📄 উপসংহার
কুরআন ও হাদীছের উপরোক্ত বিশ্লেষণের আলোকে বুঝা গেল যে, পিতা-মাতার মর্যাদা অতুলনীয়। তাদের একটি দীর্ঘশ্বাসের প্রতিদান দেওয়ার ক্ষমতা কোন সন্তানের নেই। অথচ অনেক সন্তান তার বৃদ্ধ পিতা-মাতাকে বৃদ্ধাশ্রমে রেখে আসে। কেউবা পিতা-মাতাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়। আবার কেউ নেশাগ্রস্থ হয়ে তাদের হত্যা করে। কেউ আবার মাকে বেধে রেখে আগুন জ্বালিয়ে পুড়িয়ে হত্যা করছে, যা পুরো মানব জাতিকে কলঙ্কিত করছে। কিন্তু ইসলামে পিতা-মাতার মর্যাদা অনেক উচ্চমার্গে অধিষ্ঠিত। যে পিতা-মাতার কারণে একজন সন্তান পৃথিবীতে ভূমিষ্ঠ হয়, সেই পিতা মাতাকে যারা বৃদ্ধাশ্রমে রেখে আসে, আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মারে বা হত্যা করে তারা আর যাই হোক মানবিক বোধ সম্পন্ন নয়। যাদের হৃদয় আছে কিন্তু বুঝে না। চোখ আছে কিন্তু দেখে না। কান আছে কিন্তু শোনে না। ওরা হ'ল চতুষ্পদ জন্তুর মত, বরং তার চাইতে পথভ্রষ্ট। ওরা হ'ল উদাসীন। তারা হবে জাহান্নামের অধিবাসী (আ'রাফ ৭/১৭৯)। আল্লাহ বলেন, 'তুমি কি মনে কর ওদের অধিকাংশ শোনে ও বোঝে? তারা তো চতুষ্পদ জন্তুর মত। বরং তার চাইতে পথভ্রষ্ট' (ফুরক্বান ২৫/৪৪)।
সর্বাবস্থায় পিতা-মাতার সাথে সদাচরণ করতে হবে। অন্যথা দুনিয়ায় অশান্তি ও পরকালে শাস্তি ভোগ করতে হবে। পিতা-মাতাকে শারীরিক, মানসিক ও আর্থিকভাবে চিন্তামুক্ত রাখতে হবে। পিতা-মাতার কষ্ট পাওয়া সন্তানের জন্য বদদো'আ তুল্য। সেজন্য কোনভাবেই যেন পিতা-মাতা কষ্ট না পান সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। পিতা-মাতার সাথে সদাচরণের মাধ্যমে তাদের দো'আর আশা করতে হবে। তাদের ভাল দো'আ সন্তানের জন্য অফুরান কল্যাণের কারণ হবে। পিতা-মাতার খিদমত করার মাধ্যমে আল্লাহ তা'আলা আমাদের দুনিয়া ও পরকালে সফলতা অর্জন করার তাওফীক দান করুন-আমীন!
سبحانك اللهم وبحمدك أشهد أن لا إله إلا أنت أستغفرك وأتوب إليك، اللهم اغفر لي ولوالدي وللمؤمنين يوم يقوم الحساب