📘 পিতামাতার অবাধ্যতাঃ কারণ কিছু বাহ্যিক চিত্র ও প্রতিকারের উপায় > 📄 সদ্ব্যবহারে সহায়ক ১২টি বিষয় বা কর্মকাণ্ড

📄 সদ্ব্যবহারে সহায়ক ১২টি বিষয় বা কর্মকাণ্ড


পিতামাতার সাথে সদ্ব্যবহার করাটা আল্লাহ তা'আলার অন্যতম নি'আমত, তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্য থেকে যাকে ইচ্ছা করেন তাকে এই নি'আমত দ্বারা ধন্য করেন। এখানে এমন কতগুলো কর্মকাণ্ড বা বিষয় রয়েছে, যেগুলো কোনো মানুষ গ্রহণ করে চেষ্টা-সাধনা করলে সেগুলো তাকে তার পিতামাতার সাথে সদ্ব্যবহার করতে সহযোগিতা করবে; এসব কর্মকাণ্ড ও বিষয়াদির কতিপয় দিক নিম্নরূপ:²⁷
১. আল্লাহ তা'আলার নিকট সাহায্য প্রার্থনা করা: আর এটা সম্ভব হবে শরী'আত সম্মত পন্থা অবলম্বন করে 'ইবাদত ও দো'আর মাধ্যমে আল্লাহর সাথে সর্বোত্তম সম্পর্ক স্থাপন করার মাধ্যমে, আশা করা যায় যে, তিনি আপনাকে পিতামাতার সাথে সদ্ব্যবহার করার জন্য তাওফীক দিবেন এবং সার্বিকভাবে সহযোগিতা করবেন।
২. সদ্ব্যবহারের সুফল ও অবাধ্যতার কুফল সামনে রাখা: কেননা, (পিতামাতার আনুগত্যের) কাজটি যথাযথভাবে সম্পাদন করা ও তা বাস্তবায়নের জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করার অন্যতম বড় উপায় হল সদ্ব্যবহার করার ফলাফল সম্পর্কে জানা এবং তার উত্তম পরিণতি সামনে রাখা।
অনুরূপভাবে অবাধ্যতার কুফল এবং তার কারণে যে উদ্বেগ, দুশ্চিন্তা, পরিতাপ ও অপমানের আমদানি হয়, সে ব্যাপারে সতর্ক দৃষ্টি দেওয়া; আর এসবই পিতামাতার সাথে সদ্ব্যবহার করতে সাহায্য করবে এবং তাদের অবাধ্য হওয়া থেকে বিরত রাখবে।
৩. অন্যসব মানুষের উপর পিতামাতার মর্যাদার বিষয়টি সামনে রাখা: কেননা, তারা হলেন এই দুনিয়ায় তার অস্তিত্বের উপলক্ষ; আর তারা তার জন্য কষ্ট করেছেন, তাকে অকৃত্রিম স্নেহ ও ভালোবাসা দিয়েছেন এবং বড় হওয়া পর্যন্ত লালনপালন করেছেন; সুতরাং সন্তান তাদের জন্য যত কিছুই করুক না কেন, সে কখনও তাদের হক (অধিকার) আদায় করতে সক্ষম হবে না; অতএব, এই বিষয়টি মনে রাখলে তাদের সাথে সদ্ব্যবহার করার মত কাজটি সহজ হবে।
৪. পিতামাতার প্রতি সদ্ব্যবহারে আত্মনিয়োগ করা: ব্যক্তির জন্য আবশ্যক হলো তার পিতামাতার সাথে সদ্ব্যবহার করার কাজে নিজেকে নিয়োজিত করা এবং এর সকল দায়-দায়িত্ব বহন করা; আর এ কাজে নিজেকে এমনভাবে বিলিয়ে দেওয়া, যাতে তা তার স্বভাব ও অভ্যাসে পরিণত হয়ে যায়।
