📄 প্রাচীন ধর্ম বিশ্বাসে খৎনা
বুখারী ও মুসলিমে আবু হুরায়রা (রা) বর্ণনা করেন, রাসূল (সা) বলেছেন, ইব্রাহীম (আ) ৮০ বছর বয়সে কুঠারের সাহায্যে খৎনা সম্পূর্ণ করেন। আল্লামা ইবনে কাইয়েম বলেন, বর্ণিত আছে যে, ইব্রাহীম (আ) সর্বপ্রথম খৎনা করেছিলেন। পরবর্তীকালে রাসূল (সা)-এর উম্মতদের মধ্যে এ নিয়ম পালন করা হয়েছে। এমনকি ইসা (আ)-এরও খৎনা করানো হয়েছিল। খ্রিস্টানরা এ কথা অবিশ্বাস করে না। যেমন অবিশ্বাস করে না যে শুকর খাওয়া হালাল নয় বরং হারাম।
ইহুদীরা বিশেষভাবে খৎনার সুন্নাত পালন করে। তাকবিনে উল্লেখ রয়েছে, মনে রেখো আমার এবং তোমাদের মধ্যে এবং তোমাদের পরবর্তী বংশধরদের মধ্যে এ চুক্তি হয়েছে, প্রতিটি বালকের খৎনা করানো হবে। খ্রিস্টান ধর্মে প্রথমদিকে খৎনার প্রচলন ছিল কিন্তু খ্রিস্টানরা তাদের পয়গম্বরের শিক্ষা বিকৃত করেছে এবং সেই শিক্ষা হতে দূরে সরে গেছে। বার্নাবাস রচিত বাইবেলে খৎনার উল্লেখ পাওয়া যায়। যীশু জবাব দিলেন, আমি সত্য বলছি, খৎনা না করানো লোকের চেয়ে কুকুর অনেক উত্তম।
📄 খৎনা এবং যৌনাঙ্গের পরিচ্ছন্নতা
১৯৯০ সালে নিউ ইংল্যান্ডে জার্নাল অব মেডিসিনে ডাক্তার শিউন লিখেছেন, শিশুদের খৎনা তাদের সারা জীবনের জন্য যৌনাঙ্গের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করে এতে কোনো প্রকার সন্দেহ নেই। এর ফলে শৈশবে যৌনাঙ্গের মাথার দিকের বর্ধিত অংশের নিচে রোগ-জীবাণু জমা হতে পারে না।
ডাক্তার শিউন বিশ্বের খ্যাতনামা শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের অন্যতম। যৌনাঙ্গের ক্যান্সার রোধে যৌনাঙ্গের পরিচ্ছন্নতার উপর গুরুত্বারোপ করে তিনে বলেন, যৌনাঙ্গের পরিচ্ছন্নতা একটা কঠিন বিষয়। বিশ্বের পশ্চাৎপদ অনুন্নত দেশেসমূহেই শুধু এ সমস্যা প্রকট নয় বরং আমেরিকা এবং অন্যান্য উন্নত দেশেও এ সমস্যা প্রকট। যেসব সমাধান দেয়া হচ্ছে সেসব বিশেষভাবে ফলদায়ক নয়। ব্রিটেনের যেসব স্কুলে শিশুদের খৎনা করানো হয়নি সেসব স্কুলে পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, তাদের শতকরা ৭০ ভাগের যৌনাঙ্গের অপরিচ্ছন্নতা রয়েছে। ডেনমার্কে পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে ৬ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে শতকরা ৬৩ জনের পুরুষাঙ্গের উপরিভাগ অপরিচ্ছন্নতার কারণে কুঁচকে গেছে। উপরোক্ত বক্তব্য দিয়েছেন খৎনা সম্পর্কে গবেষণাকারী বিশেষজ্ঞ কমিটির সভাপতি। প্রকৃতপক্ষে ইসলাম এ রোগের চিকিৎসার কথা আগেই উল্লেখ করেছে। রাসূল (সা) এ সম্পর্কে আমাদেরকে পথনির্দেশনা দিয়েছেন। মহান আল্লাহ বলেন, "তুমি একনিষ্ঠ হয়ে নিজেকে দ্বীনে প্রতিষ্ঠিত কর। আল্লাহর প্রকৃতির অনুসরণ কর, যে প্রকৃতি অনুযায়ী তিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন।" (সূরা রুম: আয়াত-৩০)
