📄 লবণ
খাদ্য ও পুষ্টি বিজ্ঞানীরা বলেন, মানুষের যখন তীব্র ক্ষুধা লাগে, তখন দেহের আভ্যন্তরীণ পিত্তথলী হতে এক প্রকার বিষাক্ত তিক্ত রস নির্গত হয় এবং ইহা এসে তার মুখের জিবের মধ্যে অবস্থান করে। তাই যদি কোনো মানুষ তার তীব্র ক্ষুধার মধ্যে কোনো খাদ্য- দ্রব্য খাওয়ার পূর্বে তার জিবে একটু লবণ দেয়, তখন তার উক্ত লবণ খাওয়ার দ্বারা তার জিবের উক্ত বিষাক্ত রসের গুণাগুণ নষ্ট হয়ে যায়। ফলে তখন সে যে খাদ্য-দ্রব্য খায় তাতে তার বেশ মজা লাগে এবং সে তৃপ্তি সহকারে খেতে পারে এবং সে খাদ্য অতি সহজেই তার পেটে গিয়ে হজম হয়। তাই উক্ত খাদ্য ও পুষ্টি বিজ্ঞানীরা সকলকেই তার খাদ্য খাওয়ার পূর্বে তার জিহ্বায় একটু লবণ দিতে বলেন।
এছাড়াও খাদ্য ও পুষ্টি বিজ্ঞানীরা আরো বলেন, তরকারি রান্না করার সময়, ইহার পানিতে মাছ, গোশত, শাক, সব্জী, হলুদ, মরিচ, পিঁয়াজ ও রসুনের বিষাক্ত ও দূষিত পদার্থগুলো পরস্পর একত্র হয়ে মিশে যায় এবং সমস্ত তরকারিই তখন স্বাদহীন হয়ে যায়। তাই তখন উক্ত তরকারিকে সুস্বাদু ও মজাদার করার জন্য প্রধান ভূমিকা রাখে একমাত্র লবণ। তাই বিজ্ঞানীরা বলেন, তরকারিকে সুস্বাদু করার মূল মন্ত্র হচ্ছে লবণ। এ জন্য লবণের বিকল্প নেই। অতএব দেখা যায় দেহকে সংরক্ষণের জন্যও লবণের ভূমিকা অপরিসীম।
অথচ মহানবী মুহাম্মদ (সা) উক্ত স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীদের বহুপূর্বেই লবণের গুরুত্ব সম্পর্কে হাদীস বলে গেছেন, রোগের ঔষধ, এবং লবণ হচ্ছে তরকারিকে সুস্বাদু করার জন্য মূল মন্ত্র। যেমন এ সম্পর্কে মহানবী (সা)- এর একটি হাদীস বর্ণনা করা হলো-
حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ أَبِي عِيسَى عَنْ رَجُلٍ أَرَاهُ مُوسَى عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ سَيِّدُ إِدَامِكُمُ الْمِلْحُ . (ابن ماجه جلد الثاني صفه ۲۳۸ ابواب الاطعمة)
অর্থ: আনাস বিন মালিক (রা) বলেন, রাসূল (সা) বলেছেন, লবণ হচ্ছে তোমাদের তরকারির মূলমন্ত্র।
(ইবনে মাজা হা/৩৩১৫, ২য় খণ্ড ২৩৮ পৃ. আবওয়াবুল আতুআমা।) হাদীসটি যয়ীফ
📄 খাদ্যের পুষ্টি
