📄 দাড়ি খিলাল করা
অজু করার সময় হালকা দাড়ি ধোয়া যায় এবং ঘন দাড়ি আঙ্গুল দ্বারা খিলাল করে চুলগুলোকে ভিজানো হয়, এটা নবী করীম (সা)-এর সুন্নাত। দাড়ি ধোয়া অথবা খিলাল করার দ্বারা চুলের গোড়া ভিজে যায় এবং সেগুলো মজবুত ও পরিষ্কার হয়ে যায়। দাড়ি খিলাল করার দ্বারা সব প্রকারের জীবাণু (Common Germs) এবং (Contaglious Germs) ইত্যাদি দূর হয়ে যায়। দাড়ির চুলে জমে থাকা পানি গলায় শক্তি যোগায়। এভাবে থাইরয়েড গ্লান্ড এবং গলার সকল রোগ হতে বাঁচায়।
নবী করীম (সা)-এর সব কথায় হিকমত ও কল্যাণ রয়েছে। অজু ও নামায-এর বিধানাবলি যা একাধারে প্রভুর সন্তুষ্টি ও আত্মিক উন্নতি এবং কল্যাণ সাধিত হয়। ঐভাবে মানবদেহ এবং দুনিয়ার জীবন-এর কয়েকটি সমস্যা হতে বেঁচে যায়।
আজ মানুষের দুনিয়া-আখেরাতের জীবনের কল্যাণ ও সফলতার নিশ্চয়তা একমাত্র ইসলামের বিধানের ওপর আমল করা, অপর কোনো ধর্ম এরূপ বৈশিষ্ট্যের অধিকারী নয়। ঐ কারণে সব ধর্ম বাতিল হয়ে গিয়েছে এবং আল্লাহ তা'আলা ইসলামকে কিয়ামত পর্যন্ত স্থায়ী রাখবেন।
📄 কনুই পর্যন্ত হাত ধোয়া
অজু করার সময় কনুইসহ হাত একবার ধোয়া ফরয এবং তিনবার ধোয়া সুন্নাত। মুমিন বান্দার এ ধরনের আমলকে রহমতের কারণও বলা হয়েছে। এ ব্যাপারে নবী করীম (সা) ইরশাদ করেন:
فَإِذَا غَسَلَ يَدَيْهِ خَرَجَتِ الْخَطَايَا مِنْ يَدَيْهِ حَتَّى تَخْرُجَ مِنْ تَحْتِ أَظْفَارِ يَدَيْهِ.
অর্থ: যখন হাত ধৌত করে তখন হাতের গুনাহ ঝরে যেতে থাকে এমনকি নখের নিচ দিয়েও করতে থাকে।
(সুনানে নাসায়ী: হা/১০৩ মাথাসহ দুই কান মাসেহ অধ্যায়- ১০৩ নম্বর)
📄 মাথা মাসেহ করা
এক-চতুর্থাংশ মাথা মাসেহ করা ফরয এবং একবার পূর্ণ মাথা মাসেহ করা সুন্নাত। মুসলমানদের এক আমলকেও খারাপ কাজের কাফফারা নির্ধারণ করে দিয়েছেন? এ ব্যাপারে নবী করীম (সা) ইরশাদ করেন-
فَإِذَا مَسَحَ بِرَأْسِهِ خَرَجَتِ الْخَطَايَا مِنْ رَأْسِهِ حَتَّى تَخْرُجَ مِنْ تَحْتِ أُذُنَيْهِ.
অর্থ: অজুকারী যখন মাথা মাসেহ করে, তখন তার মাথা হতে গুনাহসমূহ ঝরতে থাকে এমনকি তার দুই কানের নিচ হতেও। (সুনানে নাসায়ী, হা/১০৩ মাথাসহ কান মাসেহ করা অধ্যায়- ১০৩ নম্বর)
মাথা মাসেহ করার মধ্যেও অনেক বৈজ্ঞানিক হিকমত পাওয়া যায়। যেহেতু জ্ঞানবান বলতে জানেন যে, মাথার ওপরের চুল মানুষের এন্টেনার (Antenna) কাজ করে থাকে। এ কথা সব অনুভূতিসম্পন্ন লোকই জানে যে, মানুষ তথ্যের ভান্ডারের নাম। যতক্ষণ পর্যন্ত যেকোনো কাজের ব্যাপারে খবর না পায় ততক্ষণ পর্যন্ত সে কোনো কাজ করতে পারে না।
যেমন খাদ্য আমরা খাই যখন ক্ষুধা লাগে, পানি তখন পান করি যখন ভেতর হতে পানি পানের চাহিদা সৃষ্টি হয়। শোবার জন্য বিছানার ওপর ঐ সময়ে শুয়ে পড়ি যখন আমাদের এ খবর মিলে যে, আমাদের শিরাগুলোর আরামের প্রয়োজন। খুশির জবা বা অনুভূতি আমাদের ওপর ঐ সময় প্রকাশিত হয় যখন আমাদের খুশির বিষয়ে কোনো খবর জমা হয়। এরূপে অসন্তুষ্টি, রাগ ইত্যাদিও খবরের ওপর নির্ভর করে হয়।
অজু করার নিয়ত মূলত আমাদের এ কথার দিকে মনোযোগ সৃষ্টি করে যে, আমরা এ কাজ আল্লাহ তাআলার জন্য করছি। অজুর বিধান পূর্ণ করার পর যখন আমরা মাথা মাসেহ পর্যন্ত পৌঁছি তখন আমাদের মেধা আল্লাহ ব্যতীত অন্য শক্তি হতে ঘুরিয়ে আল্লাহ তায়ালার সত্তার দিকে কেন্দ্রিভূত হয়। মাসেহ করার সময় যখন আমরা মাথার ওপর হাত বুলাই মাথার চুলগুলো (Antenna) এ কথাকে গ্রহণ করে যা সকল প্রকারের কুসংস্কার, বঞ্চনা এবং আল্লাহ তা'আলার গণ্ডির বিপরীত, অর্থাৎ বান্দার মেধা এ সংবাদকে গ্রহণ করে যা সকল সংবাদের মূল উৎস (আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা) এর রাস্তাই আমাদের রাস্তা।
📄 কান মাসেহ করা
কান মাসেহ করা রাসূল (সা)-এর সুন্নাত। কানের ভেতরের দিকে (পেট) ভিজা শাহাদাত আঙ্গুল দ্বারা এবং বাইরের দিকে (পিঠ) আঙ্গুল দ্বারা মাসেহ করার মাধ্যমে কানের সকল প্রকারের ময়লা দূর হয়ে যায় এবং এর দ্বারা শ্রুতির ওপর অন্তরঙ্গ প্রভাব পড়ে থাকে। যখন কানগুলো মাসেহ করা হয় তখন হৃদয়ের ওপর আশ্চর্য রকমের আনন্দের ছাপ পড়ে থাকে।