📄 অজু ও রক্তচাপ
শরীয়তে আদেশ রয়েছে, তোমরা রাগান্বিত হলে অজু করবে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের মতে, যখন রক্তচাপ বেড়ে যাবে তখন অজু করবে। এ উভয় বিধান লক্ষ্য করলে গবেষণার নতুন পথ খুলে যায়। ক্রোধের সময় রক্তচাপ বৃদ্ধি পায়। হৃদরোগের কারণে যখন উচ্চ রক্তচাপ দেখা দেয় তখন অজু করা হলে রক্তচাপ কমে যায়।
📄 একজন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের অভিমত
একজন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ বলেছেন, আমার অভিজ্ঞতা হচ্ছে, উচ্চ রক্ত চাপের রোগীকে অজু করাতে হবে। অজু করানোর পর রক্তচাপ পরিমাপ করা হলে নিশ্চিতভাবে দেখা যাবে, রক্তচাপ কমে গেছে।
এ অভিমত ব্যক্ত করেছেন মনস্তত্ত্ববিদ, হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার সালামত আযিয। তিনি বলেন, অজু হৃদরোগ আরোগ্য হওয়ার একটি উত্তম উপায়। পাশ্চাত্যের মনস্তত্ত্ববিদরা প্রতিদিন অজুর মতো করে কয়েকবার দেহে পানি লাগানোর পরামর্শ দেন, কিন্তু এসব জ্ঞান গবেষণার কয়েকশ বছর আগেই ইসলাম ওযুর বিধান প্রবর্তন করেছে।
অজু করার সময়ে প্রথমে হাত ধোয়া, এরপর কুলি করা, তারপর নাকে পানি দেয়া, তারপর মুখ ধোয়া, তারপর পর্যায়ক্রমে অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ধোয়ার বিধান রয়েছে। পর্যায়ক্রমিক এ রকম ধৌতকরণের মধ্যেও বিজ্ঞানসম্মত যৌক্তিকতা রয়েছে।
📄 অজু করার পর অবশিষ্ট পানি
হাদীস গ্রন্থসমূহে রয়েছে, অজু করার পর অবশিষ্ট পানি পান করা হলে সুস্থ থাকা যায়। এ বিষয়ে ডাক্তার ফারুক আহমদ গবেষণা করে বলেছেন, অজু করার পর অবশিষ্ট পানি পান করার সুফল প্রথমে কিডনী লাভ করে। এ পানি পান করার ফলে প্রস্রাব স্বাভাবিক হয়ে যায়।
এ ছাড়া অজুর অবশিষ্ট পানি পান করা হলে অবৈধ সংসর্গের ইচ্ছা মনে জাগে না। যেসব রোগীর ফোঁটা ফোঁটা প্রস্রাব হয় তাদের এ সমস্যা দূর হয়ে যায়। এছাড়া অজুর অবশিষ্ট পানি পান হৃদপিণ্ড, কিডনি, পাকস্থলীর শুষ্কতা দূর করে দেয়।
📄 পশ্চিম জার্মানিতে একটি সেমিনার এবং অজু
পশ্চিম জার্মানিতে এ বিষয়ে একবার একটি সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছিল আলোচ্যসূচি ছিল অবসাদের চিকিৎসা ওষুধ ব্যতীত অন্য কী উপায়ে করা যায়? একজন ডাক্তার জানালেন, তিনি অবসাদের রোগীদের কয়েকজনের ওপর পরীক্ষা করেছেন। তাদের প্রতিদিন পাঁচবার মুখ ধুতে বলেছেন। কয়েক মাস পর দেখা গেলো তারা সুস্থ হয়ে গেছে। সেই ডাক্তার পরে মানসিক রোগীদের আলাদা একটি দল গঠন করেছেন, তাদের হাত, পা, মুখ দৈনিক পাঁচবার ধোয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এর ফলে তাদের মানসিক রোগ দূর হয়ে গিয়েছিল। আলোচনার শেষ দিকে তিনি এ সিদ্ধান্তে আসেন, হতাশা রোগ মুসলমানদের কম হয়। কারণ তারা প্রতিদিন পাঁচবার হাত-মুখ ধোয়, অর্থাৎ অজু করে।