📘 পর্দার বিধান 📄 পর্দা মহিলার ব্যক্তি-স্বাধীনতা হরণ করে

📄 পর্দা মহিলার ব্যক্তি-স্বাধীনতা হরণ করে


অনেক মহিলা ধারণা করে যে, পর্দা মহিলার ব্যক্তি-স্বাধীনতা হরণ করে এবং তাকে তার ইচ্ছামতো বেশভূষা গ্রহণে বাধা প্রদান করে।

ব্যক্তি-স্বাধীনতা কথাটি প্রয়োগ করা হলেও তার যথার্থ আমল ব্যক্তি-জীবনে দেখা যায় না। যেহেতু কোন মানুষ নিজ ইচ্ছামতো খেতে পারে না, ইচ্ছামতো পরতে পারে না, ইচ্ছামতো আচরণ করতে পারে না, ইচ্ছামতো ঘুমাতে পারে না। নচেৎ আমরা হত্যা, চুরি-ডাকাতি, ধর্ষণ, দুর্নীতি, অরাজকতা, মাতলামি প্রভৃতি অপরাধকে ব্যক্তির 'ব্যক্তি-স্বাধীনতা' মনে করে উপেক্ষা করতাম। ডাক্তারী উপদেশ না মেনে পছন্দমতো পানাহার ক'রে অকাল মৃত্যু ডেকে আনতাম।

কিন্তু তা করা হয় না। সুতরাং একচ্ছত্র ব্যক্তি-স্বাধীনতা কারো নেই। তবে নিয়ন্ত্রিত ও সুশৃঙ্খলিত ব্যক্তি-স্বাধীনতা অবশ্যই আছে। আর মানুষের আচরণে নিয়ন্ত্রণ ও সুশৃঙ্খলা সম্বন্ধে একমাত্র মানুষের সৃষ্টিকর্তাই বেশি জানেন। তিনিই ভাল বুঝেন মানুষের প্রকৃতি ও প্রবণতা। সুতরাং তিনিই তার নিয়ন্ত্রণের অধিকার রাখেন এবং সেটাই হয় সবচেয়ে বেশি ফলপ্রসূ।

[أَلَا يَعْلَمُ مَنْ خَلَقَ وَهُوَ اللَّطِيفُ الْخَبِيرُ ] (মুল্কঃ ১৪)
অর্থাৎ, যিনি সৃষ্টি করেছেন, তিনি কি জানেন না? তিনি সূক্ষ্মদর্শী, সম্যক অবগত। (মুল্কঃ ১৪)

পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি মুসলিম হয়, সে আত্মসমর্পণকারী হয়। মুসলিম মানেই আত্মসমর্পণকারী। আর অপরের নিকট আত্মসমর্পণকারীর নিশ্চয় কোন ব্যক্তি-স্বাধীনতা থাকতে পারে না। কারণ সে জানে যে, যাঁর নিকট সে আত্মসমর্পণ করেছে, তিনি তার মঙ্গলামঙ্গলের ব্যাপারে বেশি বুঝেন। নিশ্চয় তিনি মানুষের জন্য যা কল্যাণকর, তাই বিধিবদ্ধ করেন। আর তখন তা মেনে নেওয়া ব্যতীত আত্মসমর্পণকারীর নিকট অন্য কোন পথ খোলা থাকে না।

[إِنَّمَا كَانَ قَوْلَ الْمُؤْمِنِينَ إِذَا دُعُوا إِلَى اللهِ وَرَسُولِهِ لِيَحْكُمَ بَيْنَهُمْ أَن يَقُولُوا سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا وَأُوْلَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ (৫১) وَمَن يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَيَخْشَ اللَّهَ وَيَتَّقْهِ فَأُوْلَئِكَ هُمُ الْفَائِزُونَ ] (নূরঃ ৫১-৫২)
অর্থাৎ, যখন মু'মিনদেরকে তাদের মধ্যে মীমাংসা ক'রে দেওয়ার জন্য আল্লাহ এবং তাঁর রসূলের দিকে আহবান করা হয়, তখন তারা তো কেবল এ কথাই বলে, 'আমরা শ্রবণ করলাম ও মান্য করলাম।' আর ওরাই হল সফলকাম। যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আনুগত্য করে, আল্লাহকে ভয় করে ও তাঁর শাস্তি হতে সাবধান থাকে, তারাই হল কৃতকার্য। (নূরঃ ৫১-৫২)

وَمَا كَانَ لِمُؤْمِنٍ وَلَا مُؤْمِنَةٍ إِذَا قَضَى اللهُ وَرَسُولُهُ أَمْرًا أَن يَكُونَ لَهُمُ الْخِيَرَةُ مِنْ أَمْرِهِمْ وَمَن يَعْصِ اللَّهَ وَরَسُولَهُ فَقَدْ ضَلَّ ضَلَالًا مُّبِينًا ] (আহযাবঃ ৩৬)
অর্থাৎ, আল্লাহ ও তাঁর রসূল কোন বিষয়ে নির্দেশ দিলে কোন বিশ্বাসী পুরুষ কিংবা বিশ্বাসী নারীর সে বিষয়ে ভিন্ন সিদ্ধান্তের অধিকার থাকবে না। কেউ আল্লাহ এবং তাঁর রসূলের অবাধ্য হলে সে তো স্পষ্টই পথভ্রষ্ট হবে। (আহযাবঃ ৩৬)

