📄 মধু ব্যাকটেরিয়া নির্মূল করে
গ্যাস্টিক, আলসার অথবা ডিওডেনাল আলসারের জন্য "হেলিকো ব্যাকটরপাইলরী" নামক ব্যাকটেরিয়াকে দায়ী করা হয়। এই ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণে ক্যান্সার ও হৃদরোগ হয়। লন্ডনে সেন্ট জর্জ হাসপাতালে পরিচালিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, এই ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতিতে হৃদরোগের সম্ভাবনা দ্বিগুণ বৃদ্ধি করে। শিশুদের দৈহিক বৃদ্ধি প্রভাবিত করে। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যে সব উঠতি বয়সের মেয়েদের দেহে এ ব্যাকটেরিয়া নেই, তাদের তুলনায় যাদের এ ব্যাকটেরিয়া রয়েছে, তাদের দৈহিক বৃদ্ধি অপেক্ষাকৃত কম। ৫৫৪ জন মেয়ের ওপর গবেষণা চালিয়ে এই ফল পাওয়া গেছে। এই ব্যাকটেরিয়া নির্মূলের জন্য এন্টি-বায়োটিক ব্যবহৃত হয়। বর্তমানে এর আক্রমণে গ্যাস্টিক এবং ডিওডেনাল আলসারের জন্য ট্রিপল থেরাপী (Triple therapy) ব্যবহৃত হয়।
অন্য এক গবেষণায় দেখা গেছে, মধু সেবনে হেলিকো-ব্যাক্টর পাইলরী নামক ব্যাকটেরিয়া নির্মূল হয়। মধু সেবনে একদিকে যেমন ব্যাকটেয়িরার হাত থেকে মুক্তি পাওয়া যায় তেমনি এন্টি-বায়োটিকের ক্ষতিকর প্রভাব হতেও পরিত্রাণ পাওয়া যায়।
📄 ক্যান্সার ও হৃদরোগে মধু
পূর্বের আলোচনা হতে পরিষ্কার বুঝা যায়, মধুতে ব্যাকটেরিয়া নির্মূলের ক্ষমতা বিদ্যমান। গ্যাস্ট্রিক ও ডিওডেনাল আলসার-এর জন্য দায়ী "হেলিকোব্যাকটর পাইলরী" নামক ব্যাকটেরিয়াকেও নির্মূল করতে পারে। সেই সাথে মধু ক্যান্সার ও হৃদরোগ প্রতিহত করতে পারে। ক্যান্সার এবং হৃদরোগের অন্যতম কারণ হলো, মুক্তমূলক বা ফ্রি-রেডিক্যাল। এন্টি-অক্সিডেন্ট, মুক্তমূলক বা ফ্রি রেডিক্যালের বিরুদ্ধে কাজ করে, ক্যান্সার, হৃদরোগসহ অনেক রোগ প্রতিরোধে বিশেষ ভূমিকা রাখে। মধুতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে এন্টি-অক্সিডেন্ট। মধু যত ঘন বা গাঢ় হবে, এন্টি-অক্সিডেন্ট-এর পরিমাণ তত বেশি থাকবে। ফলে নিয়মিত মধু সেবনে ক্যান্সার ও হৃদরোগসহ বহুবিধ রোগ প্রতিরোধে বিশেষ ভূমিকা রাখে। মধুর সাথে কালিজিরা সেবনে ক্যান্সারের বিরুদ্ধে বিস্ময়কর ভূমিকা রাখতে সক্ষম।
📄 বিভিন্ন রোগ ব্যাধিতে মধু ব্যবহারের পদ্ধতি
পেটের রোগ-ব্যাধি, শরীরের পানি শূন্যতায়, হাইপার হাইড্রোসিস, হার্ট প্রম্বিং, শারীরিক দুর্বলতা, স্নায়ুবিক দুর্বলতা, কোষ্ঠকাঠিন্যতায় নিম্নোক্তভাবে মধু ব্যবহার করতে হবে। একে "হানী ওয়াটার থেরাপী" বলা হয়। তৈরির পদ্ধতি: প্রথমে পরিষ্কার একটি কাঁচের গ্লাসে ১ (এক) থেকে ৩ (তিন) চামচ মধু নিতে হবে। এরপর এক গ্লাস অথবা পরিমাণ মতো বিশুদ্ধ পানি গ্লাসে ঢালতে হবে এবং উক্ত মধু মিশ্রিত পানি পান করতে হবে। প্রত্যহ ১ (এক) থেকে ৩ (তিন) চা চামচ মধু চেটে চেটে খেতে হবে। সেই সাথে প্রয়োজনানুসারে ১/২ চা চামচ কালিজিরার তেল চেটে চেটে খেতে হবে। অথবা প্রথম সকালে ও রাত্রে শয়নকালে এক চিমটি কালিজিরা চিবিয়ে চিবিয়ে খেতে হবে।
📄 মৌমাছির বিষের মাধ্যমে রোগ মুক্তি
বিস্ময়কর হলেও সত্য যে, মৌমাছির হুলের বিষে কিছু কঠিন রোগ নিরাময়ের প্রতিষেধক রয়েছ। মৌমাছির বিষ গেঁটেবাত ও রক্ত Multiple Selerosis বা গেঁটেবাত নিরাময়ে কার্যকরী ভূমিকা রাখে। বিজ্ঞানীরা মৌমাছির বিষে বেশ কিছু ধরনের প্রোটিন খুঁজে পেয়েছেন। গবেষণায় দেখা গেছে, এ সব প্রোটিনের মধ্যকার "ফসফলিপাজ-এ” নামক এক প্রকার এনজাইম থাকে; যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়।
সাধারণত মধু সংগ্রহের জন্য মধু চাষ করা হলেও বিজ্ঞানীরা মৌমাছির বিষ সংগ্রহ করেছেন। বিশেষ ধরনের কাগজে লাগামাত্রই বিদ্যুতের প্রভাবে মৌমাছি বিষ উগড়ে বা ঢেলে দেয়। সম্প্রতি মৌমাছির বিষ নিয়ে বিজ্ঞানীরা এক দীর্ঘ মেয়াদী গবেষণার কাজ শুরু করেছেন। ওয়াশিংটনের জর্জ টাউন ইউনিভার্সিটির মেডিক্যাল সেন্টারে বছরব্যাপী এই গবেষণা শুরু হয়েছে। শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ও মাইক্রোবায়োলজির প্রফেসর জোসেফ বেলান্তি এ গবেষণায় নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। তাঁর মতে, মৌমাছির বিষের সাহায্যে রোগ নিরাময় ক্ষমতার ধারণা নতুন নয়; বরং ইতিহাস থেকে জানা যায়, গ্রিক ও রোমানিরা মৌমাছির বিষের সাহায্যে রোগ নিরাময় সম্পর্কিত বিদ্যা সম্পর্কে জানত। আর এ সূত্র ধরেই সমকালীন বিজ্ঞানীরা এ বিষয়ে গবেষণায় আকৃষ্ট হন। এরূপ আরেকটি ঘটনাতে দেখা যায়, গেঁটেবাত বা Multiple Selerosis রয়েছে, এমন ব্যক্তি মৌমাছি দ্বারা আক্রান্ত হওয়া রোগের দুর্ভোগ থেকে বিস্ময়করভাবে মুক্ত হয়ে গেছে।