📄 মধুর সংক্ষিপ্ত কিছু গুণ
১. মধু ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে।
২. মধু রুচি বৃদ্ধি করে।
৩. মধু কোষ্ঠ কাঠিন্য দূর করে।
৪. মধু পেট পরিষ্কার করে।
৫. মধু সর্দি কাশি সারাতে সাহায্য করে।
৬. মধু বিভিন্ন প্রকারের ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে।
৭. মধুতে কোনো ফ্যাট বা কোলেস্টেরল নেই। তাই সুস্থ, অসুস্থ, শুকনো, মোটা যে কেউ মধু খেতে পারেন।
৮. সুস্থ মানুষ দিনে ২ চা-চামচ মধু অনায়াসে খেতে পারেন। বেশি মধু খেলে অন্যান্য কার্বো-হাইড্রেট যেমন- ভাত, রুটি, আলু কমিয়ে খেতে হবে। তা-না হলে মোটা হয়ে যাওয়ার আশংকা থাকে।
৯. পোড়া ঘায়ে মধু মহৌষধ।
১০. মধু শ্বাসতন্ত্রের ক্ষত রক্ষা করে।
১১. মধু হাঁপানী রোগ দূর করে।
১২. মধু হজমে গোলমালে সাহায্য করে।
১৩. মধু হার্টের অসুস্থতা দূরে করে।
১৪. জিহ্বায় বা মুখে ঘা হলে রাতে ঘুমানো পূর্বে মধুর প্রলেপ দিলে ক্ষতস্থান সেরে যায়।
১৫. মধু খেলে টাইফয়েড ও আমাশয় রোগের জীবাণু মারা যায়।
১৬. মধু বল ও বীর্য বৃদ্ধিকারক এবং যৌন অক্ষমতা দূরে করে।
১৭. প্রত্যহ চা চামচের ২/৩ চামচ মধু বাচ্চাকে খাওয়ালে ওজনে বেড়ে যায় এবং শরীরের রক্ত কণিকা বৃদ্ধি পায়।
১৮. মধু দুধের মতোই পুষ্টিকর (বাচ্চাদের জন্য দুধের পরই মধুর স্থান)
১৯. বৃদ্ধদের জন্য মধু অমৃত তুল্য।
২০. মধু বাতের ব্যথা উপশমকারী।
২১. মধু মুখের দুর্গন্ধ দূর করে।
২২. মধু শরীরের ফুসফুসকে শক্তিশালী করে।
২৩. মধু শরীরের পক্ষাঘাত রোগের প্রতিষেধক। মধু মুখের পক্ষাঘাত রোগের প্রতিষেধক।
২৪. মধু রক্ত পরিশোধনকারী।
২৫. মধু মানসিক রোগীর জন্য অত্যন্ত উপকারী।
২৬. মধু চক্ষু রোগ ও দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধির মহৌষধ। মধু চোখে লাগালে দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি পায়।
২৭. মধু মুখের অতিরিক্ত লালা দূর করে।
২৮. মধু ব্যবহারে দাঁত পরিষ্কার ও চমকদার হয় এবং দাতের মাড়ি শক্ত করে।
২৯. মধুর কোনো পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নেই।
৩০. নিয়মিত মধু খেলে শরীরের অভ্যন্তরীণ প্রণালী পরিষ্কার হয়ে শরীর ঝরঝরে হয়ে যায়।
৩১. সব ঋতুতেই মধু খাওয়া যায়।
৩২. ত্বকের নানা সমস্যা, দাগ সারাতে কিংবা ব্রনের ক্ষত সারাতে মধু এন্টিবায়োটিকের মতো কাজ করে। এছাড়া ত্বকের সংক্রমণ জনিত ক্ষত, ত্বকের এলার্জির ক্ষেত্রেও মধু ব্যবহারে আশানুরূপ ফল পাওয়া যায়।
৩৩. মধু দুর্বলতা দূর করে, শক্তি সামর্থ দান করে ও দীর্ঘস্থায়ী করে।
