📄 ওপেন হার্ট সার্জারী
ওপেন হার্ট সার্জারী হচ্ছে বর্তমান বিশ্বের চিকিৎসা জগতে চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের এক বিস্ময়কর অপারেশন। এই অপারেশনের মাধ্যমে চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা মানব দেহের বক্ষের ঠিক মাঝখানের বাম পাশের ছাকনীর হাড় কেটে বক্ষ চিরে ইহার সম্পূর্ণ হৃদযন্ত্রটি বের করে এনে ইহার প্রতিটি রক্ত চলাচলের পথ সচল করে, ইহাকে পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুইয়ে, আবার ইহাকে দেহের যথাস্থানে স্থাপন করে দিয়ে, উক্ত বক্ষের চিরা দুই অংশকে চেপে ধরে একত্র করে সেলাই করে দেয়াই হচ্ছে মূলত ওপেন হার্ট সার্জারীর অপারেশন।
অথবা এই ওপেন হার্ট সার্জারীর অপারেশনের সূচনা বর্তমান বিশ্বের সকল চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের প্রায় দেড় হাজার বছর পূর্বে পবিত্র মক্কা নগরীতে সূত্রপাত হয়েছিল, খুব সম্ভব সেখান হতেই শুরু করে, পৃথিবীর সকল দেশের সকল খ্যাতনামা চিকিৎসকগণ ওপেন হার্ট সার্জারীর অপারেশন সম্পর্কে ধ্যান-ধারণা শুরু করেন। এরপর তারা যুগের পর যুগ এ ব্যাপারে নানা গবেষণা ও নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে ঐক্যমত পোষণ করে। পরিশেষে তারা হৃদযন্ত্রের রোগীদের মাঝে ওপেন হার্ট সার্জারীর অপারেশন শুরু করেন এবং এতে তারা সফলকাম হন।
উল্লেখ যে, আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সা)-এর বয়স যখন আনুমানিক ছয় বছর শুরু হয়েছিল, তখন তিনি বিবি হালিমার বাড়িতে লালিত পালিত হতেছিলেন এবং তখন বিবি হালিমারও এক ছেলে ছিলেন, সেও আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সা)-এর সমবয়সের ছিলেন।
কথিত আছে যে, ঐ সময় কোনো একদিন বিকালে মহানবী (সা) তাঁর দুধ ভাই হালিমার ছেলের সাথে বাড়ির একটু দূরে খেলতে গেলেন, সেখানে হঠাৎ করে কোথা হতে যেন ধব ধবে সাদা পোশাকধারী দুজন লোক এসে শিশু মহানবী (সা)-কে আঁকড়ে ধরে তাঁর বক্ষ চিরে ফেললো, এ দৃশ্য দেখে হালিমার ছেলে চীৎকার দিয়ে দৌড়িয়ে বাড়িতে এসে হালিমার নিকট উক্ত ঘটনা খুলে বললেন, সাথে সাথে হালিমা ও তাঁর স্বামী দৌড়িয়ে উক্ত শিশু মুহাম্মদ (সা)-এর নিকট গেলেন এবং গিয়ে দেখেন যে, শিশু মুহাম্মদ (সা) সুস্থ অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছেন, তখন তারা উভয়ে শিশু মুহাম্মদ (সা)- কে জিজ্ঞেস করেন যে, একটু পূর্বে তোমার কি হয়েছিল, উত্তরে শিশু মুহাম্মদ (সা) বলেন যে, হঠাৎ অপরিচিত ধবধবে সাদা পোশাকধারী দুজন লোক এসে আমাকে আঁকড়িয়ে ধরে আমার বক্ষ চিরে আমার হৃদযন্ত্র বের করে আনে এবং তারা উভয়ে উক্ত হৃদযন্ত্র হতে কি কি যেন বের করে ফেলে দিয়ে আবার উক্ত হৃদযন্ত্রটি দেহের মধ্যে স্থাপন করে দিয়ে, বক্ষকে চেপে ধরে আগের মতো করে দিয়ে চলে গেল। এছাড়া আমি আর কিছু বলতে পারব না।
এছাড়াও মহানবী (সা)-এর উপর অহী নাযিল হওয়ার পূর্বে দ্বিতীয়বার মহানবী (সা)-এর বক্ষ চিরে তাঁর হৃদযন্ত্র বের করে, ফেরেশতারা তার হৃদযন্ত্রের ওপেন হার্ট সার্জারীর অপারেশন করে তার হৃদযন্ত্রকে অহীর মতো ভারী শক্তি বহন করার জন্য উপযোগী করেন। যেমন পবিত্র কুরআন তার সত্যতার প্রমাণ দেয়। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হচ্ছে-
لَوْ اَنْزَلْنَا هُذَا الْقُرْآنَ عَلَى جَبَلٍ لَرَأَيْتَهُ خَاشِعًا مُتَصَدِّعًا مِنْ خَشْيَةِ اللَّهِ . وَتِلْكَ الْأَمْثَالُ نَضْرِ بُهَا لِلنَّاسِ لَعَلَّهُمْ يَتَفَكَّرُونَ .
