📘 পরিবেশ ও স্বাস্থ বিজ্ঞানে মুহাম্মদ সাঃ > 📄 মধুর প্রকারভেদ

📄 মধুর প্রকারভেদ


মধু আট প্রকার: ১. মাক্ষিক, ২. ভ্রামর, ৩. ক্ষৌদ্র, ৪. পৌত্তিক, ৫. ছাত্র, ৬. অর্ঘ্য, ৭. উদ্দালক ও ৮. দাল। এদের কিছু গুণ ও লক্ষণ নিচে দেয়া হলো-
১. মাক্ষিক মধু: মধুমক্ষিকরা বা মৌমাছিরা যে তৈলবর্ণ মধু তৈরি করে, তাকে বলা হয় মাক্ষিক মধু। সমস্ত মধুর মধ্যে এটিই শ্রেষ্ঠ। এ মধু চক্ষুরোগ বিনাশ করে, অর্শরোগ নাশ করে, শ্বাসকষ্ট দূর করে, ক্ষয়রোগ নিরাময় করে, ক্ষত নিবারণ করে এবং কাস রোগের আরোগ্য করে। এটি লঘুপাক, তাই খেতে কোনো অসুবিধে নেই।
২. ভ্রামণ মধু: সাধারণভাবে যে ভ্রমর আমরা দেখি, এদের চেয়ে আকারে সামান্য ছোট ভ্রমর সংগৃহীত স্ফটিকতুল্য পরিষ্কার মধুকে ভ্রামর মধু বলা হয়। ভ্রামর মধু মূত্ররোধক, শীতল ও পিচ্ছিল। রক্তজনিত পিত্তনিবারক এবং অভিষ্যন্দকারক।
৩. ক্ষৌদ্র মধু: কপিলবর্ণের যে অতি সূক্ষ্ণ মক্ষিকা, তাদেরই ক্ষুদ্র নামে অভিহিত করা হয়। এই মক্ষিকা দ্বারা তৈরি মধুই ক্ষৌদ্র মধু নামে অভিহিত হয়। এই মধু মাক্ষিক মধুর মতোই গুণান্বিত। এটি ব্যবহারের প্রমেহ নিবারিত হয়ে থাকে।
৪. পৌত্তিক মধু: এক রকমের মৌমাছি দেখা যায় যা আকারে ছোট এবং এর কামড় অতীব পীড়াদায়ক। এদের গায়ের রং কালো এবং এরা বড় পুত্তিকা। পুত্তিকা মৌমাছি কর্তৃক তৈরি মধুর নাম পৌত্তিক মধু। এই মধুর রং অনেকটা ঘৃতের মতো।
প্রমেহ নিবারণের কাজে, মূত্রকৃচ্ছ উপশমের কাজে, রক্ত দুটি নিবারণের কাজে এবং অস্থিক্ষত নিরাময়ের কাজে এই মধুকে ব্যবহার করা হয়।
৫. ছাত্র মধু: হিমালয়ের বনে এক ধরনের পীত ও কপিলবর্ণের মৌমাছি দেখা যায়। এরা ছত্রাকার মৌচাক তৈরি করে, তাই এর থেকে তৈরি মধুকে ছাত্র মধু বলা হয়ে থাকে। এই মধু দেখতে পীত ও কপিলবর্ণ হয়।
ক্রিমি প্রশমনের কাজে, মোহ নাশের কাজে, তৃপ্তি আনয়নে, শ্বেতীরোগ নিরাময় করতে, বিষদোষের উপশমে এবং তৃষ্ণা নিবারণের জন্য এর ব্যবহার হয়।
৬. অর্ঘ্য মধু: তীক্ষ্ণ তুন্ডুযুক্ত এক ধরনের মক্ষিকা দেখা যায়, সেগুলিকে বলা হয় অর্ঘ্য। এদের বর্ণ পীত এবং দুটি পা আছে।
এদের দ্বারা তৈরি মধুর নামই হলো অর্ঘ্য মধু।
অর্ঘ্য মধু কফ নিবারক, পুষ্টিবর্ধনকারী, পিত্তনিরাময়কারী। এটি স্বাদে কষায় এবং বিপাকে কটু। এটি ভক্ষণে শক্তি বৃদ্ধি হয়।
৭. উদ্দালক মধু: চলতি কথায় এর নাম হলো উই মধু। উইয়ের ঢিবির মধ্যে এই ধরনের মৌমাছিরা বাস করে এবং অল্প পরিমাণে মধু তৈরি করে-এরাই উদ্দালক নামে পরিচিতি।
উদ্দালক মৌমাছি আকারে ছোট এবং কপিল বর্ণাকৃতি। এদের মধুও দেখতে কপিলবর্ণ।
৮. দাল মধু: চলতি ভাষায় এর নাম কুটুরে মধু। ফুল থেকে যে মধু স্থলিত হয়ে পুত্রের ওপরে সংগৃহীত হয়, তার নাম দال মধু।
এই মধু ওজনে ভারি। এই মধুতে রসের পরিমাণ বেশি।
বমি রুদ্ধ করতে, পুষ্টির বিকাশ ঘটাতে, রুচি আনতে, কফ নিবারণে, প্রমেহ উপশমে এই মধুর কার্যকারিতা অনস্বীকার্য।

