📄 দুধের উপকারিতা
দুধ ও মধু হাজারো ফুল ও ফুলের নির্যাস-এর মাধ্যমে তৈরি। বিশ্বের সমস্ত চিকিৎসাবিজ্ঞানী একত্রিত হয়েও উক্ত নির্যাস তৈরি করতে পারবে না। একমাত্র আল্লাহ তায়ালাই স্বীয় হেকমত ও কর্ম কৌশলের মাধ্যমে নিজ বান্দার জন্য এ রকম উৎকৃষ্ট পানীয় সৃষ্টি করেছেন।
দুধের উপকারিতা সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে, দুধ কামভাব বৃদ্ধি করে, শরীরের শুষ্কতা বিচ্যুরিত করে এবং শীঘ্রই পরিপাক হয়ে খাদ্যের স্থলাভিষিক্ত হয়ে যায়। দুধ বীর্য উৎপাদন করে। মুখের লাবণ্যতা বৃদ্ধি করে, দুষিত পদার্থ বের করে দেয় এবং স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করে।
📄 মায়ের দুধের পুষ্টিগুণ
শিশুর সর্বোত্তম খাদ্য হলো মায়ের দুধ। শিশু জন্মানোর ৪/৫ ঘণ্টা পর থেকেই বুকের দুধ দেয়া প্রয়োজন। শাল দুধের উপকারিতাও অনেক বেশি। মায়ের দুধ শিশুকে যথাযথভাবে বেড়ে উঠতে, মস্তিষ্কের গঠনে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সৃষ্টি করতে বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। শিশুর ডায়রিয়া, নিউমোনিয়াসহ শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ, কান ও মূত্রনালীর সংক্রমণ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মাতৃদুগ্ধের ফলে শিশুর গ্রোথ হরমোন (Growth Hormone) নিঃসৃত হয়, যা শিশুর শারীরিক বৃদ্ধিতে সহায়তা করে এবং মুখমণ্ডলের সঠিক রূপদানে সহায়তা করে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, মা ও শিশুর মধ্যে প্রগাঢ় নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তুলতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। শিশুর জন্মের প্রথম পাঁচ মাস শুধুমাত্র বুকের দুধ খাওয়ানোর ফলে পরিবেশ ঘটিত অসুস্থতা, অপুষ্টি, খাদ্য সংবেদনশীলতা ও এলার্জীর সম্ভাবনা কমে যায়। মায়ের বুকের দুধ শুধুমাত্র শিশু নয়, মায়ের জন্য উপকারী। মাতৃদুগ্ধদান হচ্ছে গর্ভাবস্থা ও সন্তানের প্রসবোত্তর মৌলিক অত্যাবশ্যকীয় শরীর বৃত্তিয় ধারাবাহিকতা। ফলে শিশু জন্মের পরই মায়ের দুধ খাওয়ানো শুরু করলে প্রসব পরবর্তী অত্যধিক রক্তপাত ও রক্ত স্বল্পতার ঝুঁকি কমে যায়। এছাড়া গর্ভফুলটি তাড়াতাড়ি পড়ে যায় ও প্রসবের পর বেশি রক্তক্ষরণ হয় না। মাতৃদুগ্ধ পান করানোর ফলে মাকে স্লীম রাখতে সহায়তা করে এবং মায়ের রোগ প্রতিরোধে ক্ষমতা বাড়ার সাথে সাথে পুনরায় গর্ভাবস্থার