অর্থ: "যদি আমি এই কুরআন পাহাড়ের উপর অবতীর্ণ করতাম, তবে তুমি দেখতে যে, পাহাড় বিনীত হয়ে আল্লাহ পাকের ভয়ে বিদীর্ণ হয়ে গেছে। আমি এসব দৃষ্টান্ত মানুষের জন্যে বর্ণনা করি যাতে তারা চিন্ত ভাবনা করে।" (সূরা হাশর: আয়াত-২১)
মানব দেহের হৃদযন্ত্র যে অসুস্থ বা কোনো কিছু করার ব্যাপারে অকেজো হয়ে যায় সে ব্যাপারে নিম্নে তাঁর একটি হাদীস বর্ণনা করা হল: যেমন-
عَنِ النُّعْمَانِ ابْنِ بَشِيرٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ اللَّهِ إِلَّا فِي الْجَسَدِ مُضْغَةً إِذَا صَلُحَتْ صَلُحَ الْجَسَدُ كُلُّهُ وَإِذَا فَسَدَتْ فَسَدَ الْجَسَدُ كُلُّهُ أَلَا وَهِيَ الْقَلْبُ
অর্থ: নোমান ইবনে বাশীর (রা) হতে বর্ণিত: তিনি বলেছেন, আল্লাহর রাসূল (সা) বাণী প্রদান করেছেন। সাবধান! নিশ্চয়ই মানব দেহের মধ্যে এমন একটি গোশতপিণ্ড রয়েছে যা সুস্থ থাকলে গোটা দেহই সুস্থ থাকে, আর অসুস্থ বা দূষিত হয়ে পড়লে সমস্ত দেহটাই অসুস্থ হয়ে পড়ে। সাবধান! সেটাই হচ্ছে হৃদযন্ত্র বা অন্তকরণ।” (বুখারী হা/৫২ ও মুসলিম হা/৪১৭৮)
এছাড়াও মহানবী (সা)-এর মে'রাজ গমনের পূর্বে আল্লাহ পাক ফেরেশতার মাধ্যমে তৃতীয়বার তাঁর বক্ষ বিদীর্ণ করে তাঁর ওপেন হার্ট সার্জারীর অপারেশন করেন যাতে তাঁর পক্ষে প্রথম আকাশ হতে সপ্তম আকাশ আরশ- কুরসীসহ কোটি কোটি আলোকবর্ষ মাইল ভ্রমণ করতে কোনো অসুবিধা না হয়। যেমন- পবিত্র কুরআন তার সত্যতার প্রমাণ বহন করে। যেমন-
أَلَمْ نَشْرَحْ لَكَ صَدْرَكَ وَوَضَعْنَا عَنْكَ وِزْرَكَ الَّذِي أَنْقَضَ ظَهْرَكَ . وَرَفَعْنَا لَكَ ذِكْرَكَ.