৫. তালাকের অবস্থায় আল্লাহকে ভয় করা: পিতামাতার দায়িত্ব ও কর্তব্য হল তারা যদি তাদের মধ্যকার দাম্পত্য জীবন বহাল রাখতে অপারগ হয় এবং তাদের মাঝে তালাকের মাধ্যমে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে, তাহলে তাদের প্রত্যেকেই যেন সন্তানদেরকে পিতামাতার সাথে সদ্ব্যবহার করার জন্য উপদেশ দেয় এবং তাদের প্রত্যেকে যেন সন্তানদেরকে পিতামাতার সাথে দুর্ব্যবহার করতে প্ররোচিত না করে; কারণ, সন্তানরা যখন পিতামাতার অবাধ্য বলে পরিচিত হবে, তখন এর জন্য পিতামাতাই দায়ী হবেন; ফলে তারা নিজেরা হতভাগ্য হবে এবং সন্তানদেরকেও হতভাগ্য করবে।
৬. পিতামাতার সততা: ছেলে-সন্তানদের সততা ও তাদের কর্তৃক তাদের পিতামাতার সাথে সদ্ব্যবহারের জন্য অন্যতম উপায় ও উপলক্ষ হল পিতামাতার সততা।
৭. পিতামাতার সাথে সদ্ব্যবহারের উপদেশ দেওয়া: আর এটা হবে সদ্ব্যবহারকারীদেরকে উৎসাহ দান এবং তাদেরকে সদ্ব্যবহার করার ফযীলত বর্ণনা করে উপদেশ দেওয়ার মাধ্যমে; আর অবাধ্যদেরকে উপদেশ দান এবং অবাধ্যতার খারাপ পরিণতি স্মরণ করিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে।
৮. সদ্ব্যবহার করার জন্য সন্তানদেরকে সহযোগিতা করা: আর এটা হল সদ্ব্যবহার করার জন্য পিতামাতা কর্তৃক সন্তানদের সহযোগিতায় এগিয়ে যাওয়া; আর এটা সম্ভব হয়ে উঠবে তাদেরকে উৎসাহ ও ধন্যবাদ দেওয়ার মাধ্যমে এবং তাদের জন্য দো'আ করার মাধ্যমে।
আমি কোনো কোনো পিতামাতার ব্যাপারে জানি, যাকে ছেড়ে তার সন্তান-সন্তুতি ও নাতি-নাতনীগণ এক মুহূর্তও থাকতে পারে না, অথচ তার বয়স একশ বছর পার হয়ে গেছে। কারণ, তারা তার সাথে অনেক বেশি উত্তম আচরণ করে এবং তার সেবায় পরস্পর প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়ে যায়; বরং তারা এর দ্বারা মজা ও আনন্দ পায়।
আর আল্লাহ তা'আলা তাওফীক দান করার পর তাদেরকে পিতামাতার সাথে সদ্ব্যবহার করার জন্য যে কারণটি সবচেয়ে বেশি উদ্বুদ্ধ করে তা হল- এই পিতা তার সাথে উত্তম ব্যবহার করার ব্যাপারে তাদের (সন্তানদের) উত্তম সাহায্যকারী, যেমন- তিনি তার সন্তানদেরকে ভালবাসেন, তাদের জন্য বেশি বেশি দো'আ করেন, আগ্রহের সাথে তাদের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন, তাদের প্রশংসা ও গুণ-গান করেন, তাদের মনে আনন্দ দেন এবং তাদেরকে তাদের সবচেয়ে প্রিয় নামে ডাকেন।
৯. সন্তান কর্তৃক তার নিজকে মাতাপিতার অবস্থানে রেখে চিন্তা করা: হে ছেলে! আগামীতে যখন তুমি বার্ধক্যে উপনীত হবে, তোমার অস্থিমজ্জা দুর্বল হয়ে যাবে, চুল সাদা হয়ে যাবে এবং তুমি চলাফেরা করতে অক্ষম হয়ে যাবে, তখন যদি তোমার সন্তানদের কাছ থেকে তুমি দুর্ব্যবহার পাও, নিষ্ঠুর অবহেলার শিকার হও এবং স্পষ্ট অবজ্ঞার পাত্র হয়ে যাও, তাহলে কি তা তোমাকে আনন্দ দিবে?!
