📘 পর্দা একটি ইবাদত 📄 অজ্ঞতা না এক গুঁয়েমি?

📄 অজ্ঞতা না এক গুঁয়েমি?


ওহে যারা ধারণা করে যে, বর্তমান যুগে পর্দা করা মুসলিম নারীদের জন্য উপযোগী নয়, তারা শ্রবণ করুন! ওহে যারা দাবী করেন যে, চেহারা আবৃত করা হলো উসমানী যুগের অভ্যাসের অন্তর্ভুক্ত। ওহে যারা নারীদেরকে তাদের গৃহ থেকে বের করে সর্বক্ষেত্রে পুরুষদের সাথে অবাধ মিশ্রণ ঘটাতে চান।

উল্লিখিত আয়াতসমূহ আপনার সামনে। অতএব, সেগুলো পড়ুন। উল্লিখিত হাদীসসমূহ আপনার সামনে। সেগুলো গবেষণা করুন। আর যে সমস্ত পূর্বাপর ইসলামী মনিষীদের মতামত অতিবাহিত হলো তা পর্দা ও চেহারা আবৃত করারই প্রমাণ বহন করে, সেগুলোও বুঝুন। সুতরাং আপনারা যদি ইতোপূর্বে এ সমস্ত আয়াত ও হাদীস সম্পর্কে অবহিত না হয়ে থাকেন, তবে এখন এসব আপনাদের সন্মুখে। আপনারা ভ্রান্তিতে অব্যাহত না থেকে মহাসত্যের দিকে ফিরে আসুন, আমরা সে অপেক্ষায় রয়েছি। কেননা সত্যের পথে প্রত্যাবর্তন হলো শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদা এবং ভ্রান্তি ও বাতিলে অব্যাহত থাকা হলো নিকৃষ্ট ও জঘন্যতম অসম্মান。

পক্ষান্তরে আপনারা যদি মহান আল্লাহর বাণী: وَجَحَدُوا بِهَا وَاسْتَيْقَنَتْهَا أَنفُسُهُمْ ظُلْمًا وَعُلُوًّا ﴾ [النمل: ١٤]

"তারা অন্যায় ও উদ্ধতভাবে নিদর্শনগুলো প্রত্যাখ্যান করলো যদিও তাদের অন্তর এগুলোকে সত্য বলে গ্রহণ করেছিল।” [সূরা আন-নামল, আয়াত: ১৪]-এর মধ্যে যে শ্রেণির গুণ বর্ণিত হয়েছে, তার অন্তর্ভুক্ত হন তবে অবশ্যই আপনারা কখনও সত্য গ্রহণ করতে পারবেন না। অবশ্যই সঠিক মতে পৌঁছতে পারবেন না যদিও আপনাদের নিকট উপস্থাপন করি হাজারো আয়াত ও হাদীস। কেননা ইসলামে যে সার্বিক জীবনের আদর্শ রয়েছে এবং কুরআন যে সর্বকালের ও সর্বস্থানের জন্য আদর্শ তা আপনারা প্রকৃতভাবে বিশ্বাস করেন না। আল্লাহ তা'আলা বলেন,

﴿أَفَحُكْمَ الْجَاهِلِيَّةِ يَبْغُونَ وَمَنْ أَحْسَنُ مِنَ اللَّهِ حُكْمًا لِقَوْمٍ يُوقِنُونَ ﴾ [المائدة: ٥٠]

"তবে কি তারা জাহেলিয়াত-বর্বরতার বিচার-মীমাংসা কামনা করে? আর দৃঢ় বিশ্বাসীদের কাছে বিচার-মীমাংসা কার্যে আল্লাহর চেয়ে কে উত্তম হবে?” [সূরা আল-মায়েদাহ, আয়াত: ৫০]

