📄 রাসূল (সা) দুর্গন্ধযুক্ত খাদ্য অপছন্দ করতেন
জাবির ইবনে সামুরা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূল (সা) আবু আইয়্যুব আনসারী (রা)-এর বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। আইয়্যুব (রা) যখনই খানা খেতেন, তখন রাসূল (সা)-এর জন্য খাদ্যের কিছু অংশ পাঠিয়ে দিতেন। এ নিয়মে একদিন তিনি কিছু খানা পাঠালেন, রাসূল (সা) এই খানা খেলেন না। তখন আবু আইয়্যুব আনসারী (রা) রাসূল (সা)-এর খেদমতে হাজির হয়ে খানা না খাওয়ার কারণ জিজ্ঞাসা করলেন। আল্লাহর রাসূল (সা) ইরশাদ করলেন, এর মধ্যে পিঁয়াজ মিশ্রিত রয়েছে। তখন তিনি পুনরায় প্রশ্ন করলেন, "হে আল্লাহর রাসূল (সা)! পিঁয়াজ কি হারাম? রাসূল (সা) ইরশাদ করলেন-
وَلَكِنَّ أَكْرَهُهُ مِنْ أَجْلِ دِيْحِهِ .
অর্থ: "হারাম নয় বটে, তবে দুর্গন্ধের কারণে আমি এটা পছন্দ করি না।" (তিরমিযী, হা/ ১৮০৭)
রাসূল (সা) যে শুধু পিঁয়াজ খাওয়া থেকেই বিরত থাকতেন তা নয়; বরং দুর্গন্ধযুক্ত এমন কোনো জিনিসই তিনি খেতেন না, যা দ্বারা অন্যের কষ্ট হয়।
উবাইদুল্লাহ ইবনে আবী ইয়াজিদ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাকে উম্মে আইয়্যুব (রা) বলেছেন, রাসূল (সা)-এর জন্য খাদ্য তৈরি করলেন। যার মধ্যে কিছু শাক-সব্জিও ছিল। রাসূল (সা) উক্ত খাদ্য পছন্দ করলেন না। রাসূল (সা) সাহাবীগণকে বললেন, "তোমরা খেয়ে নাও। আমি তোমাদের মতো নই; আমার ভয় হয় যে, (এই খানার কারণে) আমার সাথিদের তথা ফেরেশতাদের কষ্ট হবে।” (তিরমিযী, হাদীস - ১৮১০)
📄 হাদীসে জবের দলিয়া বা জবের ছাতু
মা আয়েশা (রা) হতে বর্ণিত। "পরিবারের কারো জ্বর হলে রাসূল (সা) তাঁর জন্য জবের দলিয়া বা জবের ছাতু তৈরি করার নির্দেশ দিতেন এবং সে মতে তা তৈরি করে রোগীদেরকে খাওয়ানো হতো।" (যাদুল মা'আদ) উম্মুল মুমিনীন আয়েশা সিদ্দীকা (রা) অপর বর্ণনায় বলেন। "কেউ যদি রাসূল (সা)-এর নিকট এ সংবাদ নিয়ে আসত যে, জনৈক ব্যক্তির পেটে অসুখ হয়েছে, খাদ্য গ্রহণ করছে না। তাহলে তিনি (সা) নির্দেশ দিতেন তাকে তালবিনা বা জবের দালিয়া বা জবের ছাতু তৈরি করে খাওয়াও।
অতঃপর রাসূল (সা) ইরশাদ করেন, আল্লাহর কসম এটা তোমাদের পেটকে এমনভাবে পরিষ্কার করে, যেমনভাবে কোনো ব্যক্তি স্বীয় চেহারা হতে ময়লা পরিষ্কার করে থাকে।" (যাদুল মা'আদ, মুসতাদরাকে হাকেম)
📄 বুখারী ও মুসলিম শরীফের বর্ণনা
বর্ণিত আছে, কোনো বাড়িতে কারো আকস্মিক মৃত্যু হলে আয়েশা সিদ্দীকা (রা) তালবিনার বুন্দিয়া রান্নার জন্য নির্দেশ দিতেন। সেমতে তালবিনা পাকানো হতো, আর মা আয়েশা (রা) নিজ হাতে গোশত ও রুটির টুকরো এক সাথে মিশ্রিত করে সরীদ তৈরি করতেন এবং সরীদের মধ্যে তালবিনা মিশ্রিত করে বলতেন, "তোমরা এটা খাও।" কারণ- আমি রাসূল (সা)-কে বলতে শুনেছি, তালবিনা রুগীদের মনে প্রশান্তি আনে এবং মৃত্যু শোক দূর করে। (বুখারী হা/৫৪১৭, মুসলিম হা/৫৯০০)
রাসূল (সা) রুগীদের জন্য জবকে একটা উত্তম পথ্য, পেটের পিড়ার একটি উপকারি ঔষধ এবং দুর্বলতায় বিশেষ শক্তিবর্ধক হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। বর্তমান সভ্যতার ক্রমবর্ধমান উন্নতির পাশাপাশি খাদ্যসহ বিভিন্ন জিনিসের মোড়ক ও প্রকাশের মাধ্যমও পরিবর্তিত হয়েছে। হরলিক্সা, মালটোভা ইত্যাদি এর উৎকৃষ্ট উদাহরণ। রাসূল (সা)-এর সময়ে জবের ছাতু পেটের পীড়া, দুর্বলতা, সহজেই হজম হয়, এমন খাদ্য হিসেবে ব্যবহার হতো। যা জব কিংবা মিষ্টি মিশ্রিত খাদ্যের সমন্বয়ে তৈরি করা হতো। বর্তমানে হরলিক্স কিংবা মালটোভার তৈরির উপাদানও গম কিংবা জব যা শারীরিক দুর্বলতা ও হজমী দুর্বলতায় ব্যবহৃত হয়। অথবা রোগগ্রস্ত দুর্বল ব্যক্তিকে কিংবা রোগ থেকে আরোগ্য লাভের পর হরলিক্স/মালটোভা খাওয়ার অন্য পরামর্শ দেয়া হয়। সর্বোপরি এটা একদিকে যেমন খাদ্য, অপরদিকে তেমনি শোকের প্রতিষেধকও বটে।