১০. সদ্ব্যবহারকারী ও অবাধ্য সন্তানদের জীবনবৃত্তান্ত পাঠ করা: কেননা, সদ্ব্যবহারকারীদের জীবনী আগ্রহ-উদ্দীপনাকে সতেজ ও তীক্ষ্ণ করবে, সংকল্প ও সিদ্ধান্তকে পবিত্র করবে এবং সদ্ব্যবহার করতে অনুপ্রাণিত করবে।
আর অবাধ্য সন্তানদের জীবনী পাঠ এবং তাদের অর্জিত খারাপ পরিণতি অবাধ্য হওয়া থেকে দূরে সরিয়ে রাখবে, তাতে ঘৃণার জন্ম দিবে, সদ্ব্যবহারের দিকে আহ্বান করবে এবং তার ব্যাপারে আগ্রহ ও উৎসাহের জন্ম দিবে।
১১. সদ্ব্যবহার দ্বারা পিতামাতার খুশি ও অবাধ্যতার কারণে তাদের কষ্ট পাওয়ার বিষয়টি অনুধাবন করা: মানুষ যদি এই বিষয়টি বুঝতে পারে, তাহলে সে আগ্রহ সহকারে সদ্ব্যবহারের দিকে অগ্রসর হবে এবং তাদের অবাধ্য হওয়া থেকে বিরত থাকবে। কবি সত্যই বলেছেন:
لَوْ كَانَ يَدْرِي الْاِبْنُ أَيَّةَ غُصَّةٍ * قَدْ جَرَّعَتْ أَبَوَيْهِ بَعْدَ فِرَاقِه
(যদি ছেলে জানতে পারত কোন্ যন্ত্রণা তার পিতামাতাকে গিলতে হয় তার বিচ্ছেদের পর)।
أم تهيم بوجده حيرانة * وأب يسح الدمع من آماقه
(মা তাকে পাওয়ার জন্য দিশেহারা হয়ে ঘুরে বেড়ায়, আর পিতা তাকে হারিয়ে অবিরত চোখের জলে বুক ভাসায়)।
يتجرعان لبينه غصص الردى * ويبوح ما كتماه من أشواقه
(তারা তার বিচ্ছেদের কারণে ধ্বংসের ঢোক গিলতে বাধ্য হন, তার প্রতি প্রবল আগ্রহের আতিশয্যে যা কিছু তারা গোপন করেছিল তা প্রকাশে করে দিতে বাধ্য হয়)।
لرثا لأم سُلَّ من أحشائها * ويبكي لشيخ هام في آفاقه
(অবশ্যই শোক প্রকাশ করতে হবে সে মায়ের জন্য যার পেটের নাড়ি-ভুড়ি থেকে তাকে আলাদা করা হয়েছে,
আর এমন বৃদ্ধ পিতার জন্য ক্রন্দন করতে হবে যিনি তাকে পাগলের মত ভালোবাসত)।
وَلْيَبْدَلِ الْخُلْقُ الْأَبِيُّ بِعَطْفِهِ * وَجَزَاهُمَا بِالْعَذْبِ مِنْ أَخْلَاقِهِ
(আর অবশ্যই পরিবর্তন করতে হবে তার দাম্ভিক আচরণকে মায়া-দয়া দ্বারা, আর তাদেরকে তার মধুর চরিত্র দ্বারা পুরস্কার দিতে হবে)।²⁸

টিকাঃ
²⁷ দেখুন: মুহাম্মাদ ইবন লুতফী আস-সাব্বাগ, 'ওসায়া লিয-যাওজাইন' ( وصايا للزوجين ) [ স্বামী-স্ত্রী'র জন্য অসীয়ত], পৃ. ৫৬ - ৬৪
²⁸ হাফেয তারতুশী, 'বিরুল ওয়ালিদাইন' (بر الوالدين), পৃ. ১৮৮