সম্ভাবনা বিলম্বিত করে। বিশেষত: শিশু যদি একটানা দুই মাস বুকের দুধ পান করে তবে এ ক্ষেত্রে গর্ভধারণের সম্ভাবনা শতকরা ৯৮ ভাগ কমে যায় এবং মায়ের শরীরের ইনসুলিনের চাহিদা কমিয়ে দেয়। এমনকি মায়ের ডিম্বাশয়ে ক্যান্সারের সম্ভাবনা অনেকাংশে কমিয়ে দেয়। শিশু জন্মের প্রথম পাঁচ মাস শুধুমাত্র মায়ের দুধ শিশুর বিভিন্ন প্রকার পুষ্টির চাহিদা মেটাতে সক্ষম। ফলে দুই বছর পর্যন্ত মায়ের দুধ শিশুর পুষ্টি ও মানসিক স্বাস্থ্য বিকাশে ভূমিকা পালন করে। মায়ের দুধে ফ্যাটি এসিড রয়েছে যা শিশুর বুদ্ধিদীপ্ততা ও চোখের তীক্ষ্ণতা বা জ্যোতি বাড়ায়।
📄 দুধের পুষ্টিগুণ
১০০ গ্রাম দুধে নিম্নোক্ত খাদ্য উপাদান বিদ্যমান।
মায়ের বুকের দুধে আছে -
১. প্রোটিন : ১.০ গ্রাম
২. স্নেহ পদার্থ : ১.৯ গ্রাম
৩. শর্করা : ৭.০ গ্রাম
৪. ক্যালসিয়াম : ১.৩২ মি. গ্রাম
৫. লৌহ : ০.২ মি. গ্রাম
৬. ক্যালরী : ৬৭
একমাত্র মায়ের দুধেই Docosa Hexaenoic Acid বা D.H.A নামক এক ধরনের Long Chain Fatty Acid বিদ্যমান। বিস্ময়ের বিষয় হলো অন্য কোনো দুধে (গরু, ছাগল, ভেড়া, মহিষ, পাউডার দুধে) এই D.H.A থাকে না। আর এ কারণেই চতুষ্পদী স্তন্যপায়ী প্রাণী বিবেক বুদ্ধিহীন। মায়ের বুকের দুধে D.H.A থাকে বলেই মানুষ এত বুদ্ধিমান।
মাতৃদুগ্ধ প্রয়োজনীয় যে, মাতৃহারা কোনো শিশুকে দুধ দেয়ার অধিকারী অন্য মাতাকে দেয়া হয়েছে। শিশুরা মাতৃ-দুগ্ধ পানের পরে পাকস্থলীতে এসিডের সাথে বিক্রিয়ায় দইয়ে পরিণত হয়। পাকস্থলীর এনজাইম দইকে পরিপাক করে সরল খাদ্যে পরিণত করে এবং ডিওডেনামের ভিলাই দ্বারা তা শোষিত হয়। অবশেষে মলমূত্র বের করতে পারবে না। কিন্তু শিশুরা দুধ খেয়ে মলমূত্র ত্যাগ করতে পারে। শিশুর জন্য এ দুধের প্রয়োজনীয়তা নিঃসন্দেহে বৈজ্ঞানিকভাবে স্বীকৃত। যা কুরআন অনেক আগেই আমাদের জানিয়ে দিয়েছে।
📄 গাভীর দুধের পুষ্টিমান
১০০ গ্রাম গাভীর দুধে নিম্নোক্ত খাদ্য বিদ্যমান।
১. প্রোটিন: ৩.৩ গ্রাম
২. স্নেহপদার্থ: ৩.৬ গ্রাম
৩. শর্করা: ৪.৮ গ্রাম।
৪. ক্যালসিয়াম: ০.১২ মি. গ্রাম
৫. লৌহ: ২.০ মি. গ্রাম
৬. ক্যালরী: ৭১
ছাগলের দুধের পুষ্টিগুণ
১০০ গ্রাম ছাগলের দুধে নিম্নোক্ত উপাদান বিদ্যমান।
১. প্রোটিন: ৩.৭ গ্রাম।
২. স্নেহ পদার্থ: ৫.৬ গ্রাম
৩. শর্করা : ৪.৭ গ্রাম।
৪. ক্যালসিয়াম: ০.১৭ মি. গ্রাম
৫. লৌহ ০.৩ মি. গ্রাম
৬. ক্যালরী: ৮৪ গ্রাম
এছাড়া দুধে শ্বেতসার থাকে। দুধের শ্বেতসারকে ল্যাকটোজ বলা হয়।