📘 পরিবেশ ও স্বাস্থ বিজ্ঞানে মুহাম্মদ সাঃ > 📄 বিভিন্ন ভাষায় মধুর নাম

📄 বিভিন্ন ভাষায় মধুর নাম


বাংলায়- মধু, ইংরেজিতে- Honey, আরবিতে - الْعَسَلُ , ফার্সিতে-অঙ্গবীন, হিন্দিতে-মাথী, গুজরাটিতে-মাকদাহ বলা হয়।

📘 পরিবেশ ও স্বাস্থ বিজ্ঞানে মুহাম্মদ সাঃ > 📄 মৌচাকে সাধারণত তিন শ্রেণির মৌমাছি থাকে

📄 মৌচাকে সাধারণত তিন শ্রেণির মৌমাছি থাকে


১. রানী মৌমাছি ২. পুরুষ মৌমাছি। ৩. শ্রমিক মৌমাছি।
১. রানী মৌমাছি : একটি মৌমাছির চাকে একটি মাত্র রানী মৌমাছি থাকে। ডিম পাড়াই রানী মৌমাছির কাজ। রানী মৌমাছি দৈনিক ১২০০-১৫০০ ডিম পাড়ে। ডিম পাড়ার কাজটি সে নিরলসভাবে করে। রানী মৌমাছি যে কুঠুরীতে ডিম পাড়ে তাকে রানী কোষ বলা হয়। রানী মৌমাছিই মৌচাকের প্রাণ। সারাদিন রানী মৌমাছি সমস্ত মৌচাকে ঘুরে বেড়ায়। এ সময় পুরুষ মৌমাছিরা রানীকে ঘিরে রাখে। মনে হয় রাণীকে তারা যেন ভেরিকেট করে রেখেছে। যাতে বাইরের কোনো শত্রু তাদের রানীর কোনো ক্ষতি করতে না পারে। রানীর অভাবে চাকের পুরুষ ও শ্রমিক মৌমাছিরা বিশেষ ব্যাকুল ও উত্তেজিত হয়ে পড়ে। রানী মৌমাছি ডিম পাড়া শুরু করলে শ্রমিক মৌমাছিরা তাকে রাজকীয় খাদ্য খেতে দিয়ে থাকে এবং রাজকীয় মর্যাদা দিয়ে থাকে। রানী মৌমাছির ডিম দেয়ার ক্ষমতা শেষ হলে শ্রমিক মৌমাছিরা তাকে নিষ্ঠুরভাবে মেরে ফেলে অথবা কোনো কারণে রানীর মৃত্যু হলে শ্রমিক মৌমাছিরা রানী বাচ্চাকে বিশেষভাবে খাদ্য দিয়ে ও যত্ন করে রানীতে পরিণত করে। একটি মৌচাকে কখনও দুটি রানী থাকতে পারে না। তাই রানীর কুঠুরীতে বাচ্চা রানীর জন্ম হলে তাকে হুল ফুটিয়ে মেরে কুঠুরী থেকে ফেলে দেয়া হয়। আর যদি কোনো কারণে মৌচাকে আর একটি রানী মৌমাছির উৎপত্তি হয় তবে দুই রানীর মধ্যে তুমুল যুদ্ধ বাধে। যুদ্ধে হয় এক রানী নিহত হয় নতুবা পরাজয় স্বীকার করে মৌচাক থেকে পালিয়ে যায়। পরাজিত রানী পালিয়ে যাওয়ার সময় কিছু সংখ্যক পুরুষ ও শ্রমিক মৌমাছিও তার অনুগামী হয়।
২. পুরুষ মৌমাছি : একটি মৌচাকে সাধারণত চারশত পুরুষ মৌমাছি থাকে। পুরুষ মৌমাছিরা সাধারণ অলস প্রকৃতির হয়ে থাকে। পুরুষ মৌমাছির কোনো হুল থাকে না। এরা মৌচাকে বসে বসে শ্রমিক মৌমাছিদের সঞ্চিত মধু খেয়ে থাকে। প্রজনন একমাত্র তাদের কাজ। একটি পুরুষ মৌমাছি জীবনে একবারই মাত্র রাণীর সাথে মিলিত হওয়ার সুযোগ পায়। মিলিত হওয়ার পর পরই পুরুষ মৌমাছির জীবন লীলাও শেষ হয়ে যায়। হঠাৎ যদি কোনো কারণে পুরুষ মৌমাছির মৃত্যু না হয় তবে শ্রমিক মৌমাছিরা তাকে সেখানে থেকে তাড়িয়ে দেয়।
৩. শ্রমিক মৌমাছি : একটি মৌচাকে ত্রিশ চল্লিশ হাজার শ্রমিক মৌমাছি থাকতে পারে। এই শ্রমিক মৌমাছিরা সব সময় শুধু কাজ আর কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকে এবং তারা নিঃস্বার্থভাবে মৌচাকের সমস্ত কাজ করে থাকে। এরা অসম্পূর্ণ স্ত্রী জাতের। শ্রমিক মৌমাছিরা যখন মধুর সন্ধানে এক ফুল থেকে অন্য ফুলে ঘুরে বেড়ায় তখন তার সম্পূর্ণ অজান্তে পুরুষ ফুলের পরাগ রেণুর সাথে স্ত্রী ফুলের গর্ভ কেশরের মিলন ঘটে। একটি মৌমাছি একটি কর্মদিনে প্রায় আঠারো হাজার ফুলকে পরাগায়ন করতে পারে। ২/১ মাইল দূর থেকেও মৌমাছি ফুলের মধু সংগ্রহ করতে পারে।

