📄 বিবাহিত ছেলে কর্তৃক তার স্ত্রী ও পিতামাতার মাঝে সমন্বয় করার ক্ষেত্রে ভূমিকা
বিবাহিত ছেলে তার স্ত্রী ও পিতামাতার মাঝে সমন্বয় করার ক্ষেত্রে যে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে তা নিম্নরূপ:
(ক) পিতামাতার সেবা-যত্ন করা ও তাদের মেজাজ অনুধাবন করা: আর এটার মানে হল বিয়ের পরেও তাদের সাথে সদ্ব্যবহার অব্যাহত রাখা এবং পিতামাতার সামনে তার স্ত্রীর প্রতি ভালবাসার বিষয়টি প্রকাশ না করা— বিশেষ করে তার পিতামাতা উভয়ে অথবা তাদের কোনো একজন যখন তীক্ষ্ণ মেজাজের হয়ে থাকে। কারণ, সে যখন তাদের সামনে এটা প্রকাশ করবে, তখন ক্রোধে তাদের অন্তর পূর্ণ হয়ে যাবে এবং তাদের মাঝে ঈর্ষার জন্ম দিবে, বিশেষ করে মায়ের মনে।
অনুরূপভাবে তার কর্তব্য হল তার পিতামাতার সাথে কোমল আচরণ করা; আর তাদেরকে সন্তুষ্ট করা ও তাদের মন পাওয়ার জন্য আগ্রহ সহকারে চেষ্টা করা।
(খ) স্ত্রীর প্রতি ইনসাফপূর্ণ আচরণ করা: আর এটা সম্ভব হবে তার অধিকার সম্পর্কে জানার মাধ্যমে এবং তার সম্পর্কে তার পিতামাতার পক্ষ থেকে যা শুনবে, তার সবকিছু গ্রহণ না করার মাধ্যমে; বরং তার দায়িত্ব হল তার সম্পর্কে ভালো ধারণা পোষণ করা এবং তার সম্পর্কে উত্থাপিত অভিযোগের সত্যতা ও যথার্থতা যাচাই করা।
(গ) পরস্পরের মধ্যে ভালবাসা ও আন্তরিকতা তৈরি করা: উদাহরণস্বরূপ সে তার স্ত্রীকে উপদেশ দিবে তার পিতামাতাকে বিভিন্ন ধরনের হাদিয়া বা উপহার সামগ্রী প্রদান করার জন্য, অথবা সে নিজেই কিছু উপহার সামগ্রী ক্রয় করবে এবং তা তার স্ত্রীকে দিয়ে বলবে তা পিতামাতাকে প্রদান করার জন্য- বিশেষ করে মাকে প্রদান করার জন্য; কেননা, এটা এমন জিনিস, যা মনকে বিগলিত করে, আস্তে আস্তে ক্রোধ বা বিদ্বেষ দূর করবে, ভালবাসার আমদানি করবে এবং তার খারাপ ধারণাকে মিথ্যা প্রমাণিত করবে।
(ঘ) স্ত্রীর সাথে বুঝাপড়া বা সমঝোতা করা: সুতরাং সে তাকে উদাহরণস্বরূপ বলবে, আমার পিতামাতা এমন এক অংশ, যা আমার থেকে বিভক্ত বা বিচ্ছিন্ন হওয়ার নয়; আর আমার অনুভূতি শক্তি যদি কখনও ক্ষীণও হয়ে যায়, তবুও আমি কিছুতেই তাদের অবাধ্য হব না এবং তাদের কোনো অপমান আমি কখনও সহ্য করব না। আর আমার পিতামাতার ব্যাপারে তোমার ধৈর্যধারণ ও তাদেরকে তোমার সেবা-যত্ন করার দ্বারাই তোমার প্রতি আমার ভালোবাসা উত্তর উত্তর বৃদ্ধি পাবে।