হিন্দু ধর্মের একজন বিখ্যাত খাদ্য ও পুষ্টি বিজ্ঞানী বলেছেন যে, কোনো প্লেটে কোনো রসালো খাদ্য দ্রব্য খাওয়ার পর, উক্ত খাদ্য দ্রব্যের পলি স্যাকারাইজ নামে খাদ্যের মৌলিক ভিটামিন, উক্ত খাদ্য দ্রব্যের প্লেটের তলায় ও তার আঙ্গুলের মাথায় এসে জমা হয়ে থাকে। তাই তিনি প্রত্যেক মানুষকে নির্দেশ দিয়ে বলেছেন যে, কোনো মানুষ যখন কোনো প্লেটে কোনো রসালো খাদ্য দ্রব্য খায়, তখন যেন সে তা খাওয়ার পর তার আঙ্গুল ও উক্ত প্লেটের তলা খুব ভালো করে চেঁটে খায়। তাহলে তার দেহে উক্ত খাদ্যের মৌলিক ভিটামিন প্রবেশ করবে এবং তার দেহের দৈহিক উপকার সাধন করবে।
এছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের একজন বিখ্যাত খাদ্য ও পুষ্টি বিজ্ঞানী প্রমাণ করে বলেছেন যে, কোনো প্লেটে কোনো রসালো খাদ্য দ্রব্য রেখে খাওয়ার পর উক্ত প্লেটের তলা ও আঙ্গুল চেঁটে খেলে চোখের দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি পায়।
আরো অন্যান্য খাদ্য ও পুষ্টি বিজ্ঞানীরা বলেন যে, কোনো প্লেটে কোনো রসালো খাদ্য দ্রব্য রেখে খাওয়ার পর তাই খাদ্য দ্রব্যের মৌলিক উপাদানগুলো উক্ত প্লেটের তলায় জমা হয়ে থাকে। উক্ত প্লেটে খাদ্য দ্রব্য খাওয়ার পর তার মধ্যে পানি দ্বারা হাত ধুলে তাতে উক্ত খাদ্য দ্রব্যের মৌলিক উপাদানগুলো পানিতে মিশে যায় এবং সেই পানির কিছু অংশ চোখে দিলে চোখের দৃষ্টিশক্তি অক্ষুণ্ণ থাকে। অথচ মহানবী মুহাম্মদ (সা) উক্ত খাদ্য ও পুষ্টি বিজ্ঞানীদের বহুপূর্বেই তাদের দেয়া উক্ত রসালো খাদ্যদ্রব্য প্লেটে রেখে খাওয়ার পর তার তলের অংশ ও তার আঙ্গুল চেঁটে খাওয়ার নির্দেশ দিয়ে হাদীস বলে গেছেন। যেমন-
عَنْ جَابِرٍ أَنَّ النَّبِيَّ مَا أَمَرَ بِلَعِقِ الْأَصَابِعِ وَالصُّحْفَةُ ، وَقَالَ أَنَّكُمْ لَا تَدْرُونَ فِي أَيَّةِ الْبَرْكَةِ - ترمذى جلد الثاني صفه ২ کتاب الاطعمة)
অর্থ: জাবির (রা) হতে বর্ণিত। নিশ্চয় মহানবী (সা) খাদ্য খাওয়ার পর আঙ্গুল ও উক্ত খাওয়ার প্লেট চেঁটে খাওয়ার জন্য আদেশ করেছেন এবং এ সম্পর্কে তিনি বলেছেন যে, খাদ্যদ্রব্য খাওয়ার পর আঙ্গুল ও প্লেট চেঁটে খাওয়ার মধ্যে অনেক বরকত বা উপকার রয়েছে যা তোমরা জান না। (মুসলিম- হা/৫৪২০)
📄 গর্ভবতী মহিলাদের জন্য কিছু টিপস
* আবু হুরায়রা (রা) হতে বর্ণিত, রাসূল (সা) ইরশাদ করেছেন- আমার নিকট নেফাস ওয়ালী মহিলাদের খেজুর সমতুল্য কোনো শেফা (রোগমুক্তি) নেই এবং রোগীর জন্য মধুতুল্য কোনো জিনিস নেই।
* রাসূল (সা) ইরশাদ করেছেন, "নেফাসের অবস্থায় স্বীয় স্ত্রীদেরকে খেজুর খাওয়াও। কেননা, মরিয়ম (আ) থেকে যখন ঈসা (আ) আল্লাহ তা'আলার ইলমের চেয়ে কোনো উত্তম খাদ্য থাকতো তবে তিনি তারই ব্যবস্থা করবেন।