অর্থ: "আমি কি আপনার বক্ষ উন্মুক্ত করে দেইনি? আমি লাঘব করেছি আপনার বোঝা যা ছিল আপনার জন্যে দুঃসহ আপনার আলোচনাকে সমুচ্চ করেছি।” (সূরা-আল-ইনশিরাহ: আয়াত-১-৪)
অতএব, প্রতীয়মান হয় যে, বর্তমান যুগের চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা ওপেন হার্ট সার্জারির অপারেশন করে যে গর্ব করছেন, তার মূল সূত্রপাত হয়েছে আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সা)-এর উক্ত বক্ষ বিদীর্ণ হওয়ার ঘটনাগুলো হতেই, এতে কোনো সন্দেহ নেই।
📄 কুলি
স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীরা বলেন যে, আমাদের চার পাশের বায়ুমণ্ডলে ছড়ায়ে ছিটিয়ে আছে অসংখ্য ব্যাক্টেরিয়া, ভাইরাস জীবাণুসহ আরও নানা অসংখ্য প্রকার রোগ জীবাণু এবং সেগুলো আমাদের মুখের নিঃশ্বাসে আমাদের দেহের অভ্যন্তরে গিয়ে প্রবেশ করে এবং সেখানে ধ্বংস হয়। আর যেগুলো সেখানে ধ্বংস হতে পারে না, সেগুলো আবার সেখান হতে বের হয়ে আসে। উক্ত রোগ জীবাণুগুলো আমাদের দেহে আসা যাওয়া করার সময় ইহাদের কিছু কিছু আমাদের দেহের অভ্যন্তরের বিভিন্ন যন্ত্রাংশে প্রবেশ করে সেখানে সক্রিয় হয়ে উক্ত যন্ত্রাংশগুলোর ক্ষয়সাধন করতে থাকে। আবার কিছু কিছু সেখানে ধ্বংসও হয়ে যায় এবং যেগুলো ধ্বংস হতে পারে না সেগুলো আমাদের দেহের ক্ষয়সাধন করতে করতে পরিশেষে আমাদের দেহের উক্ত যন্ত্রাংশগুলো সম্পূর্ণরূপে অকেজো করে দেয় তখন আমাদের অবশ্যই মৃত্যুমুখে পতিত হতে হয়।
এছাড়াও উক্ত রোগ জীবাণুগুলো আমাদের মুখের নিঃশ্বাসের সাথে আমাদের দেহের অভ্যন্তরে আসা-যাওয়া করার সময় ইহাদের কিছু কিছু আমাদের দেহের প্রশ্বাসের নির্গত আঠালো কার্বন-ডাই-অক্সাইডের সাথে মিশে আমাদের দেহের খাদ্যনালীর টিউবের ভেতরের চারপাশের দেওয়ালে বিষাক্ত আবরণ ফেলতে থাকে, যার ফলে আমাদের কণ্ঠনালীতে কফ-কাশির সৃষ্টি হয়, কণ্ঠস্বর নষ্ট হয়, এভাবে দীর্ঘদিন চললে আমাদের কণ্ঠনালীতে নানা অসংখ্য জটিল জটিল রোগের সৃষ্টি হয়ে যায়। এছাড়াও এদের দ্বারা দেহের অভ্যন্তরের যন্ত্রাংশে আরও নানা অসংখ্য প্রকার জটিল জটিল রোগের সৃষ্টি হয়ে অবশেষে আমাদের দেহের খাদ্যনালীতে ও দেহের ভেতরের বিভিন্ন অংশে ক্যান্সারও পর্যন্ত হয়ে যায়।
উক্ত আলোচ্য ব্যাক্টেরিয়া ও ভাইরাসসহ অন্যান্য রোগ জীবাণু দ্বারা আমাদের মধ্যে যাদের নানা জটিল রোগসমূহ হয়ে গেছে, তাদের জন্য চিকিৎসকগণ চিকিৎসার জন্য নানা ঔষধ পত্র দিয়েছেন, কিন্তু যাদের উক্ত রোগসমূহ এখনও হয়নি, তাদেরকে উক্ত রোগসমূহ হতে রক্ষা পাওয়ার জন্য চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা বলেন যে, যারা নিয়মিতভাবে গোসল অথবা হাত মুখ ধৌত করার