📘 পরিবেশ ও স্বাস্থ বিজ্ঞানে মুহাম্মদ সাঃ 📄 যমযমের পানির ফযীলত

📄 যমযমের পানির ফযীলত


আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মহানবী (সা) বলেছেন-
خَيْرُ مَاءٍ عَلَى وَجْهِ الْأَرْضِ مَاءُ زَمْزَمَ ، فِيْهِ طَعَامُ مِنَ الطَّعَامِ وَشِفَاءٌ مِنَ السُّقْمِ -
অর্থাৎ, ভূ-পৃষ্ঠে সর্বোত্তম পানি হলো যমযমের পানি। তাতে ক্ষুধার্ত ব্যক্তির খাদ্য ও অসুস্থ ব্যক্তির আরোগ্য রয়েছে। (জামেয়ে সগীর, হাদীস ৪০৭৭)
জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ (রা) বলেন, রাসূল (সা) বলেছেন-
مَاءُ زَمْزَمَ لِمَا شُرِبَ لَهُ -
অর্থাৎ: যমযমের পানি যে উদ্দেশ্যে পান করা হবে সে উদ্দেশ্য পূর্ণ হবে।
আনাস (রা) বলেন, আবু জর গিফারী (রা) বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন-
فُرِجَ سَقْفُ بَيْتِي وَأَنَا بِمَكَّةَ فَنَزَلَ جِبْرِيلُ عَلَيْهِ السَّلَامُ فَرَجَ صَدْرِي ثُمَّ غَسَلَهُ بِمَاءِ زَمْزَمَ ثُمَّ جَاءَ بِطَسْتٍ مِنْ ذَهَبٍ مُخْتَلِي حِكْمَةً وَإِيْمَا نَّا فَأَفْرَغَهَا فِي صَدْرِي ثُمَّ أَطْبَقَةُ ثُمَّ أَخَذَ بِيَدِي فَعَرَجَ لِي إِلَى السَّمَاءِ فَلَمَّا جَاءَ إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا قَالَ جِبْرِيلُ لِخَازِنِ السَّمَاءِ افْتَحْ قَالَ : مَنْ هُذَا؟ قَالَ : هُذَا جِبْرِيلُ قَالَ مَعَكَ أَحَدٌ ؟ قَالَ مَعِي مُحَمَّدٌ ﷺ
অর্থাৎ, "আমি মক্কায় (নিজ ঘরে শুয়ে) ছিলাম। তখন আমার ঘরের ছাদ ছিদ্র করা হয় এবং জিবরাঈল (আ) নেমে এসে আমার বক্ষ বিদীর্ণ করেন এবং সেটিকে যমযমের পানি দিয়ে ধুয়ে দেন। অত:পর ঈমান ও হিকমতে পরিপূর্ণ একটি সোনার পাত্র নিয়ে আসেন। সেগুলো আমার অন্তরে ঢেলে দিয়ে বুক বন্ধ করে দেন এবং আমাকে হাত ধরে আসমানে নিয়ে যান। যখন তিনি নিকটতম আকাশে আসলেন অত:পর জিবরাঈল (আ) আসমানের রক্ষককে বললেন, ফটক খুলে দাও। তখন রক্ষক বলল কে?
জিবরাঈল (আ) বললেন আমি। তখন রক্ষক জিজ্ঞাসা করল, তোমার সাথে কি কেউ আছে? উত্তরে জিবরাঈল (আ) বললেন, আমার সাথে মুহাম্মদ (সা) আছেন। (বুখারী-হাদীস ৩৩৪২)
আনাস ইবনে মালেক (রা) কর্তৃক বর্ণিত অন্য বর্ণনায় আছে। তিনি বলেন, রাসূল (সা) ছোটকালে অন্যান্য শিশুদের সাথে খেলছিলেন, ইত্যবসরে জিবরাঈল তাঁর কাছে আসেন এবং রাসূল (সা)-কে শুইয়ে বুক চিরে ক্বলব (অন্তর) বের করে সেটিকেও চিরে তা থেকে জমাট রক্ত পিণ্ড বের করেন।
অত:পর বলেন, এটি শয়তানের অংশ যা আপনার মধ্যে ছিল। অত:পর তিনি অন্তরকে যমযমের পানি দ্বারা ধুয়ে নিজ স্থানে রেখে দেন। এ দৃশ্য দেখে অন্য শিশুরা রাসূল (সা)-এর দুধ মায়ের কাছে ছুটে এসে বলে, মুহাম্মদ (সা)-কে হত্যা করা হয়েছে। তারা সকলে মিলে তাঁকে দেখতে আসেন। তখন রাসূল (সা) শরীরের রং পাল্টিয়ে গিয়েছে। আনাস (রা) বলেন, আমি রাসূল (সা)-এর বক্ষে সিলাইয়ের দাগ প্রত্যক্ষ করতাম।
যমযমের ফযীলতের মধ্যে এটিও একটি যে রাসূল (সা) তার জন্য নেফাকী থেকে মুক্তির মাধ্যম করেছেন যে, ব্যক্তি যমযমের পানি তৃপ্তি ও আন্তরিকতার সাথে পানি করবে।
মুজাহিদ (রহ) বলেন, আমি আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা)-কে কখনও দেখিনি যে, তিনি কাউকে খানা খাইয়েছেন কিন্তু যমযমের পানি পান করাননি। ইবনে আব্বাস (রা)-এর কাছে কোনো অতিথি আসলে তাকে যমযমের পানি উপহার দিতেন। (আখবারে মক্কা, ফাকেহী-১১১৭-১১১৮)
আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা) কর্তৃক বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল (সা) বলেছেন, আমাদের আর মুনাফিকদের (পার্থক্যের) নিদর্শন এই যে, মুনাফিকরা যমযমের পানি পানে তৃপ্তি পায় না ও আন্তরিকতাও রাখে না। (দারেকুতনী ২/২৮৮, বায়হাকী ৫/১৪৭)
যমযমের পানি দ্বারা ওয়াজু করা মুস্তাহাব, যাবের (রা) কর্তৃক বর্ণিত, নবী করীম (সা) পাত্রে করে যমযমের পানি আনতে বলেন। তাঁর জন্য পানি আনা হয়। অত:পর তিনি তা পান করেন এবং অবশিষ্ট পানি দ্বারা অজু করেন। (ইরওয়াউল গলীল, হাদীস ১১২৪)
মুসনাদে আহমদে এই শব্দে বর্ণিত হয়েছে। নবী করীম (সা) তাওয়াফের সময় হাজরে আসওয়াদ থেকে হাজরে আসওয়াদ পর্যন্ত রমলের সাথে তিন চক্কর লাগান। তাওয়াফ শেষে দু'রাকাত নামায পড়েন। অতঃপর হাজরে আসওয়াদের কাছে ফিরে আসেন। এরপর যমযমের দিকে ফিরে গিয়ে পানি পান করেন ও মাথায় ঢালেন। (মুসনাদের আহমদ ৩/৩৯৪)
যমযমের তাৎপর্য বর্ণনা করতে গিয়ে আল্লামা ইবনুল কায়্যিম (রা) বলেছেন: যমযমের পানি হচ্ছে সর্বশ্রেষ্ঠ, সর্বোত্তম ও বরকতময় পানি এবং মানুষের নিকট সবচেয়ে প্রিয়, মূল্যবান ও পবিত্র পানি। আর সেটা হচ্ছে জিবরাঈল (আ)-এর খননকৃত এবং আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে ইসমাঈল (আ)-এর পানীয়। (আততিকূল বাদীল পৃ:৩৩)
মূলত যমযমের পানি অভুক্তের খাদ্য এবং অসুস্থ ব্যক্তির রোগমুক্তি স্বরূপ। এর পানি হাউজে কাউসারের পানি থেকে উত্তম এবং এর পানি দিয়েই রাসূল (সা)- এর শ্রেষ্ঠ ও পবিত্র কূলব (অন্তর) ধৌত করা হয়েছে।
ইমাম হাকিম তিরমিযী (রহ:) বলেছেন, যমযমের পানি পানকারী যদি তা তৃপ্তির জন্য পান করে থাকে তাহলে আল্লাহ তায়ালা তাকে তৃপ্ত করবেন। আর যদি তা তৃষ্ণা নিবারণের জন্য পান করে তাহলে আল্লাহ তায়ালা তার তৃষ্ণা নিবারণ করবেন। আর সে যদি তা রোগমুক্তির উদ্দেশ্যে পান করে তাহলে আল্লাহ তায়ালা তাকে আরোগ্য দান করবেন। আর যদি সে অসৎ চরিত্র দূর করার উদ্দেশ্যে পান করে তাহলে আল্লাহ তায়ালা তাকে সচ্চরিত্রবান বানিয়ে দিবেন। আর যদি সে মনের সংকীর্ণতা দূর করার জন্য পান করে তাহলে আল্লাহ তায়ালা তার অন্তরকে প্রশস্ত করে দিবেন। আর যদি সে মনের অন্ধকার দূর করার জন্য পান করে থাকে তাহলে আল্লাহ তায়ালা মনের অন্ধকার দূর করে দিবেন আর যদি সে মনের ধনাঢ্যতা, স্বচ্ছলতা, অমুখাপেক্ষিতা (আত্মার পরিতুষ্টি) অর্জনের জন্য পান করে তাহলে আল্লাহ তায়ালা তাকে মনের স্বচ্ছলতা দান করবেন। আর যদি সে কোনো প্রয়োজন পূরণ করার উদ্দেশ্যে তা পান করে আল্লাহ তায়ালা তা পূরণ করে দিবেন। আর কেউ যদি তা কোনো আকস্মিক সমস্যার কারণে পান করে তাহলে আল্লাহ তায়ালা তার সমস্যার সমাধান করে দিবেন। কেউ যদি তা বিপদ আক্রান্ত হয়ে পান করে তাহলে আল্লাহ তায়ালা তার বিপদ দূর করে দিবেন। কেউ যদি সাহায্য প্রার্থনা করে তা পান করে তাহলে আল্লাহ তায়ালা তাকে সাহায্য করবেন।
মোটকথা, যে ব্যক্তি যে কোনো নেক নিয়তে ও সৎ উদ্দেশ্য পূরণের লক্ষ্যে পান করবে আল্লাহ তায়ালা তার উদ্দেশ্য পূরণ করবেন। (নাওয়াদিরুল উসুল-৩৪১, আতীবুল বাদীল পৃষ্ঠা ৩৪)

