📘 পর্দার বিধান 📄 পর-পুরুষের সাথে নির্জনবাস

📄 পর-পুরুষের সাথে নির্জনবাস


পর্দায় গোপনে থাকলেও যেখানে আর কেউ নেই, সেখানে মহিলার কোন পুরুষের সাথে একান্তে অবস্থান করা বৈধ নয়। কোন পথে বা পার্কে, কোন রুমে বা গাড়িতে, কোন সাব-ওয়ে, সিঁড়ি বা লিফটে, আরো যে কোন স্থানে গায়র মাহরাম নারী-পুরুষের নির্জনবাস অতি সামান্য ক্ষণের জন্য হলেও বড় বিপজ্জনক।

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, “মাহরামের উপস্থিতি ছাড়া কোন পুরুষ যেন কোন মহিলার সাথে নির্জনবাস না করে।” (বুখারী ও মুসলিম) তিনি আরো বলেন, "তোমরা এমন মহিলাদের নিকট গমন করো না, যাদের স্বামী বর্তমানে উপস্থিত নেই। কারণ শয়তান তোমাদের প্রত্যেকের রক্ত-শিরায় প্রবাহিত হয়।” (তিরমিযী, ইবনে মাজাহ ১৭৭৯, সহীহ তিরমিযী ৯৩৫নং) তিনি আরো বলেন, “যখনই কোন পুরুষ কোন মহিলার সাথে নির্জনতা অবলম্বন করে, তখনই শয়তান তাদের তৃতীয় সাথী (কোটনা) হয়।” (তিরমিযী, সহীহ তিরমিযী ৯৩৪নং)

সাহাবী বলেন, “আল্লাহর নবী আমাদেরকে নিষেধ করেছেন যে, আমরা যেন মহিলাদের নিকট তাদের স্বামীদের বিনা অনুমতিতে গমন না করি।” (সহীহ তিরমিযী ২২৩০নং) একদা রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, “তোমরা (বেগানা) নারীদের নিকট (একাকী) যাওয়া থেকে বিরত থাক।” (এ কথা শুনে) জনৈক আনসারী নিবেদন করল, 'স্বামীর আত্মীয় সম্পর্কে আপনার অভিমত কী?' তিনি বললেন, “স্বামীর আত্মীয় তো মৃত্যুসম (বিপজ্জনক)।” (বুখারী ৫২৩২, মুসলিম ২১৭২, তিরমিযী ১১৭১ নং)

স্বামীর বাড়িতে স্বামীর আত্মীয় বলতে সেই সকল পুরুষ, যাদের সাথে কোনও কালে মহিলার বিবাহ বৈধ। (যেমন স্বামীর ভাই, ভাইপো, চাচা প্রভৃতি।) আর তাদের মধ্যে সবচেয়ে কাছের হল স্বামীর ছোট ভাই। স্বামীর বড় ভাইকে পরিবেশে 'ভাসুর' বলে শ্রদ্ধা করলেও তার সাথে নির্জনতা অবলম্বন বৈধ নয়, সে আল্লাহর অলী হলেও নয়।

আর ছোট ভাইকে তো বিজাতির পরিবেশ গুণে 'দেওর' বা 'দেবর' বলাই হয়। যার অর্থ হল দ্বিতীয় বর। তার মানে স্বামী হল প্রথম বর এবং তার ছোট ভাই হল দ্বিতীয় বর অথবা নায়েব বর! আর সে জন্যই ভাবী-দেওরে যে আচরণ চলে, তা সত্যই স্বামীর সাথে আচরণের কাছাকাছি। নাউযু বিল্লাহি মিন যালিক। অথচ মুসলিম মহিলার 'বর' একটাই। তার কেউ 'দেবর' হতে পারে না।

এরই বিপরীত হল মহিলার নিজের বাড়িতে তার দোলাভাই বা বুনাই। শালীও স্ত্রীর বিকল্প অথবা দ্বিতীয় স্ত্রী বা 'দেবউ'। তার এক নাম 'কেলিকুঞ্চিকা'। কেলি মানে প্রেমখেলা। আর কুঞ্চিকা মানে চাবি। পরিবেশে শালী হল প্রেমকেলির চাবি। বউ তো আছেই, শালী 'ফাউ' আর কী? এ জন্যই এমন পরিবেশে প্রবাদ প্রচলিত আছে, 'বাগানে কখনো ফোটে না ফুল যদি না থাকে মালী, বিয়ের আসরে বলো না কবুল যদি না থাকে শালী।' প্রবাদটিকে এভাবেও বলা যায়, 'বাগানে কখনো ফোটে না ফুল যদি না থাকে মালী, বিয়ের বাসরে জমে না মজা যদি না থাকে শালী।'

এ জন্যই শালীর সাথে ভাব জমে ভাল। এ জন্যই অনেকের 'বাপের বেটি মুড়কি পায় না মোন্ডা শালীর পাতে, সহোদরের মুখ দেখে না সখ্য শালার সাথে!' অনেক সময় স্বামী জেনেশুনে স্ত্রীকে নিজের ভাইয়ের সাথে হৃদ্যতার সুযোগ দেয় এবং স্ত্রীও জেনেশুনে স্বামীকে নিজের বোনের সাথে হৃদ্যতার সুযোগ দেয়। ফলে নিজের মাথায় হাঁড়ি ভাঙ্গে উভয়ে। বেপর্দা পরিবেশে 'দেওর ও শালী' ঘটিত বহু দুর্ঘটনা সমাজে চাপা থাকে। অনেক সময় শাক দিয়ে মাছ ঢেকে রাখতে পারা যায় না। কিন্তু তা দেখেশুনেও মুসলিমরা উপদেশ গ্রহণ করে না। হাদীসে কেন বলা হল, “স্বামীর আত্মীয় তো মৃত্যুসম"? যেহেতু সে মৃত্যুর মতো বিপজ্জনক। অতিরিক্ত ভোল্টেজের কারেন্ট হলে তার খুঁটিতে মৃত্যুচিহ্ন অঙ্কিত থাকে। তার মানে সাবধান! এর কাছে যাবে না অথবা একে স্পর্শ করবে না, নচেৎ তোমার মৃত্যু অনিবার্য! নতুবা তার অর্থ এই যে, মানুষ যেমন অন্যান্য বিপদের তুলনায় মৃত্যুকে সবচেয়ে বেশি ভয় করে, তেমনি স্বামীর ভাইকে অন্যান্য পুরুষদের তুলনায় বেশি ভয় করা উচিত। নতুবা তার অর্থ এই যে, মৃত্যুর হাত থেকে যেমন বাঁচার উপায় নেই, তেমনি ভাবী-দেওরের ফিতনা থেকে বাঁচার কোন উপায় নেই। ভাবী-দেওরের এক বাড়িতে নির্জনতা অবলম্বন করলেই বিপদ দুর্দম মৃত্যুর মতো এসে উপস্থিত হবে। নতুবা তার অর্থ এই যে, মহিলার মৃত্যুবরন করা ভাল, তবুও স্বামীর বেগানা কোন আত্মীয়র সাথে নির্জনতা অবলম্বন করা ভাল নয়।

প্রকাশ থাকে যে, বাগদত্ত বা ভাবী স্বামীর সাথেও প্রেমালাপ, নির্জনবাস বা একান্তে ভ্রমণ বৈধ নয়, কুরআন শিক্ষা দিতে অথবা উমরাহ আদায় করতেও নয়। আর মাহরাম যদি নাবালক হয়, তাহলে তাতে উভয়ের নির্জনতা কাটে না। কারণ তার থাকা-না থাকায় দুর্ঘটনায় কোন প্রভাব পড়ে না। বড় দুঃখের বিষয় যে, পাশ্চাত্য-ঘেষা বহু পরিবারে তাদের ছেলে-মেয়েদেরকে বন্ধুত্বের সুযোগ দেওয়া হয়। সুতরাং ছেলে ইচ্ছা ও পছন্দমতো 'যুবতী' বন্ধু এবং মেয়ে ইচ্ছা ও পছন্দমতো 'যুবক' বন্ধু গ্রহণ করে এবং আপোসে নির্জন বাস ও ভ্রমণ করে। প্রাইভেট মাস্টারের সাথে নির্জনতা অবলম্বনের সুযোগ দেওয়া হয়। মনে-ধরা ছেলের সাথে মেয়েকে পরিকল্পিত ভ্রমণে পাঠানো হয়। অনেকে রোমান্টিক স্থান পার্ক ও নদী বা সমুদ্র-সৈকতে নির্জনে ভ্রমণে বা বনভোজনে যায়, অনেক প্রেমিক-প্রেমিকা একান্তে ভ্রমণে সেখানে যায়, যেখানে গেলে তারা ধারণা করে যে, প্রেম পাকা ও অনির্বাণ হয়। অভিভাবক চোখ-কান বন্ধ করে থাকে অথবা জেনেশুনেও কিছু বলে না। এ হল 'ঘটে তো ঘটে যাক, পটে তো পটে যাক'-এর নীতি, নাকি প্রগতির সভ্য নীতি! অথচ এমন আচরণ প্রগতি নয়, বরং নেহাতই দুর্গতি।

📘 পর্দার বিধান 📄 অবাধ মেলামেশার কুফল

📄 অবাধ মেলামেশার কুফল


মহানবী ﷺ বলেন, “মাহরাম ছাড়া কোন পুরুষ যেন কোন মহিলার সাথে নির্জনতা অবলম্বন না করে এবং মাহরাম ছাড়া যেন কোন মহিলা একাকিনী সফর না করে।” এক ব্যক্তি বলল, 'হে আল্লাহর রসূল! আমার স্ত্রী (একাকিনী) হজ্জ করতে বের হয়েছে। আর আমি অমুক অমুক যুদ্ধের জন্য নাম লিখিয়ে ফেলেছি। (এখন আমি কী করতে পারি?)' তিনি বললেন, “তুমি ফিরে যাও এবং তোমার স্ত্রীর সাথে হজ্জ কর।” (বুখারী ৩০০৬, মুসলিম ১৩৪১নং)

নবী ﷺ বলেন, “যে নারী স্বগৃহ, স্বামীগৃহ বা মায়ের বাড়ি ছাড়া অন্য স্থানে নিজের পর্দা রাখে (কাপড় খোলে), আল্লাহ তার পর্দা ও লজ্জাশীলতাকে বিদীর্ণ ক'রে দেন। (অথবা সে নিজে করে দেয়।)" (সঃ জামে' ২৭০৮নং)
নবী ﷺ বলেন, “যে মহিলা নিজের স্বামীগৃহ ছাড়া অন্য গৃহে নিজের কাপড় খোলে, সে আল্লাহ আয্যা অজাল্ল ও তার নিজের মাঝে পর্দা বিদীর্ণ ক'রে ফেলে।” (সঃ জামে' ২৭১০নং)

"যে ব্যক্তি আল্লাহতে ও পরকালে বিশ্বাস রাখে, সে যেন তার স্ত্রীকে সাধারণ হামামে (গোসলখানায়) যেতে না দেয়।” (আহমাদ, হাকেম, তিরমিযী, নাসাঈ)
উম্মে দারদা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা আমি সাধারণ গোসলখানা হতে বের হলাম। ইত্যবসরে নবী ﷺ-এর সাথে আমার সাক্ষাৎ হলে তিনি আমাকে বললেন, “কোত্থেকে, হে উম্মে দারদা?!” আমি বললাম, 'গোসলখানা থেকে।' তিনি বললেন, “সেই সত্তার শপথ; যাঁর হাতে আমার প্রাণ আছে! যে কোনও মহিলা তার কোন মায়ের ঘর ছাড়া অন্য স্থানে নিজের কাপড় খোলে, সে তার ও দয়াময় (আল্লাহর) মাঝে প্রত্যেক পর্দা বিদীর্ণ করে ফেলে।” (আহমাদ, ত্বাবারানীর কাবীর, সহীহ তারগীব ১৬২নং)

উপর্যুক্ত হাদীসসমূহে লক্ষ্য করা যেতে পারে যে, যেখানে নারী-পুরুষে মেলামিশা হওয়ার আশঙ্কা আছে, সেখানে মহিলা যেতে পারে না। এমন জায়গা কোথাও যাওয়া জরুরী হলে সঙ্গে যাবে তার স্বামী অথবা কোন মাহরাম পুরুষ। অবশ্য পোশাক খুলে রাখা বা পরিবর্তনের ব্যাপারটা আরো গুরুতর। তাতে সে আল্লাহর রোষের শিকার হয়। লক্ষণীয় যে, মহিলা সাধারণ হামাম বা পুকুর, নদী বা সমুদ্র-ঘাটে গোসল করতেও পারে না। কারণ যতই সে নিজের দেহকে গোপন করার চেষ্টা করুক, পর-পুরুষের দৃষ্টিতে প্রকাশ পেয়ে যাওয়া স্বাভাবিক।

তদনুরূপ বাসে-ট্রেনে, হাটে-বাজারে, হাসপাতালে-অফিসে, কারখানা এবং নানা কর্মক্ষেত্রে পুরুষদের সাথে পাশাপাশি বসে কাজ করা বৈধ নয়। বৈধ নয় পাশাপাশি বসে স্কুল-কলেজে পড়াশোনা করা। পর্দায় আপাদ-মস্তক সারা দেহ আবৃত থাকলেও পাশাপাশি অবস্থান ও কথাবার্তার ফলে মনের আঙ্গিনা খুলে যায়। আর তার ফলে যা ঘটে, তারই জন্য উক্ত অবৈধতা।

নেট ও মোবাইলের যুগে তরুণ-তরুণীর অবাধ মেলামেশা চলে। পরিচয়ের পর হৃদয়-বিনিময় হয়। তরুণীদের একাধিক মোবাইল থাকে। প্রেমিকের নিকট থেকে মোবাইল 'গিফট্' পায়। 'ব্যালেন্স' উপহার আসে। বিনা পয়সায় কথা বলে অদৃশ্য ও দূরে থেকেও 'প্রেম-বিনিময়' হয়। আগুনের প্রকৃতি এই যে, পাশে যা পায়, তাই জ্বালিয়ে দেয়। আগুনের পাশে মোম গলে যায়। গ্যাস বা পেট্রল জ্বলে আরো দ্রুততার সাথে। যুবক-যুবতীর ও যৌবনের প্রকৃতি এই যে, প্রণয়াকাঙ্ক্ষায় মন মজে, প্রাণ ভিজে। বাঁধ না থাকলে বন্যা আসে। উভয়ের আকর্ষণে মন জ্বলে ওঠে, প্রাণ জ্বলে ওঠে। বাধা না থাকলে সব পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

মানুষের প্রকৃতি এই যে, সামনে তেঁতুল ঘুলতে দেখলে অথবা লেবু কাটতে দেখলে জিভে পানি আসে। আলো চাল দেখলে ভেড়ার মুখ চুলকায়। যুবতীর রূপ দেখলে যুবকের মনে প্রকৃতিগত আকর্ষণ সৃষ্টি হয়। মনে যৌন-বাসনা জাগে, প্রেমের কামনা-বীজ অঙ্কুরিত হয়। বারবার কাছে এলে তা সিঞ্চন পায়। অতঃপর ধীরে ধীরে তা ডাল-পালা, পাতা-ফুল-ফলে সুশোভিত হয়। অবৈধ প্রণয়ের বাঁশির সুর ব্যভিচারের পথে আসতে আহবান করে। তাই মহিলাদের কর্মক্ষেত্র পুরুষদের কর্মক্ষেত্র থেকে পৃথক হওয়া ওয়াজেব। কিশোরী-তরুণীদের শিক্ষাক্ষেত্র কিশোর-তরুণ থেকে পৃথক হওয়া জরুরী। নচেৎ তা-ই হতে বাধ্য, যা হচ্ছে পাশ্চাত্যের দেশগুলিতে।

সেখানে তরুণ-তরুণীর অবাধ মেলামেশার ফলে নৈতিকতার প্রাসাদ ভেঙ্গে চুরমার হয়ে গেছে। আখলাক-চরিত্রের কোন আদর্শই সেখানে অবশিষ্ট নেই। যৌন-স্বাধীনতার দুর্দম তুফান সেখানে সচ্চরিত্রতার বিপুল বিনাশ সাধন করেছে। সেখানে অবৈধ প্রেমে কোন লুকোচুরি নেই, কোন লাজ-লজ্জা নেই। গুরুজনদের সামনেও সেই অসভ্য আচরণে কোন দোষ নেই। কারণ সেটাই তাদের সভ্যতা। যার ফলে অনেক দাম্পত্যে সুখ নেই, অনেক দাম্পত্যে বৈধ বন্ধন নেই। পিতার পরিচয়হীন সন্তানের সংখ্যা কম নয়। কুমারী মায়ের সংখ্যাও নগণ্য নয়।

তারা যৌন-স্বাধীনতায় বাধা দেয় না, তারা স্কুলে যৌন-শিক্ষা দিয়ে ব্যভিচারে উদ্বুদ্ধ করে। তারা ব্যভিচারে বাধা দেয় না, তারা গর্ভধারণে বাধা দেয়, ভ্রূণ হত্যা করে। চরিত্রহীন সমাজের নিত্যকার সংসার সুখের নয়। লাগামহীন পরিবেশের যৌথ-পরিবার শান্তির নয়। যেখানে পিতামাতার মর্যাদা নেই, স্বামীরও কদর নেই। স্ত্রীও যথার্থ মর্যাদা পায় না। সবাই যেন লাগাম-ছাড়া, বাঁধন-হারা। কেউ কারো মন রাখে না, কেউ কারো বাধা মানে না---এরই নাম 'স্বাধীনতা'।

নারী-দেহ সেখানে সস্তা ভোগপণ্য। নারী সেখানে পুরুষের সাথের সাথী। স্বামীর অধিকার আছে একাধিক গার্লফ্রেন্ড গ্রহণ করার এবং স্ত্রীরও অধিকার আছে একাধিক বয়ফ্রেন্ড গ্রহণ করার। স্বামী কারো কাছে রাত্রিবাস করলে স্ত্রীর কৈফিয়ত নেওয়ার অধিকার নেই। স্ত্রী কারো সাথে রাত কাটালে স্বামীরও বাধা দেওয়ার অধিকার নেই। এরই নাম স্বাধীনতা।

শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে বা কর্মক্ষেত্রে পাশাপাশি অবস্থান ক'রে অথবা অবাধ মেলামেশা ক'রে নারী-পুরুষের বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। সে কি আর নিষ্কাম থাকে? যুবক-যুবতীর নিষ্কাম বন্ধুত্ব কি কোন জ্ঞানী বিশ্বাস করতে পারে? একটি লোক পিপাসায় কাতর হলে তাকে যদি চিনি খেতে দেওয়া হয়, তাহলে কি পিপাসা আরো বর্ধন করবে না? একটি যুবতীর মনে স্বামী পাওয়ার পিপাসা থাকলে তাকে যদি এক বা একাধিক যুবক বন্ধু দেওয়া হয় এবং একটি যুবকের মনে স্ত্রী পাওয়ার কামনা থাকলে তাকে যদি এক বা একাধিক যুবতী বন্ধু দেওয়া হয়, তাহলে পিপাসা ও কামনার মাত্রা কি আরো বৃদ্ধি পাবে না?

ইসলাম নারীকে মর্যাদা দিয়েছে, তার ইজ্জত-সম্মানের হিফাযত করেছে। মুসলিমদের চরিত্রকে উন্নত করেছে। সেই পরিবেশের মেয়েরা বিজাতির নোংরা পরিবেশের মেয়েদের অন্ধানুকরণ করতে পারে না। ইসলামের সভ্যতা পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সভ্যতা। আর পাশ্চাত্যের ঐ সভ্যতা তাদের ধর্মীয় সভ্যতাও নয়।

সমাজে কিছু মহিলা আছে, যারা সত্যই নির্যাতিতা। যাদের যালেম স্বামীরা তাদের হক আদায় করেনি। যারা পণ ও যৌতুকের দায়ে শ্বশুর-বাড়িতে পজিশন পায়নি। যাদের উপার্জন ক'রে খাওয়াবার মতো কেউ নেই। যারা সুখী সংসার-রাজ্যে রানী হওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। তারাই তাদের অধিকার পেতে সোচ্চার হয়। তারাই চাকরি করতে চায়। তারাই পুরুষদের পাশাপাশি সমান অধিকার লাভের দাবী জানায়।

যে সমাজে এমন অসহায় নারীদের কোন সুব্যবস্থা নেই, যে রাজ্যে এমন বঞ্চিতদের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার মতো কোন সঠিক উপায়-উপকরণ নেই, যে দেশে সহায়-সম্বলহীনদের প্রতি ন্যায়ানুগ কোন ব্যবস্থা নেই, সে সমাজ, রাজ্য ও দেশে নারী-স্বাধীনতার দাবী তো উত্থাপন হবেই। পুরুষের সমান অধিকার পাওয়ার যোগ্যতা তো প্রমাণ করবেই। তসলিমাদের মতো তিক্ত অভিজ্ঞতার অভিজ্ঞ লেখিকাদের বিষ-কলম তো বিষোদগার করবেই। নাপাক অবস্থায় এক হাতে কুরআন, অন্য হাতে কলম এবং মুখে সিগারেট নিয়ে ইসলামের বিরুদ্ধে লেখার নির্লজ্জ ধৃষ্টতা তো প্রদর্শন করবেই।

পক্ষান্তরে তাদেরকে তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগে 'ইসলাম' অভিযুক্ত নয়। অভিযুক্ত উক্ত সমাজের সমাজ-ব্যবস্থা। ইসলামী সমাজ-ব্যবস্থায় কোন যুলুম নেই। যুলুম থাকতে পারে ব্যবস্থাপকদের মধ্যে। অবশ্য যদি তাদের অধিকার বলতে অর্ধ শরীর নগ্ন রাখা ও দাঁড়িয়ে পেশাব করা হয়, তাহলে ইসলামের দোষ বলতে হবে। কারণ তসলিমা অর্ধ শরীর খুলে রাখলে সালমান রুশদীর লাভ, তাতে ইসলামের কোন লাভ নেই, লোভও নেই।

ইসলাম নারীকে বঞ্চিতা করতে চায় না। ইসলাম নারীকে মায়ের মর্যাদা তথা বাপ থেকে তিন গুণ বেশি মর্যাদা দান করে। ইসলাম নারীর হিফাযত করে। কিন্তু 'গোবুরে পোকা কি থাকে দুধেতে কখন? গু ও গোবর ভাল খসলত যেমন।' তাতে কার কী বলার থাকতে পারে?

পর্দার বিধান নানা উপাদেয় খাদ্যে সুসজ্জিত হোটেলে বাস করতে দিয়ে ক্ষুধার্তকে 'খেয়ো না' বললে কি মানবে? সুপেয় জলাধারের পাশে বাস করতে দিয়ে পিপাসার্তকে 'পান করো না' বললে কি বাধা মানবে? সন্নিপাতের রোগীর সামনে পানি রেখে কি পানে বাধা দেওয়া যাবে? মুখে চলে আসা হাই কি কেউ বাধা দিতে পারবে? নাকে চলে আসা হাঁচি কি কেউ রোধ করতে পারবে? মানবের প্রকৃতি এটা। মন বড় মন্দ-প্রবণ। প্রতিপালক রহম করলে ভিন্ন কথা। আর শয়তান যুবক-যুবতীর মনে কামনা সৃজন করে, নিদ্রিত বাসনা-দেবীকে জাগ্রত করে।

নারীবাদী পুরুষদের কত দয়া নারীদের প্রতি? মাছ মরেছে বিড়াল কাঁদে শান্ত কল্পে বকে, ব্যাঙের শোকে সাঁতার পানি দেখি সাপের চোখে! নারীদেরকে পুরুষদের চাকরি দিয়ে বড় উপকার করেছে। অন্য দিকে তাদেরই বাপ-ভাই-ছেলেকে সেই চাকরি থেকে বঞ্চিত করেছে। অনেক স্বামী-স্ত্রী উভয়ে চাকরি করে। অনেকের নারী-পুরুষ কেউই চাকরি পায় না। অনেকের নারী ছাড়া কোন পুরুষ উপার্জনশীল নেই, তাদের কোন নারী চাকরি পায় না। তাহলে ইনসাফ কোথায়?

কিন্তু ইসলাম ও পর্দায় সে ব্যবস্থা আছে। মহিলা মহিলা-মহলে চাকরি করতে পারে। মহিলা খাস প্রতিষ্ঠানে ডক্টরেট করতে পারে, ডাক্তার ও বৈজ্ঞানিক হতে পারে। অনেক মুসলিম দেশে তার ব্যবস্থা আছে। বাকী থাকল, মহিলার পাইলট হয়ে কোন গর্ব নেই ইসলামে। মাউন্ট এভারেস্ট জয় ক'রে মহিলার কোন গর্ব নেই, জাহাজের নাবিক হয়ে মহিলার কোন গর্ব নেই। অবশ্য অর্থ-সঞ্চয়ে গর্ব আছে। তবে তা হতে হবে নারীত্ব, সতীত্ব ও দ্বীনদারিত্ব বজায় রেখে।

আর পুরুষ-মহলে চাকরিতে অধিকাংশ মহিলার এ তিনের কোনটাই যে অবশিষ্ট থাকে না, সে কথা অভিজ্ঞ ও ভুক্তভোগীরা জানে। এতসত্ত্বেও যে মুসলিম মহিলা নারী-দরদী (আসলে নারীদেহ-প্রেমী) পুরুষদের 'প্রগতি, নারী-স্বাধীনতা, নারী-অধিকার, মানবাধিকার' প্রভৃতির চিত্তাকর্ষী আহবান শুনে সকল ময়দানে পুরুষের সমান অধিকার দাবী করতে চায়, সে আসলে শরীয়তের দৃষ্টিতে একাধিক নিষেধাজ্ঞায় পতিত হয়:-

১। সে আল্লাহ ও তাঁর রসূলের কাছে অভিশপ্ত হয়। যেহেতু আল্লাহর রসূল নারীর বেশ ধারণকারী পুরুষদেরকে এবং পুরুষের বেশ ধারণকারী মহিলাদেরকে অভিশাপ করেছেন। অন্য বর্ণনায় আছে, আল্লাহর রসূল মহিলাদের সাদৃশ্য অবলম্বনকারী পুরুষদেরকে এবং পুরুষদের সাদৃশ্য অবলম্বনকারী মহিলাদেরকে অভিশাপ করেছেন। (বুখারী)
২। পুরুষ-মহলে চাকরির ফলে তার নারীত্ব ও মর্যাদার লজ্জাশীলতা বিনষ্ট হয়ে যায়। অথচ লজ্জা ঈমানের একটি শাখা।
৩। পুরুষদের মাঝে অবস্থানের ফলে সে তার দেহ-সৌন্দর্যকে পুরুষ-চোখের কামদৃষ্টির লক্ষ্যবস্তু বানায়। পুরুষরা বিনা পয়সায় ও বিনা অধিকারে দর্শন-তৃপ্তি লাভ করে। 'প্রগতি' নামক এই ছিদ্র পথ দিয়ে সে দুর্গতির অন্ধকারাচ্ছন্ন নোংরা গলিতে গিয়ে পৌঁছে।
৪। যে নারী স্বাধীন ও সুরক্ষা-বেষ্টিত মুক্তাসদৃশ সংসারের রানী ছিল, সে নারী বাড়ির বাইরে গিয়ে পুরুষ-মহলে চাকরি ক'রে চাকরানী হয়ে যায়।
৫। সন্তান-প্রতিপালন ও তরবিয়তে ত্রুটি হয়। সন্তান মায়ের পরিপূর্ণ স্নেহ থেকে বঞ্চিত থাকে। অনেক সময় অযোগ্য পালয়িত্রীর হাতে পড়ে সন্তানের আক্বীদা ও আমল বিগড়ে যায়।
যার ফলে ইসলাম নারীর কর্ম পুরুষ-মহলে হারাম ঘোষণা করে।

উল্লেখ্য যে, মক্কার মাসজিদুল হারামের নারী-পুরুষের ভিড় কিন্তু সাময়িকভাবে পর্দার সাথে নামাযের জন্য হয়ে থাকে। সুগন্ধি ব্যবহার না ক'রে পর্দার সাথে মসজিদে নামায আদায় করার তুলনাও পুরুষ-মহলে চাকরি করার সাথে হয় না। মসজিদে নামায পড়ার অনুমতি আছে মহিলার, মহানবী ﷺ-এর যুগে মহিলারা একই মসজিদে নামায পড়ত। তবুও বলা হয়েছে, "পুরুষদের কাতারের মধ্যে সর্বোত্তম কাতার হল প্রথম কাতার, আর নিকৃষ্টতম কাতার হল শেষ কাতার। আর মহিলাদের সর্বোত্তম কাতার হল পিছনের (শেষ) কাতার এবং নিকৃষ্টতম কাতার হল প্রথম কাতার।” (মুসলিম)

"আল্লাহর বান্দীদেরকে মসজিদে আসতে বারণ করো না, যদিও তাদের ঘরই তাদের জন্য উত্তম।” (আহমাদ, আবু দাউদ ৫৬৭, হাকেম, সঃ জামে' ৭৪৫৮নং)

📘 পর্দার বিধান 📄 অভিভাবকের কর্তব্য

📄 অভিভাবকের কর্তব্য


পর্দার বিধান মানবে মহিলা। এ বিধান ফরয করা হয়েছে তারই উপর। কিন্তু তার অভিভাবকের উপর ফরয করা হয়েছে অভিভাবকত্বের দায়িত্ব। তার তত্ত্বাবধানে সকল মহিলা যাতে পর্দা করে, সে ব্যবস্থা করতে হবে তাকেই। যেহেতু মহান আল্লাহ বলেছেন,

[يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا قُوا أَنفُسَكُمْ وَأَهْلِيكُمْ نَارًا وَقُودُهَا النَّاسُ وَالْحِجَارَةُ عَلَيْهَا مَلَائِكَةٌ غِلَاظٌ شِدَادٌ لَا يَعْصُونَ اللهَ مَا أَمَرَهُمْ وَيَفْعَلُونَ مَا يُؤْمَرُونَ ] (তাহরীমঃ ৬)

অর্থাৎ, হে ঈমানদারগণ! তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে রক্ষা কর অগ্নি হতে, যার ইন্ধন হবে মানুষ ও পাথর, যাতে নিয়োজিত আছে নির্মম-হৃদয়, কঠোর-স্বভাব ফিরিস্তাগণ, যারা আল্লাহ যা তাদেরকে আদেশ করেন, তা অমান্য করে না এবং তারা যা করতে আদিষ্ট হয়, তাই করে।

আর মহানবী ﷺ বলেছেন, “প্রতিটি মানুষই দায়িত্বশীল। সুতরাং প্রত্যেকেই অবশ্যই তার অধীনস্থদের দায়িত্বশীলতার বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে। দেশের শাসক জনগণের দায়িত্বশীল। সে তার দায়িত্বশীলতার ব্যাপারে জবাবদিহী করবে। একজন পুরুষ তার পরিবারের দায়িত্বশীল। অতএব সে তার দায়িত্বশীলতার বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে। স্ত্রী তার স্বামী ও সন্তানের দায়িত্বশীল। কাজেই সে তার দায়িত্বশীলতার বিষয়ে জিজ্ঞাসিতা হবে। তোমরা প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল। অতএব প্রত্যেকেই নিজ নিজ অধীনস্থের দায়িত্বশীলতার ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত হবে।” (বুখারী ও মুসলিম)

মেয়েদের মনে থাকে প্রকৃতিগতভাবে লজ্জাশীলতা, তার মন চায় নিজেকে গোপন রাখতে। কিন্তু সে প্রকৃতিকে অনেকাংশে পুরুষই নষ্ট ক'রে দেয়। অনেক পুরুষের কারণেই তার পরিবারের মহিলারা বেপর্দা হয়। পুরুষের মন থেকে যখন মহিলার ব্যাপারে ঈর্ষা ও আত্মমর্যাদাবোধের অনুভূতি নষ্ট হয়ে যায়, তখনই তার স্ত্রী-কন্যা বেপর্দা হয়। তারই মৌন-সম্মতিক্রমে বাড়ির মেয়েরা শরয়ী পর্দা ছিঁড়ে টিভি ও সিনেমার পর্দার কাছে শিক্ষা নেয়। তার আমানতে খিয়ানত করার ফলেই সে বাড়ির মেয়েদের চরিত্র ঢিলা হয়ে যায়। ধীরে ধীরে সে হয়ে ওঠে 'দাইয়ুস' বা 'মেড়া' পুরুষ।

