📄 খৎনা এবং যৌনাঙ্গের ক্যান্সার
ব্রিটেনের চিকিৎসাবিষয়ক ম্যাগাজিনে বিএমজিতে ১৯৭৭ সালে যৌনাঙ্গের ক্যান্সার সম্পর্কে একটি প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। উক্ত প্রবন্ধে বলা হয়েছে, ইহুদীদের মধ্যে যৌনাঙ্গের ক্যান্সার খুব কমই দেখা যায়। মুসলিম দেশসমূহেও যৌনাঙ্গের ক্যান্সার খুব কম। কারণ এসব দেশের শিশুদের শৈশবেই খৎনা করা হয়। যৌনাঙ্গের ক্যান্সার বিশ্বের বহু দেশে উদ্যেগের কারণ হয়ে দেখা দিয়েছে। বিশেষত চীন এবং পুটোরিকোতে ১২ হতে ২২ শতাংশ পুরুষ যৌনাঙ্গের ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর ক্যান্সার ম্যাগাজিনে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে গুরুত্বারোপ করে বলা হয়েছে যে, যৌনাঙ্গের ক্যান্সার যৌনমিলনের মাধ্যমে হয়ে থাকে। প্রতিবেদনে ইঙ্গিত করা হয়েছে, অবৈধ যৌন সংগমের কারণেই যৌনাঙ্গের ক্যান্সার দেখা দেয়।
আমেরিকার শিশুরোগ বিষয়ক ম্যাগাজিনে প্রকাশিত এক প্রবন্ধে বলা হয়েছে, খৎনা না করা ব্যক্তি যে কোনো সময়েই যৌনাঙ্গের ক্যান্সারে আক্রান্ত হতে পারে। নবজাত শিশুর খৎনা করানোর মাধ্যমে এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশংকা রোধ করা যায়।
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞগণ যে আশংকার প্রতি ইঙ্গিত করেছেন, ইসলাম শুরু হতেই তা প্রতিরোধের ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে। ইসলামের সত্যতা প্রমাণের জন্য এটাই কি যথেষ্ট নয়?
📄 খৎনা এবং যৌন রোগ
ম্যাগাজিন নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল ফর মেডিসিনে ১৯৯০ সালে প্রকাশিত এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় কোরিয়া ও ভিয়েতনামের যুদ্ধের সময় মার্কিন সৈন্যদের যৌনাঙ্গের সংক্রমণ এবং যৌন রোগ হতে রক্ষা পাওয়ার ক্ষেত্রে খৎনা বিশেষ ভূমিকা পালন করেছে। অস্ট্রেলিয়ার এক সাম্প্রতিক জরিপে জানা যায়, খৎনা না করা লোকদের চার রকমের যৌন রোগ হতে দেখা যায়।
১. জেন্টাল হারপেস
২. ক্যান্ডিডিয়াসিন
৩. গনোরিয়া
৪. সিফিলিস।
📄 খৎনা ও এইডস রোগ
আমেরিকার বিজ্ঞানবিষয়ক ম্যাগাজিনে ১৯৮৯ সালে প্রকাশিত এক প্রবন্ধে খৎনা এবং এইডস সম্পর্কে, আলোচনা করা হয়েছে। উক্ত প্রবন্ধের নামকরণ করা হয়েছে, খৎনা এইট্স হতে রক্ষা করে। আমেরিকা এবং আফ্রিকায় তিনটি জরিপের ফলাফল এ প্রবন্ধে প্রকাশ করা হয়েছে। এ প্রবন্ধে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, যারা খৎনা করে না তারাই এইডস রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে।
এটা বিস্ময়ের ব্যাপার নয় যে, যারা মহান আল্লাহর বিধানের সরাসরি বিরোধিতা করে পাপের পঙ্কিলতায় নিজেদের ডুবিয়ে রেখেছে তারাই এইট্স হতে রক্ষা পাওয়ার জন্য ইসলামের বিধান খৎনা ব্যবহার করে চলেছে। খৎনার মধ্যে তারা তাদের রোগ নিরাময়ের আশ্রয় খুঁজছে। তবে এরকম ধারণা করা যাবে না যে, খৎনা করা হলেই এইট্স এর গজব হতে রক্ষা পাওয়া যাবে। অবশ্য একথা ঠিক যে, খৎনা যারা করে না তাদের তুলনায় যারা খৎনা করে তাদের এইট্স হওয়ার আশঙ্কা অনেক কম। খৎনা করা না করা উভয় শ্রেণীর লোকই এইট্সে আক্রান্ত হয়ে থাকে।
আধুনিক গবেষণায় এটা প্রমাণিত হয়েছে যে, মুহাম্মদ (সা)-এর প্রচারিত শরীয়তে মানুষের পরলৌকিক কল্যাণের পাশাপাশি ইহলৌকিক কল্যাণেরও নিশ্চয়তা দেয়। স্বভাব ধর্ম হতে দূরে চলে যাওয়ার জন্য যারাই চেষ্টা করেছে তারাই ব্যর্থ হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। (উইকলি মেডিকেল সার্ভে আমেরিকা)