সময়, মুখের খাদ্যনালীতে সম্ভাব্য পরিমাণ আঙ্গুল দিয়ে গড় গড় করে কুলি করবে এবং তাদের এই কুলিতে তাদের উক্ত খাদ্য নালীর টিউবের ভেতরের চারপাশের দেওয়ালের মধ্যে আঠার মতো লেগে থাকা সমস্ত ব্যাক্টেরিয়া ও ভাইরাসসহ যাবতীয় রোগ জীবাণুগুলো বের হয়ে আসবে এবং এতে খাদ্যনালীর উক্ত টিউবের ভেতর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বেড়ে যাবে এবং তার খাদ্যনালীর মধ্যে কখনও কোনো মারাত্মক রোগ হবে না। এবং কণ্ঠস্বর সতেজ ও স্বক্রিয় থাকবে। এছাড়া গড় গড় করে কুলি করলে, ফুসফুস হৃদযন্ত্র ছাড়াও দেহের আরও অন্যান্য যন্ত্রের মধ্য হতে জমাকৃত ব্যাক্টেরিয়া ও ভাইরাসসহ আরও নানা বিষাক্ত রোগজীবাণু গড় গড় করা কুলির সাথে বের হয়ে আসে। ফলে ফুসফুস হৃদযন্ত্রসহ দেহের অন্যান্য যন্ত্রাংশগুলো পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্ন হয়, যার ফলে দেহের অভ্যন্তরীণ যন্ত্রাংশগুলো সতেজ ও স্বক্রিয় হয়, অর্থাৎ গড় গড় করে কুলি করলে দেহের আভ্যন্তরীণ সকল যন্ত্রাংশগুলো পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্ন থাকে, যার ফলে শ্বাসকার্য ভালো ভাবে চলে এবং এতে ফুসফুসের কার্যক্রম সুন্দর হয় এবং এর ফলে রক্ত দূষিত হয় না, আর রক্ত দূষিত না হওয়ার কারণেই দেহের অন্যান্য যন্ত্রাংশগুলো সহজে নষ্ট হয় না। ফলে দেহ দীর্ঘদিন সুস্থ থাকে। তাই চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা বলেন যে, দেহকে সুস্থ ও সবল রাখার জন্য গড় গড় করে কুলির বিকল্প আর কিছু দেখা যায় না।
এছাড়াও আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা আরো বলেন যে, রোযা ব্যতীত গোসলে ও ওযুতে, গড়গড় করে কুলি করলে কখনো তার মুখে কোনো সমস্যা হবে না। অর্থাৎ- তার গলায় কখনো টনসিল সমস্যা হবে না, জিহ্বা সতেজ থাকবে, দাঁতে কোনো সমস্যা হবে না খাদ্যে রুচি থাকবে, মুখের ভেতর কখনো কোনো ঘা হবে না ইত্যাদি।
অথচ মহানবী মুহাম্মদ (সা) উক্ত চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের বহুপূর্বেই পৃথিবীর প্রত্যেক মানুষের প্রত্যেক গোসলে (রোযা ব্যতীত) প্রত্যেক মানুষকে গড় গড় করে কুলি করা ফরয বা অত্যাবশ্যক করে কড়া নির্দেশ দিয়ে গেছেন, এছাড়াও তিনি রোযা ব্যতীত প্রত্যেক অজুতে গড় গড় করে কুলি করাকে সুন্নাত বা তাঁর আদর্শ বলে গণ্য করে এবং তা পালন করার জন্য তাঁর সকল উম্মতকে আদেশ করে গেছেন। এ সম্পর্কে নিম্নে তাঁর কয়েকটি হাদীস উল্লেখ করা হলো:
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زَيْدٍ عَ قَالَ رَأَيْتُ النَّبِيِّ وَ مَضْمَضَ وَاسْتَنْشَقَ مِنْ كَفِّ وَاحِدٍ فَعَلَ ذَلَكَ ثَلَثًا.