* রাসূল (সা) ইরশাদ করেছেন, নেফাসের মধ্যে নারীদের খাদ্য তালিকায় তাজা খেজুর অথবা শুকনা খেজুর থাকে, তার সন্তান হয় অত্যন্ত সহনশীল (নযহাতুল মজলিশ দ্বিতীয় খণ্ড)।
📄 মহামারী আকাশে প্লেগ রোগে জনগণের করণীয়
ওমর (রা)-এর খেলাফতকালে একবার সাহাবায়ে কিরামের একটি দল খলিফার সঙ্গে সিরায়ার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। দামেস্ক-এর অদূরে জাবিয়া নামক স্থানে পৌছার পর তারা খবর পান। সিরিয়ায় এখন মহামারী আকারে প্লেগের প্রাদুর্ভাব হয়েছে। প্রত্যহ বহু লোক এ রোগে আক্রান্ত হচ্ছে এবং ব্যাপক আকারে প্রাণহানী ঘটছে। এ সংবাদ পাওয়ার পর সাহাবায়ে কিরাম দুই দলে বিভক্ত হয়ে পড়লেন। একদল বললেন, আমরা মহামারীর ভিতর প্রবেশ করবো না এবং জ্বলন্ত আগুনে লাফিয়ে পড়বো না। অন্যদল অভিমত প্রকাশ করলেন, আমরা সেখানে যাবো। কেননা, কুরআনে মৃত্যুর ভয়ে স্থান ত্যাগ করার নিন্দা করা হয়েছে।
"আপনি সে লোকদেরকে দেখেননি, যারা মৃত্যুর ভয়ে দেশ ত্যাগ করেছিল। অথচ তারা সংখ্যায় কয়েক হাজার"।
অতঃপর উভয় দল খলিফার খেদমতে হাজির হয়ে তাঁর অভিমত জানতে চাইল। খলিফা বললেন, এখান থেকে প্রস্থান করা উচিত এবং মহামারীর ভেতর প্রবেশ না করা উত্তম। সাহাবায়ে কিরামের মধ্যে যাদের অভিমত খলিফার বিপরীত ছিল তারা আরজ করলেন, আমরা আল্লাহ তা'য়ালার তাকদীর দেখে তাঁরই তাকদীরের দিকে যাব। এতে দোষ কি? এরপর তিনি একটি দৃষ্টান্ত অবতারণা করে বললেন, মনে কর তোমাদের মধ্যে কারো কাছে একটি ছাগলের পাল আছে এবং বিচরণের জন্য দুটি চরণ ভূমি আছে। একটি সবুজ ঘাসে পূর্ণ ও অপরটি শুষ্ক। পালের মালিক যদি সবুজ ঘাস বিশিষ্ট চরণ ভূমিতে ছাগল চড়ায়, তবু আল্লাহর তাকদীর অনুযায়ী হবে। শ্রোতারা সকলেই খলিফার এই বক্তব্য যথার্থ বলে মেনে নিল। এরপর তিনি পরামর্শের জন্য আব্দুর রহমান ইবনে আওফ (রা)-কে ডেকে পাঠালেন। পরের দিন আব্দুর রহমান এসে বললেন, আমিরুল মুমেনিন এ সম্পর্কে আমি রাসূল (সা)-এর মুখ থেকে যা শুনেছি তাই আমার অভিমত। খলিফা বললেন, সুবহান আল্লাহ আপনি কি শুনেছেন, তাড়াতাড়ি বলে ফেলুন। আব্দুর রহমান বললেন, আমি রাসূল (সা)-কে বলতে শুনেছি "যখন তোমরা কোনো ভূ-খণ্ডের মহামারীর কথা শুন তখন সেখানে প্রবেশের দুঃসাহস দেখিও না। আর যদি যেখানে তোমরা আছো সেখানে মহামারী দেখা দেয়, তবে ভয়ে সে স্থান ত্যাগ কর না”। ওমর (রা) এই হাদীসে নিজের মতের সমর্থন দেখতে পেয়ে খুবই আনন্দিত হলেন এবং আল্লাহ তা'আলার শুকরিয়া আদায় করলেন। অতঃপর তিনি সাহাবায়ে কিরাম জাবিয়া থেকে সরিয়ে আনলেন।
