📄 পবিত্র কুরআন মজীদে মধু
يَخْرُجُ مِنْ بُطُونِهَا شَرَابٌ مُّخْتَلِفٌ أَلْوَانُهُ فِيْهِ شِفَاء لِلنَّاسِ
অর্থ: "মধুমক্ষিকার উদর তথা পেট হতে বিভিন্ন বর্ণের পানীয় নির্গত হয়, যার মধ্যে মানুষের শেফা ও আরোগ্য রয়েছে। (সূরা নাহল: ৬৯ আয়াতের অংশ বিশেষ)
অন্যত্র আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন- وَأَوْحَى رَبُّكَ إِلَى النَّحْلِ أَنِ اتَّخِذِي مِنَ الْجِبَالِ بُيُوتًا وَمِنَ الشَّجَرِ وَمِمَّا يَعْرِشُونَ - ثُمَّ كُلِي مِنْ كُلِّ الثَّمَرَاتِ فَاسْلُكِي سُبُلَ رَبِّكِ ذُلُلًا يَخْرُجُ مِنْ بُطُونِهَا شَرَابٌ مُّخْتَلِفٌ أَلْوَانُهُ فِيْهِ شِفَاءٌ لِلنَّاسِ إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآيَةً لِقَوْمٍ يَتَفَكَّرُونَ.
অর্থ: "তোমার প্রতিপালক মৌমাছিকে তার অন্তরে ইঙ্গিত দ্বারা নির্দেশ দিয়েছেন, গৃহ নির্মাণ কর পাহাড়ে, বৃক্ষে ও মানুষ যে গৃহ নির্মাণ করে তাতে, উহার উদর হতে নির্গত হয় বিবিধ বর্ণের পানীয়। তোমরা প্রতিপালকের সহজ পন্থা অনুসরণ কর। ইহার পর প্রত্যেক ফল হতে কিছু কিছু আহার কর। অতঃপর তোমার পানীয়, যাতে মানুষের জন্য রয়েছে আরোগ্য। অবশ্যই এতে রয়েছে নিদর্শন, চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য। (সূরা-নাহল: ৬৮-৬৯)।
অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে- وَأَنْهَارُ مِنْ عَسَلٍ مُّصَفًّى অর্থ: "জান্নাতে স্বচ্ছ মধুর নহর প্রবাহিত হবে।" (সূরা-মুহাম্মদ: আয়াত-১৫)
মধু শেফা দানকারী এ ঘোষণা প্রায় আজ থেকে চৌদ্দশত বছর পূর্বে করা হয়েছে। যা এখনও পূর্বের ন্যায় যথার্থ এবং সমগ্র বিজ্ঞান জগতই এই দাবি স্বীকার করে নিয়েছেন, মধু হচ্ছে ঔষধ এবং খাদ্য উভয়ই। আর এই সুস্বাদু খাদ্যটি ছোট বড় প্রত্যেক দেশের এবং সকল পর্যায়ের মানুষই অত্যন্ত আগ্রহ সহকারে ব্যবহার করে থাকে। কেনইবা করবে না, এটাতো বিররে এলাহী এ তিব্বে নব্বী অর্থাৎ আল্লাহ প্রদত্ত চিকিৎসা ও নবী করীম (সা)-এর বিধানের অন্তর্ভুক্ত।
আবহমান কাল হতে মধু ঔষধরূপে ব্যবহার হয়ে আসছে। ইহা মানবদেহের জন্য অত্যন্ত উপকারী ও সর্বরোগ বিনাশক ঔষধ এবং উপাদেয় খাদ্যও বটে। মধু এত উপকারী যাতে মানবসমাজ মধুর ব্যবহার ভুলে না যায়, সে জন্য কুরআন মজীদে মধুর গুণের বর্ণনাসহ 'সূরা নাহল' (মধু মক্ষিকা) নাযিল হয়েছে। মধু মানবের দৈহিক রোগের ঔষধ বলে কুরআন মজীদে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। ইহা মধুর বিশেষ গুণের প্রমাণ। মধু সম্বন্ধে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন যে, "এবং তোমার প্রতিপালক মধু-মক্ষিকাকে প্রত্যাদেশ করেছেন যে, পর্বতমালায় ও বৃক্ষসমূহে এবং উচ্চ স্থানে মধু-চক্র নির্মাণ কর। এদের উদর হতে বিবিধ বর্ণ বিশিষ্ট পানীয় নির্গত হয়ে থাকে। তন্মধ্যে মানব সমাজের জন্য ঔষধ রয়েছে"।