পিতামাতার সাথে সদ্ব্যবহার করাটা আল্লাহ তা'আলার অন্যতম নি'আমত, তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্য থেকে যাকে ইচ্ছা করেন তাকে এই নি'আমত দ্বারা ধন্য করেন। এখানে এমন কতগুলো কর্মকাণ্ড বা বিষয় রয়েছে, যেগুলো কোনো মানুষ গ্রহণ করে চেষ্টা-সাধনা করলে সেগুলো তাকে তার পিতামাতার সাথে সদ্ব্যবহার করতে সহযোগিতা করবে; এসব কর্মকাণ্ড ও বিষয়াদির কতিপয় দিক নিম্নরূপ:²⁷
১. আল্লাহ তা'আলার নিকট সাহায্য প্রার্থনা করা: আর এটা সম্ভব হবে শরী'আত সম্মত পন্থা অবলম্বন করে 'ইবাদত ও দো'আর মাধ্যমে আল্লাহর সাথে সর্বোত্তম সম্পর্ক স্থাপন করার মাধ্যমে, আশা করা যায় যে, তিনি আপনাকে পিতামাতার সাথে সদ্ব্যবহার করার জন্য তাওফীক দিবেন এবং সার্বিকভাবে সহযোগিতা করবেন।
২. সদ্ব্যবহারের সুফল ও অবাধ্যতার কুফল সামনে রাখা: কেননা, (পিতামাতার আনুগত্যের) কাজটি যথাযথভাবে সম্পাদন করা ও তা বাস্তবায়নের জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করার অন্যতম বড় উপায় হল সদ্ব্যবহার করার ফলাফল সম্পর্কে জানা এবং তার উত্তম পরিণতি সামনে রাখা।
অনুরূপভাবে অবাধ্যতার কুফল এবং তার কারণে যে উদ্বেগ, দুশ্চিন্তা, পরিতাপ ও অপমানের আমদানি হয়, সে ব্যাপারে সতর্ক দৃষ্টি দেওয়া; আর এসবই পিতামাতার সাথে সদ্ব্যবহার করতে সাহায্য করবে এবং তাদের অবাধ্য হওয়া থেকে বিরত রাখবে।
৩. অন্যসব মানুষের উপর পিতামাতার মর্যাদার বিষয়টি সামনে রাখা: কেননা, তারা হলেন এই দুনিয়ায় তার অস্তিত্বের উপলক্ষ; আর তারা তার জন্য কষ্ট করেছেন, তাকে অকৃত্রিম স্নেহ ও ভালোবাসা দিয়েছেন এবং বড় হওয়া পর্যন্ত লালনপালন করেছেন; সুতরাং সন্তান তাদের জন্য যত কিছুই করুক না কেন, সে কখনও তাদের হক (অধিকার) আদায় করতে সক্ষম হবে না; অতএব, এই বিষয়টি মনে রাখলে তাদের সাথে সদ্ব্যবহার করার মত কাজটি সহজ হবে।
৪. পিতামাতার প্রতি সদ্ব্যবহারে আত্মনিয়োগ করা: ব্যক্তির জন্য আবশ্যক হলো তার পিতামাতার সাথে সদ্ব্যবহার করার কাজে নিজেকে নিয়োজিত করা এবং এর সকল দায়-দায়িত্ব বহন করা; আর এ কাজে নিজেকে এমনভাবে বিলিয়ে দেওয়া, যাতে তা তার স্বভাব ও অভ্যাসে পরিণত হয়ে যায়।
৫. তালাকের অবস্থায় আল্লাহকে ভয় করা: পিতামাতার দায়িত্ব ও কর্তব্য হল তারা যদি তাদের মধ্যকার দাম্পত্য জীবন বহাল রাখতে অপারগ হয় এবং তাদের মাঝে তালাকের মাধ্যমে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে, তাহলে তাদের প্রত্যেকেই যেন সন্তানদেরকে পিতামাতার সাথে সদ্ব্যবহার করার জন্য উপদেশ দেয় এবং তাদের প্রত্যেকে যেন সন্তানদেরকে পিতামাতার সাথে দুর্ব্যবহার করতে প্ররোচিত না করে; কারণ, সন্তানরা যখন পিতামাতার অবাধ্য বলে পরিচিত হবে, তখন এর জন্য পিতামাতাই দায়ী হবেন; ফলে তারা নিজেরা হতভাগ্য হবে এবং সন্তানদেরকেও হতভাগ্য করবে।