এখন দেখা উচিত এ ধরনের বিষয় যদি তাওয়াক্কুলের শর্ত হয় তবে সাহাবায়ে কেরাম কেমন করে তাওয়াক্কুল বর্জন করতে একমত হলেন? অথচ তাওয়াক্কুল দ্বীনের উচ্চতর মাকামসমূহের অন্যতম।
এখন প্রশ্ন হতে পারে, তাহলে যে শহরে মহামারী সেখান থেকে চলে যেতে কেন নিষেধ করা হলো? অথচ চিকিৎসা শাস্ত্র অনুযায়ী মহামারীর কারণ হচ্ছে বায়ু দূষিত হওয়া। দূষিত বায়ু থেকে বেঁচে থাকা একটি উত্তম চিকিৎসা। হাদীসে এর অনুমতি দেয়া হলো না কেন? এর জবাব, নিঃসন্দেহে দূষিত পরিবেশ থেকে পলায়ন করা নিষিদ্ধ হতে পারে না। দূষিত বায়ু কেবল বাহ্যিক দেহে লাগলেই ক্ষতি হয়ে যায় না; বরং সর্বক্ষণ এতে শ্বাস-গ্রহণ করলে ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে। যদি বায়ুতে রোগ জীবানূ মিশ্রিত থাকে এবং তাতে বেশি মাত্রায় শ্বাস গ্রহণ করা হয়। তবে শ্বাসের মাধ্যমে জীবানু দেহের অভ্যন্তরে ক্রমান্বয়ে পৌঁছে ফুসফুস, হৃদপিণ্ড, পাকস্থলী ও অন্যান্য অস্ত্রসমূহকে প্রভাবিত করে। এমতাবস্থায় যদি কোনো ব্যক্তি মহামারী এলাকায় বসবাস করার পর সেখান থেকে চলে যায় তবে দূষিত বায়ুর প্রভাব থেকে মুক্ত থাকতে পারে না।
দূষিত বায়ুর প্রভাব থেকে মুক্ত থাকতে তখনই পারবে যখন আক্রান্ত এলাকায় ব্যক্তি বিশেষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা প্রবল থাকবে এবং দূষিত বায়ুর প্রভাব কম থাকবে। অতএব মহামারী থেকে পালিয়ে যাওয়া উচিত হবে না; বরং পালিয়ে দূষিত বায়ুর প্রভাব নিয়ে অন্যত্র গেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ক্ষীণ থাকা ব্যক্তি বিশেষের তা দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং পরবর্তীতে তা সম্প্রসারণ হয়ে মহামারীর আকার ধারণ করবে। আক্রান্ত এলাকা থেকে সেবা যত্নশুশ্রুষা করা যেত। জনগনের উপকার হতো। কারণ মুসলমানেরা সকলে দেহের অঙ্গ- প্রত্যঙ্গের মতো এক অঙ্গের ব্যথা হলে অন্য অঙ্গটিও ব্যথিত হয়ে যাবে। এ কারণে হাদীসে মহামারী থেকে পলায়নকারিদেরকে জেহাদের সারি থেকে পলায়নকারীদের সমতুল্য বলা হয়েছে। কারণ এ ধরনের পলায়নের মধ্য অন্য মুসলমানদেরকে বিপর্যস্ত করার প্রচেষ্টা পাওয়া যায়।