আর মহানবী ﷺ বলেন, "তিন ব্যক্তির প্রতি আল্লাহ কিয়ামতের দিন তাকিয়ে দেখবেন না; পিতা-মাতার অবাধ্য সন্তান, পুরুষবেশিনী বা পুরুষের সাদৃশ্য অবলম্বনকারিণী মহিলা এবং দাইয়ূস (মেড়া) পুরুষ; (যে তার স্ত্রী, কন্যা ও বোনের চরিত্রহীনতা ও নোংরামিতে চুপ থাকে এবং বাধা দেয় না।)" (আহমদ, নাসাঈ, সহীহুল জামে' ৩০৭১নং)

তিনি আরো বলেছেন, “তিন ব্যক্তি বেহেশতে যাবে না; পিতা-মাতার অবাধ্য ছেলে, মেড়া পুরুষ (যে তার স্ত্রী-কন্যার অশ্লীলতায় সম্মত থাকে) এবং পুরুষের বেশধারিণী মহিলা।” (নাসাঈ, হাকেম ১/৭২, বাযযার, সহীহুল জামে' ৩০৬৩নং)

সুপুরুষ এমন হয় না যে, সে বাড়িতে বা গাড়িতে বসে থাকবে। আর তার বাড়ির মহিলাকে বাজার করতে পাঠাবে। 'মিনসের কোলে ছেলে দিয়ে, মাগী যায় বাজারে ধেয়ে।'

সুপুরুষ 'গাঁড়ল' হয় না। কারণ, 'মিনসে গাঁড়ল, মাগী মোড়ল' হয়। সুপুরুষ তার স্ত্রী-কন্যাকে কোন বেগানা পুরুষের সাথে অবাধ মিলামেশা বা নির্জনতা অবলম্বন করার সুযোগ দেয় না। দেবরের 'দেবউ' বানায় না। বুনাইয়ের সাথে একা ছাড়ে না। 'দোলামিঞা'র 'দোলাবিবি' বানায় না। সহপাঠী বা গৃহশিক্ষকের সাথে নির্জনতা অবলম্বনের সুযোগ দেয় না। বিবাহ-প্রস্তাব পাকা হলে বরের সাথে আর কাউকে পাত্রী দেখতে অনুমতি দেয় না।

পুরুষ পরিবারের দায়িত্বশীল শাসক। সে তার দায়িত্বশীলতার আমানতে খিয়ানত করতে পারে না। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, “কোন বান্দাকে আল্লাহ কোন প্রজার উপর শাসক বানালে, যেদিন সে মরবে সেদিন যদি সে প্রজার প্রতি ধোঁকাবাজি ক'রে মরে, তাহলে আল্লাহ তার প্রতি জান্নাত হারাম ক'রে দেবেন।” (বুখারী ও মুসলিম)

সুতরাং পর্দার বিধান যদি পুরুষ তার নিজের পরিবার রাজ্যে বহাল না করে এবং তার ফলে যদি তার পরিবারের মহিলারা বেপর্দা হয়ে মরে, তাহলে তার জবাবদিহি তাকে করতে হবে। 'পাঁকের গোঁজ' হলে মহান আল্লাহ তাকে ছাড়বেন না। পটের 'বিবির গোলাম' হয়ে আল্লাহর গোলামি ছাড়লে তার পরিণাম হবে দুনিয়াতে লাঞ্ছনা ও আখেরাতে জাহান্নাম। আল্লাহ মুসলিম জাতির নারী-পুরুষ সবাইকে সুমতি দিন। আমীন।

📘 পর্দার বিধান 📄 নারীর দুর্গ (কবিতা)

📄 নারীর দুর্গ (কবিতা)


সিপাই যেন উঠছে ক্ষেপে এবার তারা লড়বে,
দুর্গ ভেঙ্গে নতুন ঢঙে নতুন বাসা গড়বে
এবার তারা লড়বে।

সেনাপতি সরলমতি ভাবছে কিসে রুখবে,
অকারণে নেমে রণে কষ্ট তারা ভুগবে
ভাবছে কিসে রুখবে।

চৌদিকেতে লৌহ-প্রাচীর প্রাচীর তারা ভাঙ্গবে,
স্বাধীনতার খোঁজে এবার রক্তে তারা রাঙবে
প্রাচীর তারা ভাঙ্গবে।

ইচ্ছা যত কর তুমি সুখে তারা থাকবে,
কবর ছাড়া এমন দুর্গ যেথায় তুমি রাখবে
না হলে সব ভাগবে সুখে তারা থাকবে।

ফন্ট সাইজ
15px
17px