📄 কতিপয় অমুসলিম দেশে নারী নির্যাতনের একটি পরিসংখ্যান
১। এক পরিসংখ্যানে প্রকাশ, যুক্তরাষ্ট্রে (১৯০০০০০০) এক কোটি নব্বই লক্ষ মহিলা ধর্ষণের শিকার। (সূত্র: "আজ আমেরিকা বাস্তবতাকে স্বীকার করেছে" নামক গ্রন্থ)
২। ইতালীর মানসিক চিকিৎসা ফেডারেশন এক জরিপ প্রকাশ করে তাতে স্বীকার করেছে যে, ৭০% ইতালিয়ান পুরুষ স্বীয় স্ত্রীদের অধিকার খর্ব করে চলেছে। (অর্থাৎ তারা অন্যত্র গমন করে থাকে) (মুসলিমের ধ্যান-ধারণা)
৩। আমেরিকায় প্রতি বছর ১ মিলিয়ন (দশলক্ষ) অবৈধ সন্তান ভুমিষ্ট হয় এবং ১ মিলিয়ন অকালে গর্ভপাত করানো হয়। (মানদণ্ডে নারীর কর্মকাণ্ড)
৪। কর্ণেল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক জনমত জরিপে প্রকাশ, ৭০% নগর সেবিকা যৌন নির্যাতনের শিকার হয় এবং তাদের মধ্যে ৫৬% ভয়াবহ দৈহিক নির্যাতনের শিকার। (পতনের পর নারীর কি অবস্থা।)
৫। শুধুমাত্র জার্মানিতে বছরে ৩৫০০০ (পঁয়ত্রিশ হাজার) নারী ধর্ষনের শিকার হয়। আর এ সংখ্যা হলো শুধু পুলিশের নিকট যা রেজিস্ট্রিকৃত। পক্ষান্তরে ধর্ষনের যে সব ঘটনা রেজিষ্ট্রি হয় না তার সংখ্যা ফৌজদারী পুলিশের মতে উক্ত সংখ্যার পাঁচগুণ হবে। (হাওয়ার প্রতি একটি পত্র)
উক্ত জরিপ ও উক্ত পরিসংখ্যান কি ঐ লোকদের শ্লোগান ও দাবীর ভ্রান্ততা প্রমাণ করে না? (অর্থাৎ যারা বলে থাকে যে নারীকে যদি অবাধ মেলা-মেশার সুযোগ দেওয়া হতো তবে নারীর প্রতি শ্রদ্ধাবোধ বাড়ত ও নারীর প্রতি নিপীড়ন কমে যেতো) নাকি উক্ত জরিপ ও পরিসংখ্যান নারী-পুরুষের পরস্পরের প্রতি তারা যা কামনা করে সে ধরণের মর্যাদাবোধের একটি অংশ?!!!!
📄 অন্তদৃষ্টি সম্পন্ন ব্যক্তিগণ শিক্ষা গ্রহণ করুন
পর্দা নারীর ইজ্জত-সম্মান ও লজ্জা সম্ভ্রম সংরক্ষণের সব চেয়ে বড় উপায়। পর্দা নারীকে অশ্লীল, কদর্য ও কুদৃষ্টি থেকে বাঁচিয়ে রাখে। যারা বেপর্দা ও নগ্ন স্বাধীনতার তিক্ততার আস্বাদ গ্রহণ করেছে এবং যারা অশ্লীলতা ও অবাধ মেলামেশার আগুনে দগ্ধ হয়েছে তারা এর স্বীকৃতি দেয়।
ইসলামের শত্রুরাও কতইনা সত্য সাক্ষ্য দেয়: "হীলসীয়ান স্তাসমারী" নামক আমেরিকার একজন মহিলা সাংবাদিক আরব দেশসমূহের কোনো এক রাজধানীতে কয়েক সপ্তাহ অতিবাহিত করে স্বীয় দেশে ফিরে গিয়ে বলেন, “নিশ্চয় আরব সমাজ ব্যবস্থা একটি পুর্ণাঙ্গ ও নিরাপদ সমাজ ব্যবস্থা। এ উপযুক্ত সমাজের রীতি-নীতি একান্তভাবে গ্রহণ করা উচিৎ, কেননা এই যুক্তিসংগত প্রথা যুবক-যুবতীদেরকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত করে। এ সমাজ ইউরোপীয় ও আমেরিকার সমাজ ব্যবস্থা থেকে ভিন্নতর। তোমাদের নিকট উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত যে চরিত্র রয়েছে তা নারীর সীমাবদ্ধতাকে বাধ্যতামূলক করে, পিতা-মাতার সম্মান করা ও এ ধরনের বহু বিষয়কে আবশ্যক করে এবং পাশ্চাত্যের সেই স্বেচ্ছাচারিতাকে বর্জন করে, যা বর্তমানে ইউরোপ ও আমেরিকার সমাজ ও পরিবারকে বিনাশ করে ফেলেছে। সুতরাং অবাধ মেলামেশা থেকে বিরত থাকুন, নারী স্বাধীনতাকে সীমাবদ্ধ করুন, ফিরে আসুন পর্দার যুগে; কেননা আমেরিকান ও ইউরোপিয়ান স্বেচ্ছাচারিতা, অশ্লীলতা ও অবাধ্যতার চেয়ে তা কল্যাণকর।” (“নারী ও শত্রু চক্রান্ত” নামক প্রবন্ধ থেকে গৃহীত।)
অতএব, হে মুসলিম নারীবৃন্দ! লক্ষ্য করুন! ইনি একজন আমেরিকান মহিলা তিনি তার সমাজের পরিবারসমূহে চারিত্রিক অবক্ষয় লক্ষ্য করে পর্দার প্রতি আহ্বান করেছেন। একজন আমেরিকান মহিলা আমাদেরকে আমাদের ইসলামী সুন্দর চরিত্র ও উত্তম আদর্শ গ্রহণ করার অসীয়ত করেছেন। একজন আমেরিকান নারী আমাদেরকে অবাধ মেলামেশা ও স্বেচ্ছাচারিতার ভয়াবহ পরিণাম থেকে সতর্ক করছেন, যা আমেরিকা ও ইউরোপের সামাজিক অবস্থাকে ভেঙ্গে চুড়ে খানখান করেছে।
পরিশেষে হে মুসলিম নারী! শুভ সংবাদ গ্রহণ করুন। আপনি আপনার পর্দায় তৃপ্ত হয়ে চক্ষুশীতল করুন এবং জেনে রাখুন ভবিষ্যৎ শান্তি তো এ জীবন বিধানের জন্যই, আর শেষ পরিণাম তো মুত্তাকীদের জন্যই, যদিও তা অপছন্দকারীরা অপছন্দ করে।
وصلى الله على نبينا محمد وعلى آله وصحبه وسلم।
📄 শর‘ঈ পর্দা
প্রশ্নঃ শর'ঈ পর্দা কী?
উত্তরঃ পর্দা হলো, মহিলাদের যা প্রকাশ করা হারাম তা আবৃত করা অর্থাৎ যা তাদের জন্য ঢাকা অপরিহার্য ও উত্তম তা আবৃত করা। সেগুলোর মধ্যে প্রধান হলো চেহারা-মুখমণ্ডল আবৃত করা; কেননা চেহারাই হলো ফিতনার ও আকাঙ্খার মূল স্থান। সুতরাং যে সমস্ত পুরুষ মহিলাদের জন্য মাহরাম (চিরস্থায়ীভাবে হারামকৃত) নয় তাদের থেকে চেহারা আবৃত করা অপরিহার্য। পক্ষান্তরে অনেকে ধারণা করে যে, প্রকৃতপক্ষে মহিলাদের শর'ঈ পর্দা হলো: মাথা, ঘাড়, সিনা, পা, গোছা ও হাত আবৃত করা কিন্তু চেহারা ও হাতের পাঞ্জা খোলা রাখা বৈধ। এটি অতি আশ্চর্য কথা, কেননা সর্বজনবিদিত যে, আকাঙ্খা-কামনা ও ফিতনার অঙ্গই হলো চেহারা।
অতএব, কীভাবে তা বলা সম্ভব যে শরী'আত মহিলাদের পা বের করতে নিষেধ করে আর তাদেরকে চেহারা প্রদর্শনের বৈধতা দেয়? এই পাক-পবিত্র পরিপূর্ণ মহান শরী'আতে স্ববিরোধী নীতি প্রকাশ পাওয়া অসম্ভব। প্রত্যেক ব্যক্তি অবগত রয়েছে যে, পা খোলা রাখার চেয়ে চেহারা খোলার মধ্যে রয়েছে ফিতনা অনেক গুণ বেশি। প্রত্যেক ব্যক্তি এটাও অবগত রয়েছে যে, মহিলাদের ক্ষেত্রে পুরুষদের আকাঙ্খা ও আগ্রহের অংগই হলো চেহারা। আর এজন্যই যদি বিবাহের প্রস্তাবদানকারীকে বলা হয় যে, তুমি যে মহিলাকে প্রস্তাব দিয়েছ সে কুৎসিত চেহারার কিন্তু তার পা খুব সুন্দর, তবে সে তার প্রস্তাবে আর অগ্রসর হবে না। তবে যদি তাকে বলা হয় সে অত্যন্ত সুন্দর চেহারার কিন্তু তার দু' হাত বা দুই পাঞ্জা বা দুই পা বা দুই গোছা সুন্দর নয়, তবুও সে তার দিকে অগ্রসর হবে।
সুতরাং এ থেকে বুঝা গেল যে, যা কিছু পর্দার অন্তর্ভুক্ত করা অপরিহার্য তার মধ্যে চেহারাই হলো অগ্রাধিকার প্রাপ্ত। এ ছাড়াও এ ক্ষেত্রে কুরআন ও রাসূলের সুন্নাহ, সাহাবীদের বাণী, ইমামগণ ও আলিমদের বাণী থেকে বহু দলীল রয়েছে যা প্রমাণ করে যে মহিলাদের যারা 'মাহরাম' (যাদের সাথে বিবাহ চিরতরে হারাম নয়) নয় তাদের থেকে পর্দা করা অপরিহার্য।
— শাইখ ইবন উসাইমীন
📄 যারা শর‘ঈ পর্দা অবলম্বন করে এবং চেহারা আবৃত করে তাদের প্রতি ঠাট্টা-বিদ্রূপের বিধান
প্রশ্নঃ যে ব্যক্তি শর'ঈ পর্দা অবলম্বনকারী এবং চেহারা ও হাতের পাঞ্জা আবৃতকারী মহিলাকে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করে তার বিধান কী?
