📄 যমযম কূপের পানিতে রোগীর আরোগ্য লাভের একটি সত্য ঘটনা
দুরারোগ্য বহুরোগী যমযমের পানিতে আল্লাহর ফজলে আরোগ্য লাভ করেছে একূপ অসংখ্য ঘটনার প্রমাণ পাওয়া যায়। কিছু আগে লাইলা আলহুল নামে এক মহিলা স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হন। তিনি নিজের সুস্বাস্থ্য ও সৌন্দর্যের গর্বে গর্বিতা হয়ে আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফেল ছিলেন। নিজের রোগের কথা জানতে পেরে তিনি চিকিৎসার জন্য বেলজিয়াম চলে যান। সেখানকার চিকিৎসকগণ বলেন, তার স্তন কেটে ফেলতে হবে এবং ক্যামিক্যাল ঔষধ ব্যবহার করতে হবে। এ ধরনের চিকিৎসার ফলে দাঁত নখ ও চুল ঝড়ে যেতে পারে এবং চেহারায় দাড়ি গজাতে পারে। কিন্তু রূপের পূজারী এ মহিলা সৌন্দর্য বিনষ্টকারী এরূপ বিদঘুটে চিকিৎসা গ্রহণ করতে অসম্মতি জানান এবং সাধারণ চিকিৎসা গ্রহণ করে দেশে চলে আসেন। এর ছমাস পরে তিনি অনুধাবন করেন যে, তার শরীরের ওযন হ্রাস পেয়ে গিয়েছে, চামড়ার রং পরিবর্তন হয়ে গেছে নানা ধরনের তীব্র ব্যথা শুরু হয়েছে। যার ফলে বেলজিয়াম পুনরায় চলে যান। মহিলার স্বামীকে চিকিৎসকগণ বলেন, তার পুরো দেহে ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়েছে। এমনকি ফুসফুস পর্যন্ত স্পর্শ করে ফেলেছে। এ পরিস্থিতিতে তার চিকিৎসকরা বলল চিকিৎসা করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। এবং তার স্বামীকে উপদেশ দেন যেন তাকে নিয়ে মাতৃভূমিতে চলে চায়, যাতে আত্মীয় স্বজনের সামনে মৃত্যুবরণ করতে পারেন। কিন্তু তার স্বামী যমযমের পবিত্র পানির কথা ভুলে গিয়েছিলেন। অত:পর আল্লাহ তায়ালা অনুগ্রহ করে এবিষয়টি তাকে ইলহাম করেন তথা তার মনে জাগিয়ে দেন। এরপর তিনি তার স্ত্রীকে নিয়ে মক্কা শরীফে আসেন। কা'বা শরীফকে দেখে মহিলাটি অঝোরে কাঁদতে শুরু করেন এবং এই বলে দোয়া করেন: "হে আল্লাহ! তুমি আমার মনের আশাকে ধুলিৎসাত কর না; বরং তুমি আমাকে সুস্থ করে দিয়ে চিকিৎসকগণকে অবাক করে দাও। তারপর মহিলাটি পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত শুরু করেন এবং পরিতৃপ্তির সাথে যমযমের পানি পান করা আরম্ভ করেন।
মহিলাটি কাবা শরীফে প্রশান্তি অনুভব করেন বিধায় তিনি হারাম শরীফে থাকার মনস্থ করেন ও তার স্বামীকে অনুরোধ করেন তিনি যেন তাকে নিয়ে আবাসিক হোটেলে না যান এবং তিনি হারাম শরীফে থেকে যান।
মহিলাটির শরীরের অর্ধাংশে পোড়া ও ঘায়ে ভরে গিয়েছিল এতে তার দেহে ক্যান্সার ছড়িয়ে যাওয়ার সুনিশ্চিত ইংগিত পাওয়া যায়। হেরেম শরীফে অবস্থানরত অন্যান্য মহিলাগণ তাকে তার শরীরের ঊর্ধাংশ যমযমের পানি দ্বারা সর্বক্ষণ ধৌত করার পরামর্শ দেন। কিন্তু (ধোয়ার জন্য) তিনি তার শরীরকে বেশি নড়াচড়া করতে ভয় করছিলেন। কিন্তু অবশেষে তিনি সমস্ত ভয়-ভীতি ঝেড়ে ফেলে পুঁজ-রক্তে ভরা স্তন ও শরীরকে নিজ হাতে যমযম কূপের পানি দিয়ে ধুতে শুরু করেন। ফলে সকলকে বিস্মিত করে দিয়ে আল্লাহর রহমতে তার ফোঁড়া ও ক্ষত আরোগ্য হয়ে যায়।
এতে করে নবী করীম (সা)-এর বাণী-
مَاءُ زَمْزَمَ فِيهِ ..... وَشِفَاءٌ مِنَ السُّقْمِ (যমযমের পানিতে ... রুগ্ন ব্যক্তির জন্য আরোগ্য (শেফা ও রয়েছে) - এ কথার সত্যতা প্রমাণিত হয় এবং পবিত্র যমযমের পানির গোপন বৈশিষ্ট্য রহস্য ও মর্যাদার কথাও প্রমাণিত হয়। আর এ কথাটি কবির ভাষায় কতইনা সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে-
اللَّهُ أَوْرَعَ عَنَاصِرَ رُكِبَتْ - فِيْهِ يُحَارُ بِكُنْهِهَا الشُّرَاحُ مَنْ قَالَ زَمْزَمَ قُدِّسَتْ - أَسْرَارُهَا عِنْدَ الْإِلَهِ فَمَا عَلَيْهِ جُنَاحٌ (আল্লাহ তায়ালা যমযমের পানিতে এমন বরকতময় উপাদান রেখেছেন যার রহস্য উদঘাটন করতে ব্যাখ্যাকারগণ দিশেহারা হয়ে যান। কেউ যদি বলে যে, যমযম আল্লাহর নিকট পবিত্র ও মর্যাদান্বিত তবে তার কোনো গুনাহ হবে না।)
📄 খাদ্যস্বরূপ যমযমের পানির ভূমিকা
আবু জর (রা) শুধুমাত্র যমযমের পানি পান করে পূর্ণ একমাস কাটিয়ে দিয়েছেন। এই একমাসের দীর্ঘ সময়ে তিনি যমযমের পানি ছাড়া কিছু আহার করেন নি। এরপরও তিনি কোনো দুর্বলতা ও অসুস্থতা অনুভব করেন নি এবং তার মাঝে এর কোনো প্রভাব পরিলক্ষিত হয়নি। আবু জর (রা) স্বয়ং বলেন, আমি যখন ইসলাম গ্রহণ করি তখন বলি, হে আল্লাহর রাসূল! আমি ত্রিশ দিন-রাত এখানে আছি। তিনি বললেন, পানাহার কোথায় করতে? আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! যমযমের পানি ছাড়া আর কোনো খাবার ছিল না। এরপরও আমি এত মোটা হয়ে যাই যে আমার মেদ বেড়ে গেল এবং কোনো রকম দুর্বল অনুভব করিনি। রাসূল (সা) বললেন, যমযমের পানি বরকতময় ও খাদ্য। (মুসলিম, ৪২৭৩)
আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা) যমযম সম্পর্কে বর্ণনা করে বলেন, আমরা যমযমের পানিকে ক্ষুধা নিবারণকারী ও দরিদ্রদের উত্তম সহায়ক বলে মনে করতাম। (মজমাউস জাওয়াইদ ৩/২৮৬, আব্দুর রাজ্জাক ৫/১১৭)