📄 ডিম হতে মৌমাছিতে পরিণত হতে সময় লাগে
১. ডিম থেকে পূর্ণাঙ্গ মৌমাছিতে পরিণত হতে সময় লাগে- ১৬ দিন।
২. ডিম থেকে পূর্ণাঙ্গ পুরুষ মৌমাছিতে পরিণত হতে সময় লাগে-২৫ দিন
৩. ডিম থেকে পূর্ণাঙ্গ শ্রমিক মৌমাছিতে পরিণত হতে সময় লাগে-২০ দিন।
শত্রুর আক্রমণকে মৌমাছিরা সংঘবদ্ধভাবে প্রতিহত করে। এরা খুব হিংস্র এবং সহজে পোষ মানে না। উত্যক্ত না করলে সাধারণত: মৌমাছি কামড়ায় না। বিরক্ত করলে তারা হুল ফুটাতে বাধ্য হয়। মৌমাছির দেহ থেকে হুল বিচ্ছিন্ন হওয়ার মাত্র ২ থেকে ২ দিনের মধ্যে সে মৌমাছি মারা যায়।
বর্তমানে বাংলাদেশের শুধুমাত্র সুন্দরবন এলাকা থেকে বছরে ২০০ টন মধু এবং ৫০ টন মোম সংগৃহীত হয়। এক কেজি মধু সংগ্রহ করতে একটি মৌমাছিকে ৭৫০০০ বার ফুল থেকে মৌচাকে আসা-যাওয়া করতে হয়। মাইলের হিসেবে যার পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ছয় লক্ষ মাইল। শ্রমিক মৌমাছিরা ফুলের সন্ধানে মৌচাক থেকে বিভিন্ন দিকে বেরিয়ে পড়ে। ফুলের সন্ধান পেলে মনের আনন্দে সে তৎক্ষণাৎ মৌচাকে ফিরে আসে। সুন্দর নাচের ভঙ্গিতে ফুল বাগানের সন্ধানের খবর সে সকল মৌমাছিকে জানিয়ে দেয়। তারপর পথ দেখিয়ে সবাইকে নিয়ে যায় সেখানে মধু আহরণ করতে। বসন্তের আগমনে গাছে গাছে যখন ফুলের সমারোহ চলে, সে সময়ে সবচেয়ে বেশি মধু সংগৃহীত হয়।
মৌমাছির সংখ্যা বেশি হলে অথবা মৌচাকে মধুর সঞ্চয় বেশি হলে অথবা স্থান সংকুলান না হলে মৌমাছিরা ঝাঁক বেঁধে উড়ে চলে যায়। মৌমাছির কামড় বাত রোগীর জন্য বিশেষ উপকারী। মৌমাছি হুল ফুটালে সাথে সাথে হুল তুলে ফেললে এবং মধু ঘষে দিলে খুব তাড়াতাড়ি জ্বালা যন্ত্রণা কমে যায়।
📄 ফুলের সঙ্গে মৌমাছির সম্পর্ক
ফুলের সঙ্গে মৌমাছির এক নিবিড় ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। ফুলের মধু রসই মৌমাছির একমাত্র খাদ্য। তাই ফুল ছাড়া সে বাঁচতে পারে না। এই দুইয়ের ঘণিষ্ঠতা অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও সুদূর প্রসারী। অন্য অন্য ফুল প্রেমিক কীট পতঙ্গ যেমন ভ্রমন, বোলতা ও প্রজাপতি এরা যেকোনো ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে এবং খেয়ে থাকে কোনো ধরনের বাছ-বিচার নেই। কিন্তু মৌমাছি সেদিক থেকে অত্যন্ত বিশ্বস্ত এরা এক সময় একই রকম ফুল থেকে মধু পান করে থাকে। অন্য জাতের ফুলের দিকে তখন ফিরেও তাকায় না। কাজেই এই প্রক্রিয়ায় বহু গাছের ফুল নিজ জাতের পরাগ রেণু প্রাপ্তির সুযোগ পায় মৌমাছির সাহায্যে। আর বেশি বীজ উৎপন্ন করতে সক্ষম হয়। এই প্রাকৃতিক অনুবন্ধনের জন্য প্রায় ১০ হাজার বৃক্ষ প্রজাতি বেঁচে আছে মৌমাছির সহায়তায়। মৌমাছির মানব কুলকে দুটো অত্যন্ত মহতী জিনিস দিয়ে থাকে। একটি হলো চিনি থেকেও মিষ্টি "মধু” ও অপরটি হলো সব থেকে হাল্কা "মোম"।
📄 পুষ্প রস (নেকটার) যেভাবে মধুতে পরিণত হয়
মাঠ, বাগান, ক্ষেত, পাহাড়, বন-জঙ্গল প্রভৃতি জায়গা থেকে মৌমাছি দলে দলে ফুলের নির্যাস বয়ে আনে তাদের মৌচাকে। আর সেখানে বসে থাকা অপ্রাপ্ত বয়স্ক মৌমাছির মুখের ভিতর ও ঢুকিয়ে দেয় পুষ্পরস অর্থাৎ ফুলের নির্যাস। এই নবীন দল জিহ্বা বিস্তার ও সংকোচন করে রসের পানির ভাগ অনেকাংশে কমিয়ে আনে।
তারপর তাদের গ্লান্ডের এ্যানজাইম বা উৎসেচক দ্বারা ধীরে ধীরে পরবর্তীতে হয় লেডুলোজ ডেক্সটোজে। এই গাঢ় রস মধু চক্রের কোষে মোম দিয়ে ঢেকে সংরক্ষিত করে রাখে। এতে এ্যানজাইম সক্রিয় থাকে এই সঞ্চিত রসে। ফলে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এই সংরক্ষিত 'সবুজ মধু' সোনালী গাঢ় মধুতে পরিণত হয়।
📄 একটা মৌমাছি কত মধু সংগ্রহ করে
একটি মৌমাছি এক পাউন্ড মধু সংগ্রহ করতে পনের হাজার বার মধু গ্রহণে যেতে হয়। তাদের সব কর্মকান্ড নিয়ম শৃঙ্খলায় সুসংবদ্ধ। একটি মৌমাছি দিনে তার ওজনের ১০গুণ মধু আহরণ করে থাকে ফুল থেকে ফুলে।
এক হিসেবে দেখা গেছে, একটি চাক বাঁচাতে প্রায় ১৭ মিলিয়ন মাইল মৌমাছিদের উড়তে হয় মধু সংগ্রহে। মৌমাছিরা এতই কর্তব্য পরায়ণ যে, বসন্ত ও গ্রীষ্মে ৬/৭ সপ্তাহের উত্তুঙ্গ আহরণ পূর্বে উড়ে উড়ে সমস্ত শক্তি নিঃশেষিত হয়ে আকাশেই বহু মৌমাছি ঝড়ে পড়ে বীরোচিত মৃত্যুবরণ করে থাকে।
চার হাজার বছরের পুরনো মধু পাওয়া গিয়েছে মিশরের পিরামিডে। সে মধু এখনও অক্ষুণ্ণ, অবিমিশ্র ও খাঁটি।