অনুরূপভাবে সে তার স্ত্রীকে স্মরণ করিয়ে দিবে যে, সেও অচিরেই কোনো একদিন মা হবে; আর কখনও কখনও তার পিতামাতার সাথে তার অবস্থার অনুরূপ অবস্থা তার জীবনেও আসতে পারে, তখন কি তার সাথে অনুরূপ আচরণ করাটাকে সে পছন্দ করবে? অনুরূপভাবে তাকে আরও স্মরণ করিয়ে দিবে যে, নিশ্চয় কলহ বা কঠোরতা কোনো কাজ বা বিষয়ের শুধু কঠোরতা ও জটিলতাই বৃদ্ধি করে; আর কোনো কিছুর মধ্যকার কোমলতা শুধু তাকে সৌন্দর্য দান করে এবং অনুরূপভাবে ইত্যাদি ইত্যাদি।
📄 পুত্রবধূর ভূমিকা
পুত্রবধু এ ব্যাপারে অনেক বড় ভূমিকা রাখতে সক্ষম; যেমন- তার পক্ষে সম্ভব তার স্বামীকে তার নিজের উপর অগ্রাধিকার দেওয়া, তার (স্বামীর) আত্মীয়-স্বজনকে সম্মান করা এবং তার পিতামাতা তথা শ্বশুর-শাশুড়ীকে বেশি বেশি সম্মান ও সেবা-যত্ন করা, বিশেষ করে তার শাশুড়ীকে; আর এ সবকিছুই মূলত স্বামীকে সম্মান ও তার প্রতি ইহসান করা।²⁹ ঠিক তেমনিভাবে তাতে রয়েছে তার প্রতি লক্ষ্য রাখা, দাম্পত্য সম্পর্ক শক্তিশালী করা এবং ফেতনা-ফ্যাসাদের আগুন নিভিয়ে দেওয়ার বিষয়।
যখন স্ত্রীর উপর তার (স্ত্রীর) পিতামাতার চেয়ে স্বামীর হক বেশি এবং জাতির সামাজিক বন্ধনকে শক্তিশালী করার জন্য সে যখন তার আত্মীয়-স্বজন ও তার পিতার প্রিয় বন্ধু-বান্ধবদের সাথে সম্পর্ক রক্ষার জন্য শরী'আতসম্মতভাবে আদিষ্ট, তখন দাম্পত্য সম্পর্ক মজবুত করার জন্য স্ত্রী তো আরও অতি উত্তমভাবেই তার স্বামীর প্রিয়জনদের অধিকার রক্ষার জন্য শরী'আতসম্মতভাবে আদিষ্ট।
অতঃপর স্ত্রী কর্তৃক (তার পিতামাতার মত) তার স্বামীর পিতামাতার সম্মান ও সেবাযত্ন করার বিষয়টি তো মৌলিকভাবে ইসলামী নৈতিকতা ও চরিত্রের অন্তর্ভুক্ত একটি বিষয়, যা ব্যক্তির আভিজাত্য ও বংশের মহত্ত্বের প্রমাণ বহন করে।
আর যদিও সে এই কাজটি করবে শুধু তার স্বামীর সন্তুষ্টির জন্য, অথবা নিকটাত্মীয়দের ভালবাসা পাওয়ার জন্য এবং যাবতীয় বিরোধ ও ঝগড়া-বিবাদ থেকে নিরাপদে থাকার উদ্দেশ্যে– উপরন্তু দো'আ তো পাবেই।
অনুরূপভাবে একজন ভাল স্ত্রীর আবশ্যকীয় করণীয় হল, সে শুরু থেকেই একথা ভুলবে না যে, তার স্বামীর ব্যাপারে যে নারীটি মনে করে সে তার প্রতিদ্বন্দ্বী, সে নারীটি হল এ স্বামীর মা; আর যতই তার অনুভূতিশক্তি ক্ষীণ হয়ে যাক তার পক্ষে সম্ভব নয় যে, সে তার মায়ের সাথে খারাপ ব্যবহার করবে; কারণ, সে তার মা, যিনি তাকে নয় মাস তার পেটে ধারণ করেছেন, তার দুধ খাইয়ে তাকে শক্তিশালী করেছেন, তার আদর ও স্নেহ দ্বারা তাকে উদ্ভাসিত করেছেন এবং তার জন্য নিজের জীবনকে উজাড় করে দিয়েছেন, শেষ পর্যন্ত সে একজন পরিপূর্ণ মানুষ হয়েছে।