📘 পরিবেশ ও স্বাস্থ বিজ্ঞানে মুহাম্মদ সাঃ 📄 যমযমের পানি শেফা

📄 যমযমের পানি শেফা


সহীহ হাদীস দ্বারা একথা প্রমাণিত যে, যমযমের পানি শেফা তথা রোগারোগ্যকর। হাদীস শরীফে আছে নবী করীম (সা) বলেছেন -
الْحُمَّى مِنْ قَيْحٍ جَهَنَّمَ فَأَبْرِدُهَا بِمَاءِ زَمْزَمَ -
অর্থাৎ "জ্বর হচ্ছে জাহান্নামের তাপ। সুতরাং তোমরা তাকে যমযমের পানি দ্বারা শীতল কর। (মুসতাদরাক, হা/৭৪৩৯, মুসনাদে আহমদ-১/২৯১)।
যমযমের পানি শুধুমাত্র জ্বরেরই আরোগ্যকর নয়; বরং এটা সকল রোগই আরোগ্যকর। আর নিম্নোক্ত হাদীসখানি থেকেও একথা প্রমাণিত হয় : ইবনে আব্বাস (রা) বলেন, নবী করীম (সা) বলেছেন-
خَيْرُ مَاءٍ عَلَى وَجْهِ الْأَرْضِ مَاءُ زَمْزَمَ فِيهِ طَعَامٌ مِنَ الطَّعْمِ وَشِفَاءٌ مِنَ السُّقْمِ
অর্থাৎ, যমযমের পানি হচ্ছে ভূ-পৃষ্ঠের মধ্যে উত্তম পানি। তাতে রয়েছে ক্ষুধার্তের খাদ্য ও পীড়িতের শেফা (আরোগ্য)। (মু'জামে কারবীর, তাবরানী-১১১৬৭)

