📘 পর্দা একটি ইবাদত 📄 দু’টি কথা

📄 দু’টি কথা


الحمد لله رب العالمين والصلاة والسلام على رسوله وعلى آله وصحبه ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين..

সম্মানিত পাঠক/পাঠিকা! নারীদের জন্য পর্দা পালন যে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত এবং আল্লাহ কর্তৃক ফরযকৃত, পুস্তিকাটিতে সংক্ষেপে সুন্দরভাবে তুলে ধরা হয়েছে। বিশেষ করে যারা পর্দা সম্পর্কে পুরোপুরি বা আংশিক বিরূপ মনোভাব রাখে তাদের জন্য এটি একটি দাঁতভাঙ্গা জবাব। সমাজে পর্দা সম্পর্কিত বিভিন্ন মনোভাবের লোক বিদ্যমান, যার মধ্যে এক শ্রেণি হলো, তাদের অজ্ঞতা বা ভুল বুঝার কারণে তারা ধারণা করে যে, নারীদের পর্দা হলো যখন তারা বাড়ী থেকে শহর-নগরের দিকে বের হবে তখন তারা অপরিচিত ব্যক্তিদের থেকে পর্দা করবে। পক্ষান্তরে পরিচিত ও আত্মীয় স্বজন বলতে যা বুঝায় তাদের কারো থেকে পর্দা করার প্রয়োজন নেই এবং তারা এ ধারণাও পোষণ করে থাকে যে, নারীদের চাচা শ্বশুর, মামা শ্বশুর, খালু শ্বশুর, ভাশুর (স্বামীর বড় ভাই) প্রমুখের সাথে কি কোনো খারাপ ধারণার অবকাশ রয়েছে বা তাদের ক্ষেত্রে কি কোনো ফিতনার আশঙ্কা রয়েছে যে তাদের থেকে পর্দা করতে হবে? এ ছাড়া সমাজে দৃষ্টি গোচর হয় যে, নারীদের মধ্যে যারা বয়োজেষ্ঠা ও বয়োবৃদ্ধা তারাই পর্দা অবলম্বন করেন ও তারাই এর প্রতি শুধু গুরুত্ব দিয়ে থাকেন।

সম্মানিত পাঠক! তবে কি এগুলোই প্রকৃত ইসলামী পর্দা এবং এটাই কি ইসলামী শরী'আতে পর্দার দাবী? এর উত্তর অনেকের নিকট স্পষ্ট, সূরা আন-নূরের ৩১নং আয়াতে যে সব পুরুষ থেকে পর্দা অপরিহার্য নয়, তার বর্ণনা আল্লাহ দিয়েছেন। এসব ব্যতীত অন্যান্য সকল আত্মীয় ও অপরিচিত পুরুষদের সাথে পর্দা অপরিহার্য। যাদের সাথে চিরতরে বিবাহ হারাম নয় বরং ক্ষণস্থায়ী হারাম। যেমন, ভগ্নিপতি, খালু, ফুপা ও যাদের সাথে বিবাহ বৈধ। যেমন, চাচাত ভাই মামাত ভাই, খালাত ভাই, ফুপাত ভাই, বোনের দেবর ও ভাবীর ভাই প্রভৃতি আত্মীয় স্বজন থেকেও বাড়ীর অভ্যন্তরে ও বাইরে পর্দা অপরিহার্য।

মোটকথা, শরী'আত যাদের সাথে চিরতরে বিবাহ হারাম করেছে তারা ব্যতীত সবার সাথে প্রাপ্ত বয়স্কা মহিলার সকল স্থানে সব সময় পর্দা করতে হবে। বিশেষ করে সাবালিকা হওয়ার পর থেকে, বিবাহের উপযুক্ততা থাকা অবধি পর্দার যথাযথ গুরুত্ব দিতে হবে। পর্দার বিধান প্রয়োগের ক্ষেত্রে আমাদেরকে এ ধরণের চিন্তা করলে চলবে না যে, অমুকের সাথে তো আর খারাপ ধারণা বা ফিতনার আশঙ্কা করা যায় না অতএব তার সাথে পর্দা জরুরি নয়। কারণ, এই পর্দার বিধান অবতীর্ণ হয়েছিল সরাসরি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রী, মুসলিমদের জননী ও জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত ব্যক্তিবর্গসহ সাহাবীদের প্রতি। তবে কি (নাউযুবিল্লাহ) তাদের মধ্যে খারাপি ও ফিতনার আশঙ্কা ছিল? মূলকথা পর্দা করা হলো আল্লাহ ও তাঁর রাসূল নির্ধারিত ফরয, তাই তা পালন করা ইবাদত, অস্বীকার করা কুফুরী ও বেপর্দা হওয়া হারাম। আর পর্দা পালনে নারী পুরুষ উভয়ে একান্তভাবে আন্তরিক হলেই এ ইবাদত বাস্তবায়ন সম্ভব। আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকে পর্দার গুরুত্ব বুঝার এবং তা পালন করার তাওফীক দিন। তাঁর নিকট আরো প্রার্থনা যে, তিনি যেন পুস্তিকাটির সংকলক, অনুবাদক, প্রকাশক ও সংশ্লিষ্ট সবার জন্য এটিকে পরকালে সাদকা জারিয়া হিসেবে নেকির পাল্লায় গ্রহণ করেন। আমীন।

وصلى الله على نبينا محمد وعلى آله وصحبه ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين

মুহাম্মাদ আব্দুর রব আফফান
তারিখ, মুহাররাম, ১৪২৪ হি.

