📄 গর্ভবতী মহিলাদের জন্য কিছু টিপস
* আবু হুরায়রা (রা) হতে বর্ণিত, রাসূল (সা) ইরশাদ করেছেন- আমার নিকট নেফাস ওয়ালী মহিলাদের খেজুর সমতুল্য কোনো শেফা (রোগমুক্তি) নেই এবং রোগীর জন্য মধুতুল্য কোনো জিনিস নেই।
* রাসূল (সা) ইরশাদ করেছেন, "নেফাসের অবস্থায় স্বীয় স্ত্রীদেরকে খেজুর খাওয়াও। কেননা, মরিয়ম (আ) থেকে যখন ঈসা (আ) আল্লাহ তা'আলার ইলমের চেয়ে কোনো উত্তম খাদ্য থাকতো তবে তিনি তারই ব্যবস্থা করবেন।
* রাসূল (সা) ইরশাদ করেছেন, নেফাসের মধ্যে নারীদের খাদ্য তালিকায় তাজা খেজুর অথবা শুকনা খেজুর থাকে, তার সন্তান হয় অত্যন্ত সহনশীল (নযহাতুল মজলিশ দ্বিতীয় খণ্ড)।
📄 মহামারী আকাশে প্লেগ রোগে জনগণের করণীয়
ওমর (রা)-এর খেলাফতকালে একবার সাহাবায়ে কিরামের একটি দল খলিফার সঙ্গে সিরায়ার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। দামেস্ক-এর অদূরে জাবিয়া নামক স্থানে পৌছার পর তারা খবর পান। সিরিয়ায় এখন মহামারী আকারে প্লেগের প্রাদুর্ভাব হয়েছে। প্রত্যহ বহু লোক এ রোগে আক্রান্ত হচ্ছে এবং ব্যাপক আকারে প্রাণহানী ঘটছে। এ সংবাদ পাওয়ার পর সাহাবায়ে কিরাম দুই দলে বিভক্ত হয়ে পড়লেন। একদল বললেন, আমরা মহামারীর ভিতর প্রবেশ করবো না এবং জ্বলন্ত আগুনে লাফিয়ে পড়বো না। অন্যদল অভিমত প্রকাশ করলেন, আমরা সেখানে যাবো। কেননা, কুরআনে মৃত্যুর ভয়ে স্থান ত্যাগ করার নিন্দা করা হয়েছে।
"আপনি সে লোকদেরকে দেখেননি, যারা মৃত্যুর ভয়ে দেশ ত্যাগ করেছিল। অথচ তারা সংখ্যায় কয়েক হাজার"।
অতঃপর উভয় দল খলিফার খেদমতে হাজির হয়ে তাঁর অভিমত জানতে চাইল। খলিফা বললেন, এখান থেকে প্রস্থান করা উচিত এবং মহামারীর ভেতর প্রবেশ না করা উত্তম। সাহাবায়ে কিরামের মধ্যে যাদের অভিমত খলিফার বিপরীত ছিল তারা আরজ করলেন, আমরা আল্লাহ তা'য়ালার তাকদীর দেখে তাঁরই তাকদীরের দিকে যাব। এতে দোষ কি? এরপর তিনি একটি দৃষ্টান্ত অবতারণা করে বললেন, মনে কর তোমাদের মধ্যে কারো কাছে একটি ছাগলের পাল আছে এবং বিচরণের জন্য দুটি চরণ ভূমি আছে। একটি সবুজ ঘাসে পূর্ণ ও অপরটি শুষ্ক। পালের মালিক যদি সবুজ ঘাস বিশিষ্ট চরণ ভূমিতে ছাগল চড়ায়, তবু আল্লাহর তাকদীর অনুযায়ী হবে। শ্রোতারা সকলেই খলিফার এই বক্তব্য যথার্থ বলে মেনে নিল। এরপর তিনি পরামর্শের জন্য আব্দুর রহমান ইবনে আওফ (রা)-কে ডেকে পাঠালেন। পরের দিন আব্দুর রহমান এসে বললেন, আমিরুল মুমেনিন এ সম্পর্কে আমি রাসূল (সা)-এর মুখ থেকে যা শুনেছি তাই আমার অভিমত। খলিফা বললেন, সুবহান আল্লাহ আপনি কি শুনেছেন, তাড়াতাড়ি বলে ফেলুন। আব্দুর রহমান