📘 পরিবেশ ও স্বাস্থ বিজ্ঞানে মুহাম্মদ সাঃ 📄 যমযম কূপের পানিতে রোগীর আরোগ্য লাভের একটি সত্য ঘটনা

📄 যমযম কূপের পানিতে রোগীর আরোগ্য লাভের একটি সত্য ঘটনা


দুরারোগ্য বহুরোগী যমযমের পানিতে আল্লাহর ফজলে আরোগ্য লাভ করেছে একূপ অসংখ্য ঘটনার প্রমাণ পাওয়া যায়। কিছু আগে লাইলা আলহুল নামে এক মহিলা স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হন। তিনি নিজের সুস্বাস্থ্য ও সৌন্দর্যের গর্বে গর্বিতা হয়ে আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফেল ছিলেন। নিজের রোগের কথা জানতে পেরে তিনি চিকিৎসার জন্য বেলজিয়াম চলে যান। সেখানকার চিকিৎসকগণ বলেন, তার স্তন কেটে ফেলতে হবে এবং ক্যামিক্যাল ঔষধ ব্যবহার করতে হবে। এ ধরনের চিকিৎসার ফলে দাঁত নখ ও চুল ঝড়ে যেতে পারে এবং চেহারায় দাড়ি গজাতে পারে। কিন্তু রূপের পূজারী এ মহিলা সৌন্দর্য বিনষ্টকারী এরূপ বিদঘুটে চিকিৎসা গ্রহণ করতে অসম্মতি জানান এবং সাধারণ চিকিৎসা গ্রহণ করে দেশে চলে আসেন। এর ছমাস পরে তিনি অনুধাবন করেন যে, তার শরীরের ওযন হ্রাস পেয়ে গিয়েছে, চামড়ার রং পরিবর্তন হয়ে গেছে নানা ধরনের তীব্র ব্যথা শুরু হয়েছে। যার ফলে বেলজিয়াম পুনরায় চলে যান। মহিলার স্বামীকে চিকিৎসকগণ বলেন, তার পুরো দেহে ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়েছে। এমনকি ফুসফুস পর্যন্ত স্পর্শ করে ফেলেছে। এ পরিস্থিতিতে তার চিকিৎসকরা বলল চিকিৎসা করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। এবং তার স্বামীকে উপদেশ দেন যেন তাকে নিয়ে মাতৃভূমিতে চলে চায়, যাতে আত্মীয় স্বজনের সামনে মৃত্যুবরণ করতে পারেন। কিন্তু তার স্বামী যমযমের পবিত্র পানির কথা ভুলে গিয়েছিলেন। অত:পর আল্লাহ তায়ালা অনুগ্রহ করে এবিষয়টি তাকে ইলহাম করেন তথা তার মনে জাগিয়ে দেন। এরপর তিনি তার স্ত্রীকে নিয়ে মক্কা শরীফে আসেন। কা'বা শরীফকে দেখে মহিলাটি অঝোরে কাঁদতে শুরু করেন এবং এই বলে দোয়া করেন: "হে আল্লাহ! তুমি আমার মনের আশাকে ধুলিৎসাত কর না; বরং তুমি আমাকে সুস্থ করে দিয়ে চিকিৎসকগণকে অবাক করে দাও। তারপর মহিলাটি পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত শুরু করেন এবং পরিতৃপ্তির সাথে যমযমের পানি পান করা আরম্ভ করেন।
মহিলাটি কাবা শরীফে প্রশান্তি অনুভব করেন বিধায় তিনি হারাম শরীফে থাকার মনস্থ করেন ও তার স্বামীকে অনুরোধ করেন তিনি যেন তাকে নিয়ে আবাসিক হোটেলে না যান এবং তিনি হারাম শরীফে থেকে যান।
মহিলাটির শরীরের অর্ধাংশে পোড়া ও ঘায়ে ভরে গিয়েছিল এতে তার দেহে ক্যান্সার ছড়িয়ে যাওয়ার সুনিশ্চিত ইংগিত পাওয়া যায়। হেরেম শরীফে অবস্থানরত অন্যান্য মহিলাগণ তাকে তার শরীরের ঊর্ধাংশ যমযমের পানি দ্বারা সর্বক্ষণ ধৌত করার পরামর্শ দেন। কিন্তু (ধোয়ার জন্য) তিনি তার শরীরকে বেশি নড়াচড়া করতে ভয় করছিলেন। কিন্তু অবশেষে তিনি সমস্ত ভয়-ভীতি ঝেড়ে ফেলে পুঁজ-রক্তে ভরা স্তন ও শরীরকে নিজ হাতে যমযম কূপের পানি দিয়ে ধুতে শুরু করেন। ফলে সকলকে বিস্মিত করে দিয়ে আল্লাহর রহমতে তার ফোঁড়া ও ক্ষত আরোগ্য হয়ে যায়।
এতে করে নবী করীম (সা)-এর বাণী-
مَاءُ زَمْزَمَ فِيهِ ..... وَشِفَاءٌ مِنَ السُّقْمِ (যমযমের পানিতে ... রুগ্ন ব্যক্তির জন্য আরোগ্য (শেফা ও রয়েছে) - এ কথার সত্যতা প্রমাণিত হয় এবং পবিত্র যমযমের পানির গোপন বৈশিষ্ট্য রহস্য ও মর্যাদার কথাও প্রমাণিত হয়। আর এ কথাটি কবির ভাষায় কতইনা সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে-
اللَّهُ أَوْرَعَ عَنَاصِرَ رُكِبَتْ - فِيْهِ يُحَارُ بِكُنْهِهَا الشُّرَاحُ مَنْ قَالَ زَمْزَمَ قُدِّسَتْ - أَسْرَارُهَا عِنْدَ الْإِلَهِ فَمَا عَلَيْهِ جُنَاحٌ (আল্লাহ তায়ালা যমযমের পানিতে এমন বরকতময় উপাদান রেখেছেন যার রহস্য উদঘাটন করতে ব্যাখ্যাকারগণ দিশেহারা হয়ে যান। কেউ যদি বলে যে, যমযম আল্লাহর নিকট পবিত্র ও মর্যাদান্বিত তবে তার কোনো গুনাহ হবে না।)

