📄 জলপাই তৈল
চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে, পরীক্ষা নিরীক্ষার মাধ্যমে পেয়েছেন যে, জলপাই তৈল খাদ্যের মধ্যে ব্যবহার করলে শরীরের কোলেস্টেরলের মাত্রা ঠিক রাখতে সাহায্য করে এবং এর ব্যবহারে এলডিএল অর্থাৎ লাইপো প্রোটিন কমায়।
চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা আরও অনেক গবেষণা করে জানতে পেরেছেন যে, জলপাই তৈলে কিছু পরিমাণে ক্যান্সার প্রতিরোধক উপাদানও আছে। পরীক্ষায় দেখা গেছে যে, জলপাই তৈলের ব্যবহারে মানব দেহের বিউমেটয়েড আর্থ্রাইটিসের কোপও অনেকাংশে কমায়।
গ্রীকরা মনে করেন যে, জলপাই গাছ হচ্ছে, তাদের দেবী এথিনার উপহার। (জনকণ্ঠ ২৩-০৫-০১)
মহানবী মুহাম্মদ (সা) উক্ত চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের বহুপূর্বেই পবিত্র কুরআন ও হাদীসের আলোকে জলপাই সম্পর্কে বলে গেছেন। যেমন-
وَشَجَرَةً تَخْرُجُ مِنْ طُورِ سَيْنَاءَ تَنْبُتُ بِالدُّهْنِ وَصِبْغٍ لِلْآكِلِينَ.
অর্থ : এবং ঐ বৃক্ষ সৃষ্টি করেছি, যা-সিনাই পর্বতে জন্মায় এবং আহারকারীদের জন্যে তৈল ও নানা রং ও গুণাগুণ উৎপন্ন করে। (সূরা মুমিনূন: আয়াত-২০)
الْحُسَيْنُ بْنُ مَهْدِى حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ عَنْ مَعْمَرٍ عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عُمَرَ بْنَ الْخَطَابِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ مَا ابْتَدِمُوا بِالزَّيْتِ وَادَّهِنُوا بِهِ فَإِنَّهُ مِنْ شَجَرَةٍ مُبَارَكَةٍ.
অর্থ : ওমর বিন খাত্তাব (রা) হতে বর্ণিত। মহানবী (সা) বলেছেন, তোমরা জলপাই তৈল দ্বারা তরকারী পাকাও এবং তা দ্বারা মালিশ কর নিশ্চয় উহা বরকতপূর্ণ গাছ। (তিরমিজি হা/১৮৫১, ২য় খণ্ড-৭ম পৃষ্ঠা আবুবয়াবুল আতআমা ও ইবনে মাজা হা/৩৩১৯, ২য় খণ্ড ২৩৮ পৃষ্ঠা আবুবয়াবুল আতআমা)
সুতরাং দেখা যায় যে, জলপাই-এর তৈল যে একটি উপকারী তৈল তা মহানবী (সা) আজ হতে প্রায় দেড় হাজার বৎসর পূর্বেই এই পৃথিবীর মানুষদেরকে বলে গেছেন এবং এর ওপর ভিত্তি করেই বর্তমান যুগের স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীরা জলপাই তৈলের উক্ত গুণাগুণ আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়েছেন।
📄 তেল
ক্যানাডার বিখ্যাত ফিজিও থেরাপিষ্টের বিজ্ঞানী স্যার জেমস সাগম বলেন, আমি মাথায় তেল লাগানোকে একদিকে সময়ের অপচয় ও ধূলাবালি আটকে থাকার কারণ মনে করতাম। অনেক গবেষণার পর আমি যে তথ্য সংগ্রহ করলাম তা হলো:
মাথায় তেল ব্যবহারের ফলে মস্তিষ্কের চাপ রোধ হয়। মাথাব্যাথার পুরাতন রোগী ভালো হয়। ঘাড়ে রগের ব্যথা ভালো হয়। কাঁধের ব্যথা ও খিঁচুনি ভালো হয়। দৃষ্টিশক্তির দুর্বলতা দূর হয় এবং চেহারার ক্ষেত্রে যথেষ্ট ফলদায়ক। আর মাথায় চুল আঁচড়ানোর দ্বারা এক প্রকার উষ্ণতা সৃষ্টি হয় যা পשম বা চুলের মাধ্যমে শরীরের শিরা-উপশিরার ব্যবস্থাকে প্রাণবন্ত ও শক্তিশালী করে।
অথচ মহানবী মুহাম্মদ (সা) উক্ত বিজ্ঞানীদের বহু পূহে তিনি নিজে মাথায় তেল ব্যবহার করেছেন এবং তার সকল উম্মতগণকে তা ব্যবহার করতে উৎসাহ দিয়ে গেছেন। যেমন-
আনাস (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, প্রিয় নবী (সা) তাঁর পবিত্র মাথা মোবারকে বেশি বেশি তেল লাগাতেন এবং স্বীয় দাড়ি মোবারক আঁচড়াতেন। অর্থাৎ মহানবী (সা) যা-যা করেছেন, তা তিনি পৃথিবীর সকল মানুষদেরকে করতে বলেছেন এবং আল্লাহ তায়ালা নিজেই পৃথিবীর প্রতিটি মানুষকে 'মহানবী (সা)-কে' অনুসরণ করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। যেমন-
قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ
অর্থ: বলুন! যদি তোমরা আল্লাহ তায়ালাকে ভালোবাস, তবে তোমরা আমাকে অনুসরণ কর। তাহলে আল্লাহ তায়ালা তোমাদেরকে ভালোবাসবেন এবং তিনি তোমাদের ভুল ত্রুটিগুলো ক্ষমা করে দিবেন। (সূরা-আল ইমরান: আয়াত-৩১)
📄 লাউ
খাদ্য ও পুষ্টি বিজ্ঞানীরা বলেন যে, লাউ বা লাউ জাতীয় কোনো সবজি বেশি বেশি খেলে পেট ও মাথা ঠান্ডা থাকে। তারা আরও বলেন যে, লাউ পেটের জন্য খুব উপকারী সবজি এবং যে কোনো পেটের পীড়ায় লাউ খেলে পেটের জন্য অবশ্যই উপকার হবে। বিজ্ঞানীরা আরও বলেন যে, নিয়মিত লাউ খেলে তার পেটে কোনো রোগ থাকবে না এবং লাউ ডায়েরিয়া রোগীর এক বিশেষ ঔষধ।
অথচ মহানবী মুহাম্মদ (সা) উক্ত খাদ্য ও পুষ্টি বিজ্ঞানীদের বহুপূর্বেই, পৃথিবীর মানুষদেরকে লাউ-এর প্রতি আকৃষ্ট করার জন্য তিনি বেশি বেশি লাউ খেতে উৎসাহ দিয়ে গেছেন। এবং আল্লাহ তায়ালাও তাকে অনুসরণ করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। যেমন-
قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّونَ اللهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ.
অর্থ : বলুন! যদি তোমরা আল্লাহ তায়ালাকে ভালবাস তবে তোমরা আমাকে অনুসরণ কর। তাহলে আল্লাহ তায়ালা তোমাদেরকে ভালোবাসবেন এবং তোমাদের পাপ কাজগুলোকে ক্ষমা করে দিবেন। (সূরা আলে-ইমরান : আয়াত-৩১)
حَدَّثَنَا وَكِيعٌ عَنْ اسْمَعِيلَ بْنَ أَبِي خَالِدٍ عَنْ حَكِيمِ بْنِ جَابِرٍ عَنْ أَبِيهِ قَالَ دَخَلْتُ عَلَى النَّبِيِّ ﷺ فِي بَيْتِهِ وَعِنْدَهُ هُذِهِ الدُّبَّاءُ فَقُلْتُ أَيُّ شَيْءٍ هَذَا قَالَ هَذَا الْقُرْعُ هُوَ الدُّبَّاءُ نُكْثِرُ بِهِ طَعَامُنَا.
