📘 পরিবেশ ও স্বাস্থ বিজ্ঞানে মুহাম্মদ সাঃ > 📄 অজুর পানি প্রবাহ

📄 অজুর পানি প্রবাহ


একজন নামকরা জার্মানি গুণী ও প্রাচ্যবিদ জাওয়াকীম জীবয়ুলদ স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কুরআন মাজীদ ও ফুরকানে হামীদের শিক্ষার ওপর চিন্তা-ভাবনা করার পরে এ সত্যকে স্বীকার করে তিনি লিখেছেন-
গোসল দ্বারা দেহ এবং অজুর দ্বারা এর অঙ্গগুলো পবিত্র করা জরুরি, যা সাধারণ কাজকর্ম অথবা চলা-ফেরার মধ্যে খোলা থাকে। মুখ পরিষ্কার করা মিসওয়াক করা, নাকের ভেতরকার ময়লা-আবর্জনা দূর করা -এ সকলই স্বাস্থ্য রক্ষার আবশ্যকীয় বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত এবং এ আবশ্যকগুলোর বড় শর্ত হলো পানি প্রবাহের ব্যবহার যা বাস্তবে জীবাণুর অস্তিত্ব হতে পবিত্র করে।

📘 পরিবেশ ও স্বাস্থ বিজ্ঞানে মুহাম্মদ সাঃ > 📄 অজুর চিকিৎসাগত উপকারিতা

📄 অজুর চিকিৎসাগত উপকারিতা


অজুর ধারা অনুযায়ী অজুর চিকিৎসাগত ও বৈজ্ঞানিক উপকারিতা বর্ণনা করা হলো।

📘 পরিবেশ ও স্বাস্থ বিজ্ঞানে মুহাম্মদ সাঃ > 📄 হাত ধোয়া

📄 হাত ধোয়া


যখন অজু করা হয় তখন সর্বপ্রথম দুহাত তিনবার ধোয়া হয়, এরূপ করা নবী করীম (সা)-এর সুন্নাত। হাদীস শরীফে এরূপ কাজকে গুনাহ হতে পাক করে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সেহেতু রাসূল (সা) ইরশাদ করেছেন-
فَإِذَا غَسَلَ يَدَيْهِ خَرَجَتِ الْخَطَايَا مِنْ يَدَيْهِ حَتَّى تَخْرُجَ مِنْ تَحْتِ أَظْفَارِ يَدَيْهِ.
অর্থ: যখন হাত ধৌত করে তখন হাতের গুনাহ পড়ে যেতে থাকে, এমনকি নখের নিচ দিয়েও পড়তে থাকে। (সুনানে নাসায়ী: হা/১০৩ মাথাসহ দুইকান মাসেহ অধ্যায়: ১০৩ নম্বর)
যেহেতু হাত ধোয়ার দ্বারা মানবদেহে প্রচুর পরিমাণে উপকার সাধিত হয়, এর কয়েকটি আলোচনা করা হলো:
আমরা বিভিন্ন জিনিস হাত দ্বারা ধরে থাকি, যেহেতু হাত খোলা থাকে এতে হাতের ওপর বিভিন্ন রোগের জীবাণু বা বিভিন্ন কেমিক্যাল (Chemicals) বিদ্যমান থাকে যা আমাদের হাতকে কলুষিত করে। যদি হাত না ধুয়ে কুলি করা হয় বা নাকে পানি দেয়া হয় তাহলে এসব জীবাণু সহজেই আমাদের মুখ বা নাকের মাধ্যমে দেহের মধ্যে প্রবেশ করে এবং দেহকে নানা প্রকারের রোগে আক্রান্ত করে। এজন্য হাত ধোয়ার উপর এতোই গুরুত্ব দেয়া হয়েছে যাতে বিভিন্ন ধরনের রোগ আমাদের দেহের মধ্যে প্রবেশ করতে না পারে। এর ধারাবাহিকতায় আমেরিকার অধ্যাপক ডাক্তার সাহেদ আতহার এম. ডি লিখেছেন-
Hand washing is being emphasized more and more in Hospitals now in order to prevent spread of germs. However Non-Maslim did not know that hand washing is so importan has been ordered in the Quran 1400 years ago. (Health Guidelines from Quran and Sunnah P.60)
বর্তমানে হাত ধোয়ার ওপরে যথেষ্ট জোর দেয়া হচ্ছে, হাসপাতালগুলোতে যাতে জীবাণু ছড়িয়ে পড়তে না পারে। অমুসলিমগণ জানেন না যে, হাত ধোয়ার ওপরে যথেষ্ট গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
খাজা শামসুদ্দিন আজিমী লিখেছেন, যখন অজু করি তখন আঙ্গুলের ফাঁকগুলো হতে বের হওয়া রশ্মিগুলো এমন বৃত্ত তৈরি করে যে, যার ফলে আমাদের অভ্যন্তরীণ অন্ধকার দূরীকরণের, বৈদ্যুতিক শৃংখলার শক্তি বেড়ে যায় এবং বৈদ্যুতিক প্রবাহ এক সীমা পর্যন্ত হাতের মধ্যে ঝলক দেয়, এ কাজের দ্বারা হাতের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়, সঠিক পদ্ধতিতে অজু করার দ্বারা আঙ্গুলের মধ্যে এমন লাবণ্য তৈরি হয়, তার দ্বারা মানুষের মধ্যে চারিত্রিক সংশোধনের কাগজ বা সিটের ওপর পরিবর্তন করার সুপ্ত প্রতিভা প্রকাশিত হয়ে যায়।

📘 পরিবেশ ও স্বাস্থ বিজ্ঞানে মুহাম্মদ সাঃ > 📄 কুলি করা

📄 কুলি করা


অজুর সময় তিনবার কুলি করা সুন্নাত। এর দ্বারা গুনাহ ঝরে যায়। যেমন রাসূল (সা) ইরশাদ করেন-
إِذَا تَوَضَّأَ الْعَبْدُ الْمُؤْمِنُ فَتَمَضْمَضَ خَرَجَتِ الْخَطَايَا مِنْ فَمِهِ.
অর্থ: যখন মুমিন বান্দা অজু করার সময় কুলি করে, তখন তার মুখের সকল গুনাহ ঝরে যায়। (মুসনাদে আহমদ, খ-৫, আরবি পৃ. ২৬৩) (সুনানে নাসায়ী, হা/১০৩ মাথাসহ দু-কান মাসেহ করা অধ্যায়, ১০৩ নং)
কুলির দ্বারা দাঁতের মধ্যকার খানা ঢুকে থাকা কণা মুখ হতে বের হয়ে যায়। যদি দাঁতের অভ্যন্তর হতে এসব কণা বের না করা যায় তাহলে এগুলো দাঁত, মস্তিষ্ক এবং গলার বিভিন্ন রোগের কারণ হয়ে যায়।
কুলি করার দ্বারা যা মুখকে পরিষ্কার করে, তা দাঁতের রোগ হতে মুক্ত করে, চোয়াল মজবুত হয় এবং দাঁতের মধ্যে উজ্জ্বলতা সৃষ্টি হয়, রুজি বেড়ে যায় এবং মানুষ টনসিলের রোগ হতে সুরক্ষিত থাকে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00