📘 পরিবেশ ও স্বাস্থ বিজ্ঞানে মুহাম্মদ সাঃ > 📄 অজুর দৈহিক উপকারিতা

📄 অজুর দৈহিক উপকারিতা


প্রফেসর ডাক্তার মুহাম্মাদ আলমগীর খান এবং আরসিপি জীবাণু হতে আত্মরক্ষার জন্য অজুর গুরুত্ব বর্ণনা করতে গিয়ে লিখেন:
অজু স্বাস্থ্য সুরক্ষার মৌলনীতির একটি। এটি জীবাণুর বিরুদ্ধে এক অতি বড় ঢাল। যেসব জীবাণুর কারণে বহু রোগ জন্মলাভ করে থাকে। এসকল জীবাণু আমাদের চারদিক ঘিরে রয়েছে। বায়ু, যমিন এবং আমাদের ব্যবহৃত সব জিনিসের ওপর এ কষ্টদায়ক (জীবাণু) প্রভাব বিস্তার করে আছে।
মানবদেহ একটি দুর্গের ন্যায়, ছিদ্রপথ অথবা জখমের স্থান ছাড়া এর মধ্যে কেউ প্রবেশ করতে না পারে। নাক মুখের ছিদ্রগুলো সর্বদা জীবাণুর আক্রমণের মধ্যে আছে এবং আমাদের হাতগুলো এসব জীবাণুকে ভেতরে প্রবেশের ক্ষেত্রে (আত্মঘাতী) সাহায্য করে থাকে। অজুর মাধ্যমে আমরা শুধু এসব ছিদ্রের মধ্যেই নয় বরং আমাদের দেহের ঐ সব অংশের দিকে কয়েকবার ধৌত করা হয়, যা কাপড় দ্বারা ঢাকা থাকে না এবং সহজে জীবাণুর আশ্রয়স্থল হয়ে থাকে, এজন্য অজু আমাদেরকে অনেক রোগ হতে রক্ষা করার উত্তম এক মাধ্যম।

📘 পরিবেশ ও স্বাস্থ বিজ্ঞানে মুহাম্মদ সাঃ > 📄 অজু ও মানবদেহ

📄 অজু ও মানবদেহ


হাকীম সাইয়েদ মুহাম্মদ কামালুদ্দীন হুসাইন হামদানী (যিনি মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় আলীগড়, চিকিৎসা ও আঘাত বিভাগের প্রধান এবং ঐ বিশ্ববিদ্যালয় হতে দীনিয়াত এ ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেছেন) তিনি অজুর দৈহিক উপকারিতার বিষয়ে লিখেছেন:
'অজুর দ্বারা মানুষের ঐ সব অঙ্গ যা খোলা থাকে যেমন- হাত, মুখ, নাক, চোখ, চেহারা ইত্যাদি ভালো করে পরিষ্কার হয়ে যায়। এসব অঙ্গগুলো সব সময় খোলা থাকায় এবং এগুলো দুনিয়ার কাজে ব্যস্ত থাকার কারণে বিভিন্ন ধরনের দুর্গন্ধ ও নোংরা জিনিসের সাথে মিলে থাকে এবং বেশির ভাগ সক্রিয় রোগ সৃষ্টির কারণ হয়ে থাকে। অজুর মাধ্যমে এসব আবর্জনা ধৌত হয়ে পরিষ্কার হয়ে যায়। অজুর আরও উপকারিতা এই যে, ঘুম ও স্বপ্নের মাধ্যমে যে অবস্বাদ গ্রস্ততা, ক্লান্তি মানব প্রকৃতিতে সৃষ্টি হয় তা অজুর পরে দূর হয়ে যায়। মানুষের মন মগজে সতেজতা সৃষ্টি হয়ে যায়। এজন্য যে, অজু শিরার কেন্দ্রগুলোতে কম্পন সৃষ্টি করে। (ইসলামের স্বাস্থ্যগত মূলনীতি, পৃ. ৩১, ডা. সাইয়েদ হাকীম মুহাম্মদ কামালুদ্দীন, প্রকাশক হাইয়া আলাল ফালাহ সোসাইটি, আলীগড়, ভারত)।