📘 পরিবেশ ও স্বাস্থ বিজ্ঞানে মুহাম্মদ সাঃ > 📄 নতুন ও পুরাতন মধুর গুণ

📄 নতুন ও পুরাতন মধুর গুণ


নতুন মধু পুষ্টিকারক, কিন্তু তেমন কফবিনাশকারী নয়। পুরানো মধু ধারক গুণসম্পন্ন, রুক্ষ, মেদনাশক এবং অত্যন্ত কৃশতাকারক। এক বছর অতিক্রান্ত হলেই সেই মধুকে বলা হয় পুরানো মধু। ভ্রমররা সবিষ প্রাণী। বিষাক্ত ফুল থেকেও এরা রস আহরণ করে মধু তৈরি করে থাকে, তাই শীতল মধুই সবচেয়ে বেশি গুণকারক। কিন্তু বিষসম্বন্ধ থাকায় উষ্ণ মধু সেবন বা উষ্ণ দ্রব্যের সঙ্গে মধু সেবন সঙ্গত নয়। তবে মধুকে উত্তপ্ত করলে সরাসরি-সূর্যালোকে মধুর গুণাগুণ নষ্ট হয়ে যায়।
এক গবেষণায় দেখা গেছে, যে সকল মৌমাছি খারাপ মধু আনে। তা প্রমাণ হলে রানী মৌমাছির আদেশক্রমে তাদের ঘাড় আলাদা করে মেরে ফেলে।

