📘 পর্দা একটি ইবাদত 📄 পর্দা বিরোধীদের প্রতিবাদ

📄 পর্দা বিরোধীদের প্রতিবাদ


হ্যাঁ, পর্দার বিরুদ্ধে অভিযোগকারী ও বিরোধীদের অভিযোগ সম্পর্কে বলতে থাকুন, এতে কোনো দোষ নেই . . . . . . . . . তারা অবশ্য মিথ্যারোপ করে, আর তারা নিজেরাও অবগত যে তারা অবশ্যই মিথ্যাবাদী . .। তারা বলে: এই মর্যাদার (পর্দার) দিকে আহ্বানকারীগণ নারীদেরকে শুধু দৈহিক দৃষ্টিকোণে প্রত্যক্ষ করে থাকে; পক্ষান্তরে নারীদেরকে যদি স্বাধীনতা দেওয়া যায় অর্থাৎ তারা যা খুশি তা পরিধান করবে, তবে দেখা যাবে তাদের প্রতি আর উক্ত দৃষ্টিবোধ থাকবে না এবং অচিরেই নারী- পুরুষের মধ্যে পর্যায়ক্রমে পারস্পরিক মর্যাদাবোধের ভিত্তি গড়ে উঠবে।

বাস্তবে বিনাতর্কেই বলা যায় যে, এটি একটি মিথ্যা দাবী ও ভ্রান্ত কথা। কেননা এর মিথ্যা ও ভ্রান্ততার পিছনে প্রমাণ হলো, বর্তমানে যে সমাজের মহিলারা যা খুশী তা পরিধান করে এবং যার সাথে ইচ্ছা তার সাথে চলাফেরা করার ফলে যা কিছু ঘটে চলেছে......এর ফলে এ সমস্ত সমাজের যৌনকামনা-বাসনা কি হ্রাস পেয়েছে? নারী-পুরুষের পারস্পরিক ব্যবহার এ সমাজে ক্রমান্বয়ে কি মর্যাদার ভিত্তিতে হয়ে চলেছে? এ ক্ষেত্রে নিম্নের পরিসংখ্যানের প্রতি লক্ষ্য করা অপরিহার্য।

📘 পর্দা একটি ইবাদত 📄 কতিপয় অমুসলিম দেশে নারী নির্যাতনের একটি পরিসংখ্যান

📄 কতিপয় অমুসলিম দেশে নারী নির্যাতনের একটি পরিসংখ্যান


১। এক পরিসংখ্যানে প্রকাশ, যুক্তরাষ্ট্রে (১৯০০০০০০) এক কোটি নব্বই লক্ষ মহিলা ধর্ষণের শিকার। (সূত্র: "আজ আমেরিকা বাস্তবতাকে স্বীকার করেছে" নামক গ্রন্থ)
২। ইতালীর মানসিক চিকিৎসা ফেডারেশন এক জরিপ প্রকাশ করে তাতে স্বীকার করেছে যে, ৭০% ইতালিয়ান পুরুষ স্বীয় স্ত্রীদের অধিকার খর্ব করে চলেছে। (অর্থাৎ তারা অন্যত্র গমন করে থাকে) (মুসলিমের ধ্যান-ধারণা)
৩। আমেরিকায় প্রতি বছর ১ মিলিয়ন (দশলক্ষ) অবৈধ সন্তান ভুমিষ্ট হয় এবং ১ মিলিয়ন অকালে গর্ভপাত করানো হয়। (মানদণ্ডে নারীর কর্মকাণ্ড)
৪। কর্ণেল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক জনমত জরিপে প্রকাশ, ৭০% নগর সেবিকা যৌন নির্যাতনের শিকার হয় এবং তাদের মধ্যে ৫৬% ভয়াবহ দৈহিক নির্যাতনের শিকার। (পতনের পর নারীর কি অবস্থা।)
৫। শুধুমাত্র জার্মানিতে বছরে ৩৫০০০ (পঁয়ত্রিশ হাজার) নারী ধর্ষনের শিকার হয়। আর এ সংখ্যা হলো শুধু পুলিশের নিকট যা রেজিস্ট্রিকৃত। পক্ষান্তরে ধর্ষনের যে সব ঘটনা রেজিষ্ট্রি হয় না তার সংখ্যা ফৌজদারী পুলিশের মতে উক্ত সংখ্যার পাঁচগুণ হবে। (হাওয়ার প্রতি একটি পত্র)

উক্ত জরিপ ও উক্ত পরিসংখ্যান কি ঐ লোকদের শ্লোগান ও দাবীর ভ্রান্ততা প্রমাণ করে না? (অর্থাৎ যারা বলে থাকে যে নারীকে যদি অবাধ মেলা-মেশার সুযোগ দেওয়া হতো তবে নারীর প্রতি শ্রদ্ধাবোধ বাড়ত ও নারীর প্রতি নিপীড়ন কমে যেতো) নাকি উক্ত জরিপ ও পরিসংখ্যান নারী-পুরুষের পরস্পরের প্রতি তারা যা কামনা করে সে ধরণের মর্যাদাবোধের একটি অংশ?!!!!

📘 পর্দা একটি ইবাদত 📄 অন্তদৃষ্টি সম্পন্ন ব্যক্তিগণ শিক্ষা গ্রহণ করুন

📄 অন্তদৃষ্টি সম্পন্ন ব্যক্তিগণ শিক্ষা গ্রহণ করুন


পর্দা নারীর ইজ্জত-সম্মান ও লজ্জা সম্ভ্রম সংরক্ষণের সব চেয়ে বড় উপায়। পর্দা নারীকে অশ্লীল, কদর্য ও কুদৃষ্টি থেকে বাঁচিয়ে রাখে। যারা বেপর্দা ও নগ্ন স্বাধীনতার তিক্ততার আস্বাদ গ্রহণ করেছে এবং যারা অশ্লীলতা ও অবাধ মেলামেশার আগুনে দগ্ধ হয়েছে তারা এর স্বীকৃতি দেয়।

ইসলামের শত্রুরাও কতইনা সত্য সাক্ষ্য দেয়: "হীলসীয়ান স্তাসমারী" নামক আমেরিকার একজন মহিলা সাংবাদিক আরব দেশসমূহের কোনো এক রাজধানীতে কয়েক সপ্তাহ অতিবাহিত করে স্বীয় দেশে ফিরে গিয়ে বলেন, “নিশ্চয় আরব সমাজ ব্যবস্থা একটি পুর্ণাঙ্গ ও নিরাপদ সমাজ ব্যবস্থা। এ উপযুক্ত সমাজের রীতি-নীতি একান্তভাবে গ্রহণ করা উচিৎ, কেননা এই যুক্তিসংগত প্রথা যুবক-যুবতীদেরকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত করে। এ সমাজ ইউরোপীয় ও আমেরিকার সমাজ ব্যবস্থা থেকে ভিন্নতর। তোমাদের নিকট উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত যে চরিত্র রয়েছে তা নারীর সীমাবদ্ধতাকে বাধ্যতামূলক করে, পিতা-মাতার সম্মান করা ও এ ধরনের বহু বিষয়কে আবশ্যক করে এবং পাশ্চাত্যের সেই স্বেচ্ছাচারিতাকে বর্জন করে, যা বর্তমানে ইউরোপ ও আমেরিকার সমাজ ও পরিবারকে বিনাশ করে ফেলেছে। সুতরাং অবাধ মেলামেশা থেকে বিরত থাকুন, নারী স্বাধীনতাকে সীমাবদ্ধ করুন, ফিরে আসুন পর্দার যুগে; কেননা আমেরিকান ও ইউরোপিয়ান স্বেচ্ছাচারিতা, অশ্লীলতা ও অবাধ্যতার চেয়ে তা কল্যাণকর।” (“নারী ও শত্রু চক্রান্ত” নামক প্রবন্ধ থেকে গৃহীত।)

অতএব, হে মুসলিম নারীবৃন্দ! লক্ষ্য করুন! ইনি একজন আমেরিকান মহিলা তিনি তার সমাজের পরিবারসমূহে চারিত্রিক অবক্ষয় লক্ষ্য করে পর্দার প্রতি আহ্বান করেছেন। একজন আমেরিকান মহিলা আমাদেরকে আমাদের ইসলামী সুন্দর চরিত্র ও উত্তম আদর্শ গ্রহণ করার অসীয়ত করেছেন। একজন আমেরিকান নারী আমাদেরকে অবাধ মেলামেশা ও স্বেচ্ছাচারিতার ভয়াবহ পরিণাম থেকে সতর্ক করছেন, যা আমেরিকা ও ইউরোপের সামাজিক অবস্থাকে ভেঙ্গে চুড়ে খানখান করেছে।