বললেন, আমি রাসূল (সা)-কে বলতে শুনেছি "যখন তোমরা কোনো ভূ-খণ্ডের মহামারীর কথা শুন তখন সেখানে প্রবেশের দুঃসাহস দেখিও না। আর যদি যেখানে তোমরা আছো সেখানে মহামারী দেখা দেয়, তবে ভয়ে সে স্থান ত্যাগ কর না”। ওমর (রা) এই হাদীসে নিজের মতের সমর্থন দেখতে পেয়ে খুবই আনন্দিত হলেন এবং আল্লাহ তা'আলার শুকরিয়া আদায় করলেন। অতঃপর তিনি সাহাবায়ে কিরাম জাবিয়া থেকে সরিয়ে আনলেন।
এখন দেখা উচিত এ ধরনের বিষয় যদি তাওয়াক্কুলের শর্ত হয় তবে সাহাবায়ে কেরাম কেমন করে তাওয়াক্কুল বর্জন করতে একমত হলেন? অথচ তাওয়াক্কুল দ্বীনের উচ্চতর মাকামসমূহের অন্যতম।
এখন প্রশ্ন হতে পারে, তাহলে যে শহরে মহামারী সেখান থেকে চলে যেতে কেন নিষেধ করা হলো? অথচ চিকিৎসা শাস্ত্র অনুযায়ী মহামারীর কারণ হচ্ছে বায়ু দূষিত হওয়া। দূষিত বায়ু থেকে বেঁচে থাকা একটি উত্তম চিকিৎসা। হাদীসে এর অনুমতি দেয়া হলো না কেন? এর জবাব, নিঃসন্দেহে দূষিত পরিবেশ থেকে পলায়ন করা নিষিদ্ধ হতে পারে না। দূষিত বায়ু কেবল বাহ্যিক দেহে লাগলেই ক্ষতি হয়ে যায় না; বরং সর্বক্ষণ এতে শ্বাস-গ্রহণ করলে ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে। যদি বায়ুতে রোগ জীবানূ মিশ্রিত থাকে এবং তাতে বেশি মাত্রায় শ্বাস গ্রহণ করা হয়। তবে শ্বাসের মাধ্যমে জীবানু দেহের অভ্যন্তরে ক্রমান্বয়ে পৌঁছে ফুসফুস, হৃদপিণ্ড, পাকস্থলী ও অন্যান্য অস্ত্রসমূহকে প্রভাবিত করে। এমতাবস্থায় যদি কোনো ব্যক্তি মহামারী এলাকায় বসবাস করার পর সেখান থেকে চলে যায় তবে দূষিত বায়ুর প্রভাব থেকে মুক্ত থাকতে পারে না।
দূষিত বায়ুর প্রভাব থেকে মুক্ত থাকতে তখনই পারবে যখন আক্রান্ত এলাকায় ব্যক্তি বিশেষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা প্রবল থাকবে এবং দূষিত বায়ুর প্রভাব কম থাকবে। অতএব মহামারী থেকে পালিয়ে যাওয়া উচিত হবে না; বরং পালিয়ে দূষিত বায়ুর প্রভাব নিয়ে অন্যত্র গেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ক্ষীণ থাকা ব্যক্তি বিশেষের তা দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং পরবর্তীতে তা সম্প্রসারণ হয়ে মহামারীর আকার ধারণ করবে। আক্রান্ত এলাকা থেকে সেবা যত্নশুশ্রুষা করা যেত। জনগনের উপকার হতো। কারণ মুসলমানেরা সকলে দেহের অঙ্গ- প্রত্যঙ্গের মতো এক অঙ্গের ব্যথা হলে অন্য অঙ্গটিও ব্যথিত হয়ে যাবে। এ কারণে হাদীসে মহামারী থেকে পলায়নকারিদেরকে জেহাদের সারি থেকে পলায়নকারীদের সমতুল্য বলা হয়েছে। কারণ এ ধরনের পলায়নের মধ্য অন্য মুসলমানদেরকে বিপর্যস্ত করার প্রচেষ্টা পাওয়া যায়।