উপরিউক্ত আয়াতসমূহে আল্লাহ তায়ালা এই ঔষধ সৃষ্টি করেছেন। ইহা কোনো মানুষের বা কবিরাজ, হেকিম ও ডাক্তারগণের সৃষ্টি ঔষধ নয়।
📄 হাদীসের আলোকে মধুর গুণাগুণ
মহানবী মুহাম্মদ (সা)-এর মতে সকল পানীয় উপাদানের মধ্যে মধু সর্বোৎকৃষ্ট। তিনি বলেন, মধু এবং কুরআনের মাধ্যমে তোমাদের চিকিৎসা নেয়া উচিত। (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাকেম)
রাসূলুল্লাহ (সা) স্বয়ং সকাল বেলা খালি পেটে মধুর শরবত পান করতেন। যারা নিয়মিতভ মধুর শরবত পান করতে না পারবে তাদের জন্য তিনি বলেন, যে ব্যক্তি কমপক্ষে মাসে তিনদিন সকাল বেলা মধু চেটে সেবন করবেন, ঐ মাসে তার কোনো কঠিন রোগ-ব্যাধি হবে না। (সুনানে ইবনে মাজাহ, মিশকাতুল মাসাবীহ)
একদা রাসূলুল্লাহ (সা)-এর নিকট জনৈক সাহাবী (রা) তাঁর ভাইয়ের অসুখের কথা বর্ণনা করলে তিনি তাকে মধু পান করানোর পরামর্শ দেন। এইভাবে একে একে ৩দিন একই পরামর্শ দেন এবং চতুর্থ দিন মধু পান করানোর পর উক্ত সাহাবী (রা)-এর ভাই সুস্থ হয়ে উঠেন। (তাফসীর মাআরেফুল কুরআন)
অনেক সাহাবী (রা) যারা 'মধু সর্ব রোগের প্রতিষেধক' হওয়ার ব্যাপারে নিঃসন্দেহে ছিলেন, তাঁরা সর্বরোগে মধু ব্যবহার করার উপদেশ দিতেন।
ইবনে ওমর (রা)-এর যখনি কোনো ফোড়া, পাঁচড়া বা অন্য কিছু বের হতো, তখন তিনি এর ওপর মধুর প্রলেপ দিতেন এবং পবিত্র কালামের পূর্বোক্ত আয়াত (সূরা নাহল-৬৯) তিলাওয়াত করতেন।
১. আবু হুরায়রা (রা) বলেন, যে রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন, "যে ব্যক্তি প্রত্যেক মাসে তিন দিন ভোরে মধু চেটে খায় তার কোনো বড় বিপদ হতে পারে না।” (ইবনে মাজাহ, বায়হাকী)
২. রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন, "সর্বোত্তম পানীয় হলো মধু, উহা হৃদপিণ্ডকে সবল করে এবং বুকের ঠাণ্ডা দূর করে।"
৩. মুহাম্মদ (সা) বলেছেন, "যে কেহ আরোগ্য কামনা করে, তার ভোরের নাস্তা হিসাবে পানি মিশ্রিত মধু পান করা উচিত।"
৪. রাসূলুল্লাহ (সা) আরও বলেছেন। আল্লাহর শপথ, যে ঘরে মধু আছে অবশ্যই ফেরেশতাগণ সে ঘরের অধিবাসীদের মাগফেরাত কামনা করে। কোনো ব্যক্তি যদি মধু পান করে তবে যেন তার পেটে লক্ষ ঔষধ স্থির হলো এবং পেট হতে লক্ষ রোগ বের হয়ে গেল। আর যদি সে পেটে মধু ধারণ অবস্থায় মারা যায় তবে তাকে দোযখের আগুন স্পর্শ করে না।" (মিশকাত)
৫. হাদীস শরীফে বর্ণিত আছে। রাসূল (সা) বলেছেন, তোমরা দুটি সেফা দানকারী বস্তুকে নিজেদের জন্য অত্যাবশ্যকীয় করে নাও। একটি মধু অপরটি কুরআন মজীদ। (মিশকাত)
৯৯ প্রকার রোগের প্রতিষেধক মধু। কারণ মধু রোগ-ব্যাধি শেফাদানে এক অব্যর্থ মহৌষধ। আর কুরআন দুনিয়া ও আখিরাতের সফলতার গ্যারান্টি। বহু শতাব্দী ধরে মানুষ এ দুটির দ্বারা বহু উপকৃত হয়ে আসছে। আমাদের প্রিয় নবী (সা) মধু খেতে বড়ই ভালবাসতেন।
আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা)-এর অভ্যাস : নাফে (রা) হতে বর্ণিত। ইবনে ওমর (রা)-এর যখন কোনো ফোঁড়া, পাঁচড়া অথবা অন্য কিছু বের হতো, তিনি তার ওপর মধু লাগিয়ে দিয়ে পবিত্র কুরআনের নিম্ন লিখিত আয়াতটি তিলাওয়াত করতেন।
يَخْرُجُ مِنْ بُطُونِهَا شَرَابٌ مُخْتَلِفٌ أَلْوَانُهُ فِيْهِ شِفَاءٌ لِلنَّاسِ
অর্থ: মধুমক্ষিকার পেট তথা উদর থেকে বিভিন্ন রঙের পানীয় নির্গত হয়, যার মধ্যে মানুষের শেফা ও রোগমুক্তি রয়েছে।" (সূরা নাহল: আয়াত-৬৯)
বিখ্যাত মুসলমান চিকিৎসক ইবনে সিনা তার বিশ্বখ্যাত (Medical test book the canon of medicine)-এ বহু রোগের প্রতিষেধক হিসেবে মধু ব্যবহারের সুপারিশ করেছেন। তিনি মধুর উপকারিতা সম্পর্কে বলেছেন, মধু আপনাকে সুখী করে, পরিপাকে সহায়তা করে, ঠাণ্ডার উপশম করে, ক্ষুধা বাড়ায়, স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি ও তীক্ষ্ণ করে, জিহ্বা স্পষ্ট করে এবং যৌবন রক্ষা করে।
📄 চিকিৎসা বিজ্ঞানে মধু
দুই চামচ দারু চিনি গুঁড়া, এক চামচ মধু এক গ্লাস হালকা গরম পানিতে মিশিয়ে সেবন করলে মূত্রথলির জীবাণু ধ্বংস হয়।
১. দাঁতের ব্যথা: দাঁত সার্বক্ষণিক ব্যথা হলে এক চামচ দারুচিনির গুঁড়া, পাঁচ চামচ মধু এক সঙ্গে মিশিয়ে ব্যথাযুক্ত দাঁতের গোড়ায় ব্যবহার করলে ব্যথা উপশম হয়। ব্যথা না সারা পর্যন্ত দিনে তিনবার ব্যবহার করতে হবে।
২. কোলস্টেরল: দুই চা চামচ মধু এবং তিন চা চামচ দারুচিনি গুঁড়া ১৬ আউন্স পানিতে মিশিয়ে কোলস্টেরলের রোগীকে সেবন করালে দুই ঘণ্টার মধ্যে কোলস্টেরলের পরিমাণ ১০ শতাংশ কমিয়ে আনে। দিনে দুবার সেবন করলে যে কোনো ধরনের কোলস্টেরল জনিত রোগ উপশম করে।
৩. ঠাণ্ডা লাগা: যারা সাধারণ বা তীব্র ঠাণ্ডায় ভোগে তাদের এক টেবিল চা চামচ হালকা গরম মধু ও দুই চা চামচ দারুচিনি গুঁড়া মিশিয়ে দিনে একবার করে তিন দিন সেবন করতে হবে। এই প্রক্রিয়ায় ঠাণ্ডা, পুরনো কাশি উপশম হয় এবং সাইনাস পরিষ্কার করে।
৪. পাকস্থলীর সমস্যা: দারুচিনি পাউডারের সঙ্গে মধু মিশিয়ে সেবন করলে পাকস্থলীর ব্যথা ও গ্যাস্ট্রিকজনিত ব্যথা উপশম হয় এবং পাকস্থলীর মূল হতে আলসার ভালো করে।
৫. হার্টের রোগ: দারুচিনি গুঁড়া এবং মধু একসঙ্গে মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে রুটির সঙ্গে জেলির মতো মাখিয়ে সকালের নাশতায় খেতে হবে। এটা ধমনীর কোলস্টেরলের পরিমাণ কমায় এবং রোগীকে হার্ট অ্যাটাক হতে রক্ষা করে।
৬. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা : প্রতিদিন মধু ও দারুচিনি গুঁড়া সেবন করলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসের আক্রমণ হতে দেহকে রক্ষা করে।
৭. বদহজম : দুই টেবিল চামচ মধুর ওপর সামান্য দারুচিনি গুঁড়া মিশিয়ে খাবারের আগে সেবন করলে এসিডিটি কমে যায় এবং ভারী খাবার হজম হয়।