📘 পরিবেশ ও স্বাস্থ বিজ্ঞানে মুহাম্মদ সাঃ > 📄 যুগ যুগ ধরে প্রমাণিত মধুর গুণ

📄 যুগ যুগ ধরে প্রমাণিত মধুর গুণ


মধু একটি অত্যন্ত পুষ্টিকর খাদ্য। সব শাস্ত্রে মধুকে মহৌষধ বলা হয়ে থাকে। সম্প্রতি এক গবেষণায় জানা যায়, এক কেজি মধু ৬.৫০ লিটার দুধ অথবা ৭.৫০ কেজি পনির অথবা ১.৬৫ কেজি গোশত অথবা ৪০টি প্রমাণ সাইজের কমলা অথবা ৫০টি ডিমের পুষ্টিমানের সমান। এক কেজি মধু ৩২৫০ ক্যালরি শক্তি সরবরাহ করে। এক চামচ মধুর খাদ্যমান একটি ডিমের সমান। এক পাউন্ড গোশতে যে পরিমাণ খাদ্য উপাদান থাকে তার চেয়ে তিনগুণ খাদ্য উপাদান থাকে মধুতে। মধু মধুর মতোই পুষ্টিকর। বৃদ্ধদের জন্য মধু অমৃত তুল্য। বাচ্চাদের জন্য খাদ্য হিসেবে দুধের পরই মধুর স্থান। প্রত্যহ চা-চামচের ২/১ চামচ মধু বাচ্চাকে খাওয়ালে তার শরীরের রক্ত কণিকা বৃদ্ধি পায়, ফলে বাচ্চার ওজন বেড়ে যায়। তাছাড়া মধু বল বৃদ্ধিকারক। হেকিমী ও কবিরাজী শাস্ত্রে মধু দ্বারা নানা প্রকার রোগ নাশক ঔষধ প্রস্তুত করা হয়। প্রাচীনকালে মিশরে স্বামীরা প্রতি বছর বিবাহ বার্ষিকীতে স্ত্রীকে এক ভান্ড করে মধু উপহার দিত। হিন্দু সমাজে বাসর রাতে নববধূর গালে ও ঠোঁটে মধু মাখিয়ে দেয়া হতো। অনেক সবজাত শিশুকে জন্মের প্রথমে দুধ খাওয়ার আগে দুই এক ফোঁটা মধু মুখে দেয়া হয়। উদ্দেশ্য হচ্ছে সারা জীবন যেন মধুর মতো মধুময় হয়ে উঠে তাদের জীবন। গ্রীক সুন্দরীরা মধু পান করত যৌবন ধরে রাখার জন্য। মিশরের মায়েরা বাচ্চাদের মধু মিশ্রিত পানি পান করাতেন যাতে তাদের স্বাস্থ্য ভালো থাকে ও তারা যেন সুন্দর হয়। কিংবদন্তি সুন্দরী ক্লিওপেট্রা মুখে মধু মাখতেন।

