📘 পরিবেশ ও স্বাস্থ বিজ্ঞানে মুহাম্মদ সাঃ > 📄 চিকিৎসা বিজ্ঞানে মধু

📄 চিকিৎসা বিজ্ঞানে মধু


দুই চামচ দারু চিনি গুঁড়া, এক চামচ মধু এক গ্লাস হালকা গরম পানিতে মিশিয়ে সেবন করলে মূত্রথলির জীবাণু ধ্বংস হয়।
১. দাঁতের ব্যথা: দাঁত সার্বক্ষণিক ব্যথা হলে এক চামচ দারুচিনির গুঁড়া, পাঁচ চামচ মধু এক সঙ্গে মিশিয়ে ব্যথাযুক্ত দাঁতের গোড়ায় ব্যবহার করলে ব্যথা উপশম হয়। ব্যথা না সারা পর্যন্ত দিনে তিনবার ব্যবহার করতে হবে।
২. কোলস্টেরল: দুই চা চামচ মধু এবং তিন চা চামচ দারুচিনি গুঁড়া ১৬ আউন্স পানিতে মিশিয়ে কোলস্টেরলের রোগীকে সেবন করালে দুই ঘণ্টার মধ্যে কোলস্টেরলের পরিমাণ ১০ শতাংশ কমিয়ে আনে। দিনে দুবার সেবন করলে যে কোনো ধরনের কোলস্টেরল জনিত রোগ উপশম করে।
৩. ঠাণ্ডা লাগা: যারা সাধারণ বা তীব্র ঠাণ্ডায় ভোগে তাদের এক টেবিল চা চামচ হালকা গরম মধু ও দুই চা চামচ দারুচিনি গুঁড়া মিশিয়ে দিনে একবার করে তিন দিন সেবন করতে হবে। এই প্রক্রিয়ায় ঠাণ্ডা, পুরনো কাশি উপশম হয় এবং সাইনাস পরিষ্কার করে।
৪. পাকস্থলীর সমস্যা: দারুচিনি পাউডারের সঙ্গে মধু মিশিয়ে সেবন করলে পাকস্থলীর ব্যথা ও গ্যাস্ট্রিকজনিত ব্যথা উপশম হয় এবং পাকস্থলীর মূল হতে আলসার ভালো করে।
৫. হার্টের রোগ: দারুচিনি গুঁড়া এবং মধু একসঙ্গে মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে রুটির সঙ্গে জেলির মতো মাখিয়ে সকালের নাশতায় খেতে হবে। এটা ধমনীর কোলস্টেরলের পরিমাণ কমায় এবং রোগীকে হার্ট অ্যাটাক হতে রক্ষা করে।
৬. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা : প্রতিদিন মধু ও দারুচিনি গুঁড়া সেবন করলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসের আক্রমণ হতে দেহকে রক্ষা করে।
৭. বদহজম : দুই টেবিল চামচ মধুর ওপর সামান্য দারুচিনি গুঁড়া মিশিয়ে খাবারের আগে সেবন করলে এসিডিটি কমে যায় এবং ভারী খাবার হজম হয়।
৮. ইনফ্লুয়েঞ্জা : মধু ইনফ্লুয়েঞ্জার জীবাণু ধ্বংস করে।
৯. ত্বকের ইনফেকশন : মধু ও দারুচিনি গুঁড়া সমপরিমাণে মিশিয়ে একজিমা, দাউদ এবং অন্য সব ধরনের ত্বকের ইনফেকশন এর আক্রান্ত স্থানে লাগাতে হবে। দিনে দুবার সাত দিন হতে শুরু করে প্রয়োজনে এক মাস ব্যবহার করতে হবে।
১০. ওজন কমানো : সকালের নাশতার আধা ঘণ্টা আগে খালি পেটে এবং রাতে ঘুমানোর আগে মধু ও দারুচিনি গুঁড়া এক কাপ গরম পানিতে মিশিয়ে পান করতে হবে। নিয়মিত পান করলে স্থূলকায় শরীরের ওজনও কমে থাকে। এই মিশ্রণ নিয়মিত পান করলে উচ্চমানের খাবার খেলেও শরীরে চর্বি জমতে পারে না।