৮. ইনফ্লুয়েঞ্জা : মধু ইনফ্লুয়েঞ্জার জীবাণু ধ্বংস করে।
৯. ত্বকের ইনফেকশন : মধু ও দারুচিনি গুঁড়া সমপরিমাণে মিশিয়ে একজিমা, দাউদ এবং অন্য সব ধরনের ত্বকের ইনফেকশন এর আক্রান্ত স্থানে লাগাতে হবে। দিনে দুবার সাত দিন হতে শুরু করে প্রয়োজনে এক মাস ব্যবহার করতে হবে।
১০. ওজন কমানো : সকালের নাশতার আধা ঘণ্টা আগে খালি পেটে এবং রাতে ঘুমানোর আগে মধু ও দারুচিনি গুঁড়া এক কাপ গরম পানিতে মিশিয়ে পান করতে হবে। নিয়মিত পান করলে স্থূলকায় শরীরের ওজনও কমে থাকে। এই মিশ্রণ নিয়মিত পান করলে উচ্চমানের খাবার খেলেও শরীরে চর্বি জমতে পারে না।
১১. ক্যান্সার : সম্প্রতি জাপান ও অস্ট্রেলিয়ায় পাকস্থলী ও হাড়ের ক্যান্সার সফলতার সঙ্গে আরোগ্য লাভ করেছে। যেসব রোগী এ ধরনের ক্যান্সারে ভোগে তাদের ক্ষেত্রে এক টেবিল চামচ মধু ও এক চা চামচ দারুচিনি গুঁড়া একসঙ্গে মিশিয়ে দিনে তিন বার এক মাস সেবনে এ রোগ হতে আরোগ্য লাভ করে।
১২. ক্লান্তি : ডা. মিল্টন যিনি এই গবেষণা করেছেন। তিনি বলেন, এক গ্লাস পানিতে আধা টেবিল চামচ মধু এবং কিছু দারুচিনি গুঁড়া গ্লাসের পানিতে ছিটিয়ে দিয়ে সকালে ব্রাশ করার পর এবং বিকেল ৩টার দিকে পান করলে সাত দিনের মধ্যে শরীর সতেজ হয়ে ওঠে এবং ক্লান্তি দূর হয়।
১৩. শ্রবণ শক্তি কমে গেলে: যেসব রোগী কানে কম শোনে তাদের ক্ষেত্রে সমপরিমাণ মধু ও দারুচিনি গুঁড়া মিশিয়ে সকালে ও রাতে পান করলে শ্রবণ শক্তি বৃদ্ধি পায়।
১৪. পুড়ে গেলে: খাঁটি মধু পোড়ার ওপর মুক্তভাবে নিয়মিত লাগালে পোড়ার জ্বালা বন্ধ করে, ব্যথা দূর করে এবং দ্রুত উপশম হয়।
১৫. বিছানায় প্রস্রাব করলে: শিশুদের ঘুমানোর আগে এক চা চামচ মধু খাওয়ালে বিছানায় প্রস্রাব করা বন্ধ হয়।
১৬. অনিদ্রা: এক গ্লাস দুধের মধ্যে এক টেবিল চামচ মধু মিশিয়ে পান করলে ভালো ঘুম হয়। ঘুমের পর শরীর সতেজ হয়, কর্মে উদ্যম ফিরে পাওয়া যায়।
১৭. নাকের নিঃশ্বাস বন্ধ হওয়া: এক বাটি গরম পানিতে এক টেবিল চামচ মধু মিশিয়ে বাটির ওপর মাথা রেখে শ্বাসের মাধ্যমে গন্ধ নিতে হবে এবং বাটিসহ মাথা তোয়ালে দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। এতে অত্যন্ত ভালো ফল পাওয়া যায়।
১৮. ক্ষত: ক্ষতস্থানে মধু দ্বারা প্রলেপ দিয়ে বেঁধে দিলে খুব ভালো উপকার পাওয়া যায় এবং নিয়মিত ব্যবহার করলে কোনো এন্টিবায়োটিকের প্রয়োজন হয় না। (প্রথম আলো ৫-৯-২০০৪)
১৯. অস্টিওপোরোসিস: প্রতিদিন এক চা চামচ মধু পান করলে ক্যালসিয়াম ব্যবহারে সহায়ক হয় এবং অস্টিওপোরোসিস রোগের হাত হতে রক্ষা করে। বিশেষ করে পঞ্চাশোর্ধ্ব বয়সের লোকের জন্য খুব উপকারী।