📘 পরিবেশ ও স্বাস্থ বিজ্ঞানে মুহাম্মদ সাঃ > 📄 মধুর সংক্ষিপ্ত কিছু গুণ

📄 মধুর সংক্ষিপ্ত কিছু গুণ


১. মধু ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে।
২. মধু রুচি বৃদ্ধি করে।
৩. মধু কোষ্ঠ কাঠিন্য দূর করে।
৪. মধু পেট পরিষ্কার করে।
৫. মধু সর্দি কাশি সারাতে সাহায্য করে।
৬. মধু বিভিন্ন প্রকারের ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে।
৭. মধুতে কোনো ফ্যাট বা কোলেস্টেরল নেই। তাই সুস্থ, অসুস্থ, শুকনো, মোটা যে কেউ মধু খেতে পারেন।
৮. সুস্থ মানুষ দিনে ২ চা-চামচ মধু অনায়াসে খেতে পারেন। বেশি মধু খেলে অন্যান্য কার্বো-হাইড্রেট যেমন- ভাত, রুটি, আলু কমিয়ে খেতে হবে। তা-না হলে মোটা হয়ে যাওয়ার আশংকা থাকে।
৯. পোড়া ঘায়ে মধু মহৌষধ।
১০. মধু শ্বাসতন্ত্রের ক্ষত রক্ষা করে।
১১. মধু হাঁপানী রোগ দূর করে।
১২. মধু হজমে গোলমালে সাহায্য করে।
১৩. মধু হার্টের অসুস্থতা দূরে করে।
১৪. জিহ্বায় বা মুখে ঘা হলে রাতে ঘুমানো পূর্বে মধুর প্রলেপ দিলে ক্ষতস্থান সেরে যায়।
১৫. মধু খেলে টাইফয়েড ও আমাশয় রোগের জীবাণু মারা যায়।
১৬. মধু বল ও বীর্য বৃদ্ধিকারক এবং যৌন অক্ষমতা দূরে করে।
১৭. প্রত্যহ চা চামচের ২/৩ চামচ মধু বাচ্চাকে খাওয়ালে ওজনে বেড়ে যায় এবং শরীরের রক্ত কণিকা বৃদ্ধি পায়।
১৮. মধু দুধের মতোই পুষ্টিকর (বাচ্চাদের জন্য দুধের পরই মধুর স্থান)
১৯. বৃদ্ধদের জন্য মধু অমৃত তুল্য।
২০. মধু বাতের ব্যথা উপশমকারী।
২১. মধু মুখের দুর্গন্ধ দূর করে।
২২. মধু শরীরের ফুসফুসকে শক্তিশালী করে।
২৩. মধু শরীরের পক্ষাঘাত রোগের প্রতিষেধক। মধু মুখের পক্ষাঘাত রোগের প্রতিষেধক।
২৪. মধু রক্ত পরিশোধনকারী।
২৫. মধু মানসিক রোগীর জন্য অত্যন্ত উপকারী।
২৬. মধু চক্ষু রোগ ও দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধির মহৌষধ। মধু চোখে লাগালে দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি পায়।
২৭. মধু মুখের অতিরিক্ত লালা দূর করে।
২৮. মধু ব্যবহারে দাঁত পরিষ্কার ও চমকদার হয় এবং দাতের মাড়ি শক্ত করে।
২৯. মধুর কোনো পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নেই।
৩০. নিয়মিত মধু খেলে শরীরের অভ্যন্তরীণ প্রণালী পরিষ্কার হয়ে শরীর ঝরঝরে হয়ে যায়।
৩১. সব ঋতুতেই মধু খাওয়া যায়।
৩২. ত্বকের নানা সমস্যা, দাগ সারাতে কিংবা ব্রনের ক্ষত সারাতে মধু এন্টিবায়োটিকের মতো কাজ করে। এছাড়া ত্বকের সংক্রমণ জনিত ক্ষত, ত্বকের এলার্জির ক্ষেত্রেও মধু ব্যবহারে আশানুরূপ ফল পাওয়া যায়।
৩৩. মধু দুর্বলতা দূর করে, শক্তি সামর্থ দান করে ও দীর্ঘস্থায়ী করে।
৩৪. নিয়মিত মধু সেবনে স্মরণশক্তি বৃদ্ধি করে।
৩৫. ইহা জিহবার জড়তা দূর করে।
৩৬. মধু শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ অপসারণ করে।
৩৭. মধু মূত্রথলি পরিষ্কার করে।
৩৮. মধু লোমকূপের গোড়া পরিষ্কার করে।
৩৯. মধু উচ্চ রক্তচাপ ও তাপ নিয়ন্ত্রণ করে।
৪০. জ্বর, নিউমোনিয়া, মৃগী ও কার্ডিওভাসকুলার রোগও কার্যকর ভূমিকা রাখে।
৪১. মধু ত্বকের ময়েশ্চার লস থামায়। যে কোনো ধরনের ত্বকেই মধু ব্যবহার করা যায়। স্বাভাবিক, তৈলাক্ত, শুষ্ক কিংবা মিশ্র।
৪২. মধু ক্লান্ত ত্বকে উজ্জ্বল আভা আনে অর্থাৎ রূপ চর্চাতেও মধুর ব্যবহার স্বীকৃত।
৪৩. যারা রক্ত স্বল্পতায় বেশি ভোগেন, তাদের জন্য নিয়মিত মধু সেবন অত্যন্ত ফলদায়ক।
৪৪. চিনির পরিবর্তে চা, কফি, দুধ, পানির সঙ্গে মধু মিশিয়ে খেলে অতি তাড়াতাড়ি এবং সহজেই ক্লান্তি দূর হয়।
৪৫. যাদের ক্ষুধা নেই, নিয়মিত মধু খেলে ক্ষুধা বৃদ্ধি হবে।
৪৬. মধু অত্যন্ত পুষ্টিকর ও শক্তিবর্ধক পানীয় যা সকল দেশের সকল পর্যায়ের মানুষ অত্যন্ত আগ্রহ সহকারে ব্যবহার করে আসছে।
৪৭. মধু বার্ধক্যকে দূর করে সজীবতা আনয়ন করে।
৪৮. মধু মুখের রুচি বাড়াতে সাহায্য করে।
৪৯. মধু সেবনে তাৎক্ষণিকভাবে শরীরে শক্তি যোগায়।
৫০. মধু আল্লাহ প্রদত্ত এক অপূর্ব নিয়ামত।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00