১১. ক্যান্সার : সম্প্রতি জাপান ও অস্ট্রেলিয়ায় পাকস্থলী ও হাড়ের ক্যান্সার সফলতার সঙ্গে আরোগ্য লাভ করেছে। যেসব রোগী এ ধরনের ক্যান্সারে ভোগে তাদের ক্ষেত্রে এক টেবিল চামচ মধু ও এক চা চামচ দারুচিনি গুঁড়া একসঙ্গে মিশিয়ে দিনে তিন বার এক মাস সেবনে এ রোগ হতে আরোগ্য লাভ করে।
১২. ক্লান্তি : ডা. মিল্টন যিনি এই গবেষণা করেছেন। তিনি বলেন, এক গ্লাস পানিতে আধা টেবিল চামচ মধু এবং কিছু দারুচিনি গুঁড়া গ্লাসের পানিতে ছিটিয়ে দিয়ে সকালে ব্রাশ করার পর এবং বিকেল ৩টার দিকে পান করলে সাত দিনের মধ্যে শরীর সতেজ হয়ে ওঠে এবং ক্লান্তি দূর হয়।
১৩. শ্রবণ শক্তি কমে গেলে: যেসব রোগী কানে কম শোনে তাদের ক্ষেত্রে সমপরিমাণ মধু ও দারুচিনি গুঁড়া মিশিয়ে সকালে ও রাতে পান করলে শ্রবণ শক্তি বৃদ্ধি পায়।
১৪. পুড়ে গেলে: খাঁটি মধু পোড়ার ওপর মুক্তভাবে নিয়মিত লাগালে পোড়ার জ্বালা বন্ধ করে, ব্যথা দূর করে এবং দ্রুত উপশম হয়।
১৫. বিছানায় প্রস্রাব করলে: শিশুদের ঘুমানোর আগে এক চা চামচ মধু খাওয়ালে বিছানায় প্রস্রাব করা বন্ধ হয়।
১৬. অনিদ্রা: এক গ্লাস দুধের মধ্যে এক টেবিল চামচ মধু মিশিয়ে পান করলে ভালো ঘুম হয়। ঘুমের পর শরীর সতেজ হয়, কর্মে উদ্যম ফিরে পাওয়া যায়।
১৭. নাকের নিঃশ্বাস বন্ধ হওয়া: এক বাটি গরম পানিতে এক টেবিল চামচ মধু মিশিয়ে বাটির ওপর মাথা রেখে শ্বাসের মাধ্যমে গন্ধ নিতে হবে এবং বাটিসহ মাথা তোয়ালে দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। এতে অত্যন্ত ভালো ফল পাওয়া যায়।
১৮. ক্ষত: ক্ষতস্থানে মধু দ্বারা প্রলেপ দিয়ে বেঁধে দিলে খুব ভালো উপকার পাওয়া যায় এবং নিয়মিত ব্যবহার করলে কোনো এন্টিবায়োটিকের প্রয়োজন হয় না। (প্রথম আলো ৫-৯-২০০৪)
১৯. অস্টিওপোরোসিস: প্রতিদিন এক চা চামচ মধু পান করলে ক্যালসিয়াম ব্যবহারে সহায়ক হয় এবং অস্টিওপোরোসিস রোগের হাত হতে রক্ষা করে। বিশেষ করে পঞ্চাশোর্ধ্ব বয়সের লোকের জন্য খুব উপকারী।
২০. মাইগ্রেন: হালকা গরম পানিতে এক টেবিল চামচ মধু মিশিয়ে মাইগ্রেন ব্যথার শুরুতে চুমুক দিয়ে পান করতে হবে। প্রয়োজনে ২০ মিনিট পর পর পান করতে হবে। এতে খুব ভালো ফল পাওয়া যায় এবং এছাড়াও রাশিয়ার বিখ্যাত ডাক্তার ক্যাভিনভিনা, তিনি মৌমাছির মধু নিয়ে গবেষণা করে বলেছেন যে, মৌমাছিরা যখন ফুল হতে অথবা অন্য কোনো স্থান হতে মধু সংগ্রহ করে, তখন ইহা উক্ত মৌমাছির মুখের লালার সাথে মিশে উক্ত মধু নতুন এক উপাদানে পরিণত হয়। যা সর্বপ্রকার রোগের ঔষধ হিসেবে ব্যবহার করা যায়। অথবা সর্বপ্রকার ঔষধ মিশিয়ে নতুন নতুন রোগের নতুন নতুন ঔষধ তৈরি করা যায়।

