📄 কুরআনে কারীমে খেজুর
আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন-
فَأَنْبَتْنَا فِيهَا حَبًّا وَعِنَبًا وَقَضْبًا وَزَيْتُونَا وَنَخْلًا -
অর্থ: "আমি জমিনে উৎপন্ন করেছি শস্য, আঙ্গুর, শাক-সব্জি, যাইতুন ও খেজুর বৃক্ষ।" (সূরা-আবাসা: আয়াত-২৯)
আল্লাহ তায়ালা সূরা নাহলে খেজুর ও আঙ্গুরের কথা উল্লেখ্য করেছেন। ইরশাদ হচ্ছে-
وَمِنْ ثَمَرَاتِ النَّخْلِ وَالْأَعْنَابِ تَتَّخِذُونَ مِنْهُ سُكْرًا وَرِزْقًا حَسَنًا -
অর্থ: "খেজুর ও আঙ্গুর ফল থেকে তোমরা সাকার ও উত্তম খাদ্য তৈরি কর। নিঃসন্দেহে বুদ্ধিমান লোকদের জন্য এতে নিদর্শন রয়েছে।” (সূরা নাহল: আয়াত-৬৭)
এছাড়া সূরা আনআমের নিরানব্বই নম্বর এবং সূরা মরিয়মের তেইশ নম্বর আয়াতেও খেজুর এবং খেজুরের উপকারিতা বর্ণনা করা হয়েছে।
খেজর সম্পর্কিত কিছু মূল্যবান উদ্ধৃতি
খেজুরের সাথে যৌন শক্তির বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। সেজন্য আকদ এবং বিয়ের সময় খেজুর ছিটানোর প্রাচীন পদ্ধতি চলে আসছে। শুষ্ক খেজুর চুষলে পিপাসা নিবারণ হয়। এজন্য অধিকাংশ হালুয়া ও কাষ্টারে এর ব্যবহার হয়ে থাকে। প্রসূতি মায়েদের জন্য তাজা খেজুরের চেয়ে উত্তম কোনো পথ্য হতে পারে না। আল্লাহ তা'য়ালা মারইয়াম (আ)-কে ঈসা (আ)-এর জন্মের সময় খেজুর খাইয়েছিলেন। এ সম্পর্কে কুরআনে কারীমে ইরশাদ হয়েছে-
وَهُزِّي إِلَيْكِ بِجِذْعِ النَّخْلَةِ تُسَاقِطْ عَلَيْكِ رُطَبًا جَنِيًّا -
"খেজুরের শাখা নিজের কাছে টেনে নাও। তোমার ওপর তাজা পাকা খেজুরগুলো পড়তে থাকবে।" (সূরা মরিয়ম: আয়াত-২৫)
খেজুর শরীরের শিরার কোমলতা সৃষ্ট ব্যথা উপশম করে থাকে।
আবু নঈম (রহ) "কিতাবুত তিব্ব” এ লিখেছেন, রাসূল (সা)-এর কাছে মাখন মিশ্রিত খেজুর অত্যধিক প্রিয় ছিল।
ওলামায়ে কিরাম লিখেছেন, খেজুর ভক্ষণে কামশক্তি বৃদ্ধি পায়, শারীরিক শক্তি বৃদ্ধি পায়। কণ্ঠস্বর পরিষ্কার হয়। (তিব্বে নববী)
📄 হাদীসে আজওয়া খেজুর
আজওয়া খেজুর হৃদ-রোগের মহৌষধ
আজওয়া খেজুর সম্পর্কে রাসূল (সা)-এর পবিত্র বাণী সায়ীদ (রা) বর্ণনা করেন। একদা আমি অসুস্থ হয়ে পড়লে রাসূল (সা) আমাকে দেখতে তাশরীফ নিয়ে এলেন। রাসূল (সা) স্বীয় হস্ত মোবারক আমার বুকের ওপর রাখলেন। রাসূল (সা)-এর পবিত্র হাতের শীতলতা আমার অন্তর পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিল। অতঃপর রাসূলে আকরাম (সা) ইরশাদ করলেন, তুমি অন্তরে কষ্ট অনুভব করছ। তুমি হারেস ইবনে কালদাহ কাফিরের নিকট যাও। কারণ সে একজন চিকিৎসক। সে যেন মদিনার সাতটি আজওয়া খেজুর নিয়ে বীজসহ পিশে তোমার মুখে ঢেলে দেয়।
(আবু দাউদ, মিশকাত)
📄 আজওয়া খেজুর হৃদ-রোগের মহৌষধ
আজওয়া খেজুর সম্পর্কে রাসূল (সা)-এর পবিত্র বাণী সায়ীদ (রা) বর্ণনা করেন। একদা আমি অসুস্থ হয়ে পড়লে রাসূল (সা) আমাকে দেখতে তাশরীফ নিয়ে এলেন। রাসূল (সা) স্বীয় হস্ত মোবারক আমার বুকের ওপর রাখলেন। রাসূল (সা)-এর পবিত্র হাতের শীতলতা আমার অন্তর পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিল। অতঃপর রাসূলে আকরাম (সা) ইরশাদ করলেন, তুমি অন্তরে কষ্ট অনুভব করছ। তুমি হারেস ইবনে কালদাহ কাফিরের নিকট যাও। কারণ সে একজন চিকিৎসক। সে যেন মদিনার সাতটি আজওয়া খেজুর নিয়ে বীজসহ পিশে তোমার মুখে ঢেলে দেয়। (আবু দাউদ, মিশকাত)
📄 আজওয়া খেজুর, বিষের মহৌষধ ও যাদু রোগের প্রতিষেধক
আজওয়া খেজুর মধ্যম আকৃতি হয়ে থাকে। এর ঘনত্ব ও মাধ্যম ধরনের এবং কালচে বর্ণের হয়। এই খেজুর সম্পর্কে রাসূল (সা) ইরশাদ করেন-
وَالْعَجْوَةُ مِنَ الْجَنَّةِ وَهِيَ شِفَاءٌ مِّنَ السَّمِّ -
অর্থ: "আজওয়া জান্নাতের ফল। এর মধ্যে বিষের নিরাময় রয়েছে। (তিরমিযী, মিশকাতুল মাসাবীহ)
বুখারী শরীফে বর্ণিত আছে-
مَنْ تَصَبَّحَ سَبْعَ تَمَرَاتٍ عَجْوَةً لَمْ يَضُرُّهُ ذَلِكَ الْيَوْمَ سَمَّ وَلَا سَحْرٌ.
অর্থ: " সা, আদ ইবনে আবু ওয়াক্কাস (রা) বর্ণনা করেন। রাসূল (রা) ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি প্রতিদিন সকালে সাতটি আজওয়া খেজুর খাবে সে দিন বিষ এবং যাদু তার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।" (বুখারী, হা/৫৭৬৯)
আজওয়া খেজুর খুব মূল্যবান। বাংলাদেশে ১ কেজি খেজুরের দাম প্রায় ২০০০ থেকে ২৫০০ টাকা। বাংলাদেশের খুব কম জায়গায় এই খেজুরটি কিনতে পাওয়া যায়। আজওয়া খেজুরের জন্য বিখ্যাত মক্কা ও মদিনাই।