📘 পরিবেশ ও স্বাস্থ বিজ্ঞানে মুহাম্মদ সাঃ > 📄 রোগ নিরাময়ে মধু ব্যবহারের ইতিহাস

📄 রোগ নিরাময়ে মধু ব্যবহারের ইতিহাস


গ্রিক চিকিৎসক হিপোক্রেটাস বিভিন্ন ধরনের রোগ নিরাময়ে মধু ব্যবহার করতেন। তিনি মধুকে অতিরিক্ত খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছেন। বিশিষ্ট চিকিৎসা বিজ্ঞানী গ্যালেন মধুর ঔষধি গুণাগুণ বর্ণনা করেছেন এবং এর বিষবিরোধী ধর্মও উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে মধু আন্দ্রিক রোগে উপকারী। বিশেষ করে দুর্বল শিশুদের মুখের অভ্যন্তরীণ পঁচনশীল ঘা নিরাময়ে এটি খুবই উপকারী। বিভিন্ন ধরনের নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে এবং উষ্ণতা বৃদ্ধি করে। এটি ক্ষুধা ও স্মৃতি শক্তি বৃদ্ধি করে এবং শোষক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। মধু পাকস্থলীর বিভিন্ন প্রকার রোগে বিশেষ উপকারি।
আল-সমরকান্দী এবং ইবনে আল-নাসিফ বিভিন্ন প্রকার মূত্র রোগে মধু ব্যবহার করতেন। আল-রাজী মূত্র পাথরীতে কালিজিরার সাথে মধু ব্যবহার করতেন। ইউনানী মধ্য যুগের চিকিৎসা বিজ্ঞানীগণ বিভিন্ন রোগে মধু ব্যবহার করতেন, (যেমন-পাকস্থলী ও অস্ত্রের রোগ, কোষ্ঠকাঠিন্য, অম্লাধিক্য, মুখের প্রদাহ, চোখের রোগ, চোখের পাতায় প্রদাহ, কর্ণিয়ার ক্ষত, কর্নিয়ার অস্বচ্ছতা, স্নায়ুরোগ, পক্ষাঘাত, রক্ত প্রবাহের অবরুদ্ধতাজনিত হৃদরোগ এবং উচ্চ রক্তচাপ, ত্বকের রোগ, সংক্রমণজনিত ক্ষত, সর্দি, কাশি, নিউমোনিয়া ইত্যাদি।)

📘 পরিবেশ ও স্বাস্থ বিজ্ঞানে মুহাম্মদ সাঃ > 📄 মধু সম্পর্কিত জার্মানি হৃদ-রোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ ই-কচ-এর উক্তি

📄 মধু সম্পর্কিত জার্মানি হৃদ-রোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ ই-কচ-এর উক্তি


ডা: ই-কচ-এর মতে, উপযুক্ত ঘাস খেয়ে ঘোড়া যেমন তেজী হয় তেমনি প্রত্যহ সকালে এক চা-চামচ করে খাঁটি মধু খেলে হৃদপিণ্ড শক্তিশালী হয়।

📘 পরিবেশ ও স্বাস্থ বিজ্ঞানে মুহাম্মদ সাঃ > 📄 মধু ব্যাকটেরিয়া নির্মূল করে

📄 মধু ব্যাকটেরিয়া নির্মূল করে


গ্যাস্টিক, আলসার অথবা ডিওডেনাল আলসারের জন্য "হেলিকো ব্যাকটরপাইলরী" নামক ব্যাকটেরিয়াকে দায়ী করা হয়। এই ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণে ক্যান্সার ও হৃদরোগ হয়। লন্ডনে সেন্ট জর্জ হাসপাতালে পরিচালিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, এই ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতিতে হৃদরোগের সম্ভাবনা দ্বিগুণ বৃদ্ধি করে। শিশুদের দৈহিক বৃদ্ধি প্রভাবিত করে। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যে সব উঠতি বয়সের মেয়েদের দেহে এ ব্যাকটেরিয়া নেই, তাদের তুলনায় যাদের এ ব্যাকটেরিয়া রয়েছে, তাদের দৈহিক বৃদ্ধি অপেক্ষাকৃত কম। ৫৫৪ জন মেয়ের ওপর গবেষণা চালিয়ে এই ফল পাওয়া গেছে। এই ব্যাকটেরিয়া নির্মূলের জন্য এন্টি-বায়োটিক ব্যবহৃত হয়। বর্তমানে এর আক্রমণে গ্যাস্টিক এবং ডিওডেনাল আলসারের জন্য ট্রিপল থেরাপী (Triple therapy) ব্যবহৃত হয়।
অন্য এক গবেষণায় দেখা গেছে, মধু সেবনে হেলিকো-ব্যাক্টর পাইলরী নামক ব্যাকটেরিয়া নির্মূল হয়। মধু সেবনে একদিকে যেমন ব্যাকটেয়িরার হাত থেকে মুক্তি পাওয়া যায় তেমনি এন্টি-বায়োটিকের ক্ষতিকর প্রভাব হতেও পরিত্রাণ পাওয়া যায়।

📘 পরিবেশ ও স্বাস্থ বিজ্ঞানে মুহাম্মদ সাঃ > 📄 ক্যান্সার ও হৃদরোগে মধু

📄 ক্যান্সার ও হৃদরোগে মধু


পূর্বের আলোচনা হতে পরিষ্কার বুঝা যায়, মধুতে ব্যাকটেরিয়া নির্মূলের ক্ষমতা বিদ্যমান। গ্যাস্ট্রিক ও ডিওডেনাল আলসার-এর জন্য দায়ী "হেলিকোব্যাকটর পাইলরী" নামক ব্যাকটেরিয়াকেও নির্মূল করতে পারে। সেই সাথে মধু ক্যান্সার ও হৃদরোগ প্রতিহত করতে পারে। ক্যান্সার এবং হৃদরোগের অন্যতম কারণ হলো, মুক্তমূলক বা ফ্রি-রেডিক্যাল। এন্টি-অক্সিডেন্ট, মুক্তমূলক বা ফ্রি রেডিক্যালের বিরুদ্ধে কাজ করে, ক্যান্সার, হৃদরোগসহ অনেক রোগ প্রতিরোধে বিশেষ ভূমিকা রাখে। মধুতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে এন্টি-অক্সিডেন্ট। মধু যত ঘন বা গাঢ় হবে, এন্টি-অক্সিডেন্ট-এর পরিমাণ তত বেশি থাকবে। ফলে নিয়মিত মধু সেবনে ক্যান্সার ও হৃদরোগসহ বহুবিধ রোগ প্রতিরোধে বিশেষ ভূমিকা রাখে। মধুর সাথে কালিজিরা সেবনে ক্যান্সারের বিরুদ্ধে বিস্ময়কর ভূমিকা রাখতে সক্ষম।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00