বলেন যে, আমি মহানবী (সা)-কে বলতে শুনেছি যে, তিনি বলেছেন, ঘুমের মধ্যে মৃত্যু ছাড়া সমস্ত রোগের চিকিৎসা রয়েছে। (ইবনে মাজা হা/৩৪৫৭, ২য় খণ্ড ২৪৭ পৃষ্ঠা চিকিৎসা অধ্যায়।)
সুতরাং প্রতীয়মান হয় যে, বর্তমানে স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীরা ঘুমের মাধ্যমে এই পৃথিবীর মানুষদেরকে যে চিকিৎসার ব্যবস্থা দেখায়েছেন, তা মহানবী (সা) উক্ত বিজ্ঞানীদের বহুপূর্বেই দেখায়ে দিয়ে হাদীস বলে গেছেন।

📘 পরিবেশ ও স্বাস্থ বিজ্ঞানে মুহাম্মদ সাঃ > 📄 চুম্বন

📄 চুম্বন


বিজ্ঞানীরা বলেন যে, যৌন কর্মের প্রধান আকর্ষণ হচ্ছে 'চুম্বন'। যখন কোনো প্রাপ্ত বয়স্ক ছেলে কোনো প্রাপ্ত বয়স্ক মেয়ের মুখে অথবা ঠোঁটে চুম্বন দিবে, তখন তাদের দেহের যৌন ক্রিয়ার বস্তুগুলো তাদের দেহের গোপন স্থানে গিয়ে জমা হয়। ফলে তারা পরস্পর পরস্পরের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ে। তাই বিজ্ঞানীরা বলেন যে, যখন কোনো লোক তার স্ত্রীর নিকট গমন করতে ইচ্ছা পোষণ করেন, তখন যেন তার পূর্বে অবশ্যই তার স্ত্রীর মুখে ও ঠোঁটে চুম্বন করেন। এতে তারা পরস্পর পরস্পরের প্রতি আসক্ত হয়ে যাবে। এবং তাদের পরস্পরের মধ্যে প্রীতি ও ভালবাসা গাঢ় হবে, ফলে তাদের পরস্পরের মধ্যে এক সুন্দর মধুময় পরিবেশ স্থাপিত হবে এবং যা আল্লাহ পাকের নিকট অতি পছন্দনীয়।
এছাড়াও বিজ্ঞানীরা আরো বলেন যে, যখন কোনো মানুষ তার স্ত্রীর নিকট গমন করার পূর্বে যদি সে তাকে চুম্বন না করে, তবে তার স্ত্রীর দেহে যৌন ক্রিয়াসমূহ তার সারা দেহেই ছড়ায়ে ছিটিয়ে অবস্থান করে, ফলে স্বামী-স্ত্রীর প্রতি আসক্ত হয় কিন্তু স্ত্রী স্বামীর প্রতি তেমন আসক্ত হয় না। এদিকে স্বামী কিছুক্ষণের মধ্যেই দুর্বল হয়ে যায়, কিন্তু স্ত্রী তখন সবলই থাকে। ফলে স্ত্রীর মধ্যে অসন্তুষ্টির প্রভাব বিস্তার করে। এতে তাদের পরস্পর মনঃক্ষুণ্ণতা সৃষ্টি হয়ে যায় এবং সেখানে তখন এক অশান্তিময় দুঃখজনক পরিবেশ বিরাজ করে। তাই বিজ্ঞানীরা বলেন যে, স্ত্রীর নিকট গমন করার পূর্বে সেখানে একটি মধুময় পরিবেশ সৃষ্টি করার জন্য স্বামীর জন্য স্ত্রীকে চুম্বন করা আবশ্যক।
অথচ মহানবী মুহাম্মদ (সা) উক্ত বিজ্ঞানীদের বহু পূর্বেই তার প্রিয় সাহাবীদেরকে বলে গেছেন যে, হে আমার সাহাবীগণ! তোমরা শুনো, যখন তোমরা তোমাদের স্ত্রীগণের নিকট যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ কর তখন তোমরা তার পূর্বে স্ত্রীর নিকট দূত পাঠাবে, তখন এক সাহাবী বলেন যে, হে আল্লাহর রাসূল! দূত কি? তখন মহানবী (সা) বলেন যে, দূত হচ্ছে চুম্বন, অর্থাৎ যখন তোমরা তোমাদের স্ত্রীর নিকট গমন করতে যাও তার পূর্বে অবশ্যই তাকে চুম্বন দিবে। (এহইয়াউ উলুমুদ্দীন ২য় খণ্ড ৪২৩ পৃষ্ঠা, বিবাহ অনুচ্ছেদ।)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00