📘 পরিবেশ ও স্বাস্থ বিজ্ঞানে মুহাম্মদ সাঃ > 📄 অজুর উপকারিতা

📄 অজুর উপকারিতা


তুরস্কের ডাক্তার ডডহুলুক নূর বাকী, অজু স্বাস্থ্যের সর্বোত্তম মাধ্যম-এর অধীনে অজুর চিকিৎসাগত উপকারিতা বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন। প্রথমে তিনি রক্ত পরিসঞ্চালন পদ্ধতি (Blood Circulatory System) এর উপর অজুর প্রভাবের বর্ণনা দিয়েছেন। এরপর লিমফটিক সিসটেম (Lymphatic)-এর উপর অজুর মাধ্যমে ধারাবাহিক প্রভাবের বিশ্লেষণ করেছেন যা নানা প্রকারের রোগ ব্যাধি হতে সুরক্ষার নিয়ম। সর্বশেষে অজু এবং শারীরিক বৈদ্যুতিক স্থিতি-এর উপর বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে আলোচনা করেছেন। (A static electricity of the body)
ডাক্তার নূর বাকী-এর দৃষ্টিতে, যে পদ্ধতিতে অজু করা হয় এর উদ্দেশ্য, দেহের মধ্যকার সংরক্ষণের ব্যবস্থা শক্তিশালী করা। এর কয়েকটি দিক হলো-
১. দেহকে সংরক্ষণের জন্য লিমফটিক ব্যবস্থা (Lymphatic System) এর সঠিক পদ্ধতিতে কাজ পূর্ণ হওয়ার জন্য আবশ্যক যে, দেহের কোনো ক্ষুদ্র অংশেও নজর করা যায় না। অজু এ কাজের দায়িত্ব বহন করে।
২. দেহের মধ্যকার সংরক্ষণের নিয়ম এর নড়া-চড়া করার জন্য কেন্দ্রস্থল এ স্থান যা নাকের পিছনে নাসারন্ধ্রের মধ্যে হয়ে থাকে এবং এ সকল স্থান ধৌত করা বিশেষভাবে অন্তর্ভুক্ত।
৩. ঘাড়ের দুপাশে অজুর দ্বারা কম্পন সৃষ্টি করার লিমফটিক পদ্ধতি (Lymphatic System)-এর ক্রয়ে ফার্লানের মধ্যে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

📘 পরিবেশ ও স্বাস্থ বিজ্ঞানে মুহাম্মদ সাঃ > 📄 অজুর পানি প্রবাহ

📄 অজুর পানি প্রবাহ


একজন নামকরা জার্মানি গুণী ও প্রাচ্যবিদ জাওয়াকীম জীবয়ুলদ স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কুরআন মাজীদ ও ফুরকানে হামীদের শিক্ষার ওপর চিন্তা-ভাবনা করার পরে এ সত্যকে স্বীকার করে তিনি লিখেছেন-
গোসল দ্বারা দেহ এবং অজুর দ্বারা এর অঙ্গগুলো পবিত্র করা জরুরি, যা সাধারণ কাজকর্ম অথবা চলা-ফেরার মধ্যে খোলা থাকে। মুখ পরিষ্কার করা মিসওয়াক করা, নাকের ভেতরকার ময়লা-আবর্জনা দূর করা -এ সকলই স্বাস্থ্য রক্ষার আবশ্যকীয় বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত এবং এ আবশ্যকগুলোর বড় শর্ত হলো পানি প্রবাহের ব্যবহার যা বাস্তবে জীবাণুর অস্তিত্ব হতে পবিত্র করে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00