📄 অমাবস্যা ও পূর্ণিমা
স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীরা বলেন যে, অমাবস্যার সময় পৃথিবীর প্রতি চন্দ্রের মহাকর্ষ বলের প্রভাব স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা কমে যায় এবং চন্দ্রের প্রতিও পৃথিবীর মহাকর্ষ বলের প্রভাব স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা কমে যায়, এতে পৃথিবীর প্রতিটি জীবদেহের দৈহিক গতিবেগ স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা অস্বাভাবিক হয়ে যায়। ফলে জীবদেহে সৃষ্টি হয় অস্বস্তি ও অস্থিরতা। আর যখন পূর্ণিমা শুরু হয় তখনও পৃথিবীর প্রতি চন্দ্রের মহাকর্ষ বলের প্রভাব স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা বেড়ে যায় এবং চন্দ্রের প্রতিও পৃথিবীর মহাকর্ষ বলের প্রভাব স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা বেড়ে যায়। এতেও পৃথিবীর প্রতিটি জীব দেহের দৈহিক গতিবেগ স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা অস্বাভাবিক হয়ে যায়। ফলে, পৃথিবীর প্রতিটি জীবদেহে সৃষ্টি হয় অস্বস্তি ও অস্থিরতা।
তাই স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীরা বলেন যে, পৃথিবীর প্রতিটি জীব দেহকে উক্ত অমাবস্যা ও পূর্ণিমার প্রভাব হতে পরিত্রাণ পাওয়ার কিছুটা উপায় হচ্ছে উক্ত অমাবস্যা ও পূর্ণিমার সময়ে পৃথিবীর প্রতিটি জীবদেহকে হালকা জাতীয় সামান্য নরম কিছু খাবার গ্রহণ করা, অথবা উপবাস থাকা। কারণ ঐ সময় হালকা খাবার যা শুকনা জাতীয় তা গ্রহণ করলে, তখন শরীরও হালকা থাকে এবং তার উপর অমাবস্যা ও পূর্ণিমার চাপ পড়লেও তেমন অস্বস্তি অনুভব হয় না। কিন্তু অমাবস্যা ও পূর্ণিমার মধ্যে ভারী রসালো খাবার গ্রহণ করলে, এতে শরীর ভারী হয়ে যায় এবং তার উপর আবার পতিত হয় অমাবস্যা ও পূর্ণিমার চাপ, এতে শরীর আরও ভারী হয়ে যায়, ফলে দেহে নানা অশান্তি-অস্থিরতা ও আরও নানা বিষ-ব্যাথা দেখা দেয়।
মহানবী মুহাম্মদ (সা) উক্ত স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীদের বহুপূর্বেই পৃথিবীর মানুষদেরকে অমাবস্যা ও পূর্ণিমার প্রভাব হতে রক্ষা পাওয়ার জন্য প্রতি মাসে অমাবস্যা ও পূর্ণিমার মধ্যে নিয়মিতভাবে রোযা রাখার নির্দেশ দিয়ে হাদীসে বলে গেছেন, যেমন-
عَنْ أَبِي عُثْمَانَ أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ اللهِ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ يَقُولُ شَهْرُ الصَّبْرِ وَثَلَثَةَ أَيَّامٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ صَوْمُ الدَّهْرِ.