অনুরূপভাবে হে স্ত্রী! তোমার ভুলে গেলে চলবে না যে, এ নারীটি তোমার সন্তানদের আশ্রয়কেন্দ্র; কারণ, তিনি হলেন তাদের দাদী এবং তার সাথে রয়েছে তাদের মজবুত সম্পর্ক; সুতরাং তোমার জন্য তার সাথে সতীনের মত ব্যবহার করা শোভনীয় হবে না; যদিও সে কখনও কখনও তোমার সাথে সতীনের মত ব্যবহার করবে কিন্তু তুমি তার সাথে মায়ের মত ব্যবহার কর, তাহলে সে তোমার সাথে মেয়ের মত ব্যবহার করবে। আর মায়ের নিকট থেকে কখনও কখনও কঠোরতা বা দুর্ব্যবহারের মত আচরণ হলে মেয়ের জন্য উচিৎ হবে সাওয়াব ও প্রতিদানের আশায় ধৈর্যধারণ করা।
অতঃপর যখন ঘরে ও পরিবারে ইসলামের আদব বা শিষ্টাচার ছড়িয়ে পড়বে এবং প্রত্যেক ব্যক্তি তার সুবিধা ও অসুবিধা সম্পর্কে জানতে পারবে, তখন পরিবারটি চলতে থাকবে একটি সন্তোষজনক চরিত্র নিয়ে; আর সেই পরিবারটি অধিকাংশ সময় আনন্দময় জীবনযাপন করবে।
আর জেনে রাখবে, হে স্ত্রী! নিশ্চয় তোমার স্বামী তোমার পরিবারের চেয়ে তার পরিবার-পরিজনকে বেশি ভালবাসবে; আর এ ক্ষেত্রে তুমি তাকে তিরস্কার করো না। আর তুমিও তো তার পরিবারের চেয়ে তোমার পরিবার-পরিজনকে অধিক ভালবাস; সুতরাং তুমি তার পরিবার-পরিজনকে অবজ্ঞা করার মাধ্যমে অথবা তাদেরকে কষ্ট দেওয়ার মাধ্যমে অথবা তাদের অধিকারের ব্যাপারে কমতি করার মাধ্যমে তাকে আঘাত দেওয়ার ব্যাপারে সতর্ক হও; কেননা, তাকে এই ধরনের আচরণ তোমাকে অপছন্দ করতে এবং তোমার থেকে অন্য দিকে ঝুঁকে পড়তে বাধ্য করবে।
আর স্বামীর পরিবার-পরিজনকে সম্মান করার ক্ষেত্রে অবহেলা করা মানেই স্বয়ং স্বামীকে সম্মান করার ক্ষেত্রে অবহেলা করা; আর যখন সে অপরিপক্ক চিন্তায় কোনো কিছু দ্বারা এর মোকাবিলা করতে পারবে না তখন সে আঘাত ও বিরক্তির কারণে স্ত্রীর জন্য কখনও তার ভালবাসাকে উজাড় করে দিবে না।
অতঃপর যে ব্যক্তি তার পরিবার-পরিজনকে ভালবাসে এবং তার পিতামাতার সাথে সদ্ব্যবহার করে, সে তো একজন ভদ্র, সম্মানিত ও সৎ মানুষ; তার স্ত্রীর জন্য যথাযথ হবে— তাকে সম্মান করা, শ্রদ্ধা করা এবং তার মধ্যে ভালো কিছু আশা করা; কারণ, যে ব্যক্তির মধ্যে তার পিতামাতার জন্য ভালো কিছু নেই, অধিকাংশ সময় সে ব্যক্তির মধ্যে স্ত্রী, অথবা সন্তান, অথবা অপর কোনো মানুষের জন্য কোনো কল্যাণ নেই।
হে স্ত্রী! যখন তুমি তোমার স্বামী কর্তৃক তার পিতামাতার সাথে অবাধ্য আচরণ করা এবং তাদের সাথে তোমার দুর্ব্যবহার করাটাকে মেনে নিবে, তখন কি তুমি তোমার ভাইয়ের স্ত্রী তথা ভাবিদের পক্ষ থেকে তোমার মায়ের সাথে অনুরূপ করাটাকে মেনে নিতে পারবে?
নাকি তুমি পছন্দ করবে তোমার পুত্রবধুদের পক্ষ থেকে তোমার সাথে এমন (খারাপ) ব্যবহার করাটাকে, যখন তোমার অস্থি দুর্বল হয়ে যাবে এবং বার্ধক্যে মাথার চুল সাদা হয়ে যাবে?