পরিশেষে হে মুসলিম নারী! শুভ সংবাদ গ্রহণ করুন। আপনি আপনার পর্দায় তৃপ্ত হয়ে চক্ষুশীতল করুন এবং জেনে রাখুন ভবিষ্যৎ শান্তি তো এ জীবন বিধানের জন্যই, আর শেষ পরিণাম তো মুত্তাকীদের জন্যই, যদিও তা অপছন্দকারীরা অপছন্দ করে।

وصلى الله على نبينا محمد وعلى آله وصحبه وسلم।

📘 পর্দা একটি ইবাদত 📄 শর‘ঈ পর্দা

📄 শর‘ঈ পর্দা


প্রশ্নঃ শর'ঈ পর্দা কী?

উত্তরঃ পর্দা হলো, মহিলাদের যা প্রকাশ করা হারাম তা আবৃত করা অর্থাৎ যা তাদের জন্য ঢাকা অপরিহার্য ও উত্তম তা আবৃত করা। সেগুলোর মধ্যে প্রধান হলো চেহারা-মুখমণ্ডল আবৃত করা; কেননা চেহারাই হলো ফিতনার ও আকাঙ্খার মূল স্থান। সুতরাং যে সমস্ত পুরুষ মহিলাদের জন্য মাহরাম (চিরস্থায়ীভাবে হারামকৃত) নয় তাদের থেকে চেহারা আবৃত করা অপরিহার্য। পক্ষান্তরে অনেকে ধারণা করে যে, প্রকৃতপক্ষে মহিলাদের শর'ঈ পর্দা হলো: মাথা, ঘাড়, সিনা, পা, গোছা ও হাত আবৃত করা কিন্তু চেহারা ও হাতের পাঞ্জা খোলা রাখা বৈধ। এটি অতি আশ্চর্য কথা, কেননা সর্বজনবিদিত যে, আকাঙ্খা-কামনা ও ফিতনার অঙ্গই হলো চেহারা।

অতএব, কীভাবে তা বলা সম্ভব যে শরী'আত মহিলাদের পা বের করতে নিষেধ করে আর তাদেরকে চেহারা প্রদর্শনের বৈধতা দেয়? এই পাক-পবিত্র পরিপূর্ণ মহান শরী'আতে স্ববিরোধী নীতি প্রকাশ পাওয়া অসম্ভব। প্রত্যেক ব্যক্তি অবগত রয়েছে যে, পা খোলা রাখার চেয়ে চেহারা খোলার মধ্যে রয়েছে ফিতনা অনেক গুণ বেশি। প্রত্যেক ব্যক্তি এটাও অবগত রয়েছে যে, মহিলাদের ক্ষেত্রে পুরুষদের আকাঙ্খা ও আগ্রহের অংগই হলো চেহারা। আর এজন্যই যদি বিবাহের প্রস্তাবদানকারীকে বলা হয় যে, তুমি যে মহিলাকে প্রস্তাব দিয়েছ সে কুৎসিত চেহারার কিন্তু তার পা খুব সুন্দর, তবে সে তার প্রস্তাবে আর অগ্রসর হবে না। তবে যদি তাকে বলা হয় সে অত্যন্ত সুন্দর চেহারার কিন্তু তার দু' হাত বা দুই পাঞ্জা বা দুই পা বা দুই গোছা সুন্দর নয়, তবুও সে তার দিকে অগ্রসর হবে।

সুতরাং এ থেকে বুঝা গেল যে, যা কিছু পর্দার অন্তর্ভুক্ত করা অপরিহার্য তার মধ্যে চেহারাই হলো অগ্রাধিকার প্রাপ্ত। এ ছাড়াও এ ক্ষেত্রে কুরআন ও রাসূলের সুন্নাহ, সাহাবীদের বাণী, ইমামগণ ও আলিমদের বাণী থেকে বহু দলীল রয়েছে যা প্রমাণ করে যে মহিলাদের যারা 'মাহরাম' (যাদের সাথে বিবাহ চিরতরে হারাম নয়) নয় তাদের থেকে পর্দা করা অপরিহার্য।

— শাইখ ইবন উসাইমীন

ফন্ট সাইজ
15px
17px