📘 পরিবেশ ও স্বাস্থ বিজ্ঞানে মুহাম্মদ সাঃ 📄 খাদ্যস্বরূপ যমযমের পানির ভূমিকা

📄 খাদ্যস্বরূপ যমযমের পানির ভূমিকা


আবু জর (রা) শুধুমাত্র যমযমের পানি পান করে পূর্ণ একমাস কাটিয়ে দিয়েছেন। এই একমাসের দীর্ঘ সময়ে তিনি যমযমের পানি ছাড়া কিছু আহার করেন নি। এরপরও তিনি কোনো দুর্বলতা ও অসুস্থতা অনুভব করেন নি এবং তার মাঝে এর কোনো প্রভাব পরিলক্ষিত হয়নি। আবু জর (রা) স্বয়ং বলেন, আমি যখন ইসলাম গ্রহণ করি তখন বলি, হে আল্লাহর রাসূল! আমি ত্রিশ দিন-রাত এখানে আছি। তিনি বললেন, পানাহার কোথায় করতে? আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! যমযমের পানি ছাড়া আর কোনো খাবার ছিল না। এরপরও আমি এত মোটা হয়ে যাই যে আমার মেদ বেড়ে গেল এবং কোনো রকম দুর্বল অনুভব করিনি। রাসূল (সা) বললেন, যমযমের পানি বরকতময় ও খাদ্য। (মুসলিম, ৪২৭৩)
আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা) যমযম সম্পর্কে বর্ণনা করে বলেন, আমরা যমযমের পানিকে ক্ষুধা নিবারণকারী ও দরিদ্রদের উত্তম সহায়ক বলে মনে করতাম। (মজমাউস জাওয়াইদ ৩/২৮৬, আব্দুর রাজ্জাক ৫/১১৭)

ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية