📘 পর্দার বিধান 📄 পুরুষের উপর পর্দা ফরজ নয় কেন?

📄 পুরুষের উপর পর্দা ফরজ নয় কেন?


পর্দার আসল উদ্দেশ্য যদি ইজ্জত-রক্ষা হয়, তাহলে পুরুষকে পর্দা করতে বলা হয় না কেন?

যেহেতু প্রকৃতিগতভাবে পুরুষের বাহ্যিক দেহ মহিলার চোখে ততটা বা মোটেই আকর্ষণীয় ও বাঞ্ছনীয় নয়, যতটা মহিলার বাহ্যিক দেহ পুরুষের চোখে আকর্ষণীয় ও বাঞ্ছনীয়। মহিলার বাহ্যিক দেহ দেখে পুরুষের মনে যে কামনা ও বাসনার সৃষ্টি হয়, পুরুষের বাহ্যিক দেহ দেখে মহিলার মনে সে কামনা ও বাসনার সৃষ্টি হয় না। তাই যা লোভনীয়, তাকেই গোপন থাকতে বলা হয়েছে। তাছাড়া পুরুষকে তার চক্ষু সংযত করতে বলা হয়েছে। যেমন সে কথা অন্য স্থানে আলোচিত হয়েছে।

নারী হল ফুল স্বরূপ। আর পুরুষ হল ভ্রমর। দুনিয়ার সবারই ফুলের প্রতি আকর্ষণ থাকে, ভ্রমরের প্রতি আকর্ষণ থাকে না। সুতরাং ভ্রমরকে পর্দা করতে বলার কোন যৌক্তিকতাই নেই।

তাছাড়া পুরুষ উপার্জন ও পরিশ্রমশীল। সৃষ্টিকর্তা তার দেহকে সেইভাবে সুঠাম ক'রে সৃষ্টি করেছেন। নারী তা নয়, তার দেহকে তিনি বড় কোমল ও কমনীয় ক'রে সৃষ্টি করেছেন। নারী অল্প পরিশ্রমে কাতর হয়ে পড়ে। তার ভূমিকা পরিশ্রম করা নয়। পরম্ভ পরিশ্রমীকে যদি পর্দার হুকুম দেওয়া হয়, তাহলে মানুষের পেট চলবে কীভাবে?

📘 পর্দার বিধান 📄 আল্লাহ সৌন্দর্য পছন্দ করেন, তাহলে তা গোপন করার নির্দেশ কেন?

📄 আল্লাহ সৌন্দর্য পছন্দ করেন, তাহলে তা গোপন করার নির্দেশ কেন?


অনেকে বলে, 'আল্লাহ সুন্দর, তিনি সৌন্দর্য পছন্দ করেন। তাহলে মহিলার সে সৌন্দর্য গোপন করা কেন?'

মহান আল্লাহ সৌন্দর্য পছন্দ করেন। কিন্তু যে সৌন্দর্য ফিতনা সৃষ্টি করে, তা প্রকাশ ক'রে বেড়ানোকে অপছন্দ করেন। তিনি নারী-দেহের যে সৌন্দর্য তার স্বামীর জন্য সৃষ্টি করেছেন, তার কাছে প্রকাশ করলে এবং সেই দেহ-সুষমা ও ভালবাসার মাধ্যমে স্বামীকে খোশ রাখলে তার জন্য পুরস্কার রেখেছেন জান্নাত। আর এমন স্বামী বড় সৌভাগ্যবান।

আল্লাহর রসূল বলেন, “সৌভাগ্যের স্ত্রী সেই; যাকে দেখে স্বামী মুগ্ধ হয় এবং সংসার ছেড়ে বাইরে গেলে স্ত্রী ও তার সম্পদের ব্যাপারে নিশ্চিন্ত থাকে। আর দুর্ভাগার স্ত্রী হল সেই; যাকে দেখে স্বামীর মন তিক্ত হয়, যে স্বামীর উপর জিভ লম্বা করে (লানতান করে) এবং সংসার ছেড়ে বাইরে গেলে ঐ স্ত্রী ও তার সম্পদের ব্যাপারে সে নিশ্চিন্ত হতে পারে না।” (মিশকাত ১০৪৭নং)