📄 খৎনা এবং পেশাবের নালির সংক্রমণ
১৯৮৯ সালের জরিপের পর জানা গেছে যে, খৎনা করা শিশুদের তুলনায় যাদের খৎনা করা হয়নি তাদের পেশাবের নালির সংক্রমণের সম্ভাবনা শতকরা ৩৯ ভাগ বেশি। চার কোটি শিশুর উপর জরিপ চালিয়ে দেখা দেছে যে, প্রফেসর ভাইস ওয়েলের বিবরণ অনুযায়ী খৎনা না করা শিশুদের পেশাবের নালির সংক্রমণ অধিক পাওয়া গেছে। স্কলারদের একটি টিমের গবেষণায় দেখা গেছে, যদি আমেরিকায় খৎনা ব্যবস্থার ব্যাপক প্রচলন না হতো তবে আরো বিশ হাজার লোক হৃদরোগের রোগী হওয়ার সম্ভাবনার সম্মুখীন হতো। ব্রিটেনের সানমেট নামের ম্যাগাজিনে ১৯৮৯ সালে প্রকাশিত এক প্রবন্ধে বলা হয়েছে, যদি শিশুদের খৎনা করা হয় তবে পেশাবের নালির সংক্রমণ শতকরা ৯০ ভাগ কমে যায়।
📄 খৎনা এবং যৌনাঙ্গের ক্যান্সার
ব্রিটেনের চিকিৎসাবিষয়ক ম্যাগাজিনে বিএমজিতে ১৯৭৭ সালে যৌনাঙ্গের ক্যান্সার সম্পর্কে একটি প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। উক্ত প্রবন্ধে বলা হয়েছে, ইহুদীদের মধ্যে যৌনাঙ্গের ক্যান্সার খুব কমই দেখা যায়। মুসলিম দেশসমূহেও যৌনাঙ্গের ক্যান্সার খুব কম। কারণ এসব দেশের শিশুদের শৈশবেই খৎনা করা হয়। যৌনাঙ্গের ক্যান্সার বিশ্বের বহু দেশে উদ্যেগের কারণ হয়ে দেখা দিয়েছে। বিশেষত চীন এবং পুটোরিকোতে ১২ হতে ২২ শতাংশ পুরুষ যৌনাঙ্গের ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর ক্যান্সার ম্যাগাজিনে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে গুরুত্বারোপ করে বলা হয়েছে যে, যৌনাঙ্গের ক্যান্সার যৌনমিলনের মাধ্যমে হয়ে থাকে। প্রতিবেদনে ইঙ্গিত করা হয়েছে, অবৈধ যৌন সংগমের কারণেই যৌনাঙ্গের ক্যান্সার দেখা দেয়।
আমেরিকার শিশুরোগ বিষয়ক ম্যাগাজিনে প্রকাশিত এক প্রবন্ধে বলা হয়েছে, খৎনা না করা ব্যক্তি যে কোনো সময়েই যৌনাঙ্গের ক্যান্সারে আক্রান্ত হতে পারে। নবজাত শিশুর খৎনা করানোর মাধ্যমে এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশংকা রোধ করা যায়।
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞগণ যে আশংকার প্রতি ইঙ্গিত করেছেন, ইসলাম শুরু হতেই তা প্রতিরোধের ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে। ইসলামের সত্যতা প্রমাণের জন্য এটাই কি যথেষ্ট নয়?