অর্থ: আবু হুরায়রা (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি মহানবী (সা)- কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, ধৈর্য্যের মাস হচ্ছে, প্রতিমাসে নিয়মিতভাবে তিন দিন রোযা রাখা। অর্থাৎ সারাজীবন অমাবস্যা- পূর্ণিমাসহ নিয়মিতভাবে তিন দিন রোযা রাখা। (নাসায়ী হা/২৪০৮ ১ম খন্ড পৃষ্ঠা-৩২৭, কিতাবুস সিয়াম)
عَنْ أَبِي ذَرٍّ أَنَّ النَّبِيَّ أَمَرَ رَجُلًا بِصِيَامٍ ثَلَثَةَ عَشَرَ وَأَرْبَعَةَ عَشَرَ وَخَمْسَةَ عَشَرَ.
অর্থ: আবু জার (রা) হতে বর্ণিত যে, নিশ্চয় মহানবী (সা) তাঁর সাহাবাদেরকে প্রত্যেক চাঁদের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে রোযা রাখতে আদেশ করে গেছেন। (নাসায়ী, হা/২৪২৬ ১ম খ-, ৩২৯ পৃষ্ঠা, কিতাবুস সিয়াম।)
📄 এইডস
এইডস্-একয়ার্ড ইমিউন ডেফিসিয়েন্সি সিনড্রোম, একটি প্রাণঘাতী সামাজিক ব্যাধি। শতাব্দীর মহামারী এক দুরারোগ্য কালব্যাধি এইডস্ বিজ্ঞানের এই চরম উৎকর্ষের যুগেও দীর্ঘদিন হতেই লক্ষ লক্ষ মানুষকে অসহায়ত্বের মধ্যে নিমজ্জিত করে অবশেষে মৃত্যুর কালগহ্বরে নিক্ষেপ করে।
১৯৮৫ সালের বিখ্যাত মার্কিন চলচ্চিত্রাভিনেতা রক হাডসনের এইট্সে অকাল মৃত্যু ঘটার সঙ্গে সঙ্গেই সারা বিশ্বের সংবাদপত্রের শিরোনাম হয়ে ওঠে এইট্স। এর আগে ১৯৮৩ ও ১৯৮৪ সালে ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট এ রোগের ভাইরাস শনাক্ত করে। ১৯৮৬ সালে এই ভাইরাসের নাম দেয়া হয় (HIV (Human Immuno Deficiency Virus), ১৯৮১ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এ রোগ সর্বপ্রথম শনাক্ত করা হয়। ওই একই বছরের জুন মাসে আমেরিকার একদল বিজ্ঞানী লস এঞ্জেলেসের বিভিন্ন অঞ্চলে এইট্স রোগে আক্রান্ত রোগী পরিদর্শনের জন্য বের হন। সর্বপ্রথম তারা এইড্সে আক্রান্ত মেয়ে মহলে প্রবেশ করে তাদের জীবন ইতিহাস শুনে রিপোর্ট পেশ করে বলেন যে, উক্ত এইট্সে আক্রান্ত মেয়েদের কেউ একাধিক পুরুষের সাথে যৌন কর্মে লিপ্ত ছিল। আবার তাদের কেউ বেশি বেশি পরস্পর মেয়ে মেয়ে সমকামে লিপ্ত ছিল। আবার তাদের কেউ কেউ তাদের মাসিক অবস্থায় পুরুষের সাথে যৌন কর্মে লিপ্ত থাকত। আবার তাদের কেউ কেউ তাদের পিছন দিক দিয়ে পুরুষদেরকে যৌন কর্মে লিপ্ত হওয়ার সুযোগ দিতেন।
তারপর উক্ত বিজ্ঞানীর দল, এইড্স রোগে আক্রান্ত ছেলে মহলে প্রবেশ করে তাদের জীবন ইতিহাস শুনে রিপোর্ট পেশ করে বলেন যে, উক্ত এইড্সে আক্রান্ত ছেলেদের কেউ একাধিক মেয়ের সাথে যৌন কর্মে লিপ্ত ছিল। আবার কেউ পরস্পর পুংমৈথুন করেছে, আবার তাদের কেউ মেয়েদের মাসিক অবস্থায় অথবা মেয়েদের পিছন দিক দিয়ে যৌন কর্ম করেছে।