وَرَبُّكَ يَخْلُقُ مَا يَشَاء وَيَخْتَارُ مَا كَانَ لَهُمُ الْخِيَرَةُ سُبْحَانَ اللَّهِ وَتَعَالَى عَمَّا يُشْرِكُونَ]
অর্থাৎ, তোমার প্রতিপালক যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন এবং যাকে ইচ্ছা মনোনীত করেন, এতে ওদের কোন এখতিয়ার নেই। আল্লাহ পবিত্র, মহান এবং ওরা যাকে অংশী করে, তা হতে তিনি ঊর্ধ্বে। (ক্বাস্বাসঃ ৬৮)

মানুষ যখন অসুস্থ হয়ে পড়ে, তখন কোন ভাল ডাক্তারের কাছে যায় চিকিৎসার জন্য। ডাক্তার তাকে ওষুধ দেন, সে ওষুধ তেঁতো এবং রুচি-বিরুদ্ধ হলেও খেতে হয়। কিছু অতিরিক্ত পথ্য দেন এবং নির্দিষ্ট এমন জিনিস খেতে বলেন, যা তার পছন্দের বাইরে। কিছু এমন জিনিস খেতে নিষেধ করেন, যা তার একান্ত পছন্দের। তখন মানুষ সুস্থতা লাভের জন্য ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলতে বাধ্য হয়। তখন তার কোন ব্যক্তি-স্বাধীনতা থাকে না। আর তা থাকলে বা রাখলে সুস্থতার নাগাল পায় না।

অনুরূপ সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহ আমাদের জন্য শৃঙ্খলিত জীবন দান করেছেন, সেই জীবনের বাস্তবতা মেনে নিতেই হবে, যদিও তা আমাদের ব্যক্তি-স্বাধীনতা-বিরোধী। আমাদের শরীরে যতটুকু লবণ লাগে, যতটুকু চিনি লাগে, যতটুকু লোহা লাগে, তার কমবেশি নিজের ইচ্ছামতো গ্রহণ করতে পারি না। করলে জীবন বাঁচাতে পারব না। তিনি লেবাস-পোশাক দিয়েছেন মানুষের ইজ্জত-সম্ভ্রম বাঁচানোর জন্য। আমরা তা ইচ্ছামতো ব্যবহার করতে পারি না, করলে নিজেদের ইজ্জত-সম্মান রক্ষা করতে পারব না।

সভ্য মানুষের জীবনে কোন অবাধ ব্যক্তি-স্বাধীনতা নেই। যদি কারো থাকে, তবে একমাত্র পাগলের আছে। আর পাগলের জীবন আমরা কেউই চাই না।

📘 পর্দার বিধান 📄 দুনিয়ার অধিকাংশ মহিলারা-ই পর্দা করে না

📄 দুনিয়ার অধিকাংশ মহিলারা-ই পর্দা করে না


অনেক মহিলা বলে, 'কে আর মানছে ভাইয়া! অধিকাংশ মেয়েরাই তো পর্দা মানে না।'

তার মানে, তুমিও মানবে না। তুমিও গড্ডলিকা-প্রবাহে গা ভাসাতে চাও, তুমিও গতানুগতিক চরিত্রের মহিলা হতে চাও। তুমি মনে কর, সংখ্যাগরিষ্ঠ মহিলা যেটা করে, সেটা নিশ্চয় উত্তম। তোমার এ যুক্তি এক প্রকার গণতান্ত্রিক। অথচ তুমি এ কথা জানো যে, সংসারের অধিকাংশ মানুষ ভাল নয়। অধিকাংশ মানুষ জাহান্নামে যাবে। সুতরাং সংখ্যায় কম হলেও তোমাকে ভাল মানুষদের আদর্শ গ্রহণ করতে হবে। মহান আল্লাহ বলেন,

قُل لا يَسْتَوِي الْخَبِيثُ وَالطَّيِّبُ وَلَوْ أَعْجَبَكَ كَثْرَةُ الْخَبِيثِ فَاتَّقُوا اللَّهَ يَا أُولِي الأَلْبَابِ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ ] (মাইদাহঃ ১০০)
অর্থাৎ, বল, 'অপবিত্র ও পবিত্র সমান নয়; যদিও অপবিত্রের আধিক্য তোমাকে চমৎকৃত করে। সুতরাং হে বুদ্ধিশক্তিসম্পন্ন ব্যক্তিবর্গ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার।' (মাইদাহঃ ১০০)

ইবনে মাসউদ বলেছেন, 'তোমরা পরানুগামী (ইয়েস-ম্যান) হয়ো না।' লোকেরা বলল, 'পরানুগামিতা কী?' তিনি বললেন, 'এই বলা যে, আমরা লোকেদের অনুগামী। তারা সৎপথে থাকলে আমরা আছি এবং তারা পথভ্রষ্ট হলে আমরাও পথভ্রষ্ট। বরং প্রত্যেকের মনকে প্রস্তুত রাখা উচিত যে, লোকে কাফের হলে, সে হবে না।' (ত্বাবারানী)

📘 পর্দার বিধান 📄 পুরুষের উপর পর্দা ফরজ নয় কেন?