তিনি আরো বলেন, “শ্রেষ্ঠ রমণী সেই, যার প্রতি তার স্বামী দৃক্কাত করলে সে তাকে খোশ করে দেয়, কোন আদেশ করলে তা পালন করে এবং তার জীবন ও সম্পদে স্বামীর অপছন্দনীয় বিরুদ্ধাচরণ করে না।” (মিশকাত ১৮৩৮নং)

তিনি আরো বলেন, "স্ত্রীর জন্য স্বামী তার জান্নাত অথবা জাহান্নাম।” (ইবনে আবী শাইবাহ, নাসাঈ, ত্বাবারানী, হাকেম প্রমুখ)

📘 পর্দার বিধান 📄 পর্দা না করেও সতী হলে

📄 পর্দা না করেও সতী হলে


'আমি পর্দা না করলেও আমার উদ্দেশ্য কোন পুরুষকে আকর্ষণ করা নয়। তাতেও কি আমার গোনাহ হবে? আমি সতী থাকলে এবং পাপের উদ্দেশ্য না থাকলেও কি পাপ হবে?'

পাপের উদ্দেশ্য না থাকলে পাপ হয় না ঠিকই। কিন্তু ক্ষতি তো হয়। আর যে ক্ষতির জন্য তুমি দায়ী, তার দায়িত্ব তো বহন করতেই হবে। এই ধর, যারা গাড়ি অথবা গুলি চালাতে গিয়ে অনিচ্ছাকৃতভাবে মানুষ খুন করে, তাদেরকেও ক্ষতিপূরণ দিতে হয়। তুমি সিগারেট পছন্দ কর না। একজন যদি তোমার পাশে বসে সিগারেট টানতে লাগে এবং তার ধোঁয়া তোমার নাকে-মুখে লাগে, তাহলে তাতে কি তুমি ক্ষতিগ্রস্ত ও বিরক্ত হবে না? যদিও তার উদ্দেশ্য তোমার ক্ষতি করা নয়।

অনুরূপ তুমি সতী থেকে পর্দা না করলে এবং তার পশ্চাতে কোন ফিতনা সৃষ্টি করার উদ্দেশ্য না থাকলেও ফিতনা হবে। এক শ্রেণীর যুবক তোমার দেহ-কান্তি দর্শন ক'রে তৃপ্তি অনুভব করবে, আর তাতে তাদের ক্ষতি হবে এবং তার জন্য দায়ী হবে তুমি।

তাছাড়া ক্ষতি তোমারও হতে পারে। লকলকে সবুজ ফসলের যদি বেড়া দিয়ে হিফাযত না করা হয়, তাহলে গরু-ছাগল এসে সে ফসল নষ্ট করতে পারে। দামী জিনিস ঠিকমতো নিরাপদ জায়গায় না রেখে যেখানে-সেখানে ফেলে রাখলে, চোর তা তুলে নিয়ে যেতে পারে। সুতরাং নিজের শৈথিল্যের কারণে নিজের বিপদ আনা মহিলার উচিত নয়। নিজে অযত্ন ও উন্নাসিকতা প্রদর্শন ক'রে নিজের অমূল্য রত্ন হারিয়ে ফেলা মোটেই বাঞ্ছনীয় নয়।

📘 পর্দার বিধান 📄 সাদা-মাঠা পোশাক পরলেও কি পর্দা জরুরী?

📄 সাদা-মাঠা পোশাক পরলেও কি পর্দা জরুরী?


'আমি পর্দা না করলেও আকর্ষণীয় প্রসাধন ও সাজগোজ ক'রে নিজেকে প্রদর্শন করি না। খুব স্বাভাবিকভাবে বাইরে যাই। তাতেও কি পাপ হবে?'

অবশ্যই। নারীর দেহটাই পুরুষের নজরে বড় আকর্ষণীয়। নারী নিজে তা অনুভব নাও করতে পারে। সাজগোজে আকর্ষণ বেশি বাড়ায় তাই। তাছাড়া বিনা সাজেও মহিলার দেহ কমনীয় ও রমণীয়। আর মহানবী ﷺ বলেছেন, "রমণী গুপ্ত জিনিস; সুতরাং যখন সে (বাড়ি হতে) বের হয়, তখন শয়তান তাকে পুরুষের দৃষ্টিতে রমণীয় ক'রে দেখায়।” (সহীহ তিরমিযী ৯৩৬নং)

ফন্ট সাইজ
15px
17px