📘 পরিবেশ ও স্বাস্থ বিজ্ঞানে মুহাম্মদ সাঃ > 📄 ডিম হতে মৌমাছিতে পরিণত হতে সময় লাগে

📄 ডিম হতে মৌমাছিতে পরিণত হতে সময় লাগে


১. ডিম থেকে পূর্ণাঙ্গ মৌমাছিতে পরিণত হতে সময় লাগে- ১৬ দিন।
২. ডিম থেকে পূর্ণাঙ্গ পুরুষ মৌমাছিতে পরিণত হতে সময় লাগে-২৫ দিন
৩. ডিম থেকে পূর্ণাঙ্গ শ্রমিক মৌমাছিতে পরিণত হতে সময় লাগে-২০ দিন।
শত্রুর আক্রমণকে মৌমাছিরা সংঘবদ্ধভাবে প্রতিহত করে। এরা খুব হিংস্র এবং সহজে পোষ মানে না। উত্যক্ত না করলে সাধারণত: মৌমাছি কামড়ায় না। বিরক্ত করলে তারা হুল ফুটাতে বাধ্য হয়। মৌমাছির দেহ থেকে হুল বিচ্ছিন্ন হওয়ার মাত্র ২ থেকে ২ দিনের মধ্যে সে মৌমাছি মারা যায়।
বর্তমানে বাংলাদেশের শুধুমাত্র সুন্দরবন এলাকা থেকে বছরে ২০০ টন মধু এবং ৫০ টন মোম সংগৃহীত হয়। এক কেজি মধু সংগ্রহ করতে একটি মৌমাছিকে ৭৫০০০ বার ফুল থেকে মৌচাকে আসা-যাওয়া করতে হয়। মাইলের হিসেবে যার পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ছয় লক্ষ মাইল। শ্রমিক মৌমাছিরা ফুলের সন্ধানে মৌচাক থেকে বিভিন্ন দিকে বেরিয়ে পড়ে। ফুলের সন্ধান পেলে মনের আনন্দে সে তৎক্ষণাৎ মৌচাকে ফিরে আসে। সুন্দর নাচের ভঙ্গিতে ফুল বাগানের সন্ধানের খবর সে সকল মৌমাছিকে জানিয়ে দেয়। তারপর পথ দেখিয়ে সবাইকে নিয়ে যায় সেখানে মধু আহরণ করতে। বসন্তের আগমনে গাছে গাছে যখন ফুলের সমারোহ চলে, সে সময়ে সবচেয়ে বেশি মধু সংগৃহীত হয়।
মৌমাছির সংখ্যা বেশি হলে অথবা মৌচাকে মধুর সঞ্চয় বেশি হলে অথবা স্থান সংকুলান না হলে মৌমাছিরা ঝাঁক বেঁধে উড়ে চলে যায়। মৌমাছির কামড় বাত রোগীর জন্য বিশেষ উপকারী। মৌমাছি হুল ফুটালে সাথে সাথে হুল তুলে ফেললে এবং মধু ঘষে দিলে খুব তাড়াতাড়ি জ্বালা যন্ত্রণা কমে যায়।

📘 পরিবেশ ও স্বাস্থ বিজ্ঞানে মুহাম্মদ সাঃ > 📄 ফুলের সঙ্গে মৌমাছির সম্পর্ক

📄 ফুলের সঙ্গে মৌমাছির সম্পর্ক


ফুলের সঙ্গে মৌমাছির এক নিবিড় ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। ফুলের মধু রসই মৌমাছির একমাত্র খাদ্য। তাই ফুল ছাড়া সে বাঁচতে পারে না। এই দুইয়ের ঘণিষ্ঠতা অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও সুদূর প্রসারী। অন্য অন্য ফুল প্রেমিক কীট পতঙ্গ যেমন ভ্রমন, বোলতা ও প্রজাপতি এরা যেকোনো ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে এবং খেয়ে থাকে কোনো ধরনের বাছ-বিচার নেই। কিন্তু মৌমাছি সেদিক থেকে অত্যন্ত বিশ্বস্ত এরা এক সময় একই রকম ফুল থেকে মধু পান করে থাকে। অন্য জাতের ফুলের দিকে তখন ফিরেও তাকায় না। কাজেই এই প্রক্রিয়ায় বহু গাছের ফুল নিজ জাতের পরাগ রেণু প্রাপ্তির সুযোগ পায় মৌমাছির সাহায্যে। আর বেশি বীজ উৎপন্ন করতে সক্ষম হয়। এই প্রাকৃতিক অনুবন্ধনের জন্য প্রায় ১০ হাজার বৃক্ষ প্রজাতি বেঁচে আছে মৌমাছির সহায়তায়। মৌমাছির মানব কুলকে দুটো অত্যন্ত মহতী জিনিস দিয়ে থাকে। একটি হলো চিনি থেকেও মিষ্টি "মধু” ও অপরটি হলো সব থেকে হাল্কা "মোম"।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00