পরিশেষে, সমস্যাসমূহের সমাধান, জটিলতা নিরসন, মহৎ গুণের সমাবেশ ও ভাঙ্গন বা বিরোধ মীমাংসার ক্ষেত্রে আল্লাহ তা'আলা কর্তৃক তাওফীক দানের পর পিতামাতার সাথে সদ্ব্যবহার করার জন্য স্বামীর সহযোগিতার ব্যাপারে অধিকাংশ সময় একজন সৎ স্ত্রী দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখবে; কারণ, পিতামাতা যখন তাদের পুত্রবধুর কাছ থেকে সত্যিকার ভালবাসা ও উদার সহানুভূতি প্রত্যক্ষ করবে, তখন তারা এই চমৎকার অনুগ্রহের কথা অবশ্যই মনে রাখবে।
আর এ কারণেই আমার দেখতে পাই যে, অনেক পিতামাতা তাদের পুত্রবধুদেরকে তাদের আপন মেয়েদের মত করে অথবা তার চেয়ে বেশি ভালোবাসেন।
আর এটা আল্লাহ তা'আলার তাওফীক ছাড়া সম্ভব নয়; অতঃপর ঐসব স্ত্রীদের প্রজ্ঞা এবং স্বামীদের পিতামাতার সাথে উত্তম ব্যবহারের প্রবল আকাঙ্খার কারণেই এটা সম্ভব হয়ে উঠে।
আর পূর্বোক্ত বিষয়গুলো ছাড়া স্ত্রীকে স্বামীর পিতামাতা তথা শ্বশুর- শাশুড়ীর হৃদয়ে প্রবেশ করতে হলে আরও যেসব বিষয় সাহায্য করবে সেগুলো হল: (তাদের পক্ষ থেকে) দুর্ব্যবহারের সময় ধৈর্যধারণ করা, প্রতিদান পাওয়ার বিষয়টি সামনে রাখা, পরিণাম ফল নিয়ে চিন্তাভাবনা করা, তাছাড়া তাদেরকে উপহার সামগ্রী প্রদান করা, তাদের সাথে আগ্রহসহকারে উত্তম কথা বলা এবং মনোযোগ দিয়ে শ্বশুর-শাশুড়ীর কথা শ্রবণ করা; আর কোমল ভাষায় কথা বলা, সালাম দেওয়া এবং উত্তম প্রতিশ্রুতি দেওয়া।
এর মধ্য থেকে আরেকটি হল- তার স্বামীকে তার পিতামাতার সেবা- যত্ন করার জন্য উপদেশ দেওয়া এবং সাথে সাথে তাদেরকে একথা বুঝতে না দেওয়া— তার মন তাদেরকে বাদ দিয়ে সম্পূর্ণভাবে তার (স্ত্রীর) দিকে ঝুঁকে গেছে।
আর এর মধ্য থেকে আরেকটি হল- আল্লাহ তা’আলার কাছে বিনয়ের হাতগুলো উত্তোলন করা, যাতে তিনি তার শ্বশুর-শাশুড়ীর হৃদয়কে তার প্রতি দয়াময় করে দেন এবং তাকে তাদের সাথে ভালো ব্যবহার করার ব্যাপারে সার্বিক সহযোগিতা করেন।
সুতরাং হে প্রিয় স্ত্রী! এসব কথার তাৎপর্য উপলব্ধি কর; তোমার জন্য দুনিয়ার জীবনে থাকবে সুন্দর প্রশংসা ও সুখ্যাতি এবং পরকালে থাকবে অনেক প্রতিদান ও এক নিরবচ্ছিন্ন পুরস্কার।
টিকাঃ
২৯ দেখুন: লেখক (মুহাম্মদ ইবন ইবরাহীম আল-হামাদ), 'মিন আখতাইল আযওয়াজ' ( من أخطاء الأزواج ) , পৃ. ৫ - ৬
📄 স্বামীর মায়ের (শাশুড়ীর) ভূমিকা
মায়েদের মধ্যে এমন কেউ কেউ আছেন (আল্লাহ তাদেরকে হেদায়াত করুন), যিনি না বুঝেই তার ছেলেকে জটিলতার মধ্যে ফেলে দেন; কেননা, তিনি তাকে ভালবাসেন এবং তার সৌভাগ্য কামনা করেন; আবার কখনও কখনও তার জন্য পাত্রী দেখা, প্রস্তাব দেওয়া ও তাকে বিয়ে দেওয়ার জন্য অনেক চেষ্টা-সাধনা করেন।