উক্ত বিজ্ঞানীরা এইডসে আক্রান্ত উক্ত দু'টি ছেলে ও মেয়ে মহলের পরিদর্শনের মাধ্যমে জানতে পারে যে, উপরোক্ত ছেলে-মেয়েদের যৌন কর্মগুলিই হচ্ছে এইডস রোগ সৃষ্টির মূল কারণ। এছাড়াও এরপর উক্ত বিজ্ঞানীরা এইডস সৃষ্টির আরও দু'টি কারণ বের করেছে, যেমন- কোনো ছেলে যদি এইডস রোগে আক্রান্ত কোনো মেয়ের সাথে যৌন কর্ম করে, অথবা কোনো মেয়ে যদি এইডস রোগে আক্রান্ত কোনো ছেলেকে তার সাথে যৌন কর্ম করার সুযোগ দেয়। তবে উক্ত ছেলে অথবা মেয়ের এইডস রোগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। অথবা, এইডস রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত সিরিঞ্জের সুঁচ অথবা তার রক্ত যদি কোনো সুস্থ লোকের দেহে প্রবেশ করানো হয় তবে উক্ত সুস্থ ব্যক্তিরও এইডস রোগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
তাই বিজ্ঞানীরা উপরোক্ত ছেলে-মেয়েদের যৌনকর্মগুলো না করার জন্য বিশ্ববাসীকে কঠোরভাবে আদেশ করেছেন। কারণ উক্ত যৌন কর্মগুলো করলে জীবনের যে কোনো সময় উক্ত ঘাতক ব্যাধি হতে পারে এবং হয়ে গেলে তার রক্ষা নেই। (জনকণ্ঠ ২৩-১২-২০০২ ইং)
অথচ মুহাম্মদ (সা) উক্ত বিজ্ঞানীদের বহুপূর্বেই পবিত্র কুরআনের আলোকে উক্ত ছেলে-মেয়েদের যৌন কর্ম সম্পর্কে কঠোরভাবে নিষেধ করে গেছেন এবং বলেছেন যে, নূহ (আ) ও লূত (আ) উভয়ের আমলের নারী-পুরুষেরা বর্তমান এইডস রোগে আক্রান্ত নারী-পুরুষের ন্যায় যৌনকর্মে লিপ্ত হয়েছিল, তাই আল্লাহ পাক তাদের প্রতি অসন্তুষ্ট হয়ে উভয় নবী (আ)-এর জাতিদেরকে ধ্বংস করে দিয়েছিলেন।
এছাড়াও মহানবী (সা) পবিত্র কুরআনের আলোকে নারী-পুরুষের মধ্যে উক্ত যৌনকর্মগুলো না করার জন্য বিশ্ববাসীর প্রতি আদেশ বা সতর্ক করে গেছেন। যেমন-
فَاعْتَزِلُوا النِّسَاءَ فِي الْمَحِيضِ وَلَا تَقْرَبُوهُنَّ حَتَّى يَطْهُرْنَ
অর্থ : তোমরা হায়েয বা মাসিক অবস্থায় স্ত্রী সংগম হতে বিরত থাক। ততক্ষণ পর্যন্ত তাদের নিকটবর্তী হবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত তারা পবিত্র না হয়। (সূরা বাকারা: আয়াত-২২২)
وَالَّذَانِ يَأْتِينِهَا مِنْكُمْ فَأَذُوهُمَا
অর্থ : তোমাদের মধ্যে হতে যে দু'জন সেই কুকর্মে (পুংমৈথুনে) লিপ্ত হয়, তাদেরকে কঠোর শাস্তি প্রদান কর। (সূরা নিসা: আয়াত-১৬)
إِنَّكُمْ لَتَأْتُونَ الرِّجَالَ شَهْوَةً مِّنْ دُونِ النِّسَاءِ بَلْ أَنْتُمْ قَوْمٌ مُّسْرِفُونَ.