অর্থ: আবদুল্লাহ ইবনে যায়েদ (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, আমি মহানবী (সা)-কে অজুর সময় এক হাতের আঙ্গুল মুখে দিয়ে গড় গড় করে কুলি করতে দেখেছি, এভাবে তিনি তিনবার মুখে পানি দিয়ে মুখ ভালোভাবে পরিষ্কার করতেন। (তিরমিযী হা/২৮ ১ম খণ্ড, ৬ষ্ঠ পৃষ্ঠা, কিতাবুত-তাহারাত)
عَنْ ابْنِ أَبِي أَوْسٍ عَنْ جَدِهِ قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ مَا اسْتَوْكَفَ ثَلَثًا الْمَضْمَضَةَ وَالْإِسْتِنْشَاقَ عِنْدَ الْغُسْلِ.
অর্থ: ইবনে আবি আউস (রা) তাঁর দাদা হতে হাদীস বর্ণনা করে বলেন যে, আমি রাসূল (সা)-কে তাঁর গোসলের সময় দেখেছি যে, তিনি অবশ্যই মুখে হাত দিয়ে তিনবার গড় গড় করে কুলি করতেন এবং নাকে পানি দিয়ে সে পানি নিঃশ্বাসে টেনে মস্তিষ্কে উঠায়ে আবার জোরে ছেড়ে দিতেন। (নাসায়ী হা/৮৩ ১ম খণ্ড ২৬ পৃষ্ঠা কিতাবুত তাহারাত)
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ عَنْ عُقَيْلٍ عَنِ الزُّهْرِى عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ النَّبِيَّ شَرِبَ لَبَنًا فَدَعَا بِمَاءٍ فَمَضْمَضَ وَقَالَ إِنَّ لَهُ دَسَمًا.
অর্থ: ইবনে আব্বাস (রা) হতে বর্ণিত, নিশ্চয় মহানবী (সা) একদা দুধ পান করেন। তারপর তিনি পানি আনতে বলেন, তারপর তিনি সেই পানি দ্বারা গড় গড় করে কুলি করলেন এবং তিনি বললেন দুধে চর্বি রয়েছে। (তিরমিযী- হা/৮৯ ১ম খণ্ড ১৩/১৪ পৃষ্ঠা, কিতাবুত তাহারাত)
দুধ পান করার পর মহানবী (সা) গড় গড় করে কুলি তিনি এজন্যই করেছেন যে, দুধের ঘনত্বের কারণে চর্বি যেন গলার টিউবের ভিতরের চার পাশে লেগে থাকতে না পারে।
অতএব, প্রতীয়মান হয় যে, যারা রোযা ব্যতীত নিয়মিতভাবে গোসল কিংবা অজুর সময় গড় গড় করে কুলি করবে, তাদের গলার খাদ্য নালীর টিউবের ভেতরের চারপাশে কখনও কোনো প্রকার রোগজীবাণু শক্তভাবে অবস্থান করতে পারবে না এবং তাদের খাদ্যনালী কখনও কোনো প্রকার সংকোচন বা অস্বাভাবিক হবে না। অর্থাৎ গড় গড় করে কুলির দ্বারা খাদ্যনালী ও হৃদযন্ত্রের যাবতীয় রোগ জীবাণুর দূষিত ও বিষাক্ত পদার্থগুলো বের হয়ে আসে এবং এর দ্বারা খাদ্যনালী ও হৃদযন্ত্র যাবতীয় রোগজীবাণু হতে মুক্ত, সতেজ ও কর্মক্ষম থাকে। তাই প্রত্যেক মানুষের দেহের সুস্থতার জন্য গড় গড় করে কুলি করা আবশ্যক। যা মহানবী মুহাম্মদ (সা) বর্তমান যুগের স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীদের বহুপূর্বেই বিশ্ববাসীদেরকে বলে গেছেন।
📄 সুন্না