📄 পুরুষের উপর পর্দা ফরজ নয় কেন?


পর্দার আসল উদ্দেশ্য যদি ইজ্জত-রক্ষা হয়, তাহলে পুরুষকে পর্দা করতে বলা হয় না কেন?

যেহেতু প্রকৃতিগতভাবে পুরুষের বাহ্যিক দেহ মহিলার চোখে ততটা বা মোটেই আকর্ষণীয় ও বাঞ্ছনীয় নয়, যতটা মহিলার বাহ্যিক দেহ পুরুষের চোখে আকর্ষণীয় ও বাঞ্ছনীয়। মহিলার বাহ্যিক দেহ দেখে পুরুষের মনে যে কামনা ও বাসনার সৃষ্টি হয়, পুরুষের বাহ্যিক দেহ দেখে মহিলার মনে সে কামনা ও বাসনার সৃষ্টি হয় না। তাই যা লোভনীয়, তাকেই গোপন থাকতে বলা হয়েছে। তাছাড়া পুরুষকে তার চক্ষু সংযত করতে বলা হয়েছে। যেমন সে কথা অন্য স্থানে আলোচিত হয়েছে।

নারী হল ফুল স্বরূপ। আর পুরুষ হল ভ্রমর। দুনিয়ার সবারই ফুলের প্রতি আকর্ষণ থাকে, ভ্রমরের প্রতি আকর্ষণ থাকে না। সুতরাং ভ্রমরকে পর্দা করতে বলার কোন যৌক্তিকতাই নেই।

তাছাড়া পুরুষ উপার্জন ও পরিশ্রমশীল। সৃষ্টিকর্তা তার দেহকে সেইভাবে সুঠাম ক'রে সৃষ্টি করেছেন। নারী তা নয়, তার দেহকে তিনি বড় কোমল ও কমনীয় ক'রে সৃষ্টি করেছেন। নারী অল্প পরিশ্রমে কাতর হয়ে পড়ে। তার ভূমিকা পরিশ্রম করা নয়। পরম্ভ পরিশ্রমীকে যদি পর্দার হুকুম দেওয়া হয়, তাহলে মানুষের পেট চলবে কীভাবে?

📘 পর্দার বিধান 📄 আল্লাহ সৌন্দর্য পছন্দ করেন, তাহলে তা গোপন করার নির্দেশ কেন?

📄 আল্লাহ সৌন্দর্য পছন্দ করেন, তাহলে তা গোপন করার নির্দেশ কেন?


অনেকে বলে, 'আল্লাহ সুন্দর, তিনি সৌন্দর্য পছন্দ করেন। তাহলে মহিলার সে সৌন্দর্য গোপন করা কেন?'

মহান আল্লাহ সৌন্দর্য পছন্দ করেন। কিন্তু যে সৌন্দর্য ফিতনা সৃষ্টি করে, তা প্রকাশ ক'রে বেড়ানোকে অপছন্দ করেন। তিনি নারী-দেহের যে সৌন্দর্য তার স্বামীর জন্য সৃষ্টি করেছেন, তার কাছে প্রকাশ করলে এবং সেই দেহ-সুষমা ও ভালবাসার মাধ্যমে স্বামীকে খোশ রাখলে তার জন্য পুরস্কার রেখেছেন জান্নাত। আর এমন স্বামী বড় সৌভাগ্যবান।

আল্লাহর রসূল বলেন, “সৌভাগ্যের স্ত্রী সেই; যাকে দেখে স্বামী মুগ্ধ হয় এবং সংসার ছেড়ে বাইরে গেলে স্ত্রী ও তার সম্পদের ব্যাপারে নিশ্চিন্ত থাকে। আর দুর্ভাগার স্ত্রী হল সেই; যাকে দেখে স্বামীর মন তিক্ত হয়, যে স্বামীর উপর জিভ লম্বা করে (লানতান করে) এবং সংসার ছেড়ে বাইরে গেলে ঐ স্ত্রী ও তার সম্পদের ব্যাপারে সে নিশ্চিন্ত হতে পারে না।” (মিশকাত ১০৪৭নং)

তিনি আরো বলেন, “শ্রেষ্ঠ রমণী সেই, যার প্রতি তার স্বামী দৃক্কাত করলে সে তাকে খোশ করে দেয়, কোন আদেশ করলে তা পালন করে এবং তার জীবন ও সম্পদে স্বামীর অপছন্দনীয় বিরুদ্ধাচরণ করে না।” (মিশকাত ১৮৩৮নং)

তিনি আরো বলেন, "স্ত্রীর জন্য স্বামী তার জান্নাত অথবা জাহান্নাম।” (ইবনে আবী শাইবাহ, নাসাঈ, ত্বাবারানী, হাকেম প্রমুখ)

ফন্ট সাইজ
15px
17px