অর্থ : তোমরা তো যৌন কর্ম বশতঃ পুরুষদের কাছে গমন কর নারীদেরকে ছেড়ে। বরং তোমরা সীমা অতিক্রম করেছ। অর্থাৎ গুরুতর অন্যায় করেছ। (সূরা আরাফ: আয়াত-৮১)
১৯৮১ সালে নিউইয়র্ক এবং ক্যালিফোর্নিয়ায় দু'জন লোক নিউমোসিস্টিক নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে পড়েন। উল্লেখ্য এই দুজনই ছিলেন সমকামী। দেখা গেল, দুজনের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাই ধ্বংস হয়ে গেছে। তখন সবার ধারণা হলো সমকামীদের মধ্যে এ রোগ দ্রুত ছড়ায়। প্রাথমিকভাবে এই অসুস্থতার নাম দেয়া হয় গে-রিলেটেড ইমিওনো ডেফিসিয়েন্সি সিন্ড্রোম বা গ্রিড। এর জীবাণু হিসাবে এল এভি এরপর এইচটি এলভি-৩ অতঃপর এইচ আইভি নামটি স্থায়ী হয়। ১৯৮২ সালে রোগটির নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় এইডস।
এই ঘাতক ব্যাধিটি যেন মানব সমাজে প্রসার লাভ করতে না পারে সে জন্য মহানবী (সা) এই রোগটি আবিষ্কার হওয়ার দেড় হাজার বছর পূর্বেই পবিত্র কুরআনের আলোকে এই বিশ্বের সমস্ত মানুষকে বলে গেছেন যে, তোমরা কখনও যেনার ধারে কাছে যাবে না এবং যেনা হচ্ছে নিজ স্ত্রী ব্যতীত অন্যের স্ত্রী কিংবা অন্য কোনো নষ্টা মেয়ের সাথে দৈহিক মিলনে লিপ্ত হওয়া। এবং তিনি পুংমৈথুন, সমকাম ও যেনার জন্য কঠোর শাস্তির বিধান এ জন্যই দিয়ে গেছেন যে, যাতে মানুষ এইডস রোগের ভয়ে অন্যায় কাজসমূহের দিকে না যায়। যেমন:
الزَّانِيَةُ وَالزَّانِي فَاجْلِدُوا كُلَّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا مِائَةَ جَلْدَةٍ وَلَا تَأْخُذْكُمْ بِهِمَا رَأْفَةٌ فِي دِينِ اللهِ إِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُوْنَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَلْيَشْهَدْ عَذَابَهُمَا طَائِفَةٌ مِّنَ الْمُؤْمِنِينَ
অর্থ: যিনাকারী নারী ও যিনাকারী পুরুষ উভয়ের প্রত্যেককেই একশত করে বেত্রাঘাত করবে। আল্লাহর বিধান কার্যকরীকরণে তাদের প্রতি কোনো প্রকার দয়ার আবেগ যেন তোমাদেরকে প্রভাবান্বিত না করে। যদি তোমরা আল্লাহ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাসী হও। আর তাদের এই দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি দানের সময় ঈমানদার লোকদের একটি দল যেন অবশ্য প্রত্যক্ষ করে। (সূরা নূর: আয়াত-২)
عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ اللهِ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ لا وَحَوْلَهُ عِصَابَةٌ مِنْ أَصْحَابِهِ : بَايِعُونِي عَلَى أَنْ لَّا تَزْنُوا - (متفق عليه)
অর্থ: উবাদা ইবনে সামিত (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূল (সা) একদল সাহাবা (রা) কর্তৃক পরিবেষ্টিত অবস্থায় তাদেরকে লক্ষ্য করে বললেন- তোমরা আমার নিকট এ কথার উপর বায়আত গ্রহণ কর যে, তোমরা কখনও যিনা করবে না। (বুখারী হা/৩৮৯২)