📘 পর্দার বিধান 📄 অভিভাবকের কর্তব্য

📄 অভিভাবকের কর্তব্য


পর্দার বিধান মানবে মহিলা। এ বিধান ফরয করা হয়েছে তারই উপর। কিন্তু তার অভিভাবকের উপর ফরয করা হয়েছে অভিভাবকত্বের দায়িত্ব। তার তত্ত্বাবধানে সকল মহিলা যাতে পর্দা করে, সে ব্যবস্থা করতে হবে তাকেই। যেহেতু মহান আল্লাহ বলেছেন,

[يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا قُوا أَنفُسَكُمْ وَأَهْلِيكُمْ نَارًا وَقُودُهَا النَّاسُ وَالْحِجَارَةُ عَلَيْهَا مَلَائِكَةٌ غِلَاظٌ شِدَادٌ لَا يَعْصُونَ اللهَ مَا أَمَرَهُمْ وَيَفْعَلُونَ مَا يُؤْمَرُونَ ] (তাহরীমঃ ৬)

অর্থাৎ, হে ঈমানদারগণ! তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে রক্ষা কর অগ্নি হতে, যার ইন্ধন হবে মানুষ ও পাথর, যাতে নিয়োজিত আছে নির্মম-হৃদয়, কঠোর-স্বভাব ফিরিস্তাগণ, যারা আল্লাহ যা তাদেরকে আদেশ করেন, তা অমান্য করে না এবং তারা যা করতে আদিষ্ট হয়, তাই করে।

আর মহানবী ﷺ বলেছেন, “প্রতিটি মানুষই দায়িত্বশীল। সুতরাং প্রত্যেকেই অবশ্যই তার অধীনস্থদের দায়িত্বশীলতার বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে। দেশের শাসক জনগণের দায়িত্বশীল। সে তার দায়িত্বশীলতার ব্যাপারে জবাবদিহী করবে। একজন পুরুষ তার পরিবারের দায়িত্বশীল। অতএব সে তার দায়িত্বশীলতার বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে। স্ত্রী তার স্বামী ও সন্তানের দায়িত্বশীল। কাজেই সে তার দায়িত্বশীলতার বিষয়ে জিজ্ঞাসিতা হবে। তোমরা প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল। অতএব প্রত্যেকেই নিজ নিজ অধীনস্থের দায়িত্বশীলতার ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত হবে।” (বুখারী ও মুসলিম)

মেয়েদের মনে থাকে প্রকৃতিগতভাবে লজ্জাশীলতা, তার মন চায় নিজেকে গোপন রাখতে। কিন্তু সে প্রকৃতিকে অনেকাংশে পুরুষই নষ্ট ক'রে দেয়। অনেক পুরুষের কারণেই তার পরিবারের মহিলারা বেপর্দা হয়। পুরুষের মন থেকে যখন মহিলার ব্যাপারে ঈর্ষা ও আত্মমর্যাদাবোধের অনুভূতি নষ্ট হয়ে যায়, তখনই তার স্ত্রী-কন্যা বেপর্দা হয়। তারই মৌন-সম্মতিক্রমে বাড়ির মেয়েরা শরয়ী পর্দা ছিঁড়ে টিভি ও সিনেমার পর্দার কাছে শিক্ষা নেয়। তার আমানতে খিয়ানত করার ফলেই সে বাড়ির মেয়েদের চরিত্র ঢিলা হয়ে যায়। ধীরে ধীরে সে হয়ে ওঠে 'দাইয়ুস' বা 'মেড়া' পুরুষ।

আর মহানবী ﷺ বলেন, "তিন ব্যক্তির প্রতি আল্লাহ কিয়ামতের দিন তাকিয়ে দেখবেন না; পিতা-মাতার অবাধ্য সন্তান, পুরুষবেশিনী বা পুরুষের সাদৃশ্য অবলম্বনকারিণী মহিলা এবং দাইয়ূস (মেড়া) পুরুষ; (যে তার স্ত্রী, কন্যা ও বোনের চরিত্রহীনতা ও নোংরামিতে চুপ থাকে এবং বাধা দেয় না।)" (আহমদ, নাসাঈ, সহীহুল জামে' ৩০৭১নং)