📘 পরিবেশ ও স্বাস্থ বিজ্ঞানে মুহাম্মদ সাঃ > 📄 মধুর বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ ও এর পুষ্টিমান

📄 মধুর বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ ও এর পুষ্টিমান


হাজার-হাজার সংগৃহীত ফুলের নির্যাস এবং খাদ্য দ্রব্যের সাথে মৌমাছির মুখ থেকে নিঃসৃত লালা উপাদানসমূহের রাসায়নিক বিক্রিয়ায় লালারূপ ঘন আঠালো পদার্থ তৈরি হয়, তাকে মধু বলে।
১০০ গ্রাম মধুকে বিশ্লেষণ করলে নিম্নোক্ত উপাদনগুলো পাওয়া যায়।
১. গ্লুকোজ - ৩৫%; ইহা ক্লান্তি দূরীকরণের বিশেষ ভূমিকা রাখে।
২. লেভিউলোজ - ৪০%
৩. শর্করা ৩-৪%; এর উপস্থিতির কারণে জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হয় না এবং নষ্টও হয় না।
৪. পানি - ১৮%; শরীরের পানির ভারসাম্য রক্ষা করে।
৫. খনিজ উপাদান ০.২% গ্রাম। (যা শারীরিক, মানসিক, স্নায়ুবিক ও স্মৃতি শক্তি বাড়ায়)
৬. ক্যালসিয়াম ৫ মি. গ্রাম (যা দ্বারা হাড়, দাঁত, রক্ত ও অন্যান্য টিসু তৈরি হয়)
৭. লৌহ - ৯ মি. গ্রাম (যা রক্ত তৈরিতে সরাসরি অংশগ্রহণ করে।)
৮. আমিষ-০.৩ গ্রাম। = ভিটামিন বি-২০.০৪ মি. গ্রাম। = ভিটামিন-সি - ৪ মি. গ্রাম।
৯. অন্যান্য ৩% গ্রাম।
এছাড়া মধুতে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের এন্টি-অক্সিডেন্ট, এন্টিসেপটিক এজেন্ট, এন্টিবায়োটিক এজেন্ট, হজম শক্তি বৃদ্ধিকারী এনজাইমিক এজেন্ট ইত্যাদি। এতে ২% এনজাইম রয়েছে। এ এনজাইমগুলো হলো- ডায়াস্টেজ, ইনভার্টেজ, সোকরোজ, ক্যাটালেক্স, পার-অক্সিডেস, লাইপেজ। এই এনজাইমগুলো বিভিন্ন খনিজ উপাদান যেমন-ক্যালসিয়াম, সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, আয়রন, ক্লোরিন, সালফার, ফসফরাস, আয়োডিন লবণের সাথে যুক্ত থাকে। কিছু উপকরণের রেডিয়ামের ন্যায় ধাতব উপাদানও থাকে।
রাসায়নিক গবেষণায় প্রাপ্ত ফলাফলের ভিত্তিতে জানা গেছে, এতে এ্যালুমিনিয়াম, বোরন, ক্রোমিয়াম, কপার, লেড, টিন, জিংক ও জৈব এসিড যেমন-ম্যালিক এসিড, সাইট্রিক এসিড, টারটারিক এসিড এবং অক্সালিক এসিড, ভিটামিন, হরমোনস, এসিটাইল কোলিন, এন্টিবায়োটিকস, ফাইটোনসাইডস, সাইটোস্ট্যাটিকস এবং পানি (১৭.৭%) ছাড়াও অন্যান্য পুষ্টিকর উপাদান আছে। ভিটামিন যেমন-ভিটামিন বি-১, বি-২, বি-৩, বি-৫, বি-৬, ভিটামিন-সি, ভিটামিন-ই, ভিটামিন-কে এবং ক্যারোটিন ইত্যাদি মধুতে বিদ্যমান। এক কেজি মধুতে ৩২৫০ ক্যালরি শক্তি থাকে। ইহা সুগারের ন্যায় যা রূপান্তর ব্যতীত সরাসরি অস্ত্র থেকে রক্তে সংযোজিত হয়।