উত্তরঃ যে ব্যক্তি কোনো মুসলিম নারী বা পুরুষকে ইসলামী শরী'আত আঁকড়ে ধরার কারণে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করে সে কাফির। চাই তা শর'ঈ পর্দা অবলম্বন করার ক্ষেত্রে হোক বা অন্য কোনো ক্ষেত্রে। কেননা আব্দুল্লাহ ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বর্ণনা করেন, তাবুক যুদ্ধে এক মজলিশে এক ব্যক্তি বলে: আমাদের এ সমস্ত ক্বারীদের মতো পেটুক, অধিক মিথ্যাবাদী ও যুদ্ধে অধিক ভিরু দেখি নি, অতঃপর এক ব্যক্তি বলে: তুমি মিথ্যা বলেছ বরং তুমি একজন মুনাফিক, আমি অবশ্যই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জানিয়ে দিব, অতঃপর সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জানিয়ে দেয়, তারপর কুরআন অবতীর্ণ হয়। এরপর আব্দুল্লাহ ইবন উমার বলেন, আমি তাকে পাথরে ভর করে রাসূলুল্লাহর উটের বেল্টের সাথে ঝুলা অবস্থায় বলতে দেখি: হে আল্লাহর রাসূল, আমরা শুধু খেল-তামশায় ও ঠাট্টা-বিদ্রূপে প্রবৃত্ত হয়েছিলাম আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর বাণী পড়ছিলেন:
﴿قُلْ أَبِاللَّهِ وَعَايَتِهِ وَرَسُولِهِ كُنتُمْ تَسْتَهْزِءُونَ * لَا تَعْتَذِرُوا قَدْ كَفَرْتُم بَعْدَ إِيمَانِكُمْ إِن نَّعْفُ عَن طَائِفَةٍ مِّنكُمْ نُعَذِّبْ طَائِفَةٌ بِأَنَّهُمْ كَانُوا مُجْرِمِينَ ﴾ [التوبة: ٦٥، ٦٦]
"তুমি বলে দাও তবে কি তোমরা আল্লাহ, তাঁর আয়াতসমূহ এবং রাসূলের প্রতি ঠাট্টা-বিদ্রূপ করেছিলে? তোমরা আর ওজর পেশ করো না তোমরা তো ঈমান আনার পর কুফুরী করেছো, যদিও আমি তোমাদের মধ্য হতে কতককে ক্ষমা করে দেই কতককে শাস্তি দিবই, কারণ তারা অপরাধী।" [সূরা আত-তাওবাহ, আয়াত: ৬৫-৬৬]
সুতরাং তাদের দ্বারা মুমিনদের সাথে ঠাট্টা-বিদ্রূপকে আল্লাহ ও তাঁর আয়াতসমূহ ও রাসূলের সাথে ঠাট্টা-বিদ্রূপ ধরা হয়েছে। আর আল্লাহই হচ্ছেন তাওফীক দাতা। (ফাতাওয়া স্থায়ী কমিটি, সাউদী আরব)।
এ গ্রন্থে লেখক কুরআন ও সুন্নাহ থেকে বিভিন্ন দলীল পেশ করে পর্দার বিধান বাধ্যতামূলক হওয়া সাব্যস্ত করেছেন। গ্রন্থের শেষে পর্দা ও শর’ঈ পোশাক নিয়ে যারা ঠাট্টা-বিদ্রূপ করে তাদের বিধান বর্ণনা করা হয়েছে।