স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীরা বলেন যে, নিরিবিলি অবস্থায় গুন গুন করলে অথবা গুন গুন করে আস্তে আস্তে কথা বললে বা গান করলে মস্তিষ্কের ও হৃদযন্ত্রের বিষাক্ত দূষিত পদার্থগুলো সেখান হতে বাষ্প হয়ে বের হয়ে আসে। তখন মস্তিষ্ক ও হৃদযন্ত্র নানা অসুবিধাদায়ক জটলা হতে সতেজ ও আরামদায়ক হয়। এছাড়াও তারা লক্ষ্য করে দেখেছেন যে, নিয়মিতভাবে নিরিবিলি অবস্থায় যদি কেউ গুন গুন করে তবে তার কখনও মস্তিষ্কে ও হৃদযন্ত্রে কোনো রোগ হবে না। অর্থাৎ তার কখনও মাথা ব্যথা ও বুকে ব্যথা ও অস্থিরতাজনিত কোনো রোগ হবে না। এবং মাথা ধরা ও বুকে চাপ চাপ ভাব ও রক্তের চাপজনিত কোনো রোগ তার কখনও হবে না।
এছাড়াও স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীরা আরও বলেন যে, পবিত্র কুরআন পাঠ করার সময় যে নূ'নে গুন্না ও মি'মে গুন্না করে পাঠ করতে হয়, তাতে প্রতীয়মান হয় যে, নূ'নে গুন্না দ্বারা মস্তিষ্কের জন্য উপকার হয়। অর্থাৎ নূনে গুন্না দ্বারা মস্তিষ্কের যাবতীয় রোগ জীবাণু বাষ্প হয়ে নাকের ছিদ্র পথ দিয়ে বের হয়ে আসে এবং মী'মে গুন্না দ্বারা হৃদযন্ত্রের যাবতীয় রোগ জীবাণু বাষ্প হয়ে মুখের খাদ্য নালী দিয়ে বের হয়ে আসে। এ ছাড়াও স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীরা আরও বলেন যে, নূ'নে গুন্না দ্বারা নাকের ছিদ্র পথ কখনও সংকুচিত হতে পারে না। অর্থাৎ-নাকের ছিদ্র পথকে প্রসারিত বা স্বাভাবিক রাখার জন্য নূনে গুন্না অপরিহার্য এবং মীমে গুন্না দ্বারা ও নুনে গুন্না দ্বারা হৃদযন্ত্র ও খাদ্য নালী কখনও সংকুচিত বা অস্বাভাবিক হতে পারে না। তাই স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীরা বলেন যে, মস্তিষ্ক, হৃদযন্ত্র ও খাদ্যনালীকে নানা সংকোচন হতে নিরাপদ রাখার ইচ্ছা পোষণ করলে, অবশ্যই নূনে গুন্না ও মীমে গুন্নার মাধ্যমে তাদেরকে স্বাভাবিক ও সতেজ রাখার জন্য অবশ্যই তাকে কুরআন পাঠ করার সময় সর্বদাই নূনে গুন্না ও মীমে গুন্না করে পাঠ করতে হবে। নচেৎ তারা কখনও উক্ত রোগের সমস্যা হতে রক্ষা পাবে না।
অথচ মহানবী মুহাম্মদ (সা) স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীদের বহুপর্বেই উক্ত পবিত্র কুরআন পাঠ করার সময় নূনে গুন্না ও মীমে গুন্নাকে ওয়াজিব বা অতি জরুরি বলে ঘোষণা করে গেছেন। এবং তিনি বলেছেন, যদি কেউ পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত করার সময় নূনে গুন্না ও মীমে গুন্না আদায় না করে পাঠ করে, তবে সে গুনাগার হবে। এছাড়া তিনি আরো বলেন যে, পবিত্র কুরআন সঠিকভাবে সহীহ শুদ্ধ করে পাঠ করার মধ্যে মানব দেহের সর্বপ্রকার রোগের চিকিৎসা রয়েছে। যেমন এ সম্পর্কে মহানবী (সা)-এর একটি হাদীস-
حَدَّثَنَا سَعَادُ بْنُ سُلَيْمَانَ عَنْ أَبِي إِسْحَقَ عَنِ الْحَارِثِ عَنْ عَلِيِّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ خَيْرُ الدَّوَاءِ "القُرْآنُ" (ابن ماجه جلد الثاني صفه ٢٥٠ ابواب الطب)