কিন্তু তার মন্দ হস্তক্ষেপের কারণে কোনো কোনো সময় তার নিজের ও তার সন্তানের জন্য ক্ষতি ডেকে আনেন; কারণ, যখন ছেলে বিয়ে করে, তখন তার মা মনে করে যে, তার কাছ থেকে তার সন্তানকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং তার মন তাকে ছেড়ে অন্য দিকে ঝুঁকে গেছে; ফলে সে তাকে এবং হারিয়ে যাওয়া ভালোবাসা আবার ফিরে পেতে চায়; আর সব সময় তার অন্তরে তার স্ত্রীর ব্যাপারে বিদ্বেষের আগুন প্রজ্বলিত করে এবং তার মধ্যে তার (স্ত্রীর) ব্যাপারে অবিশ্বাসের প্ররোচনা চালিয়ে যায়; আবার কখনও কখনও সে স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার জন্য তাকে সুন্দর করে বুঝায় এবং তাকে প্রতিশ্রুতি দেয় যে, সে তার জন্য তার চেয়ে আরও ভাল বউ খুঁজে নিয়ে আসব, অথচ অনেক সময় স্ত্রী চরিত্রবান ও সুন্দরী হওয়া সত্ত্বেও সে এই ধরনের কাজ করে।³⁰
আবার কোনো কোনো মা এমন আছেন যখন তিনি দেখেন তার ছেলে তার স্ত্রীকে নিয়ে আনন্দিত ও সুখী, অথবা দেখেন যে সে তার স্ত্রীকে সম্মান বা মর্যাদা প্রদান করে, তখন তার হৃদয়ে হিংসার আগুন জ্বলে উঠে; আবার কখনও কখনও অবস্থা আরও খারাপ পরিণতির দিকে মোড় নেয়...।
আবার কোনো কোনো মা আছেন এমন, যিনি তার পুত্রবধুর সাথে আচার-ব্যবহারের ক্ষেত্রে কঠোর এবং নিষ্ঠুর; ফলে আপনি তাকে দেখতে পাবেন যে, তিনি দোষগুলো বড় করে দেখান এবং ভাল দিকগুলো গোপন করে রাখেন; আবার কখনও কখনও পুত্রবধুর উপর মিথ্যা অপবাদ দেন; আবার কখনও কখনও তার নির্দোষ কর্মকাণ্ড ও অতীতের কথাবার্তার ব্যাখ্যায় বিভিন্ন জায়গায় চলে যান।
অতএব, হে প্রিয় মা! হে- যিনি আপন ছেলেকে ভালবাসেন এবং তার সৌভাগ্য কামনা করেন! আপনি ধ্বংস ও সর্বনাশের কুঠার হবেন না; আপনার ঈর্ষাকে জ্বলন্ত আগুনে পরিণত করবেন না, যা পরিবারের পরিবেশকে জ্বালিয়ে দেয়; আর এমন আন্দাজ ও অনুমানের অনুসরণ করবেন না, যা আপনার কল্পনার তৈরি; এমন করলে আপনি পরিষ্কার বিষয়কে ঘোলা করে ফেলবেন এবং কঠিন দুশ্চিন্তা ও সংশয়ের মধ্যে পড়ে যাবেন। সুতরাং আপনার পুত্রবধুর সাথে আপনার সম্পর্ককে দা-কুমড়ার মত শত্রুতার সম্পর্ক বানাবেন না; বরং আপনি তার মা হয়ে যান, সে আপনার মেয়ে হয়ে যাবে।
অতএব, আপনার পক্ষে সুন্দর হবে- আপনি তাকে ভালোবাসবেন এবং তার থেকে কোনো (মন্দ) কিছু প্রকাশ হয়ে গেলে দেখেও না দেখার ভান করবেন; আর যখন কোনো ত্রুটি দেখবেন, তখন নরম ও কোমল ভাষায় তাকে উপদেশ দিতে পদক্ষেপ নিন; তখন সেও সৌভাগ্যবান হবে এবং আপনিও সৌভাগ্যবান হবেন।
বরং আপনার জন্য আরও ভালো হবে— উপহার, উপঢৌকন ইত্যাদির মাধ্যমে আপনি তার নিকট প্রিয় হয়ে উঠবেন; আর আপনি আপনার বড় মন, উদার স্নেহ-মমতা, নির্ভেজাল দো'আ ও বাস্তবসম্মত প্রশংসা নিয়ে তার দিকে এগিয়ে যান; আর আল্লাহ তা'আলাও তাঁর তত্ত্বাবধানের দ্বারা আপনাকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করবেন এবং তাঁর দয়া ও স্নেহ দ্বারা আপনাকে সাহায্য করবেন।
টিকাঃ
৩০ দেখুন: লেখকের নিজস্ব গ্রন্থ, 'মিন আখতাইল আযওয়াজ (من أخطاء الأزواج)' পৃ. ১১ - ১৬