📘 পর্দা একটি ইবাদত 📄 পর্দা ও সভ্যতা

📄 পর্দা ও সভ্যতা


সভ্যতার দাবীদারগণ পর্দাকে অবনতির কারণ ও মহিলাদের উদ্ভাবন ও উন্নতির প্রতিবন্ধক মনে করে এবং তাদের মতে, পর্দা এমন মারাত্মক প্রতিবন্ধক যা মহিলাদের জন্য সভ্যতা ও সংস্কৃতিতে বড় বাধা এবং তা উন্নয়নশীল দেশগুলো সভ্যতার যে অগ্রগতিতে পৌঁছেছে সে অগ্রগতিরও বড় বাধা।

ঐ সমস্ত ব্যক্তিকে আমরা বলব: আধুনিক সভ্যতা ও সংস্কৃতির উন্নয়ন ও প্রযুক্তির সাথে পর্দার কি সম্পর্ক রয়েছে? তবে কি উন্নয়ন, সভ্যতা ও সংস্কৃতির জন্য নারীদেরকে স্বীয় পোষাক বর্জন করে পুরুষদের সামনে উলঙ্গ হওয়া শর্ত? তবে কি উন্নয়ন ও সভ্যতা- সংস্কৃতির জন্য নারীদেরকে পুরুষদের সাথে তার পাশবিক সম্ভোগ ও পশুত্বের প্রবৃত্তি নিবৃত্ত করার জন্য অংশগ্রহণ শর্ত? আধুনিকতা ও সভ্যতা ও সংস্কৃতির জন্য কি এটা শর্ত যে, নারীর শুধু বাহ্যিকভাবে দেহ থাকবে, থাকবে না তার আত্মিক সম্ভ্রম, আর না থাকবে তার আত্মমর্যাদা?

পর্দা কি আমাদের গাড়ী, উড়োজাহাজ, ট্যাংক এবং সব ধরণের বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি আবিষ্কারের অপারগতার কারণ? ইতোপূর্বেই অধিকাংশ আরব ইসলামী দেশগুলোর মহিলারা পর্দা বর্জন করে নগ্নতা গ্রহণ করেছে, পর্দাকে পৃষ্ঠপ্রদর্শন করতঃ পদদলিত করে পুরুষদের সাথে কর্মের জন্য বেরিয়ে পড়েছে এবং তাদের সাথে অধিকাংশ কর্মক্ষেত্রে তারা জড়িয়ে গেছে। কিন্তু সেসব দেশের নারীদের পর্দা থেকে নগ্নতা গ্রহণের ফলে কি তারা উন্নতি করে ফেলেছে? তারা কি নারী- পুরুষের সংমিশ্রনের কারণে সভ্যতা, সংস্কৃতি ও উন্নতির উচ্চশক্তি ও উন্নতির উচ্চশিখরে আরোহণ করেছে? উন্নয়নশীল দেশসমূহ যে শক্তি ও উন্নতিতে পৌঁছেছে তারা কি সে অবস্থানে পৌঁছতে পেরেছে? যাদের নিরাপত্তা পরিষদে ভেটোর অধিকার রয়েছে, সেই বৃহৎ পরাশক্তিধর দেশসমূহের অন্তর্ভুক্ত কি তারা হতে পেরেছে? তারা কি অর্থনৈতিক, শিক্ষামূলক, সামাজিক ও চারিত্রিক সমস্যাবলী থেকে মুক্তি পেয়েছে? সবগুলোর উত্তর স্পষ্ট, ব্যাখ্যার প্রয়োজন নেই। সুতরাং হে সভ্যতা ও সংস্কৃতির আহ্বানকারীগণ! আপনারা বেপর্দা, নগ্নতা ও সহাবস্থানের দিকে আহ্বান করেন কেন?