📘 পর্দা একটি ইবাদত 📄 পর্দা একটি ইবাদত

📄 পর্দা একটি ইবাদত


পর্দা শ্রেষ্ঠ ইবাদত ও গুরুত্বপূর্ণ ফরযসমূহের অন্তর্ভুক্ত। কেননা আল্লাহ তা'আলা তাঁর কিতাবে সৌন্দর্য প্রদর্শনকে নিষেধ করে পর্দার আদেশ দেন, তেমনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর হাদীসে বেপর্দার নিষেধাজ্ঞা জারি করে পর্দার আদেশ জারি করেন।

পর্দা ফরযের ব্যাপারে পূর্বের ও বর্তমানের আলিমগণ একমত। তাদের মধ্যে কেউ এর বিপক্ষে যান নি। সুতরাং পর্দা ইবাদতকে কোনো এক যুগের সাথে নির্ধারিত করতে হলে অবশ্যই তার জন্য দলীল-প্রমাণ প্রয়োজন কিন্তু এর দাবিদারদের নিকট এর কোনই দলীল নেই। অতএব আমরা বলব, বার বার বলব: পর্দা কোনো অভিনব বিষয় নয়। বরং তা পূর্বে ছিল এখনও থাকবে। কুরআন ও হাদীসে যদি পর্দার কোনো নির্দেশ ও এর আদর্শ ও সৌন্দর্য-বৈশিষ্টের ব্যাপারে কোনো শরী'আতের দলীল নাও থাকত তবুও পর্দা মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্বের মূর্ত প্রতীক হিসেবে নারী তা পালন ও সংরক্ষনের জন্য প্রশংসার দাবীদার হতো। যেহেতু পর্দার বিধান কুরআন, হাদীস ও ইজমার দ্বারা সুসাব্যস্ত তাই এর গুরুত্বও অপরিসীম।

📘 পর্দা একটি ইবাদত 📄 কুরআন ও হাদীস থেকে পর্দার দলীলসমূহ

📄 কুরআন ও হাদীস থেকে পর্দার দলীলসমূহ


নিম্নে বর্ণিত দীললসমূহ পর্দা ফরযের উজ্জল প্রমাণ এবং যারা মনে করে যে, পর্দা একটি উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত অভ্যাস বা ইসলামের প্রাথমিক যুগের জন্যই মানানসই ছিল, তাদের জন্য দাঁত ভাঙ্গা জবাব।

📘 পর্দা একটি ইবাদত 📄 কুরআন থেকে পর্দার দলীল

📄 কুরআন থেকে পর্দার দলীল


প্রথম দলীল: আল্লাহ তা'আলার বাণী:

﴿ وَقُل لِّلْمُؤْمِنَاتِ يَغْضُضْنَ مِنْ أَبْصَارِهِنَّ وَيَحْفَظْنَ فُرُوجَهُনَّ وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَلْيَضْرِبْنَ بِخُمُرِهِنَّ عَلَى جُيُوبِهِنَّ وَلَا يُবْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا لِبُعُولَتِهِنَّ أَوْ آبَابِهِنَّ أَوْ آبَاءِ بُعُولَتِهِنَّ أَوْ أَبْنَابِهِنَّ أَوْ أَبْنَاءِ بُعُولَتِهِنَّ أَوْ إِخْوَانِهِنَّ أَوْ بَنِي إِخْوَانِهِنَّ أَوْ بَنِي أَخَوَتِهِنَّ أَوْ نِسَآبِهِنَّ أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُنَّ أَوِ التَّابِعِينَ غَيْرِ أُوْلِي الْإِرْبَةِ مِنَ الرِّجَالِ أَوِ الطِّفْلِ الَّذِينَ لَمْ يَظْهَرُوا عَلَى عَوْرَاتِ النِّسَاءِ وَلَا يَضْرِبْنَ بِأَرْجُلِهِنَّ لِيُعْلَمَ مَا يُخْفِينَ مِن زِينَتِهِنَّ وَتُوبُوا إِلَى اللَّهِ جَمِيعًا أَيُّهَ الْمُؤْمِنُونَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ ﴾ [النور: ٣١]

“(হে নবী!) ঈমানদার নারীদেরকে বল: তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত করে ও তাদের লজ্জাস্থানের হিফাযত করে, তারা যেন যা সাধারণত; প্রকাশ থাকে তা ব্যতীত তাদের শোভা প্রদর্শন না করে, তাদের গলদেশ ও বক্ষদেশ যেন মাথার কাপড় দ্বারা আবৃত করে, তারা যেন তাদের স্বামী, পিতা (দাদা-নানাসহ), শ্বশুর (দাদা শ্বশুর- নানা শ্বশুরসহ), পুত্র (ও নাতি), স্বামীর পুত্র (নাতিসহ), ভাই (সহোদর ও সৎভাই), ভাতিজা, ভাগ্নে, আপন (মুসলিম) নারীগণ, তাদের মালিকানাধীন দাস- দাসী, এমন অধিনস্থ পুরুষ যাদের মধ্যে পৌরুষত্ব বিলুপ্ত এবং নারীদের গোপন অঙ্গ সম্বন্ধে অজ্ঞ বালক ব্যতীত কারো নিকট তাদের শোভা প্রকাশ না করে। তারা যেন সজোরে পদক্ষেপ না নেয় যাতে তাদের গোপন শোভা প্রকাশ পায়। হে মুমিনগণ! তোমরা সবাই আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন কর যাতে তোমরা সফলকাম হতে পারো। [সূরা আন-নূর, আয়াত: ৩১]

আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, আল্লাহ প্রথম পর্যায়ের হিজরতকারী মহিলাদের প্রতি অনুগ্রহ করুন: যখন আল্লাহ তা'আলা অবতীর্ণ করেন:

﴿وَلْيَضْرِبْنَ بِخُمُرِهِنَّ عَلَى جُيُوبِهِنَّ ﴾ [النور: ٣١]

“(তাদের গলদেশ ও বক্ষদেশ যেন মাথার কাপড় দ্বারা আবৃত করে) সাথে সাথে তারা স্বীয় চাদরসমূহ চিরে টুকরা করে তা দ্বারা আবৃত করেন।” (সহীহ বুখারী)

দ্বিতীয় দলীল: আল্লাহ তা'আলা বলেন,

﴿وَالْقَوَاعِدُ مِنَ النِّسَاءِ الَّتِي لَا يَرْجُونَ نِكَاحًا فَلَيْسَ عَلَيْهِنَّ جُنَاحٌ أَن يَضَعْنَ ثِيَابَهُنَّ غَيْرَ مُتَبَرِّجَاتٍ بِزِينَةٍ وَأَن يَسْتَعْفِفْنَ خَيْرٌ لَّهُنَّ وَاللَّهُ سَمِيعٌ عَلِيمٌ ﴾ [النور: ٦٠]

“আর এমন বৃদ্ধ নারীগণ যারা বিবাহের আশা রাখে না, তাদের জন্য দোষ নেই যদি তারা তাদের শোভা প্রদর্শন না করে তাদের (বাহ্যিক অতিরিক্ত চাদর উড়না) বস্ত্র খুলে রাখে, তবে সংযমী হয়ে বিরত থাকলে তা তাদের জন্য উত্তম। আল্লাহ সর্বশ্রোতা সর্বজ্ঞ।” [সূরা আন-নূর, আয়াত: ৬০]

তৃতীয় দলীল: আল্লাহ তা'আলা বলেন,

﴿يَٰٓأَيُّهَا ٱلنَّবিُّ قُل لِّأَزْوَٰجِكَ وَبَنَاتِكَ وَنِسَآءِ ٱلْمُؤْمِنِينَ يُدْنِينَ عَلَيْهِنَّ مِن جَلَٰبِيبِهِنَّ ذَٰلِكَ أَدْنَىٰٓ أَن يُعْرَفْنَ فَلَا يُؤْذَيْنَ ۗ وَكَانَ ٱللَّهُ غَفُورًا رَّحِيمًا﴾ [الاحزاب: ٥٩]

“হে নবী তুমি তোমার স্ত্রীগণকে, কন্যাগণকে ও মুমিনদের নারীগণকে বল, তারা যেন তাদের উড়না বা চাদরের কিছু অংশ নিজেদের (চেহারা ও বুকের) উপর টেনে দেয়, এতে তাদের চেনা সহজতর হবে, (বুঝা যাবে যে তারা স্বাধীন ও সম্ভ্রান্ত) ফলে তাদেরকে উত্যক্ত করা হবে না। আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।” [সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ৫৯]

চতুর্থ দলীল: আল্লাহ তা'আলা বলেন,

وَقَرْنَ فِي بُيُوتِكُنَّ وَلَا تَبَرَّجْنَ تَبَرُّجَ الْجَاهِلِيَّةِ الْأُولَى [الأحزاب: ٣٣]

“আর তোমরা স্বগৃহে অবস্থান করবে, প্রাচীন জাহেলী যুগের মতো তোমরা সৌন্দর্য প্রদর্শন করে বেড়াবে না।” [সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ৩৩]

পঞ্চম দলীল: আল্লাহ তা'আলা বলেন,

فَسْلُوهُنَّ مِن وَرَاءِ حِجَابٍ ذَلِكُمْ أَطْهَرُ لِقُلُوبِكُمْ وَقُلُوبِهِنَّ [الأحزاب: ٥٣]

“আর যখন তোমরা তাদের নিকট কিছু চাইবে পর্দার অন্তরাল থেকে চাইবে, এ বিধান তোমাদের ও তাদের হৃদয়ের জন্য অধিকতর পবিত্র।” [সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ৫৩]

ফন্ট সাইজ
15px
17px