৬. পিতামাতার সততা: ছেলে-সন্তানদের সততা ও তাদের কর্তৃক তাদের পিতামাতার সাথে সদ্ব্যবহারের জন্য অন্যতম উপায় ও উপলক্ষ হল পিতামাতার সততা।
৭. পিতামাতার সাথে সদ্ব্যবহারের উপদেশ দেওয়া: আর এটা হবে সদ্ব্যবহারকারীদেরকে উৎসাহ দান এবং তাদেরকে সদ্ব্যবহার করার ফযীলত বর্ণনা করে উপদেশ দেওয়ার মাধ্যমে; আর অবাধ্যদেরকে উপদেশ দান এবং অবাধ্যতার খারাপ পরিণতি স্মরণ করিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে।
৮. সদ্ব্যবহার করার জন্য সন্তানদেরকে সহযোগিতা করা: আর এটা হল সদ্ব্যবহার করার জন্য পিতামাতা কর্তৃক সন্তানদের সহযোগিতায় এগিয়ে যাওয়া; আর এটা সম্ভব হয়ে উঠবে তাদেরকে উৎসাহ ও ধন্যবাদ দেওয়ার মাধ্যমে এবং তাদের জন্য দো'আ করার মাধ্যমে।
আমি কোনো কোনো পিতামাতার ব্যাপারে জানি, যাকে ছেড়ে তার সন্তান-সন্তুতি ও নাতি-নাতনীগণ এক মুহূর্তও থাকতে পারে না, অথচ তার বয়স একশ বছর পার হয়ে গেছে। কারণ, তারা তার সাথে অনেক বেশি উত্তম আচরণ করে এবং তার সেবায় পরস্পর প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়ে যায়; বরং তারা এর দ্বারা মজা ও আনন্দ পায়।
আর আল্লাহ তা'আলা তাওফীক দান করার পর তাদেরকে পিতামাতার সাথে সদ্ব্যবহার করার জন্য যে কারণটি সবচেয়ে বেশি উদ্বুদ্ধ করে তা হল- এই পিতা তার সাথে উত্তম ব্যবহার করার ব্যাপারে তাদের (সন্তানদের) উত্তম সাহায্যকারী, যেমন- তিনি তার সন্তানদেরকে ভালবাসেন, তাদের জন্য বেশি বেশি দো'আ করেন, আগ্রহের সাথে তাদের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন, তাদের প্রশংসা ও গুণ-গান করেন, তাদের মনে আনন্দ দেন এবং তাদেরকে তাদের সবচেয়ে প্রিয় নামে ডাকেন।
৯. সন্তান কর্তৃক তার নিজকে মাতাপিতার অবস্থানে রেখে চিন্তা করা: হে ছেলে! আগামীতে যখন তুমি বার্ধক্যে উপনীত হবে, তোমার অস্থিমজ্জা দুর্বল হয়ে যাবে, চুল সাদা হয়ে যাবে এবং তুমি চলাফেরা করতে অক্ষম হয়ে যাবে, তখন যদি তোমার সন্তানদের কাছ থেকে তুমি দুর্ব্যবহার পাও, নিষ্ঠুর অবহেলার শিকার হও এবং স্পষ্ট অবজ্ঞার পাত্র হয়ে যাও, তাহলে কি তা তোমাকে আনন্দ দিবে?!