৩৪. নিয়মিত মধু সেবনে স্মরণশক্তি বৃদ্ধি করে।
৩৫. ইহা জিহবার জড়তা দূর করে।
৩৬. মধু শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ অপসারণ করে।
৩৭. মধু মূত্রথলি পরিষ্কার করে।
৩৮. মধু লোমকূপের গোড়া পরিষ্কার করে।
৩৯. মধু উচ্চ রক্তচাপ ও তাপ নিয়ন্ত্রণ করে।
৪০. জ্বর, নিউমোনিয়া, মৃগী ও কার্ডিওভাসকুলার রোগও কার্যকর ভূমিকা রাখে।
৪১. মধু ত্বকের ময়েশ্চার লস থামায়। যে কোনো ধরনের ত্বকেই মধু ব্যবহার করা যায়। স্বাভাবিক, তৈলাক্ত, শুষ্ক কিংবা মিশ্র।
৪২. মধু ক্লান্ত ত্বকে উজ্জ্বল আভা আনে অর্থাৎ রূপ চর্চাতেও মধুর ব্যবহার স্বীকৃত।
৪৩. যারা রক্ত স্বল্পতায় বেশি ভোগেন, তাদের জন্য নিয়মিত মধু সেবন অত্যন্ত ফলদায়ক।
৪৪. চিনির পরিবর্তে চা, কফি, দুধ, পানির সঙ্গে মধু মিশিয়ে খেলে অতি তাড়াতাড়ি এবং সহজেই ক্লান্তি দূর হয়।
৪৫. যাদের ক্ষুধা নেই, নিয়মিত মধু খেলে ক্ষুধা বৃদ্ধি হবে।
৪৬. মধু অত্যন্ত পুষ্টিকর ও শক্তিবর্ধক পানীয় যা সকল দেশের সকল পর্যায়ের মানুষ অত্যন্ত আগ্রহ সহকারে ব্যবহার করে আসছে।
৪৭. মধু বার্ধক্যকে দূর করে সজীবতা আনয়ন করে।
৪৮. মধু মুখের রুচি বাড়াতে সাহায্য করে।
৪৯. মধু সেবনে তাৎক্ষণিকভাবে শরীরে শক্তি যোগায়।
৫০. মধু আল্লাহ প্রদত্ত এক অপূর্ব নিয়ামত।
📄 মৌমাছির সংক্ষিপ্ত জীবনী
আল্লাহ তায়ালা মানুষকে আশরাফুল মাখলুকাত করে সৃষ্টি করেছেন। মধুকে মানুষের রোগ নিরাময়কারী হিসেবে আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে একটি সূরা নাযিল করেছেন। সেই সূরাটি হচ্ছে সূরা নাহল। নাহল অর্থ মৌমাছি। আল্লাহ তায়ালা ফুলের মধ্যে মধুর উপকরণ সৃষ্টি করেছেন, মানুষের কল্যাণের জন্য এবং সেই মধু আহরণ করার জন্য মৌমাছিও সৃষ্টি করেছেন। আর ফুলের মধ্য থেকে মধু আহরণের কৌশল আল্লাহ তায়ালা মৌমাছিকে শিক্ষা দিয়েছেন। মৌমাছি ফুল থেকে নেকটার নামক এক প্রকার নির্যাস আহরণ করে। এই নির্যাস ও মৌমাছির পেটে এক প্রকার এনজাইমের সংমিশ্রনের ফলে মধু প্রস্তুত হয়।
📄 বিভিন্ন ভাষায় মধুর নাম
বাংলায়- মধু, ইংরেজিতে- Honey, আরবিতে - الْعَسَلُ , ফার্সিতে-অঙ্গবীন, হিন্দিতে-মাথী, গুজরাটিতে-মাকদাহ বলা হয়।
📄 মৌচাকে সাধারণত তিন শ্রেণির মৌমাছি থাকে
১. রানী মৌমাছি ২. পুরুষ মৌমাছি। ৩. শ্রমিক মৌমাছি।