তিনি আরো বলেছেন, “তিন ব্যক্তি বেহেশতে যাবে না; পিতা-মাতার অবাধ্য ছেলে, মেড়া পুরুষ (যে তার স্ত্রী-কন্যার অশ্লীলতায় সম্মত থাকে) এবং পুরুষের বেশধারিণী মহিলা।” (নাসাঈ, হাকেম ১/৭২, বাযযার, সহীহুল জামে' ৩০৬৩নং)

সুপুরুষ এমন হয় না যে, সে বাড়িতে বা গাড়িতে বসে থাকবে। আর তার বাড়ির মহিলাকে বাজার করতে পাঠাবে। 'মিনসের কোলে ছেলে দিয়ে, মাগী যায় বাজারে ধেয়ে।'

সুপুরুষ 'গাঁড়ল' হয় না। কারণ, 'মিনসে গাঁড়ল, মাগী মোড়ল' হয়। সুপুরুষ তার স্ত্রী-কন্যাকে কোন বেগানা পুরুষের সাথে অবাধ মিলামেশা বা নির্জনতা অবলম্বন করার সুযোগ দেয় না। দেবরের 'দেবউ' বানায় না। বুনাইয়ের সাথে একা ছাড়ে না। 'দোলামিঞা'র 'দোলাবিবি' বানায় না। সহপাঠী বা গৃহশিক্ষকের সাথে নির্জনতা অবলম্বনের সুযোগ দেয় না। বিবাহ-প্রস্তাব পাকা হলে বরের সাথে আর কাউকে পাত্রী দেখতে অনুমতি দেয় না।

পুরুষ পরিবারের দায়িত্বশীল শাসক। সে তার দায়িত্বশীলতার আমানতে খিয়ানত করতে পারে না। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, “কোন বান্দাকে আল্লাহ কোন প্রজার উপর শাসক বানালে, যেদিন সে মরবে সেদিন যদি সে প্রজার প্রতি ধোঁকাবাজি ক'রে মরে, তাহলে আল্লাহ তার প্রতি জান্নাত হারাম ক'রে দেবেন।” (বুখারী ও মুসলিম)

সুতরাং পর্দার বিধান যদি পুরুষ তার নিজের পরিবার রাজ্যে বহাল না করে এবং তার ফলে যদি তার পরিবারের মহিলারা বেপর্দা হয়ে মরে, তাহলে তার জবাবদিহি তাকে করতে হবে। 'পাঁকের গোঁজ' হলে মহান আল্লাহ তাকে ছাড়বেন না। পটের 'বিবির গোলাম' হয়ে আল্লাহর গোলামি ছাড়লে তার পরিণাম হবে দুনিয়াতে লাঞ্ছনা ও আখেরাতে জাহান্নাম। আল্লাহ মুসলিম জাতির নারী-পুরুষ সবাইকে সুমতি দিন। আমীন।

📘 পর্দার বিধান 📄 নারীর দুর্গ (কবিতা)

📄 নারীর দুর্গ (কবিতা)


সিপাই যেন উঠছে ক্ষেপে এবার তারা লড়বে,
দুর্গ ভেঙ্গে নতুন ঢঙে নতুন বাসা গড়বে
এবার তারা লড়বে।

সেনাপতি সরলমতি ভাবছে কিসে রুখবে,
অকারণে নেমে রণে কষ্ট তারা ভুগবে
ভাবছে কিসে রুখবে।

চৌদিকেতে লৌহ-প্রাচীর প্রাচীর তারা ভাঙ্গবে,
স্বাধীনতার খোঁজে এবার রক্তে তারা রাঙবে
প্রাচীর তারা ভাঙ্গবে।

ইচ্ছা যত কর তুমি সুখে তারা থাকবে,
কবর ছাড়া এমন দুর্গ যেথায় তুমি রাখবে
না হলে সব ভাগবে সুখে তারা থাকবে।

ফন্ট সাইজ
15px
17px