১০. সদ্ব্যবহারকারী ও অবাধ্য সন্তানদের জীবনবৃত্তান্ত পাঠ করা: কেননা, সদ্ব্যবহারকারীদের জীবনী আগ্রহ-উদ্দীপনাকে সতেজ ও তীক্ষ্ণ করবে, সংকল্প ও সিদ্ধান্তকে পবিত্র করবে এবং সদ্ব্যবহার করতে অনুপ্রাণিত করবে।
আর অবাধ্য সন্তানদের জীবনী পাঠ এবং তাদের অর্জিত খারাপ পরিণতি অবাধ্য হওয়া থেকে দূরে সরিয়ে রাখবে, তাতে ঘৃণার জন্ম দিবে, সদ্ব্যবহারের দিকে আহ্বান করবে এবং তার ব্যাপারে আগ্রহ ও উৎসাহের জন্ম দিবে।
১১. সদ্ব্যবহার দ্বারা পিতামাতার খুশি ও অবাধ্যতার কারণে তাদের কষ্ট পাওয়ার বিষয়টি অনুধাবন করা: মানুষ যদি এই বিষয়টি বুঝতে পারে, তাহলে সে আগ্রহ সহকারে সদ্ব্যবহারের দিকে অগ্রসর হবে এবং তাদের অবাধ্য হওয়া থেকে বিরত থাকবে। কবি সত্যই বলেছেন:
لَوْ كَانَ يَدْرِي الْاِبْنُ أَيَّةَ غُصَّةٍ * قَدْ جَرَّعَتْ أَبَوَيْهِ بَعْدَ فِرَاقِه
(যদি ছেলে জানতে পারত কোন্ যন্ত্রণা তার পিতামাতাকে গিলতে হয় তার বিচ্ছেদের পর)।
أم تهيم بوجده حيرانة * وأب يسح الدمع من آماقه
(মা তাকে পাওয়ার জন্য দিশেহারা হয়ে ঘুরে বেড়ায়, আর পিতা তাকে হারিয়ে অবিরত চোখের জলে বুক ভাসায়)।
يتجرعان لبينه غصص الردى * ويبوح ما كتماه من أشواقه
(তারা তার বিচ্ছেদের কারণে ধ্বংসের ঢোক গিলতে বাধ্য হন, তার প্রতি প্রবল আগ্রহের আতিশয্যে যা কিছু তারা গোপন করেছিল তা প্রকাশে করে দিতে বাধ্য হয়)।
لرثا لأم سُلَّ من أحشائها * ويبكي لشيخ هام في آفاقه
(অবশ্যই শোক প্রকাশ করতে হবে সে মায়ের জন্য যার পেটের নাড়ি-ভুড়ি থেকে তাকে আলাদা করা হয়েছে,
আর এমন বৃদ্ধ পিতার জন্য ক্রন্দন করতে হবে যিনি তাকে পাগলের মত ভালোবাসত)।
وَلْيَبْدَلِ الْخُلْقُ الْأَبِيُّ بِعَطْفِهِ * وَجَزَاهُمَا بِالْعَذْبِ مِنْ أَخْلَاقِهِ
(আর অবশ্যই পরিবর্তন করতে হবে তার দাম্ভিক আচরণকে মায়া-দয়া দ্বারা, আর তাদেরকে তার মধুর চরিত্র দ্বারা পুরস্কার দিতে হবে)।²⁸

টিকাঃ
²⁷ দেখুন: মুহাম্মাদ ইবন লুতফী আস-সাব্বাগ, 'ওসায়া লিয-যাওজাইন' ( وصايا للزوجين ) [ স্বামী-স্ত্রী'র জন্য অসীয়ত], পৃ. ৫৬ - ৬৪
²⁸ হাফেয তারতুশী, 'বিরুল ওয়ালিদাইন' (بر الوالدين), পৃ. ১৮৮

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00