অর্থ : জাবির (রা) তার পিতা হতে হাদীস বর্ণনা করে বলেন, আমি মহানবী (সা)-এর বাড়িতে গেলাম এবং তাঁর নিকট লাউ দেখতে পেলাম। অতঃপর আমি বললাম, এটা কি? তখন মহানবী (সা) বললেন, এটা লাউ যা আমরা বেশি বেশি পরিমাণে খাদ্য হিসেবে খেয়ে থাকি। (সুনানে ইবনে মাজা হা/৩৩০৪, ২য় খণ্ড ২৩৭ পৃ. আবুওয়াবু আতআমা)
সুতরাং প্রতীয়মান হয় যে, লাউ-এর উপকারিতা সম্পর্কে মহানবী (সা) জানতেন, তাই তিনি ইহা বেশি বেশি ভক্ষণ করেছেন এবং পৃথিবীর মানুষদেরকে খাওয়ার জন্য উৎসাহ দিয়ে গেছেন। যা বর্তমান যুগের খাদ্য ও পুষ্টি বিজ্ঞানীরা প্রমাণ করেছেন।
📄 লবণ
খাদ্য ও পুষ্টি বিজ্ঞানীরা বলেন, মানুষের যখন তীব্র ক্ষুধা লাগে, তখন দেহের আভ্যন্তরীণ পিত্তথলী হতে এক প্রকার বিষাক্ত তিক্ত রস নির্গত হয় এবং ইহা এসে তার মুখের জিবের মধ্যে অবস্থান করে। তাই যদি কোনো মানুষ তার তীব্র ক্ষুধার মধ্যে কোনো খাদ্য- দ্রব্য খাওয়ার পূর্বে তার জিবে একটু লবণ দেয়, তখন তার উক্ত লবণ খাওয়ার দ্বারা তার জিবের উক্ত বিষাক্ত রসের গুণাগুণ নষ্ট হয়ে যায়। ফলে তখন সে যে খাদ্য-দ্রব্য খায় তাতে তার বেশ মজা লাগে এবং সে তৃপ্তি সহকারে খেতে পারে এবং সে খাদ্য অতি সহজেই তার পেটে গিয়ে হজম হয়। তাই উক্ত খাদ্য ও পুষ্টি বিজ্ঞানীরা সকলকেই তার খাদ্য খাওয়ার পূর্বে তার জিহ্বায় একটু লবণ দিতে বলেন।
এছাড়াও খাদ্য ও পুষ্টি বিজ্ঞানীরা আরো বলেন, তরকারি রান্না করার সময়, ইহার পানিতে মাছ, গোশত, শাক, সব্জী, হলুদ, মরিচ, পিঁয়াজ ও রসুনের বিষাক্ত ও দূষিত পদার্থগুলো পরস্পর একত্র হয়ে মিশে যায় এবং সমস্ত তরকারিই তখন স্বাদহীন হয়ে যায়। তাই তখন উক্ত তরকারিকে সুস্বাদু ও মজাদার করার জন্য প্রধান ভূমিকা রাখে একমাত্র লবণ। তাই বিজ্ঞানীরা বলেন, তরকারিকে সুস্বাদু করার মূল মন্ত্র হচ্ছে লবণ। এ জন্য লবণের বিকল্প নেই। অতএব দেখা যায় দেহকে সংরক্ষণের জন্যও লবণের ভূমিকা অপরিসীম।
অথচ মহানবী মুহাম্মদ (সা) উক্ত স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীদের বহুপূর্বেই লবণের গুরুত্ব সম্পর্কে হাদীস বলে গেছেন, রোগের ঔষধ, এবং লবণ হচ্ছে তরকারিকে সুস্বাদু করার জন্য মূল মন্ত্র। যেমন এ সম্পর্কে মহানবী (সা)- এর একটি হাদীস বর্ণনা করা হলো-
حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ أَبِي عِيسَى عَنْ رَجُلٍ أَرَاهُ مُوسَى عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ سَيِّدُ إِدَامِكُمُ الْمِلْحُ . (ابن ماجه جلد الثاني صفه ۲۳۸ ابواب الاطعمة)
অর্থ: আনাস বিন মালিক (রা) বলেন, রাসূল (সা) বলেছেন, লবণ হচ্ছে তোমাদের তরকারির মূলমন্ত্র।
(ইবনে মাজা হা/৩৩১৫, ২য় খণ্ড ২৩৮ পৃ. আবওয়াবুল আতুআমা।) হাদীসটি যয়ীফ