অর্থ: আলী (রা) বলেন যে, মহানবী (সা) বলেছেন সর্বরোগের উত্তম চিকিৎসা হচ্ছে 'আল কুরআন' অর্থাৎ যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ করার সময় সহীহ শুদ্ধ করে নূনে গুন্না, মীমে গুন্না ও ইহার প্রতি হরফের ঠিক ঠিক মাখরাজ আদায় করে পাঠ করবে তার জীবনে কখনও কোনো রোগ হবে না। (ইবনে মাজাহ হা/৩৫০১, ২য় খণ্ড ২৫০ পৃষ্ঠা আবওয়াবুত তিব্ব।)
অতএব লক্ষ্য করলে দেখা যায় যে, নিরিবিলি অবস্থায় গুন গুন করে সুর করলে এতে এর প্রভাব মস্তিষ্কে ও হৃদযন্ত্রে পড়ে এবং এর দ্বারা হৃদযন্ত্রে ও মস্তিষ্কের যাবতীয় সমস্যা ও বিষ ব্যথা দূরীকরণে সাহায্য করে। তাই, যাদের মস্তিষ্কে ও হৃদযন্ত্রে সমস্যা আছে তাদের অবশ্যই উচিত নিরিবিলিতে স্বল্প সময়ের জন্য হলেও কিছুক্ষণ গুন গুন করে সুর করা। অথবা পবিত্র কুরআন পাঠের মাধ্যমে নূনে গুন্না ও মীমে গুন্নাগুলো ঠিক ঠিক মতো আদায় করা। এছাড়া নূনে গুন্নাহ ও মীমে গুন্না দ্বারা শ্বাস-প্রশ্বাসেরও কার্যে বিশেষ উপকার সাধন করেন।
📄 গোঁফ
স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীরা বলেন যে, গোঁফকে লম্বা করে রাখলে, নাকের নিঃশ্বাসের সাথে দেহের আভ্যন্তরীণ হতে বিষাক্ত কার্বন-ডাই-অক্সাইড ও দেহের আরও নানা রোগজীবাণু বের হয়ে আসে। এগুলো উক্ত লম্বা গোঁফে লেগে থাকে। এছাড়াও দেহ হতে নির্গত দূষিত পদার্থ উক্ত লম্বা গোঁফের গোড়া দিয়ে বের হয়ে উক্ত লম্বা গোঁফের সর্বত্র অবস্থান করতে থাকে। এই লম্বা বিষাক্ত বা দূষিত গোঁফ যখন কোনো গ্লাসে কোনো পানীয় দ্রব্য পান করার সময় যে কোনোভাবে উক্ত দূষিত গোঁফ উক্ত পানীয় দ্রব্যের মধ্যে লেগে উক্ত গোঁফ ভিজে যায়, তখন উক্ত গ্লাসের পানীয় দ্রব্য দূষিত হয়ে যায় এবং তখন তা পান করলে, দূষিত জীবাণুগুলো দেহের ভেতর চলে যায় এবং সতেজ হয়ে দেহে আবার নতুন করে যে যে রোগের পরিবেশ অনুসারে সেই সেই রোগের সৃষ্টি করে। তাই স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীরা বলেন যে, গোঁফের দূষিত পদার্থ বা রোগজীবাণু হতে বাঁচা বা রক্ষা পাওয়ার একমাত্র উপায় হচ্ছে গোঁফ না রাখা, অর্থাৎ গোঁফ কেটে ফেলে রাখার আর কোনো বিকল্প নেই।
অথচ মহানবী মুহাম্মদ (সা) উক্ত স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীদের বহুপূর্বেই গোঁফ রাখাকে তাঁর প্রত্যেক উম্মতের জন্য হারাম করে গেছেন। যেমন- এ সম্পর্কে তাঁর একটি হাদীস:
عَنْ زَيْدٍ ابْنِ أَرْقَمَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ لِمْ يَأْخُذُ شَارِبَهُ فَلَيْسَ مِنَّا.
অর্থ: যায়িদ ইবনে আরকামা (রা) বলেন যে, মহানবী (সা) বলেছেন, কেউ যেন গোঁফ না রাখে। যদি কেউ গোঁফ রাখে সে অবশ্যই আমাদের দলভুক্ত নয়। (নাসায়ী, হা/১৩ ১ম খণ্ড ৭ম পৃষ্ঠা কিতাবুত তাহারাত।)