১. রানী মৌমাছি : একটি মৌমাছির চাকে একটি মাত্র রানী মৌমাছি থাকে। ডিম পাড়াই রানী মৌমাছির কাজ। রানী মৌমাছি দৈনিক ১২০০-১৫০০ ডিম পাড়ে। ডিম পাড়ার কাজটি সে নিরলসভাবে করে। রানী মৌমাছি যে কুঠুরীতে ডিম পাড়ে তাকে রানী কোষ বলা হয়। রানী মৌমাছিই মৌচাকের প্রাণ। সারাদিন রানী মৌমাছি সমস্ত মৌচাকে ঘুরে বেড়ায়। এ সময় পুরুষ মৌমাছিরা রানীকে ঘিরে রাখে। মনে হয় রাণীকে তারা যেন ভেরিকেট করে রেখেছে। যাতে বাইরের কোনো শত্রু তাদের রানীর কোনো ক্ষতি করতে না পারে। রানীর অভাবে চাকের পুরুষ ও শ্রমিক মৌমাছিরা বিশেষ ব্যাকুল ও উত্তেজিত হয়ে পড়ে। রানী মৌমাছি ডিম পাড়া শুরু করলে শ্রমিক মৌমাছিরা তাকে রাজকীয় খাদ্য খেতে দিয়ে থাকে এবং রাজকীয় মর্যাদা দিয়ে থাকে। রানী মৌমাছির ডিম দেয়ার ক্ষমতা শেষ হলে শ্রমিক মৌমাছিরা তাকে নিষ্ঠুরভাবে মেরে ফেলে অথবা কোনো কারণে রানীর মৃত্যু হলে শ্রমিক মৌমাছিরা রানী বাচ্চাকে বিশেষভাবে খাদ্য দিয়ে ও যত্ন করে রানীতে পরিণত করে। একটি মৌচাকে কখনও দুটি রানী থাকতে পারে না। তাই রানীর কুঠুরীতে বাচ্চা রানীর জন্ম হলে তাকে হুল ফুটিয়ে মেরে কুঠুরী থেকে ফেলে দেয়া হয়। আর যদি কোনো কারণে মৌচাকে আর একটি রানী মৌমাছির উৎপত্তি হয় তবে দুই রানীর মধ্যে তুমুল যুদ্ধ বাধে। যুদ্ধে হয় এক রানী নিহত হয় নতুবা পরাজয় স্বীকার করে মৌচাক থেকে পালিয়ে যায়। পরাজিত রানী পালিয়ে যাওয়ার সময় কিছু সংখ্যক পুরুষ ও শ্রমিক মৌমাছিও তার অনুগামী হয়।
২. পুরুষ মৌমাছি : একটি মৌচাকে সাধারণত চারশত পুরুষ মৌমাছি থাকে। পুরুষ মৌমাছিরা সাধারণ অলস প্রকৃতির হয়ে থাকে। পুরুষ মৌমাছির কোনো হুল থাকে না। এরা মৌচাকে বসে বসে শ্রমিক মৌমাছিদের সঞ্চিত মধু খেয়ে থাকে। প্রজনন একমাত্র তাদের কাজ। একটি পুরুষ মৌমাছি জীবনে একবারই মাত্র রাণীর সাথে মিলিত হওয়ার সুযোগ পায়। মিলিত হওয়ার পর পরই পুরুষ মৌমাছির জীবন লীলাও শেষ হয়ে যায়। হঠাৎ যদি কোনো কারণে পুরুষ মৌমাছির মৃত্যু না হয় তবে শ্রমিক মৌমাছিরা তাকে সেখানে থেকে তাড়িয়ে দেয়।
৩. শ্রমিক মৌমাছি : একটি মৌচাকে ত্রিশ চল্লিশ হাজার শ্রমিক মৌমাছি থাকতে পারে। এই শ্রমিক মৌমাছিরা সব সময় শুধু কাজ আর কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকে এবং তারা নিঃস্বার্থভাবে মৌচাকের সমস্ত কাজ করে থাকে। এরা অসম্পূর্ণ স্ত্রী জাতের। শ্রমিক মৌমাছিরা যখন মধুর সন্ধানে এক ফুল থেকে অন্য ফুলে ঘুরে বেড়ায় তখন তার সম্পূর্ণ অজান্তে পুরুষ ফুলের পরাগ রেণুর সাথে স্ত্রী ফুলের গর্ভ কেশরের মিলন ঘটে। একটি মৌমাছি একটি কর্মদিনে প্রায় আঠারো হাজার ফুলকে পরাগায়ন করতে পারে। ২/১ মাইল দূর থেকেও মৌমাছি ফুলের মধু সংগ্রহ করতে পারে।