📘 পরিবেশ ও স্বাস্থ বিজ্ঞানে মুহাম্মদ সাঃ > 📄 রোগ নিরাময়ে মধু ব্যবহারের ইতিহাস

📄 রোগ নিরাময়ে মধু ব্যবহারের ইতিহাস


গ্রিক চিকিৎসক হিপোক্রেটাস বিভিন্ন ধরনের রোগ নিরাময়ে মধু ব্যবহার করতেন। তিনি মধুকে অতিরিক্ত খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছেন। বিশিষ্ট চিকিৎসা বিজ্ঞানী গ্যালেন মধুর ঔষধি গুণাগুণ বর্ণনা করেছেন এবং এর বিষবিরোধী ধর্মও উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে মধু আন্দ্রিক রোগে উপকারী। বিশেষ করে দুর্বল শিশুদের মুখের অভ্যন্তরীণ পঁচনশীল ঘা নিরাময়ে এটি খুবই উপকারী। বিভিন্ন ধরনের নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে এবং উষ্ণতা বৃদ্ধি করে। এটি ক্ষুধা ও স্মৃতি শক্তি বৃদ্ধি করে এবং শোষক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। মধু পাকস্থলীর বিভিন্ন প্রকার রোগে বিশেষ উপকারি।
আল-সমরকান্দী এবং ইবনে আল-নাসিফ বিভিন্ন প্রকার মূত্র রোগে মধু ব্যবহার করতেন। আল-রাজী মূত্র পাথরীতে কালিজিরার সাথে মধু ব্যবহার করতেন। ইউনানী মধ্য যুগের চিকিৎসা বিজ্ঞানীগণ বিভিন্ন রোগে মধু ব্যবহার করতেন, (যেমন-পাকস্থলী ও অস্ত্রের রোগ, কোষ্ঠকাঠিন্য, অম্লাধিক্য, মুখের প্রদাহ, চোখের রোগ, চোখের পাতায় প্রদাহ, কর্ণিয়ার ক্ষত, কর্নিয়ার অস্বচ্ছতা, স্নায়ুরোগ, পক্ষাঘাত, রক্ত প্রবাহের অবরুদ্ধতাজনিত হৃদরোগ এবং উচ্চ রক্তচাপ, ত্বকের রোগ, সংক্রমণজনিত ক্ষত, সর্দি, কাশি, নিউমোনিয়া ইত্যাদি।)

📘 পরিবেশ ও স্বাস্থ বিজ্ঞানে মুহাম্মদ সাঃ > 📄 মধু সম্পর্কিত জার্মানি হৃদ-রোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ ই-কচ-এর উক্তি

📄 মধু সম্পর্কিত জার্মানি হৃদ-রোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ ই-কচ-এর উক্তি


ডা: ই-কচ-এর মতে, উপযুক্ত ঘাস খেয়ে ঘোড়া যেমন তেজী হয় তেমনি প্রত্যহ সকালে এক চা-চামচ করে খাঁটি মধু খেলে হৃদপিণ্ড শক্তিশালী হয়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00