২০. মাইগ্রেন: হালকা গরম পানিতে এক টেবিল চামচ মধু মিশিয়ে মাইগ্রেন ব্যথার শুরুতে চুমুক দিয়ে পান করতে হবে। প্রয়োজনে ২০ মিনিট পর পর পান করতে হবে। এতে খুব ভালো ফল পাওয়া যায় এবং এছাড়াও রাশিয়ার বিখ্যাত ডাক্তার ক্যাভিনভিনা, তিনি মৌমাছির মধু নিয়ে গবেষণা করে বলেছেন যে, মৌমাছিরা যখন ফুল হতে অথবা অন্য কোনো স্থান হতে মধু সংগ্রহ করে, তখন ইহা উক্ত মৌমাছির মুখের লালার সাথে মিশে উক্ত মধু নতুন এক উপাদানে পরিণত হয়। যা সর্বপ্রকার রোগের ঔষধ হিসেবে ব্যবহার করা যায়। অথবা সর্বপ্রকার ঔষধ মিশিয়ে নতুন নতুন রোগের নতুন নতুন ঔষধ তৈরি করা যায়।
📄 মধুর বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ ও এর পুষ্টিমান
হাজার-হাজার সংগৃহীত ফুলের নির্যাস এবং খাদ্য দ্রব্যের সাথে মৌমাছির মুখ থেকে নিঃসৃত লালা উপাদানসমূহের রাসায়নিক বিক্রিয়ায় লালারূপ ঘন আঠালো পদার্থ তৈরি হয়, তাকে মধু বলে।
১০০ গ্রাম মধুকে বিশ্লেষণ করলে নিম্নোক্ত উপাদনগুলো পাওয়া যায়।
১. গ্লুকোজ - ৩৫%; ইহা ক্লান্তি দূরীকরণের বিশেষ ভূমিকা রাখে।
২. লেভিউলোজ - ৪০%
৩. শর্করা ৩-৪%; এর উপস্থিতির কারণে জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হয় না এবং নষ্টও হয় না।
৪. পানি - ১৮%; শরীরের পানির ভারসাম্য রক্ষা করে।
৫. খনিজ উপাদান ০.২% গ্রাম। (যা শারীরিক, মানসিক, স্নায়ুবিক ও স্মৃতি শক্তি বাড়ায়)
৬. ক্যালসিয়াম ৫ মি. গ্রাম (যা দ্বারা হাড়, দাঁত, রক্ত ও অন্যান্য টিসু তৈরি হয়)
৭. লৌহ - ৯ মি. গ্রাম (যা রক্ত তৈরিতে সরাসরি অংশগ্রহণ করে।)
৮. আমিষ-০.৩ গ্রাম। = ভিটামিন বি-২০.০৪ মি. গ্রাম। = ভিটামিন-সি - ৪ মি. গ্রাম।
৯. অন্যান্য ৩% গ্রাম।
এছাড়া মধুতে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের এন্টি-অক্সিডেন্ট, এন্টিসেপটিক এজেন্ট, এন্টিবায়োটিক এজেন্ট, হজম শক্তি বৃদ্ধিকারী এনজাইমিক এজেন্ট ইত্যাদি। এতে ২% এনজাইম রয়েছে। এ এনজাইমগুলো হলো- ডায়াস্টেজ, ইনভার্টেজ, সোকরোজ, ক্যাটালেক্স, পার-অক্সিডেস, লাইপেজ। এই এনজাইমগুলো বিভিন্ন খনিজ উপাদান যেমন-ক্যালসিয়াম, সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, আয়রন, ক্লোরিন, সালফার, ফসফরাস, আয়োডিন লবণের সাথে যুক্ত থাকে। কিছু উপকরণের রেডিয়ামের ন্যায় ধাতব উপাদানও থাকে।
রাসায়নিক গবেষণায় প্রাপ্ত ফলাফলের ভিত্তিতে জানা গেছে, এতে এ্যালুমিনিয়াম, বোরন, ক্রোমিয়াম, কপার, লেড, টিন, জিংক ও জৈব এসিড যেমন-ম্যালিক এসিড, সাইট্রিক এসিড, টারটারিক এসিড এবং অক্সালিক এসিড, ভিটামিন, হরমোনস, এসিটাইল কোলিন, এন্টিবায়োটিকস, ফাইটোনসাইডস, সাইটোস্ট্যাটিকস এবং পানি (১৭.৭%) ছাড়াও অন্যান্য পুষ্টিকর উপাদান আছে। ভিটামিন যেমন-ভিটামিন বি-১, বি-২, বি-৩, বি-৫, বি-৬, ভিটামিন-সি, ভিটামিন-ই, ভিটামিন-কে এবং ক্যারোটিন ইত্যাদি মধুতে বিদ্যমান। এক কেজি মধুতে ৩২৫০ ক্যালরি শক্তি থাকে। ইহা সুগারের ন্যায় যা রূপান্তর ব্যতীত সরাসরি অস্ত্র থেকে রক্তে সংযোজিত হয়।