📘 পর্দা একটি ইবাদত 📄 শিক্ষার জন্য, নগ্নতা প্রদর্শনের জন্য নয়

📄 শিক্ষার জন্য, নগ্নতা প্রদর্শনের জন্য নয়


প্রিয় পাঠক! আল্লাহর শত প্রশংসা, সাউদী আরবে মহিলারা আজ শিক্ষা-দিক্ষার সর্বোচ্চ স্থান দখল করেছে, অর্জন করে চলেছে সর্বোচ্চ ডিগ্রি। নারীরা তাদের উপযোগী বহু ক্ষেত্রে কর্মে নিয়োজিত। যেমন, সেখানে তারা ডাক্তার, শিক্ষিকা, পরিচালিকা, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপিকা, তত্ত্বাবধায়ক ও গবেষক। আর প্রত্যেকে তারা জাতির উন্নতি ও জাতির নব প্রজন্ম গঠনের লক্ষে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। তাদের পর্দা, লজ্জা ও সংযমশীলতা তো সেগুলো থেকে তাদেরকে বিরত রাখে না?

সৌদী আরবের মুসলিম মহিলারা প্রমাণ করেছে যে, অন্যান্য দেশের মহিলাদের মত নিজেদের প্রদর্শন, উপস্থাপন, বেপর্দা, পরপুরুষদের সাথে সংমিশ্রণ ও নিজেদেরকে বিলিয়ে না দিয়ে নিজেদের সমাজ ও জাতির সেবা করা যায়। এই বাস্তবতার প্রতিফলনের মাধ্যমে মহিলারা এ দেশে সমাধিকার, অবাধ মেলামেশার ও অবাধ সৌন্দর্য প্রদর্শনের দাবীদারদের দাবীর ভ্রান্ততা প্রমাণ করে, যেমন উক্ত দাবীদারদের দাবী হলো: "আমাদের দেশের নারী সমাজ একটি আবদ্ধ শক্তি, এদের পর্দা উন্মোচন এবং তাদেরকে পুরুষদের কর্মস্থলে অবাধ বিচরণের সুযোগ না দেওয়া পর্যন্ত এদের দ্বারা উপকৃত হওয়া সম্ভব নয়।"

এদের সম্পর্কে মহান আল্লাহর মহাসত্য বাণী:
﴿ كَبُرَتْ كَلِمَةً تَخْرُجُ مِنْ أَفْوَاهِهِمْ إِن يَقُولُونَ إِلَّا كَذِبًا ﴾ [الكهف: ৫]
“তাদের মুখনিসৃত কথা নিকৃষ্ট কথা, তারা তো শুধু মিথ্যাই বলে।” [সূরা আল-কাহাফ, আয়াত: ৫]

📘 পর্দা একটি ইবাদত 📄 তারা আসলে চায় কী?

📄 তারা আসলে চায় কী?


তারা প্রকৃতপক্ষে এর মাধ্যমে সভ্যতা-সংস্কৃতি, উন্নতি ও অগ্রগতি চায় না। তারা চায় মহিলারা যেন তাদের সাহচর্যে বা নিকটে হোক, চায় তারা যেন তাদের কু-প্রবৃত্তি নিবৃত্তির জন্য উন্মুক্ত ভোগের বস্তুতে পরিণত হোক। চায় পৈশাচিক যৌনাচারের লক্ষ্যে উন্মুক্ত সামগ্রী হিসেবে পেতে, যখন ইচ্ছা তখন তাদের সাথে খেল-তামাশায় লিপ্ত থাকতে। তাদের দ্বারা অপকর্মের ব্যবসা চালাতে, চায় তারা এমন মহিলা যার থাকবে না কোনো লজ্জা, থাকবে না কোনো নিস্কলুষতাবোধ, যারা হবে পশ্চাত্যের চিন্তা-চেতনা ও লক্ষ্য-উদ্দেশ্যের বাস্তব রূপকার। তারা হবে নৃত্য-নাচে সার্বিক পারদর্শী, অভিনয় ও নাচে গানে পারদর্শী এবং চায় যে তারা হবে চিন্তা-চেতনা, আদর্শ-বিশ্বাস, চরিত্র ও মর্যাদাবোধে স্বাধীন। যা ইচ্ছা তা করে বেড়াবে।

ফন্ট সাইজ
15px
17px