📄 আল্লাহ সৌন্দর্য পছন্দ করেন, তাহলে তা গোপন করার নির্দেশ কেন?
অনেকে বলে, 'আল্লাহ সুন্দর, তিনি সৌন্দর্য পছন্দ করেন। তাহলে মহিলার সে সৌন্দর্য গোপন করা কেন?'
মহান আল্লাহ সৌন্দর্য পছন্দ করেন। কিন্তু যে সৌন্দর্য ফিতনা সৃষ্টি করে, তা প্রকাশ ক'রে বেড়ানোকে অপছন্দ করেন। তিনি নারী-দেহের যে সৌন্দর্য তার স্বামীর জন্য সৃষ্টি করেছেন, তার কাছে প্রকাশ করলে এবং সেই দেহ-সুষমা ও ভালবাসার মাধ্যমে স্বামীকে খোশ রাখলে তার জন্য পুরস্কার রেখেছেন জান্নাত। আর এমন স্বামী বড় সৌভাগ্যবান।
আল্লাহর রসূল বলেন, “সৌভাগ্যের স্ত্রী সেই; যাকে দেখে স্বামী মুগ্ধ হয় এবং সংসার ছেড়ে বাইরে গেলে স্ত্রী ও তার সম্পদের ব্যাপারে নিশ্চিন্ত থাকে। আর দুর্ভাগার স্ত্রী হল সেই; যাকে দেখে স্বামীর মন তিক্ত হয়, যে স্বামীর উপর জিভ লম্বা করে (লানতান করে) এবং সংসার ছেড়ে বাইরে গেলে ঐ স্ত্রী ও তার সম্পদের ব্যাপারে সে নিশ্চিন্ত হতে পারে না।” (মিশকাত ১০৪৭নং)
তিনি আরো বলেন, “শ্রেষ্ঠ রমণী সেই, যার প্রতি তার স্বামী দৃক্কাত করলে সে তাকে খোশ করে দেয়, কোন আদেশ করলে তা পালন করে এবং তার জীবন ও সম্পদে স্বামীর অপছন্দনীয় বিরুদ্ধাচরণ করে না।” (মিশকাত ১৮৩৮নং)
তিনি আরো বলেন, "স্ত্রীর জন্য স্বামী তার জান্নাত অথবা জাহান্নাম।” (ইবনে আবী শাইবাহ, নাসাঈ, ত্বাবারানী, হাকেম প্রমুখ)
📄 পর্দা না করেও সতী হলে
'আমি পর্দা না করলেও আমার উদ্দেশ্য কোন পুরুষকে আকর্ষণ করা নয়। তাতেও কি আমার গোনাহ হবে? আমি সতী থাকলে এবং পাপের উদ্দেশ্য না থাকলেও কি পাপ হবে?'
পাপের উদ্দেশ্য না থাকলে পাপ হয় না ঠিকই। কিন্তু ক্ষতি তো হয়। আর যে ক্ষতির জন্য তুমি দায়ী, তার দায়িত্ব তো বহন করতেই হবে। এই ধর, যারা গাড়ি অথবা গুলি চালাতে গিয়ে অনিচ্ছাকৃতভাবে মানুষ খুন করে, তাদেরকেও ক্ষতিপূরণ দিতে হয়। তুমি সিগারেট পছন্দ কর না। একজন যদি তোমার পাশে বসে সিগারেট টানতে লাগে এবং তার ধোঁয়া তোমার নাকে-মুখে লাগে, তাহলে তাতে কি তুমি ক্ষতিগ্রস্ত ও বিরক্ত হবে না? যদিও তার উদ্দেশ্য তোমার ক্ষতি করা নয়।
অনুরূপ তুমি সতী থেকে পর্দা না করলে এবং তার পশ্চাতে কোন ফিতনা সৃষ্টি করার উদ্দেশ্য না থাকলেও ফিতনা হবে। এক শ্রেণীর যুবক তোমার দেহ-কান্তি দর্শন ক'রে তৃপ্তি অনুভব করবে, আর তাতে তাদের ক্ষতি হবে এবং তার জন্য দায়ী হবে তুমি।
তাছাড়া ক্ষতি তোমারও হতে পারে। লকলকে সবুজ ফসলের যদি বেড়া দিয়ে হিফাযত না করা হয়, তাহলে গরু-ছাগল এসে সে ফসল নষ্ট করতে পারে। দামী জিনিস ঠিকমতো নিরাপদ জায়গায় না রেখে যেখানে-সেখানে ফেলে রাখলে, চোর তা তুলে নিয়ে যেতে পারে। সুতরাং নিজের শৈথিল্যের কারণে নিজের বিপদ আনা মহিলার উচিত নয়। নিজে অযত্ন ও উন্নাসিকতা প্রদর্শন ক'রে নিজের অমূল্য রত্ন হারিয়ে ফেলা মোটেই বাঞ্ছনীয় নয়।
📄 সাদা-মাঠা পোশাক পরলেও কি পর্দা জরুরী?
'আমি পর্দা না করলেও আকর্ষণীয় প্রসাধন ও সাজগোজ ক'রে নিজেকে প্রদর্শন করি না। খুব স্বাভাবিকভাবে বাইরে যাই। তাতেও কি পাপ হবে?'
অবশ্যই। নারীর দেহটাই পুরুষের নজরে বড় আকর্ষণীয়। নারী নিজে তা অনুভব নাও করতে পারে। সাজগোজে আকর্ষণ বেশি বাড়ায় তাই। তাছাড়া বিনা সাজেও মহিলার দেহ কমনীয় ও রমণীয়। আর মহানবী ﷺ বলেছেন, "রমণী গুপ্ত জিনিস; সুতরাং যখন সে (বাড়ি হতে) বের হয়, তখন শয়তান তাকে পুরুষের দৃষ্টিতে রমণীয় ক'রে দেখায়।” (সহীহ তিরমিযী ৯৩৬নং)
📄 পাপী মহিলার পর্দায় কী লাভ?
অনেকে বলে, 'আমি অন্য পাপ বর্জন করতে পারি না, তাহলে পর্দা করেই বা কী হবে?'
আমরা বলব, পর্দা ক'রে অন্ততঃ একটি অতিরিক্ত পাপ থেকে তো বাঁচা যাবে। সেই সাথে চেষ্টা রাখতে হবে, যাতে সকল পাপ থেকে দূরে থাকা যায়। আর যদি তোমার চরিত্রে পুরনো কলঙ্কও থাকে, তবুও পর্দা না করে কলঙ্কের কালিমার পরিসরকে বাড়িয়ে তুলো না। আল্লাহর কাছে সঠিকভাবে তওবা কর। তওবা তোমার সকল পাপকে পুণ্যরাশিতে পরিণত ক'রে দেবে। শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে পানাহ চাও, কারণ সে তোমাকে সৎপথে ফিরে আসতে বাধাদান করবে। সমাজের কথাকে পরোয়া করো না, সমাজ তোমার হয়ে হিসাব দেবে না।
শৈথিল্য করো না বোনটি! এখনও সময় আছে। পাপের বোঝা হাল্কা কর, নচেৎ তার শাস্তি বড় কঠিন! মহান আল্লাহর এই বাণী পাঠ ক'রে একান্তে একটু চিন্তা কর,
[وَهُمْ يَصْطَرِخُونَ فِيهَا رَبَّنَا أَخْرِجْنَا نَعْمَلْ صَالِحًا غَيْرَ الَّذِي كُنَّا نَعْمَلُ أَوَلَمْ نُعَمِّرْকুম مَّا يَتَذَكَّرُ فِيهِ مَن تَذَكَّرَ وَجاءَكُمُ النَّذِيرُ فَذُوقُوا فَمَا لِلظَّالِمِينَ مِن نَّصِيرٍ ] (ফাত্বিরঃ ৩৭)
অর্থাৎ, সেখানে (জাহান্নামে) তারা আর্তনাদ ক'রে বলবে, 'হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে (এখান হতে) বের কর, আমরা সৎকাজ করব; পূর্বে যা করতাম, তা আর করব না।' আল্লাহ বলবেন, 'আমি কি তোমাদেরকে এত দীর্ঘ জীবন দান করিনি যে, তখন কেউ উপদেশ গ্রহণ করতে চাইলে উপদেশ গ্রহণ করতে পারত? তোমাদের নিকট তো সতর্ককারীও এসেছিল। সুতরাং শাস্তি আস্বাদন কর; সীমালংঘনকারীদের কোন সাহায্যকারী নেই।'